06/04/2026
https://www.facebook.com/share/1CBhKtC7Dd/
চট্টগ্রামে আসার আগে মাত্র ১০০ টাকা বেতনে নারায়ণগঞ্জে নিজের প্রথম চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সময় তখন ১৯৬৪ সাল। জুট ভ্যালিতে কোম্পানিতেই চাকরির হাতেখড়ির পর এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলেন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে (বর্তমানে সোনালী ব্যাংক) ‘জুনিয়র ক্লার্ক’ পদে নিয়োগ চলছে। সুফী মিজানুর রহমান দেরি না করেই আবেদন করলেন। নিয়োগ পরীক্ষায় টিকেও গেলেন। পেয়ে গিয়েছিলেন নিয়োগপত্রও। কিন্তু তাঁর বাবা চেয়েছিলেন তিনি আরও পড়াশোনা করুক। অন্তত মাস্টার্সটা যেন তাঁর শেষ হয়। সেকারণে ছেলের চাকরিতে টিকে যাওয়ার খবরে তিনি মোটেও খুশি হলেন না। কিন্তু সুফী মিজানুর ছিলেন নাছোড়বান্দা। স্কুলের শিক্ষককে অনুরোধ জানালেন তাঁর বাবাকে রাজি করাতে। শেষমেষ চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালানোর ব্যাপারে আশাবাদী রেখে সুফী মিজানুর রহমানের বাবাকে রাজি করালেন সেই স্কুল শিক্ষক!
চট্টগ্রাম হাতছানি দিলো। ‘জুনিয়র ক্লার্ক’ পদে ১৬৩ টাকা মাসিক বেতন-ভাতায় নিয়োগপত্র নিয়ে সুফি মিজানুর রহমান নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে আসেন চট্টগ্রামে। ১৯৬৫ সালের ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম লালদীঘি শাখায় কাজ শুরু। তবে হেরফের করে নয়, একেবারে পুরোদমে। অন্যদের চেয়ে বেশ পরিশ্রমী ছিলেন মিজানুর। চাকরি করা অবস্থাতেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমাও শেষ করেছিলেন করলেন ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স ইন পাকিস্তান থেকে।
১৯৬৫ সালে বি.কম পরীক্ষায় পাশ করে গেলেন। তারপর বাঙালির প্রথম ব্যাংক ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকে (বর্তমানে পূবালী ব্যাংক) জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে দরখাস্ত করলেন। কিন্তু বাঁধ সাধলো নিয়ম-কানুন। তখন এক ব্যাংকের লোক আরেক ব্যাংকে যোগদান করতে পারতো না। তবে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তাঁকে যোগদানের সুযোগ দিলেন। হাঁটলেন নিয়মের বিপরীতে। ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বর্তমান পূবালী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগে যোগ দেন তিনি। মাসিক বেতন ধরা হলো ৮০০ টাকা। পশ্চিম পাকিস্তানিদের দাপটের সময়েও তিনি বাঙালি ব্যবসায়ীদের কম মার্জিনে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিতে থাকেন। ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন সুফি মিজানুর রহমান।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের ভয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঙালিরা পালাতে থাকে। সুফী মিজানুর রহমান তখন ফটিকছড়ির নানুপুরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেসময়ে পাকিস্তান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাংকের কাজে পুনরায় শহরে ফিরে তিনি কাজ করেছিলেন পুরো নিষ্ঠার সাথে। ১৮ টি গুদাম ভাড়া নিয়ে তিনি খুবই গোপনে ব্যবসায়ীদের পণ্য নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন। ১৮টি গুদামের চাবি কোমরে বেঁধে রাখতেন তিনি, যাতে কোনো পণ্য খোয়া না যায়। দেশ স্বাধীনের পর এসে ব্যবসায়ীরা দেখেন, তাঁদের মাল গুদামে রয়ে গেছে। সবাই সুফি মিজানকে কোলে তুলে আনন্দ-উল্লাস করতে থাকলেন। তাতে ব্যবসায়ীদের কাছে সুফি মিজানুর রহমান আরও বেশি আপন হয়ে গেলেন।
ব্যাংকে আমদানি-রপ্তানির কাজ করতে গিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠলেন তিনি। ভালো সম্পর্কও তৈরি হলো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। স্বাধীনতার আগে বাঙালি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা এমনিতেই ছিল কম। স্বাধীনতার পর পালিয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানিরাও। বাজারে তখন পণ্যের চাহিদা ব্যাপক, তার তুলনায় আমদানিকারক কম। ব্যাংকের বৈদেশিক শাখায় কাজ করার সুবাদে কোনো পণ্যের আমদানিতে কখন কেমন লাভ হতে পারে, তা জানতেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যবসায়ের।
