HumanLab777

HumanLab777 Human Audit
Consumer Behavior Insight
Strategic Critique
Cultural Alignment
Life Coaching
Personal Assessment

Price depends on Social status and Demographic context

হিউম্যানল্যাব এর ২০২২ পঞ্জিকাবর্ষের শিক্ষানবিস হিসেবে গতকাল নিবন্ধিত হলো ওয়ানিয়া (রাজকন্যা রূপকথা) এবং জোহায়রা (রিমঝিম র...
26/12/2021

হিউম্যানল্যাব এর ২০২২ পঞ্জিকাবর্ষের শিক্ষানবিস হিসেবে গতকাল নিবন্ধিত হলো ওয়ানিয়া (রাজকন্যা রূপকথা) এবং জোহায়রা (রিমঝিম রংধনু); ঘটনাক্রমে ওরা সহোদর, সবে ১২ এবং ৯ এ পদার্পণ করেছে।

এর চাইতেও ইন্টারেস্টিং তথ্য হচ্ছে, ওরা আমার দীর্ঘদিনের ক্রিকেটমিত্র Fuad Bin Omar এর আত্মজা।

আমি সবসময়ই বলি পরিণত বয়সের মানুষকে মননশীল, প্রশ্নপ্রবণ এবং এনালিটিকাল এবিলিটি সম্পন্ন বানানোটা অনেক বেশি ক্রিটিকাল, উদ্যোগটা শুরু করতে হবে শৈশব-কৈশোর থেকে। যে কারণে ১০ থেকে ১৫ বয়সীদের নিয়ে কাজ করি, এবং প্রতি মাসে স্কলারশিপ দিই।

কিন্তু আগ্রহী শিশু-কিশোর এবং অভিভাবকের সন্ধান পাওয়াটাই হয় দুরূহ। কোথাও বাচ্চা আগ্রহী, অভিভাবক নয়, কোথাও বা উল্টোটা। ফলত, আমার 'এনালিটিকাল হিউম্যান গ্রুমিং' প্রকল্প কল্পনাতেই রয়ে যায়।

ক্রিকেট দেখাসূত্রে ফুয়াদ ভাইয়ের সাথে আলাপ হয় নিয়মিত। দেখতে যতই ভার্সিটি তরুণ মনে হোক, মেঘে মেঘে বেলা বয়ে গিয়ে তিনি যে ৩টে মানবশিশুর অভিভাবক হয়েছেন সেই অমোঘ সত্যই বা কীভাবে এড়াই!
কথাপ্রসঙ্গেই ফুয়াদ ভাইয়ের বড়ো কন্যার সম্বন্ধে জানি, এবং তাকে প্রস্তাব দিই কন্যাটিকে আমার শিক্ষানবিশ প্রকল্পে অধিভুক্ত করানোর। বলামাত্রই নিশ্চিত হই, ফুয়াদ ভাই এধরনের এক্সপেরিমেন্টাল প্রকল্পে অত্যধিক উৎসাহী। এরকম একজন মানুষ মিঠুনের মতো ক্রিকেটারকে কেন প্রমোট করে ধাঁধাটা মিলে না।

গতকাল ২ কন্যা নিয়ে চলে আসেন। স্ক্রিনিং করি দুজনের। ৯ বয়সী জোহায়রা এর চপলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে, কোনোরকম জড়তা নেই। ১০ এর নিচে বাচ্চাদের সাধারণত শিক্ষানবিশ হিসেবে নিই না। কিন্তু জোহায়রার মুভমেন্ট এতটাই শার্প মনে হয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাই।
১২ বয়সী ওয়ানিয়া দুর্দান্ত ছবি আঁকে, জাপানিজ ভাষা শিখে, রান্না করতে জানে অনেক আইটেম, পড়াশোনা নানা বিষয়ে, শিখেছে মার্শাল আর্টও। এই কন্যাশিশু ইতোমধ্যেই অনেকটা প্রাগ্রসর, কিছুটা ফাইন টিউন করে নিলেই হবে। শিক্ষানবিস হিসেবে প্রতিমাসে সে স্কলারশিপ পাবে ১১২৯ টাকা, এবং তার অনুজ জোহায়রার প্রতিমাসে স্কলারশিপ ১৭৯ টাকা।

স্কলারশিপের অধীনে ওরা পাবে নিজেদের আইডি কার্ড এবং ভিজিটিং কার্ড। এছাড়া কিছু টাস্কও করতে হবে। এমন সব টাস্ক যা ওদের ব্যক্তিত্বের গঠনে জ্বালানী হয়। যেমন ওয়ানিয়ার প্রথম টাস্ক ৭ জন চিত্রকরের জীবনি পড়ে প্রত্যেকের সম্বন্ধে ১০০ শব্দে উপলব্ধি লিখতে হবে। জোহায়রা ওর ছোট ভাইয়ের ১০টি কোয়ালিটি লিখবে, তার মধ্যে কোনগুলো ওর সাথে মিলে আর মিলে না জানাবে। এই টাস্ক জমা দেয়ার পরে পাবে নতুন এসাইনমেন্ট।

যদিও স্কলারশিপ হিউম্যানল্যাব থেকে দেয়া হচ্ছে, এর স্পন্সর আমি নই। স্পন্সরের টাকা যিনি দিচ্ছেন তিনি পরিচয় প্রকাশে অনাগ্রহী। অর্থাৎ আমাদের পরিমণ্ডলেই মহৎ ভাবনার অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা ব্যতিক্রমীতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে একেবারেই কার্পণ্য করেন না।

আমি চাই অন্তত ১০০ জন শিশু-কিশোরকে এধরনের স্কলারশিপ দিতে, কিন্তু শুরুতেই যা বললাম, ওরকম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর দেখাই মিলে কদাচিৎ!

শুরুতে ব্র‍্যাকেটবন্দী রাজকন্যা রূপকথা এবং রিমঝিম রংধনু নাম দুটোর ব্যাখ্যা দিই। ওয়ানিয়া এবং জোহায়রাকে ওদের দাদি আদরবশত এই নিকনেমে ডাকেন। নাম দুটো অতিব মনোহর। দেখা যাক এই দুই পেন্সিল তীক্ষ্ম মানবশিশুকে আদৌ ভিন্নস্তরের জীবন দেখাতে কন্ট্রিবিউট করতে পারি কিনা।

13/12/2021

"জনৈক ডাব বিক্রেতার মনোচিত্র ও তাত্ত্বিক কচকচানি"

১.

