14/02/2025
ডেইলি স্টারের শিরোনাম ও মোদীর আমেরিকা ভ্রমণে আ-লীগের আত্মতুষ্টি..⚠️
আমি ট্রাম্প ও মোদির সাক্ষাৎকারটি দেখেছি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, ট্রাম্প প্রথমত বাংলাদেশের পরিবর্তনে মার্কিন ডিপস্টেটের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ নিয়ে কয়েকটি খামোখা মন্তব্য করার পর (শত বছর প্রভৃতি), বাকীটা বলার জন্য মোদির দিকে বল ঠেলে দেন, ("I will leave [the rest of] Bangladesh [conversation] to the Prime Minister")। ব্রাকেটের শব্দগুলো এজাতীয় সংবাদ সম্মেলনের প্রচলিত অভিজ্ঞতা থেকে যুক্ত করা হয়েছে। কারণ এসব যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাধারণত কোনো একজন আংশিক উত্তর দিয়ে উত্তরের বাকীটা অন্য জনকে দিতে বলা খুবই সাধারণ চর্চা। কিন্তু ডেইলি স্টার তার শিরোনামেI ‘will leave Bangladesh to the Prime Minister‘-কে অনুবাদ করেছে, “বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি।” এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশকে হেয় করার উদ্দেশ্যে, মতলব বাজি অনুবাদ করেছে। এই দালাল “দিল্লি স্টার “-কে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এর নিতম্বে লাথি মেরে বাংলাদেশ থেকে বের করার সময় হয়ে এসেছে!
ডেইলি স্টার যদি ইংরেজি না-বুঝে এই শিরোনাম করে থাকে সেক্ষেত্রে সেখানে এটি পত্রিকাটির অযোগ্যতা। তারা এটা না বুঝে করেছে এই কথা কি আপনার বিশ্বাস হবে?⚠️
আর যদি তারা ইংরেজি বুঝে এই শিরোনামটি করে থাকে, তাহলে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের ঘি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হবে। দেশের প্রথম সারির ইংরেজি পত্রিকা, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এটা একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি⚠️
মোদি আমেরিকায় আসলে বাংলাদেশ নিয়ে কী পেল?
অথবা কিছু কি পাওয়ার কথা? (যারা সুশীল সেজে এই “দিল্লি স্টার” এর পক্ষে চাটুকারিতা করবেন তাদের জন্য প্রশ্ন রইল।)
মোদির এই মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে আমেরিকা যাওয়ার প্রধান কারণ হলো। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে তাদের অবৈধ নাগরিকদের, কার্গো জাহাজে করে গরু-ছাগলের মত হাত-পা বেঁধে দেশে পাঠানো শুরু করেছে! এই ঘটনায় সারা বিশ্বের কাছে তারা যেভাবে হেনস্থা হয়েছে এবং তাদের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এবং আমেরিকার বর্তমান প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এতে ভারত বেশ ভালোভাবে ধরা খেতে যাচ্ছে, এই সমস্যা নিরসনে দরকষাকষি করার জন্য আমেরিকায় যাওয়া।
আমেরিকা-ভারতের মধ্যে সম্পাদিত প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে ভারতের বাণিজ্য সারপ্লাস প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার!
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সারপ্লাস কমানোর জন্য দফারফা করে ছাড়বেন। এছাড়া আমেরিকায় প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি অবৈধ ভারতীয় বসবাস করে। ট্রাম্প এই দুইয়ের সমাধানে জয়শংকরকে বলেছেন এবং মোদী এগুলো সমাধানের জন্যই আমেরিকা গেছেন। তিনি ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যে নিশ্চিত ট্যারিফ বসাবেন এবং ভারতের বাজার আমেরিকার কোম্পানীগুলোর জন্য আরও বেশি খুলে দিতে চাপ দিবেন। এবং অবৈধ ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে নিতে বলবেন।
সুতরাং ভারতের বাণিজ্য ও অভিবাসন স্বার্থ নিয়ে ট্রাম্পের সাথে দরকষাকষি করতেই মোদির ঘাম ঝরে যাওয়ার কথা। যতটুকু জেনেছি, ঝরেছেও। ট্রাম্পের এসব আগ্রাসী নীতি সামলে আবার বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলা মোদির জন্য এক ধরনের বিলাসিতা। সে সুযোগও তার এখন নেই।
যার ফলে যেসব আওয়ামী লীগার মনে করছেন, মোদী তাদের ত্রাতা হয়ে ট্রাম্পের সাথে দরকষাকষি করে ইউনুস সরকারকে বেকায়দায় ফেলবেন, তাদের জন্য বড় এক বালতি সমবেদনা..😂🤣🤣😆