বাবার পরামর্শও ছিল—ব্যবসা জানলে টাকা তোমার পেছনে দৌড়াবে। ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিলেন। সে সময় বাজারে জাপানের ব্রিজস্টোন টায়ারের ব্যাপক চাহিদা ছিলো। তাই প্রথম ব্যবসা হিসেবে বেছে নিলেন টায়ার-টিউব আমদানি। কিন্তু সমস্যা হলো, এমন সময়ে ব্রিজস্টোনের একমাত্র এজেন্ট ইস্টার্ন মোটরস লিমিটেডের বাইরে চুক্তি অনুযায়ী বাইরের কোনো ব্যবসায়ীকে সরাসরি আমদানির সুযোগ দিতে পারে না। এখানেও ভাগ্য সহায় হলো। নিয়মে অনিয়ম হলো। কিভাবে? ইস্টার্ন মোটরসের প্রতিষ্ঠাতা নুরূল ভূঁইয়ার ছেলে মতিউর রহমানসহ (উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান) তিন সন্তানকে পড়াতেন সুফী মিজানুর। সে সুবাদে ব্যাংকে চাকরি করার সময় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। তবে শর্ত ছিলো মুনাফার অর্ধেক ভাগাভাগি করতে হবে।
মোটরস পরোক্ষভাবে আমদানির সুযোগ দিল। ব্যাংকও শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র খুলে দিল। টায়ার বিক্রি করে প্রথম ব্যবসায় ভালো মুনাফা হলো। ব্যবসায়ের শুরুতেই ব্যাংকের টাকা শোধ করলেন তিনি। এরপর একের পর এক পণ্য আমদানি শুরু করলেন। জার্মানি, ডেনমার্ক কিংবা হল্যান্ড থেকে গুঁড়া দুধ, চীন থেকে স্টেশনারি ও সুতা, ব্রাজিল থেকে চিনি, ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করতে থাকলেন। আমদানি শুরুর পর লাভের টাকায় ঢাকার মৌলভীবাজারে দোকান কিনে নেন তিনি। এতে অংশীদার হন স্ত্রীর বড় ভাই ও শৈশব বন্ধু।
সুফি মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম থেকে পণ্য কিনে ঢাকার মৌলভীবাজারে পাঠাতেন। সেখানে বসে বিক্রি করতেন বাল্যবন্ধু। এভাবেই ভাগ্যের মোড় ঘুরতে শুরু করলো। সিদ্ধান্ত নিলেন, বাণিজ্য থেকে লাভের টাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন। এক দশক পণ্য আমদানি ও বেচাকেনা করে হাতে অনেক টাকা তখন।
সে সময়টা বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা শিল্পকারখানায় পা রাখতে শুরু করেছিলেন। এই তালিকায় নাম লেখান তিনিও। তাঁর ছোটোবেলার বন্ধু মোহাম্মদ রুকুনউদ্দিন মোল্লাকে সাথে নিয়ে শুরু করলেন জাহাজভাঙা কারখানা। সীতাকুণ্ডের উপকূলে বঙ্গোপসাগরের তীরে আর এম শিপব্রেকিং নামে জাহাজভাঙা কারখানা গড়ে তুললেন। ১৯৮২ সালে ছয় লাখ ডলারে ‘ওশান এইচ’ নামে ছয় হাজার টনের পুরোনো জাহাজ প্রথম আমদানি করে ভাঙলেন কারখানায়। প্রথম আমদানি করা জাহাজ ভেঙেও পেলেন লাভের দেখা। দুই বছর পর জাহাজভাঙা কারখানায় লোহার প্লেট থেকে রড তৈরির কারখানাও দিলেন। নাম দিলেন সিনো বাংলা রি-রোলিং মিলস। মাসে ৪০০ টনের উৎপাদন ক্ষমতা। এ কারখানায়ও লাভের দেখা মিলল শুরুতে। এরপর কারখানা স্থাপনের নে*শায় ধরলো তাকে।
এরপর একে একে গড়ে তুললেন ঢেউটিন, ভোজ্যতেল ও সুতার কারখানা। মূলত ঢাকায় এসব কারখানা গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন আর এম নামে। অংশীদারের নাম ও নিজের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে গ্রুপের নাম হলো। শুরুতে জাহাজভাঙা ছাড়া সব কারখানা ঢাকাতেই ছিল। ঢাকায় একের পর এক কারখানা গড়ে তুলতে দেখে সহধর্মিণী তাহমিনা রহমান চট্টগ্রামে শিল্পকারখানা করার পরামর্শ দিলেন। তাঁর কথায় ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দিলেন ঢেউটিন তৈরির কারখানা—সি আর কয়েল মিলস। এ সময়ে নিজের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলা আরএম গ্রুপ ভাগ হয়ে গেল। তখন গ্রুপের হাতে ছিল ১০টি শিল্পকারখানা ও ২টি প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগই ঢাকায়। ভাগে পাঁচটি ঢেউটিন কারখানার একটিও পড়েনি। সুফি মিজানুর রহমানের ভাগে পড়ল জাহাজভাঙা কারখানা, অক্সিজেন কারখানা ও রাবার বাগান। ভাগে পাওয়া প্রতিষ্ঠান নিয়ে ১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই তিনি গঠন করলেন আলাদা কোম্পানি। নাম দিলেন পিএইচপি। প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা নয়, এই পিএইচপির অর্থ সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। এবার নিজেই নতুন করে শুরু করলেন। সঙ্গে ছিল শিল্পকারখানার অভিজ্ঞতা।