চলতি ধারণায়, অর্থনীতি মানেই যেখানে টাকা-পয়সার হিসেব, সেখানে এই বিরাট ক্ষেত্রটি কীভাবে কীভাবে সমাজবিজ্ঞানের অংশ হয়ে গেলো, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শুরুতেই কোনো ঘোট পাকাতে চাই না। কিন্তু যেহেতু বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স নিয়ে কথা বলতে চলেছি, আপাত গুরুত্বহীন কিছু শব্দগুচ্ছ দিয়ে এই লেখার সূচনা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় এই মূহুর্তে খুঁজে পাচ্ছি না।

সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স বোঝানোর কাজে মনোযোগী হই চটজলদি। বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স যতোটা না অর্থনীতির, তার থেকে বেশি মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়; তবে একচেটিয়াভাবে এই আলোচনা থেকে লাভটা হয় অর্থনীতিরই। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এবং এর পেছনকার মনঃস্তত্ত্ব ও গৃহীত সিদ্ধান্তের উপযোগীতা নির্ণয় করাই বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের কাজ। উদাহরণস্বরূপ আমরা মাইক্রোলেন্ডিং-এর আলাপ টানতে পারি। এই গালভরা শব্দটি আমরা প্রায়ই শুনি, এবং সহজ ভাষায় এটিকে আমরা চিহ্নিত করে থাকি বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে প্রদত্ত ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে। সেবাগ্রহীতার প্রয়োজনসাপেক্ষে এককালীন একটি অর্থ প্রদান এবং কিস্তিতে সেই অর্থ ফেরত নেয়া- এর উপরেই আবর্তিত হয় মাইক্রোলেন্ডিং। এখন, কোনো ব্যক্তিকে এরকম লোন দেয়া হলে সে এটির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সেটি আগেভাগেই বুঝে নিতে আমরা শরণাপন্ন হই বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের। এবং এই ত্রিবেণীসঙ্কটে এসে সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান আর অর্থনীতি মিলেমিশে ঘোট পাকিয়ে যায়।

এই ঘোট পাকানোরও জবরদস্ত একটি নাম আছে, যেটিকে বলা হয় 'ক্রেডিট রিস্ক'। সেবাগ্রহীতার মুখ দেখে যেহেতু ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দেয়া সমীচীন নয়, তাই ঋণ দেয়ার পূর্বে ক্রেডিট রিস্কের মানদন্ডে কিছু বিষয় বিবেচিত হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে- "ইফেক্টিভ ইকোনমিক ডিসিশান মেকিং"। আপনি কতো বড় দৌড়বিদ, আর টাকা হাতে পেলে আপনি দৌড়ে কতোদূর যেতে পারবেন কিংবা ঠিক কতোটুকু যাওয়ার পরিকল্পনা আপনার আছে, এই বিষয়টি নির্ণয় করা হবে প্রথম মানদন্ডে।
দ্বিতীয় মানদন্ড হচ্ছে ঋণগ্রহীতার 'সেলফ কন্ট্রোল'। আপনি "উঠলো বাই তো কটক যাই" ধাচের মানুষ, কোনো কিছু অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নেন, একরত্তি টাকা উড়িয়ে দিতেও আপনার মিনিট তিনেকের বেশি সময় লাগার কথা নয়৷ তাহলে আপনাকে ঋণ দেয়ারও প্রশ্নই আসে না।
তৃতীয় মানদন্ড বা অর্থনৈতিক সচেতনতাও প্রায় সমধর্মী আলোচনা করে, এবং জোর দেয় ঋণগ্রহীতার 'ইকোনমিক ডিসিপ্লিন' এর উপর৷ ঋণগ্রহীতা কতো টাকা সঞ্চয় করতে পারবে, এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে নিজেকে কতোটা বিরত রাখতে পারবে, সেটিরই সূচক এই মানদন্ড।
চতুর্থ মানদন্ড দেখতে চায় একজন ঋণগ্রহীতার মধ্যে সামাজিক গুণাবলির বিকাশ কতোটুকু, এবং এই মানুষটির থেকে সমাজ কীরকম উপকৃত হবে। এর থেকে আমরা পৌছাই পঞ্চম মানদন্ডে, যেখানে ঋণদাতা দেখতে চায় ঋণগ্রহীতা একজন 'নিউরোটিক' পার্সন কি না, অর্থাৎ এই ব্যক্তির ভেতর ক্ষোভ, রাগ, ঈর্ষা বা বিষন্নতার মতো নেতিবাচক গুণাবলীর প্রাবল্য কতোটুকু রয়েছে।
পঞ্চম তথা সর্বশেষ মানদন্ড দেখতে চায় ঋণগ্রহীতার Attitude towards Money. আপনি টাকা জমিয়ে ঝুঁকিমুক্ত থাকার পক্ষে, নাকি আপনার ভেতর জুয়াড়িদের মতো অস্থিরতা বিদ্যমান, এই সংক্রান্ত বিশ্লেষণ আমরা পাই এই মানদন্ডে।

২.

তাত্ত্বিক কচকচানির হাত থেকে নিজেকে এবং এই লেখাটিকে নিস্তার দিতে 'মৌনতা ক্লাব' এর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি নেই। বইটির পাতা উল্টাই, পৃষ্ঠা নং ১০১, মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় নিজের বয়ানে লিখছেন "জনৈক ডাব বিক্রেতার মনোচিত্র"- তত্ত্বকথা বিহীন বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্সের উপর করা বেশ ভালো একটি কাজ৷

প্রশ্ন করা এবং এর উত্তরগুলোর ক্রিটিক্যাল রিজনিং-এর মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌছানোর যেই স্বতঃস্ফূর্ত তরীকা " জনৈক ডাব..." লেখাটি বাতলে দেয়, সেটি ক্রেডিট রিস্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশ গুরুত্ববহ। এই লেখায় উল্লেখিত কিছু প্রশ্নের ক্রোনোলজি যদি আমরা বিশ্লেষণ করতে চাই, তাহলে পাই যে জনৈক ডাবওয়ালাকে সতর্কতার সাথে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে কথার পাকচক্রে-

- "কী বলো মামা, ৪০-৫০ টাকার ডাব ১২০ টাকা হয়ে গেছে; তোমার ডাব কি দুবাই থেকে আনছ নাকি।"
- ".... তুমি মাত্র দুই কোপে সাইজ করে ফেললা। সব ডাবওয়ালাও কিন্তু তোমার মতো করে কাটতে পারে না।"
- "তোমার তো সব ডাব এক দিনে বিক্রি হয় না, সেগুলো কী করো?"

