21/11/2020
ইদানিং অনেকেরই অরগানিক রিচ ভয়াবহ রকমের কমে গেছে। সেই সাথে কমেছে লাইভ ভিডিও ভিউ। ব্যাপারটা লক্ষণীয় পর্যায়ে চলে এসেছে গত অক্টোবর থেকে। কথা হল এভাবে হঠাৎ করে অরগানিক রিচ কমে গেলে কেন? বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে আমার কাছে নিচের এই কারণগুলো মনে হয়।
১। নতুন আপডেটঃ
ফেসবুকের নতুন আপডেটে তাদের এলগরিদমে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। যার ফলে আগে বেশি রিচ এবং ভিউ পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা জেনেই হোক বা না জেনেই হোক এতদিন ফেসবুকের পেজ পলিসি বা স্ট্যান্ডার্ড ঠিকমত মেনে চলিনি। ফেসবুক এখন তাদের পলিসির ব্যাপারে সিরিয়াস একশন নিচ্ছে, এটার কার্যকারিতা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে যার ফলে পেজে রিচ কমে এসেছে।
২। লাইভ ভিডিও শেয়ারিং:
অনেকেই একই ডিভাইস এবং ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে মাল্টিপল অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ ভিডিও শেয়ার করেন। এটা ফেসবুক এর সিস্টেম বুঝতে পারে। জোর করে এই কাজটা করা হয়, অরগানিকভাবে নয়। তাই ফেসবুক এটাকে স্পামিং হিসেবে দেখে। আর এটার কারণে আপনার পেজের রিচ কমে যেতে পারে।
৩। কপিরাইটযুক্ত কন্টেন্ট ব্যবহারঃ
অনেকেই নেট থেকে ইমেজ বা ডিভিও ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন। এর মধ্যে কিছু থাকে কপিরাইট করা কন্টেন্ট। এটা Intellectual Property Rights ভঙ্গ করে। এটার ফলে ফেসবুক সিরিয়াস ব্যবস্থা নেয়, পেজের রিচ কমিয়ে দেয়।
৪। নতুন কন্টেন্ট প্রকাশঃ
প্রতিদিন নতুন নতুন অনেক কন্টেন্ট প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু নিউজ ফিডে সব কন্টেন্ট দেখানো হয় না, স্পেস এর একটা লিমিটেশন থাকে। প্রতি মাসে সারা বিশ্ব থেকে ৩০ বিলিয়নের ওপর কন্টেন্ট প্রকাশিত হয়। সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে দেখায়। ব্যবহারকারীর আগ্রহ, ডেমগ্রাফিক তথ্য, এঙ্গেজমেন্ট, তাদের অভ্যাস এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করা হয় এবং সেইভাবে সেটা ডেলিভারি করা হয়। আপনার কন্টেন্ট প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে সেটার রিচ কম হয়।
৫। কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডঃ
ফেসবুক চায় তাদের ব্যবহারকারী নিউজ ফিডে অথেনটিক কন্টেন্ট দেখুক, স্পেস টা নিরাপদ থাকুক। ব্যক্তিগত তথ্যসমূহ যেন গোপন থাকে এবং তা প্রতিরোধ করা যায়। অধিকারের দিক থেকে সকল ব্যবহারকারী যেন সমান সুবিধা ভোগ করতে পারে। কেউ যেন কাউকে হয়রানি করতে না পারে, বৈষম্যমূলক আচরণ যেন না করে, কাউকে যেন আক্রমণ করা না হয়। এ গুলো মেনে চলার ব্যাপারে ফেসবুক বদ্ধপরিকর। ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে না চললে ফেসবুক ব্যবস্থা নেয়। এতে করে পেজের রিচ কমতে পারে।
৬। ক্লিকবেইট হেডলাইনঃ