নতুন নামে যাত্রা শুরুর পর পিএইচপির নামে প্রথম প্রতিষ্ঠান ছিল পিএইচপি গ্যালভানাইজিং ইন্ডাস্ট্রি। শিল্প দাঁড় করাতে সে সময় কারখানায় দিনের পর দিন পড়ে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এমনও দিন গেছে, একটানা ১৫ দিন কারখানাতেই পড়ে ছিলেন তিনি। এবার আগের মতো ছোট কারখানা নয়, বড় বিনিয়োগে কারখানা করতে থাকলেন। পিএইচপির হাত ধরে ২০০৫ সালে দেশে প্রথম প্রতিফলিত কাচের বড় কারখানা ‘পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি’ গড়ে তোলা হয়। পুরোনো ঢেউটিন তৈরির কারখানার পাশাপাশি ফেনীতে আড়াই লাখ টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন কারখানা গড়ে তোলা হয়। আবার ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পিএইচপি। পিএইচপির এই তিনটি পণ্যই বাজারে শীর্ষ সারিতে রয়েছে। কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলা শিল্পকারখানার জন্য দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে পিএইচপি। সুফি মিজানুর রহমানের নিজের গড়া জাহাজভাঙা কারখানা প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২০ সালে দেশে এই কারখানার জন্য পেয়েছেন মেরিটাইম অ্যাওয়ার্ড। পরিবেশবান্ধব ঢেউটিনের জন্যও সুনাম অর্জন করেছে পিএইচপি। গাড়ি সংযোজন থেকে ধাপে ধাপে দেশেই ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০০ একর জায়গায় মৌলিক ইস্পাত কারখানা (এইচআর কয়েল তৈরি) গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। উৎপাদনে যাবে ২০৩০ সালে। কারখানায় সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতা হবে ৩০ লাখ টন। ঢেউটিন তৈরির এইচআর কয়েল, সিআই শিট, রড, ফ্রিজ-গাড়ির পাতের মতো বহু পণ্য উৎপাদিত হবে এই কারখানায়। কয়লা ও খনির আকরিক ব্যবহৃত হবে কাঁচামাল হিসেবে।
ব্যবসায় সাফল্যের পাশাপাশি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন সুফি মিজানুর রহমান। ২০২০ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিল্পপতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক। পিএইচপি পরিবারে ১১ হাজার কর্মী। ২০২০ সালে করোনার ধাক্কা পিএইচপি পরিবারেও লেগেছে। করোনার সময়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তবু করোনার কারণে একজন কর্মীকেও ছাঁটাই করেনি এই শিল্প পরিবার। সুফি মিজানুর রহমান তখন ঘোষণা দিলেন, করোনায় কাউকে ছাঁটাই করা হবে না। অপরাধ করলেও করোনার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কথার প্রমাণ দিলেন কাজে। ছাঁটাই তো হয়ইনি, উল্টো করোনার সময় ১২টি বোনাস দিয়েছেন কর্মীদের।
নিজের সততা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের বলে মানুষ কতোদূর যেতে পারে তার জলজ্যান্ত এক উদাহরণ সুফী মিজানুর রহমান। এমন বর্ণাঢ্য জীবন যার, তার শুরুটা হয়েছিল ১০০ টাকা বেতনের চাকরি দিয়ে। মিজানুর রহমান এখন ৩৩ টি কোম্পানির মালিক। দেশকে ট্যাক্স দেন ৮০০ কোটি টাকা। এখন দেশের সেরা শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পিএইচপি।
এত সম্পদ থাকার পরও ছেলেমেয়েদের তিনি বড় করেছেন একেবারে সাধারণভাবে। দিয়েছেন নৈতিকতার শিক্ষা। পাশাপাশি করেন শিল্পচর্চাও। উৎসব-পার্বণ ছাড়াও প্রায় প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে বসে গানের আসর। তিনি গান করেন, গিটার আর স্যাক্সোফোন বাজিয়ে তাকে সংগত করেন দুই ছেলে।
মাইজভান্ডারি গানের ভক্ত এই শিল্পপতির বাড়িটি যেন মরমি সংগীত লালন, মাইজভান্ডারি আর কাওয়ালি গানের কেন্দ্র। তার বাড়িতে নিয়মিতই ভক্তিমূলক গানের আসর বসে। পরিবারের সব সদস্যের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই উপস্থিত থাকেন সেই আসরে। ‘মন অহংকারে দিন কাটালি মানুষ হবি কেমন করে। তোর সাধন ভজন নষ্ট হইল, হিংসা নিন্দা অহংকারে’-কবিয়াল রমেশ শীলের এ গানটি সুযোগ পেলেই গেয়ে শোনান সুফি মিজান। শিল্পপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সুফি উপাধি দেওয়া হয় প্রায় ২৫ বছর আগে। আল্লামা রুমী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমদুল হক তাকে এই উপাধি দেন বলে জানা যায়।
তথ্য: প্রথম আলো