এই তিনটি বাক্যের একটিকেও কি নির্মোহ জিজ্ঞাসা ব্যাতীত আর কিছু মনে হয়? সম্ভবত না, যদি না আপনিও একজন ক্রিটিক্যাল থিঙ্কার হন। এবং এই সহজাত টেকনিক কোনো থিওরি পড়ে গড়ে ওঠা নয়, যেহেতু বিহেভিয়ারাল ইকোনমিক্স শুধু কিতাব পড়ে দখলে আনা সম্ভবও নয়।

তাই আপাত নিরীহ এইসব জিজ্ঞাসা থেকে প্রাপ্ত উত্তরগুলোর বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহসাই যুক্তির মজবুত জাল নির্মাণ করে "সে শো-অফপ্রবণ মানুষ, নৈতিকতার ভিত্তি জোরালো নয় সম্ভবত", "... ভাগ্য পরিবর্তনের খুব বেশি চেষ্টা নেই; যেকোনোভাবে টিকে থাকতে পারলেই (সে) খুশি", "এ ধরণের মানুষ কমিটমেন্ট এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দুর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে সাধারণত" প্রভৃতি সিদ্ধান্তে যখন লেখক পৌছান, তখন এর বিরুদ্ধে যুক্তি দাড় করানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বৈকি।

কিন্তু শুধু কঠিন বলে, নাকি পাঠকের অসারতায় যুক্তি-তর্ক-গপ্পোর মঞ্চটা আর কখনো প্রস্তুত হয় না, তা বলা কঠিন। 'মৌনতা ক্লাব' তাই তার ডাব বিক্রেতাদের নিয়ে মৌন-ই হয়ে থাকে, কারণ মার্কেট ওসব জিনিস আবার খুব বেশি একটা খায় না।

08/12/2021

১.

সম্প্রতি মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়ের সাথে উবার রাইডকে কেন্দ্র করে একটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলাম। প্রচন্ড বৃষ্টি সেদিন, সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেছে, এর মধ্যে যেতে হবে এলিফ্যান্ট রোড। রাইডার জানালেন তিনি কাফরুল আছেন, আমাদের পিক করবেন মহাখালি ডিওএইচএস থেকে। আধঘন্টা পর রাইডার আসলে আমরা গাড়িতে চড়লাম। একে বৃষ্টি, তার উপর প্রচন্ড জ্যাম, এর মাঝে এলিফ্যান্ট রোড যাওয়া বাতিল হলো, গন্তব্য ঠিক হলো শ্যামলী। রাইডার আগের রাইডটি ক্যান্সেল করতে অনুরোধ করলেন, এবং এরপর শ্যামলী যাওয়ার জন্যে গলাকাটা ভাড়া দাবী করে বসলেন। তার যুক্তি ছিলো, তিনি এলপিজি গ্যাসে গাড়ি চালান, এবং এই গ্যাসের দাম এখন বাড়তি। একরকম বাধ্য হয়ে যখন আমরা গাড়িতে উপবিষ্ট, তখন তিনি জানালেন, গাড়ির জ্বালানি নিম্নমুখী। গাড়ি থেকে ক্রমাগত 'বিপ' শব্দ আসছিলো, এবং এ পর্যায়ে আমাদের রাইডার একপ্রকার প্যানিক করা শুরু করলেন যা কোনো যাত্রীর জন্যে সুখকর নয়।
কিছুদূর গিয়ে অকটেন নেয়া হলো, এবং আরো কিছুটা এগিয়ে তিনি আমাদের আপত্তি স্বত্তেও আবার একটি ফিলিং স্টেশনে এলপিজি নেয়ার জন্যে থামলেন। এই সময় তিনি তার ভাড়াটাও চেয়ে নিলেন। শেষমেশ শ্যামলী পৌছানোর পর নামার সময় যখন তার প্রতি কিছু অসন্তুষ্টি জানানো হলো, তখন তিনি বললেন, 'আমি কি আপনাদের সাথে চিল্লাইসি, না বাজে কথা বলসি?'

এই একই বাক্য আমাদের আশেপাশে প্রায়শই শোনা যায়। 'চিল্লানো' আর 'বাজে কথা'র বাইরে আর কোনো আচরণকেই যখন এই সমাজে প্রোফেশনালিজমের ঘাটতি বলে মানা হয় না, তখন এই সমাজকে একটি আদ্যিকালের ক্যালকুলেটর বলে মনে হতেই পারে। ধারণক্ষমতার বাইরের যেকোনো ইনপুটে যেই ক্যালকুলেটর রেজাল্ট দেখায়, 'ম্যাথ এরোর'।

সমাজের দোষ নেই। একবিংশ শতকের কনজ্যুমার হয়ে দোষটা আদতে আমাদেরই!

২.

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের শুরুটা খুব বেশিদিন আগেকার ঘটনা নয়। ২০১৬ সালের শেষদিকে ঢাকা শহরে যাত্রা শুরু হয় উবারের, সেই হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। এই পাঁচ বছরের মাথায় এসে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের নিরিখে কতোটুকু সফলকাম হলো এদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো, সে বিষয়েই কিছু ব্যক্তিগত অভিমত পেশ করছি।

তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে মূলতঃ কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারের পর একজন ভোক্তা কর্তৃক সেই পণ্য বা সেবার ব্যবহারযোগ্যতা এবং উপযোগীতা নিরূপণ। এর জন্যেই আমরা উবার বা পাঠাও রাইডারদের রেটিং দেই, যা থেকে পরবর্তী ইউজাররা তাদের রাইডার সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো কারা ব্যবহার করে থাকে? প্রথমতঃ আর্থিকভাবে সচ্ছল জনগোষ্ঠী, যারা নিয়মিতভাবে অর্থের বিনিময়ে সময় এবং উপযোগিতা ক্রয় করতে সক্ষম, এবং দ্বিতীয়ত নিয়মিত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা জনগোষ্ঠী, যারা প্রয়োজনসাপেক্ষে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের খরচ বহন করতে সক্ষম। এদিক থেকে বিবেচনা করলে কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিসে রাইড শেয়ারিং যথেষ্ট সফল একটি আইডিয়া। কিন্তু ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের বেলায় কেমন সফল বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস?