ক্লিকবেইট হেডিং ব্যবহার করে কোন কন্টেন্ট ব্যবহার করা হলে ফেসবুক ব্যবস্থা নেয়। এতে করে পেজের রিচ কমে যেতে পারে। রমরমা হেডিং লিখে বিস্তারিত জানার জন্য কাউকে প্রলুব্ধ করে লিঙ্ক ক্লিক করার আহ্বান জানানোর নামই হল ক্লিকবেইট হেডিং (Clickbait Heading). ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কিছু ব্লগ সাইট বা অনলাইন নিউজ পেপারে এমন টি করা হয়। ফেসবুকের ক্ষেত্রে একজন পাবলিশার এমন কিছু শিরোনাম লিখে লিঙ্ক পোস্ট শেয়ার করল যেটাতে ক্লিক করতে মানুষজনকে উৎসাহিত করল অধিক কিছু জানার জন্য। কিন্তু ক্লিক করার পর দেখতে পারল পর্যাপ্ত তথ্য সেখানে নেই, তখন সেটাকে ক্লিকবেইট শিরোনাম হিসেবে গণ্য করা হবে। যেমন – হেডলাইন দেয়া হলো “অবিশ্বাস্য অফার” পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন। কিন্তু ক্লিক করে আপনি হতাশ হলেন।
৭। অন্য সোর্স এর কন্টেন্টঃ
নিজের কন্টেন্ট ব্যবহার না করে অন্য কোন সোর্স থেকে পাওয়া কন্টেন্ট খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হলে পেজের রিচ কমতে পারে। ৩ নম্বর পয়েন্ট এর সঙ্গে এটা গুলিয়ে ফেলবেন না। কপিরাইট ইস্যু ছাড়াও অন্য কোন সোর্স থেকে পাওয়া কন্টেন্ট বলতে অনেকেই তাদের সাপ্লায়ার এর কন্টেন্ট নিয়মিতভাবে ব্যবহার করেন। যেমন – ভারতীয় বা পাকিস্তানি ক্যাটালগ ইমেজ।
৮। জব পোস্টঃ
এমন কোন চাকরির পোস্ট শেয়ার করা যেটার মধ্যে ছিল মিথ্যা আশ্বাস। জালিয়াতি করার উদ্দেশ্যেই পোস্ট টা দেয়া হয়েছিল। এ ধরণের পোস্ট শেয়ার করা হলে পেজের রিচ কমে যেতে পারে।
৯। ফেসবুক ফ্যাক্ট চেকিং:
ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রামে বিভিন্ন দেশ এবং এলাকা থেকে যেন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়া না হয় এ ব্যাপারে ফেসবুক বদ্ধপরিকর। এটার ব্যাপারে তারা যুদ্ধ করে আসছে। এই কারণে তারা বিভিন্ন ব্যক্তি এবং থার্ড পার্টি ফাক্ট-চেকিং অর্গানাইজেশন এর সঙ্গে কাজ করেন যারা non-partisan International Fact-Checking Network (IFCN) এর সারটিফাইড। তাদের রিপোর্ট এর ভিত্তিতে ফেসবুক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। এটার কারণেও পেজে রিচ কম হয়।
১০। ব্রান্ডেট কন্টেন্ট এর ব্যবহারঃ
আমরা অনেকেই আলিবাবা, অ্যামাজন থেকে ব্রান্ডেট কন্টেন্ট ডাউনলোড করে পেজে ব্যবহার করি এবং সেটা দেখিয়ে রেপ্লিকা প্রডাক্ট বিক্রি করি। এতে করে অনেকেই প্রতারিত হয়। এটা প্রতিরোধ করার জন্য ফেসবুক ব্রান্ডেট কন্টেন্ট পলিসি তৈরি করেছে। তাই ব্রান্ডেট কন্টেন্ট ব্যবহার করতে হলে সেটার পলিসি মেনে তা ব্যবহার করতে হবে। এটার ভায়োলেশনের কারণে পেজে রিচ কম হতে পারে।
উপরে কিছু কারণ আমি উল্লেখ করলাম যে গুলো মেনে না চললে পেজের রিচ কমতে পারে। সেই সঙ্গে ফেসবুক আরও গুরুতর ব্যবস্থা নিতে পারে যেমন- পেজ আন-পাবলিশড করে দেয়া, পেজ রিমুভ করে দেয়া, ডিস্টিবিউশন প্লেসমেন্ট কমিয়ে দেয়া ইত্যাদি। আপনার পেজ কোয়ালিটি ভাল রাখতে চাইলে ফেসবুকের পেজ পলিসি, পেজ স্ট্যান্ডার্ড এবং কমিউ নিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলুন। SA Digital Service