20/04/2026
যারা জাপানে ফ্রিতে পড়তে চান,MEXT স্কলারশিপ হলো সবচেয়ে বড় আর প্রেস্টিজিয়াস সুযোগ।জাপান সরকার এটা দেয়, আর এতে টিউশন,থাকা-খাওয়া,এমনকি এয়ার টিকিট সব ফ্রি।
আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের জন্য মাসে প্রায় ১,১৭,০০০ ইয়েন, মাস্টার্স/পিএইচডির জন্য মাসে ১,৪৪,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ ইয়েন (কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ২,০০০–৩,০০০ ইয়েনও পাওয়া যায়)। যাওয়া-আসার এয়ার টিকিট + হেলথ ইনস্যুরেন্স সব কভার হয়। মানে প্রায় সব খরচই জাপান সরকার বহন করে।
যোগ্যতা
আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের জন্য:HSC পাস করতে হবে।বয়স ১৭ থেকে ২১ বছরের মধ্যে (২০২৬ সালের ১ এপ্রিল অনুসারে)।সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে ভালো, GPA যত ভালো হয় তত সুবিধা।
মাস্টার্স/পিএইচডির জন্য: গ্র্যাজুয়েশন বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন করে থাকতে হবে।বয়স সাধারণত ৩৫ এর নিচে।সব পরীক্ষায় First Class বা ভালো CGPA (৩.৫/৪.০ এর উপরে) থাকা দরকার।
জাপানিজ ভাষা না জানলেও চলবে (প্রিপারেটরি কোর্সে শেখানো হয়), কিন্তু JLPT সার্টিফিকেট থাকলে অনেক সুবিধা।
আবেদনঃMEXT স্কলারশিপে মূলত দুইভাবে আবেদন করা যায়। একটা হচ্ছে Embassy Recommendation আরেকটা হচ্ছে University Recommendation।
১. Embassy Recommendation (দূতাবাসের মাধ্যমে)
এটাই বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ স্টুডেন্ট আবেদন করে। এখানে প্রথমে দূতাবাস (Japanese Embassy in Dhaka) আর বাংলাদেশের Ministry of Education (MoE) এর মাধ্যমে সিলেকশন হয়, তারপর জাপানের MEXT ফাইনাল করে।
প্রক্রিয়া স্টেপ বাই স্টেপ (২০২৬ সাইকেলের জন্য):
এপ্রিল মাস: Ministry of Education (shed.gov.bd) এবং দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।
এপ্রিল-মে: আবেদন ফর্ম MoE-তে জমা দেওয়া।তারা প্রাথমিক লিস্ট Embassy-তে পাঠায়।
মে-জুন: Embassy থেকে শর্টলিস্টেডদের অফিসিয়াল ফর্ম আর গাইডলাইন দেয়।
জুন: Embassy-তে পুরো ডকুমেন্টস জমা দাও।
জুলাই: Embassy-তে লিখিত পরীক্ষা + ইন্টারভিউ।
আগস্ট: Embassy Provisional Selection (প্রাথমিক নির্বাচন)।
ডিসেম্বর-জানুয়ারি: জাপানের MEXT ফাইনাল সিলেকশন।
জানুয়ারি-মার্চ: University Placement (MEXT আপনাকে ইউনিভার্সিটিতে প্লেস করে) + ওরিয়েন্টেশন।
এপ্রিল বা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৬: জাপানে যাওয়া।
২. University Recommendation (ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে)
এখানে আপনাকে সরাসরি জাপানের কোনো ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করতে হবে।ইউনিভার্সিটি সিলেক্ট করে MEXT-এ রেকমেন্ড করে।
প্রক্রিয়া:
প্রথমে জাপানের ইউনিভার্সিটিগুলোর ওয়েবসাইট চেক করতে হবে (যেগুলো MEXT University Recommendation নেয়)।
তাদের অ্যাডমিশন পোর্টালে আবেদন করতে হবে (সাধারণত নভেম্বর-জানুয়ারি বা পরে)।
ইউনিভার্সিটি আপনার ডকুমেন্টস দেখে নিজেরা সিলেকশন করে, তারপর MEXT-এ পাঠাবে।
MEXT ফাইনাল অ্যাপ্রুভ করলে স্কলারশিপ পাবেন।
সুবিধা: পরীক্ষা কম বা নেই, ইউনিভার্সিটির সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করলে চান্স বাড়ে।কিছু ক্ষেত্রে ফল সেমিস্টারে (অক্টোবর) যাওয়া যায়।
অসুবিধা: ইউনিভার্সিটির সাথে আগে কানেকশন লাগে (প্রফেসরের সাথে ইমেইল), শুধু একটা ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা যায়, আর Embassy route-এর সাথে একসাথে করা যায় না (একটা active থাকলে অন্যটা invalid হয়ে যেতে পারে)।
টিপস:
দুটো রুটে একই সময়ে আবেদন করা যায় না।
Embassy route-এর জন্য MoE (shed.gov.bd) আর Japanese Embassy Dhaka (bd.emb-japan.go.jp) নিয়মিত চেক করো।
সব ডকুমেন্ট attested করুন,রিসার্চ প্ল্যান ভালো করে লিখুন।
Competition অনেক, তাই GPA ভালো রাখুন।
রেজাউল করিম
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, জাপান ।