যেহেতু 'এক্সপেরিয়েন্স', সেহেতু এখানে মূল ফ্যাক্টরের পাশাপাশি সাব ফ্যাক্টরগুলোও যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করবে। রাইড শেয়ারিং-এর ক্ষেত্রে মূল ফ্যাক্টর হচ্ছে দ্রুততম সময়ে একজন যাত্রীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভবপর হলো কি না, আর সাব ফ্যাক্টরের মধ্যে থাকছে একজন রাইডারের প্রোফেশনালিজম। প্রোফেশনালিজম বলতে এদেশের মানুষ স্বার্থপরতা বুঝলেও এটির প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, নিজ নিজ প্রোফেশনের জায়গা থেকে গড়ে ওঠা একটি 'স্ট্যান্ডার্ড' আচরণ। যেহেতু রাইড শেয়ারিং সার্ভিস এই শতকে গড়ে ওঠা একটি বিজনেস কনসেপ্ট, এদেশীয় মেরে খাওয়া ধান্দাবাজি নয়, সেহেতু এখানে প্রোফেশনালিজমটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যার অভাব ব্যক্তিগতভাবে আমরা প্রতিদিনই প্রত্যক্ষ করছি।

৩.

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি হচ্ছে, এর রাইডাররা তাদের এজেন্সির প্রতি নিবেদিত না। এই নিবেদনের সুযোগও এখানে নেই, যেহেতু তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই তারা কার্যত 'ফ্রিল্যান্সার'। মূলতঃ এটি রাইডার এবং তাদের এজেন্সি'র মধ্যে পার্সেন্টেজের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি মিথষ্ক্রিয়া, কিন্তু যারা ভোক্তা, তারা কিন্তু এককভাবে কোনো রাইডারের সার্ভিস নিচ্ছে না, তারা নিচ্ছে উবার বা পাঠাও-এর সার্ভিস। তাই গাড়ি বা বাইকে ওঠার পর যখন রাইডার তার মডিউলের সাথে অ্যাপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে 'খ্যাপ' এর ড্রাইভার হয়ে যায়, তখন যাত্রীর এককভাবে কোনো উচ্চবাচ্য না থাকলেও, একটি জালিয়াতির অংশ হতে নিদেনপক্ষে ভালো লাগার কথা নয়।

ঠিক তেমনই, আপনি প্রোফেশনাল রাইডার দেখে একটি রাইড শেষ না করেই যখন আরেকটি রাইড একসেপ্ট করবেন এবং মেইন রোডের উপরে নামতে তাগাদা দিবেন, ফুটপাথের উপর বাইক তুলে দিয়ে এক্সিডেন্ট ঘটাবেন, সঙ্গে কয়েকটি ব্যাগ থাকলে প্যাসেঞ্জার নিতে চাইবেন না, আশি টাকা ভাড়া আসলেও কমপক্ষে একশো টাকা দিতে অনুরোধ করবেন, এবং কম ভাড়া আসে দেখে কাছাকাছি দূরত্বে যেতেই চাইবেন না, তখন সেটা আর যাই হোক 'প্রোফেশনালিজম' থাকে না। আপনি যখন 'রেটিংটা ফাইভ-ই দিয়েন, ট্রিপ পাই না ভাই' বলেন, তখনো এটা কোনো অনুরোধ না, আপনার প্রোফেশনালিজমেরই অভাব।

ডিজিটাল পেমেন্ট নিয়ে উবার-পাঠাওয়ের অ্যাপে বারবার জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হয়ে পরিচিত এক রাইডারের থেকে জানলাম, উবার বা পাঠাও-এ কোনো যাত্রী বিকাশে পেমেন্ট করলে রাইডারের সেই পেমেন্ট পেতে দিন সাতেক সময় লেগে যায়, যেজন্যে যারা মূল প্রোফেশন হিসেবেই উবার বা পাঠাও চালায়, তারা বিকাশে পেমেন্ট নিতে চায় না। এখন দেখা যাচ্ছে, গলদ যে শুধু রাইডারের, তা-ও নয়।

কার্যত এই অ্যানালগীয় সমাজে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গলদগুলো চলতি আইনে নিরসনযোগ্য না হওয়ায় এর যাতাকলে নিষ্পেষিত হই আমরা, যারা কনজ্যুমার। সার্ভিস খারাপ মিললে অভিযোগ জানানোর জায়গা কই! কাস্টোমার কেয়ারে কল করার পর সেই তো কিছু মুখস্ত বুলি। যেজন্যে যেসকল সার্ভিসের আমরা পূর্ণ হকদার, সেসবেই বিমোহিত হয়ে যাই, এবং যাচ্ছিও। এই শহরে টাকা দিয়েও ভালো সার্ভিস মেলানো ভার কী না!

05/12/2021

১.
কৃষক মনস্তত্ব বিষয়ক একটি প্রোজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছিলো হচ্ছিলো মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়ের সাথে। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এই প্রোজেক্টটিতে কাজ করার জন্যে একজন গবেষণা সহযোগী খুঁজছিলেন তিনি, সেখান থেকেই এই বিষয়ে আলাপচারিতার সূত্রপাত। কৃষকদের গড় মনস্তত্ত্ব অন্বেষণ বিষয়ক একটি বই লেখার পরিকল্পনা তিনি করেছেন কিছুদিন আগে, সেই সূত্রেই বেশ দীর্ঘ একটি প্রোজেক্ট। বাংলাদেশের সাতটি জেলায় প্রায় তিনশো কৃষকের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে, এবং সেখান থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হবে।

সাধারণ মানদন্ডে কৃষক মাত্রই বিক্রেতা বিশেষ। কিন্তু একজন কৃষকের ব্যয়ের খাতও অসংখ্য, সেদিক থেকে কৃষকের উন্নয়নে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রেই কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিসের নিরিখে একজন কৃষককে বিশ্লেষণ করা জরুরী, যেটিকে এই প্রোজেক্টের সবথেকে সম্ভাবনাময় দিকগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

২.
কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস নিয়ে কথা-বার্তা শুরু করার আগে বোঝা দরকার এই বিষয়টি আসলে কী। কোনো একটি পণ্য কেনা, বা কোনো বস্তুগত সেবা নেয়ার পূর্বে ভোক্তা মাত্রই কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হন৷ ঠিক কোন কোন ফ্যাক্টর তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, এবং শেষ পর্যন্ত পণ্য বা সেবাটি ক্রয়ের সময় কোন বিষয়গুলো মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, মূলত এই বিষয়ক অ্যানালাইসিসকেই বলা হয় কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস। প্রায় সাত মাস ধরে কৃষকদের সাক্ষাৎকার নেয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, কী করে কৃষকের ব্যয় কমানো যায় এবং একইসাথে আয় বাড়ানো যায়, সে সম্পর্কে জানা। এক্ষেত্রে সাতটি জেলায় সার্ভে করার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী কী ফিডব্যাক আশা করা যায়, এবং এতে কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিসের ভূমিকাই বা কী, এর উপর আমরা এখন আলোকপাত করবো।

প্রথমে কৃষকদের ব্যয়ের খাতগুলো আমাদের বিবেচনা করা উচিৎ। কৃষি খাত এবং অকৃষি খাত, ধরলাম এই দুই খাতে কৃষকদের ব্যয় হয়ে থাকে। কৃষি খাতের বিবেচ্য কয়েকটি ব্যয়ের ক্ষেত্র হচ্ছেঃ (ক) বীজ (খ) সার (গ) সেচ: ট্রাক্টর খরচ, বিদ্যুৎ খরচ, মোটর পাম্প এবং অন্যান্য (ঘ) ফসল বপন এবং উত্তোলন ব্যয়।
অকৃষি খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন হিসাব বিবেচনায় খাদ্যের পেছনে একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে থাকে মাছ, মাংস, মসলা, তেল এবং আনাজপাতি কিনতে, এছাড়াও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি (সাবান, গায়ে মাখা তেল থেকে শুরু করে বিবিধ) কিনতেও খরচ হয়। তবে বড় বড় মাসিক ব্যয়ের মধ্যে একটি হয় সেইসব পরিবারের যাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে, এবং গ্রামীণ কৃষিজীবি সমাজে সন্তানকে জেলা শহরে রেখে পড়ানোর প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশের গ্রামগুলোয় এখনো পাকা বাড়ির সংখ্যা বেশি নয়, টিন, শন বা মাটির তৈরী বাড়ির সংস্কার খাতেও বাৎসরিক বা দ্বি-বাৎসরিক একটি ব্যয় হয়ে থাকে। তবে, কৃষকদের আয়ের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি যেটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তা হচ্ছে সুদের চক্র। জরুরী প্রয়োজনীয়তায় (চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের বিয়ে বা অন্যান্য) যখন একটি বড় পরিমাণ অর্থের দরকার হয়, অধিকাংশ কৃষকই চড়া সুদে ধার নিয়ে থাকে মহাজনদের থেকে। এরকম একটি সুদের চক্র যতোদিন চলতে থাকে, একজন কৃষকের আয় সে সময়টায় বেশ স্থবির আকার ধারণ করে। এমনও দেখা যায় যে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষকেরা সব বিক্রি করে নিজের অঞ্চল ত্যাগ করছে৷

৩.
এখন, কৃষক যখন ব্যয় করছেন, তখন তিনিই হয়ে উঠছেন ভোক্তা। কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস একজন ভোক্তার সিদ্ধান্তের পেছনে চারটি ফ্যাক্টরের ভূমিকা বিশেষভাবে চিহ্নিত করছে। সেগুলো হলোঃ

১. সাইকোলজিক্যাল
২. পার্সোনাল
৩. সোশ্যাল
৪. জিওগ্রাফিক্যাল

একজন কৃষক যখন কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে চাচ্ছেন, তখন তার বিশ্বাস বা ধ্যান-ধারণা (সাইকোলজিক্যাল), বয়স, আর্থিক অবস্থা, জীবনাচরণ (পার্সোনাল), পরিবার বা গোত্র (সোশ্যাল), বসবাসের স্থান (জিওগ্রাফিক্যাল)- এই সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ কৃষিজীবি সমাজের প্রতিটি কৃষকের জীবনাচরণেই বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ, যে চারটি ফ্যাক্টরের কথা এখানে বলা হলো, অর্থনৈতিক দিক ব্যাতিরেকে অন্যান্য ফ্যাক্টর এখানে অধিকাংশ কৃষকের বেলাতেই প্রায় সমধর্মী ভূমিকা পালন করবে। কৃষকরা ঋণের দুষ্টুচক্র সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় কোনো পন্থা কেন খুঁজে নিচ্ছে না? এর একটি কারণ হিসেবে আমরা চিহ্নিত করতে পারি অশিক্ষাকে, এবং দ্বিতীয়টি আমাদের অ্যানালাইসিস মোতাবেক, একটি সাইকোলজিক্যাল বিষয়৷ সুদে ঋণ নেয়ার যে বিষয়টি, সেটি গ্রামীণ সমাজে 'সোশ্যালি কনস্ট্রাক্টেড'। কৃষক এই পন্থার সাথে পরিচিত, কিন্তু তবু এটিকেই সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছে বারবার।

৪.
একমাত্র 'বেটার অল্টারনেটিভ' দেখানোর মাধ্যমে একজন ভোক্তাকে তার নৈমিত্তিক ব্যয়ের অভ্যাসের বাইরে নিয়ে আসা যায়। কৃষকের উন্নয়নে একটি মডেল প্রস্তুত করতে এইসকল ব্যয়ের খাতকে চিহ্নিত করা যেমন জরুরী, তেমনি এর থেকে ভালো কোনো পন্থার সাথে কৃষকের পরিচয় ঘটানোও গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালীন সময়ে কৃষি ব্যাংক যখন খুবই কম সুদে কৃষকদের ঋণ দিলো, তখন কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ সেখান থেকে লাভবান হলেও অধিকাংশই এই পথে পা বাড়ায় নি। কৃষি ব্যাংকের এসব ঋণ বা ভর্তুকির বেশিরভাগের পেছনেই উদ্দেশ্য থাকে নতুনধর্মী আবাদে কৃষককে পরিচিত করানো, যেমন তেলবীজ আবাদে সুদের পরিমাণ ছিলো সবথেকে কম। ব্যক্তিগত আগ্রহে কেউ কেউ এসব নতুন পন্থায় উদ্বুদ্ধ হলেও, একটি সমগ্র কৃষিজীবী সমাজকে ভিন্ন কোনো পন্থা সম্পর্কে ভাবাতে চাইলে কনজ্যুমার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিসের বিকল্প এই মূহুর্তে নেই।
খুব ভালো একটি আইডিয়াও যথাযথ ভাবে পিচ করা না গেলে তা থেকে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। সামগ্রিক ভাবে কৃষকের ব্যয় কমাতে চাইলে তাই একসাথে বেশ কিছু দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন; তা হতে পারে মহাজনী সুদের বিকল্প আনয়ন (যেমনটা কৃষি ব্যাংক করছে, কিন্তু সফলকাম হতে কৃষকদের এ সম্পর্কে সঠিকভাবে জ্ঞাত করাও জরুরী), হতে পারে ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী কৃষক বান্ধব বাজার সৃষ্টি, যেখানে প্রয়োজনে দেশীয় মানসম্পন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ বেশি থাকবে (যদিও দুরুহ পরিকল্পনা, কিন্তু এটাও মানতে হবে কৃষক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম গোষ্ঠী), অথবা সমগ্র বাংলাদেশকে জোনাল এরিয়ায় বিভক্ত করে কৃষি অধিদপ্তরের কার্যক্রম বৃদ্ধি।

সাতটি জেলায় তিনশো কৃষকের কাছে পৌছানোর মাধ্যমে এর থেকেও ভালো কোনো প্রস্তাবনা পেশ করা সম্ভব হবে, যে কারণে এই প্রোজেক্টটি সাধুবাদের দাবী রাখে।

বাংলাদেশ সফরের নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড দেখে মনোভাবশূন্যতায় ভুগছি। তাদের বিশ্বকাপ দলের একজন খেলোয়াড়ও বাংলাদেশ সফরে আসছে না, ...
25/08/2021

বাংলাদেশ সফরের নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড দেখে মনোভাবশূন্যতায় ভুগছি। তাদের বিশ্বকাপ দলের একজন খেলোয়াড়ও বাংলাদেশ সফরে আসছে না, অর্থাৎ নিঃসংকোচে একে 'নিউজিল্যান্ড এ' দল বলা যায়।

ওয়ানডেতে ২ বার হোম সিরিজ জিতলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০ তে জেতা হয়নি কখনো। নিউজিল্যান্ডও জানে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে এসেও শেষ ২ বার সিরিজ খোয়াতে হয়েছিল, তবু 'এ' দল পাঠানোর কারণ কী হতে পারে?

তার আগে প্রশ্ন করা উচিত, অস্ট্রেলিয়া একদম ৪-১ এ বিধ্বস্ত হলো, তাতে কি তারা খুব চিন্তিত?

বড়ো দল হওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য আপনাকে স্পোর্টিং হতে হবে। স্পোর্টিং মানে কী; হার অথবা জিত দুটোকেই ফলাফল হিসেবে দেখতে হবে, হারলে সব ভুল জিতলে সব ঠিক এই কুৎসিত কালচার প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত জেতার চেষ্টা করতে হবে, জিততে না পারলে হারাটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে হবে৷ একটা ম্যাচ বা সিরিজ হারা মানেই পৃথিবী বদলে যাবে না, প্রসেস ঠিকমতো নারচার করা হচ্ছে কিনা সেটাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের কাছে হেরেছে এটা প্লেনে উঠামাত্রই ভুলে যাবে, কারণ তারা জানে বাংলাদেশের দৌড় আসলে কতটুকু। নিউজিল্যান্ড যদি ৫-০ তেও বিধ্বস্ত হয় সেটাকে তারা ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে দেখবে, বিকল্প খেলোয়াড় তৈরির প্রকল্প হিসেবেই গণ্য করবে।

তিন পুরুষ ধরে অন্যের জমিতে গোলামি করা পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু টাকা-কড়ি পেয়ে গেলে যেমন ফুটানি করে, বাংলাদেশের মিডিয়া-সমর্থকদের অবস্থাও সেরকম। তারা মানতেই পারে না দল হিসেবে বাংলাদেশ একেবারেই নিম্ন মাঝারি, এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোও বাংলাদেশকে সেভাবেই গণ্য করে। কিন্তু আমরা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার নিয়ে পড়ে থাকি, দেশসেরা ওপেনারকে ত্রাতা ভাবি, মিস্টার ডিপেন্ডেবল, সাইলেন্ট কিলার নিয়ে মজে আছি। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারতের দলটা দেখুন; টেন্ডুলকার, আজহার আর কুম্বলে বাদে সেই অর্থে কোনো বড় পারফরমার নেই (সিধু পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৪ করেছিল), তবু বলতে গেলে টেন্ডুলকার একাই ভারতকে সেমিতে তুলেছিল। পরবর্তীতে গাঙ্গুলী এসেছিল; সেই সীমিত সামর্থ্যের দলও তখন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শারজাহ টুর্নামেন্টে। আমাদের একাদশের ৫০% প্লেয়ার যদি এতই সমৃদ্ধ হয়, কেন আমরা বাছাই পর্ব খেলি, কেন ম্যাচ জয়ের পারসেন্টেজ এত কম--- সেসব নিয়ে কোনো টিভি শো, পত্রিকায় আত্মসমালোচনা চোখে পড়ে না।

এই বিষয়ে প্রচুর লিখেছি, ওদিকে যেতে চাই না। কোয়ালিটি ক্রিকেট দেখতে চাওয়া কি নেগেটিভ প্রত্যাশা?

হোম এডভান্টেজ কনসেপ্টটা সাধারণত টেস্টে বেশি প্রযোজ্য। আমাদের লোকজন এমনকি হোম এডভান্টেজ কথাটাকেও ভুলভাল উপস্থাপন করে। অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড বাউন্সি বা গ্রিন টপ বানায়। এসব পিচে তাদের ব্যাটসম্যানরা স্বচ্ছন্দ বোধ করে, এশিয়ান দলগুলো স্ট্রাগল করে। ভার‍ত একদা স্পিন ট্র‍্যাক বানাতো; তাদের ব্যাটসম্যানরা রান পেত, উপমহাদেশের বাইরের দলগুলো খাবি খেত। অর্থাৎ হোম এডভান্টেজের প্রধান শর্ত তোমার নিজের সেখানে কমফোর্টেবল হতে হবে। যেখানে তোমার নিজেরই গলদঘর্ম দশা, সেটা কীভাবে হোম এডভান্টেজ হয়?

যে উইকেটে বল ব্যাটে আসতে আসতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় দুইবার ঘুরে আসা যায়, বল হাঁটুর উপর উঠে না, মার্বেলের ন্যায় গড়াতে গড়াতে বল গিয়ে আঘাত করবে প্যাডে অথবা স্ট্যাম্পে, সেখানে ক্রিকেট খেলাটাকেও নৈতিকভাবে সমর্থন জানাতাম যদি তোমার ব্যাটসম্যানরা খেলতে পারত। পারছে না তো। কিংবা এই উইকেটে স্ট্রাগল করলেও স্পোর্টিং উইকেটে ঠিকই কড়ায় গণ্ডায় পাওনা উসুল করতে পারত।

বরং এসব আন্ডারপ্রিপারড পিচে খেলার কারণে ভুল প্লেয়ারের প্রতি আস্থা তৈরি হয়। এধরনের পিচে তারাই সফল যারা ওভারের ৩টা বল ডট দিয়ে ৩ টা সিঙ্গেল নিয়ে ৪০ বলে ৪২ করতে পারবে। এধরনের সেলফিশ ব্যাটিং দেখে মনে হবে ওই ইনিংসটা না হলে ১০০ রানই পার হত না। কিন্তু ওই সেলফিশ ব্যাটসম্যান যে ব্যাটিং পিচেও একই এপ্রোচে খেলবে সেই ভাবনা আসবে না, এবং যারা উইকেটের পেসকে কাজে লাগাতে পারে তারা সঙ্গত কারণেই ব্যর্থ হবে, এবং দল থেকে বাদ পড়ার শংকায় থাকবে।

তাতে প্রাপ্তিটা কী হবে? আপনি বড়ো টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠন করছেন একরাশ ভুল ইমপ্রেসনের উপর ভিত্তি করে।

তামিম, মুশফিক খেললো না তাতে কি সিরিজ জয়ে সমস্যা হয়েছে? এমনকি সাকিব আর মাহমুদুল্লাহও যদি বাইরে থাকতো বাংলাদেশ সিরিজ হারতো কার কার মনে হয়? অস্ট্রেলিয়া হেরেছে মূলত একক মুস্তাফিজের কাছে। তার সহযোগি ছিল শরীফুল, মাহেদি এবং নাসুম। সাকিব শেষ ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছে, কিন্তু বাঁহাতি তানভীর বা রাকিবুল যে এরকম বোলিং করতো না তা কেন মনে হচ্ছে; পিচটাই তো স্লো বোলারদের স্বর্গরাজ্য। কিংবা ইয়াসির রাব্বিকে সুযোগ দিলে সে যে কনসিসটেন্ট হত না তা মনে হওয়ারই বা কারণ কী। আফিফ বাদে দুই দলের একজন ব্যাটসম্যানও কনফিডেন্ট ছিল না; সেই আফিফকে যদি উপরে ব্যাট করার সুযোগ দেয়া হত, দলের রান নিঃসন্দেহে বাড়ত।

বাংলাদেশ টি২০ তে কেন পারে না? কারণ

১.এখানে ওপেনে খেলে তামিম ইকবাল, ২০ টার বেশি টি২০ খেলা ৫০ জন ওপেনারের মধ্যে যার স্ট্রাইকরেট সর্বনিম্ন

২. এখানে ৩ নম্বরে ব্যাট করে তথাকথিত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, যার তেমন কোনো স্কোরিং শটই নেই, এবং দ্রুতগতিতে রান তোলার সামর্থ্য যার প্রশ্নবিদ্ধ, এবং বিশ্বজুড়ে টি২০ লীগগুলোতে যিনি একজন ব্যাটিং জানা লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলার রোলে খেলে থাকেন। সেই প্লেয়ার জাতীয় দলের হয়ে টি২০ তে নেমে পড়েন ৩ নম্বরের মতো কার্যকর জায়গায়।

৩. এখানে রান এক্সিলারেট করার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন সাইলেন্ট কিলার, যার রানিং বিটুইন দ্য উইকেট প্রাক্তন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান ইনজামাম উল হকের সঙ্গে মানানসই, যিনি ১২০ বলের খেলাতেও ডট দিয়ে যান অকাতরে, তারপর ১-২টা বাউন্ডারি মেরে রান আর বলের ভারসাম্য রাখেন।

৪. পৃথিবীর সবচাইতে ওয়ান ডাইমেনশনাল বোলিং এটাক, যাদের বিপক্ষে একটু ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট হলে এমনকি আয়ারল্যান্ড-নেদারল্যান্ডও অবলীলায় ১৭০-৮০ রান তুলতে সক্ষম। না আছে ভ্যারিয়েশন জানা পেসার, না আছে কোনো রহস্য বোলার, না আছে গতি দিয়ে ভড়কে দেয়ার মতো কেউ, বা প্রোপার গুগলি জানা কোনো লেগস্পিনার। সবেধন নীলমনি মুস্তাফিজ, স্পোর্টিং উইকেটে যার কার্যকারিতা বহুলাংশে হ্রাস পায়।

ট্যাকটিকালি এতগুলো ত্রুটি নিয়ে টি২০ তে ভালো করার কারণই নেই।

তবে এগুলোর কোনোটাই টি২০ তে খারাপ করার মূল কারণ নয়। আমরা যদি মূল কারণ খুঁজি, আউট হওয়ার ভয় থেকেই যাবতীয় রক্ষণাত্মক এপ্রোচের সূত্রপাত। ক্রিকেট নির্দিষ্ট দিন নির্ভর খেলা, যেদিন আপনি ভালো খেলবেন সেদিন সবকিছু ঠিকঠাক হবে, টপ এজড কিপারের মাথার উপর দিয়ে চার হয়ে যাবে। যেদিন ভালো খেলবেন না সেদিন প্রথম থেকেই গড়বড়ে লাগবে, এমনকি সুন্দর শট খেলেও ফিল্ডারের নৈপুণ্যে আউট হবেন। তাই সর্বাবস্থায় নিজের ন্যাচারাল খেলাটা খেলতে হবে, রান এলে এভাবেই আসবে, না এলে আউট--- সিম্পল। বাংলাদেশের মিডিয়া, কোচ, ক্রিকেট বোর্ড, ধারাভাষ্যকাররা একটা উদ্ভট শব্দ উদ্ভাবন করেছে- দায়িত্বশীল ইনিংস। এই প্যাকেজের অধীনে আপনি শট খেলা বাদ দিবেন, ইমপ্রোভাইজের সামান্যতম চেষ্টা করবেন না, এবং অনবরত ডট দিয়ে মাঝেমধ্যে সিঙ্গেল নিবেন। এভাবে ৪৭ বলে ৪১ করার পরে একটা শট খেলার চেষ্টা করে আউট হবেন, বলবে দলের বাকিরা যখন ব্যর্থ সেসময় অমুকে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। যে কারণে মুশফিকুর রহিম রিভার্স সুইপ খেলে এত নিন্দিত; অথচ রিভার্স সুইপ তার আরো বেশি বেশি খেলা উচিত। আউট হওয়ার তীব্র ভয়ের কারণে মাত্র ২ উইকেট পড়লেই এমনভাবে ব্যাট করে মনে হয় টেইলএন্ডাররা ব্যাট করছে। এই এপ্রোচে আপনি ম্যাচ জিততে পারবেন?

আপনি আফিফকে দেখেন, মাহেদি-সোহানকে দেখেন, কিংবা পারভেজ ইমনকে--- এরা ২ রান করুক বা ২৫,এদের দেখে একবারও মনে হবে না আউট হওয়ার ভয় করছে; ব্যাটিং করতে থাকবে, রান না পেলে বুঝতে হবে দিনটা তার ছিল না।

কিন্তু মিডিয়া এক ভয়ানক তথ্যসন্ত্রাস চালায় সিনিয়র সিন্ডিকেটকে ঘিরে। নতুন কাউকে তারকা তারা হতে না দেয়ার সবরকম কৌশল জারি রাখে। যে সিরিজে মুস্তাফিজকে কেউ খেলতেই পারলো না, সেখানে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পেল সাকিব আল হাসান! কারণ কী? সে কিছু রান করেছে, বোলিংয়ে উইকেট পেয়েছে। কিন্তু ৫ ম্যাচের ৩টাতেই যে তার ব্যাটিং টি২০ উপযোগি তো নয়ই উপরন্তু দল হারানোর মতো সেই ফ্যাক্ট বিবেচনাতেই নেয়া হলো না। এতটা কনফিডেন্ট ব্যাটিংয়ের পরও আফিফকে ৫ ম্যাচে ৩টা আলাদা ব্যাটিং পজিশনে (৫,৬,৭) কেন নামানো হলো সেই গেমপ্ল্যানের কোনো সমালোচনা পেলাম না একটা পত্রিকাতেও। উপরন্তু মিঠুনের মতো একজন মেধাহীন ক্রিকেটারকে মিডল অর্ডারে না খেলিয়ে আফিফকে সেখানে ট্রাই করা উচিত কিনা সেই জিজ্ঞাসাও নেই, তাকে বানানো হচ্ছে ফিনিশার; স্বভাবতই সেখানে সে ব্যর্থ হবে, এবং বাদ পড়বে দল থেকে। আমরা আবারো জানবো অভিজ্ঞদের রিপ্লেসমেন্ট নেই। আপনি চেষ্টা করবেন মিঠুনকে, নাঈমকে--- রিপ্লেসমেন্ট আসবে কীভাবে! এংকর রোলের জন্য যথার্থ প্লেয়ার লিটন দাসকে বলবেন মেরে খেল, আর তামিম ইকবাল আরামসে খেলে যাবে, লিটন-সৌম্য ব্যর্থ হবে এবং আপনারা রটিয়ে দিবেন তামিমের রিপ্লেসমেন্ট নেই। যতদিন পর্যন্ত তামিম ইকবালকে সাদা বলের ক্রিকেট থেকে অপসারণ করতে না পারবেন কোনো টুর্নামেন্টে কম্পিটিটিভ ম্যাচ খেলার আশা চিরতরে বন্ধ রাখুন।

অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড উভয় দলই বিশ্বকাপে অবধারিতভাবে ভালো করবে। আপনারা কেমন ফলাফল করবেন? বিশ্বকাপের পূর্বে এত বড়ো দুটো দলকে সিরিজ হারিয়ে আত্মবিশ্বাস তো তুঙ্গে থাকার কথা, পক্ষান্তরে আন্ডারডগ দলের বিপক্ষে হেরে তাদের কনফিডেন্স থাকবে তলানীতে। রেজাল্টে যদি এতই বৈপরীত্য ঘটে, তাহলে এই স্লো-লো বাউন্সি পিচে খেলে জেতাটা যে অভিশাপে পরিণত হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে?

নিউজিল্যান্ড কেন তাদের বিশ্বকাপ দলের একজনকেও বাংলাদেশে পাঠালো না; বায়োবাবলের দোহাই দিবেন? সেটা ২-৫ জনের জন্য সত্য হতে পারে, পুরো স্কোয়াডই বাদ কেন? আমি বলছি, তারা চায়নি বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে এরকম ফালতু পিচে খেলে ব্যাটসম্যানদের ফর্ম নষ্ট করুক; ৫টা ম্যাচ তো নেহায়েত কম নয়। এখানে এমন একটা ক্রিকেট হয় যেখানে নিম্নমানের ক্রিকেট ডিসপ্লে এর মধ্যে কোন দলটি তুলনামূলক কম নিম্নমানের সেই প্রেক্ষিতে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফলাফল। আপনার যদি এতই ভয় থাকে স্বাভাবিক ব্যাটিং পিচে আপনার বোলাররা লুথা এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১৪০-৫০ ডিফেন্ড করতে পারবেন না, বা ১৭০ চেজ করার যোগ্যতা নেই, আপনি ক্রিকেটটা খেলছেন কেন? আপনার কি কোনোদিনও বাইরের দেশে সিরিজ জিততে ইচ্ছা করে না, কিংবা বড়ো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে? নাকি জিম্বাবুইয়ে আর উইন্ডিজের কল্যাণে ক্রিকেট থেকে যা পাওয়ার সবই পাওয়া হয়ে গেছে?

ক্রিকেট নিয়ে মূলধারার লেখালিখি করে যারা তারাও বিপুল বিক্রমে পপুলিস্ট চিন্তায় আচ্ছন্ন। তারকাকে লাইভে আনা, ইন্টারভিউ বাগানো বা ইনসাইড নিউজের লোভে তাদের সেইফগার্ড দিয়ে রাখা হয়, ক্রিটিক করার প্রবণতাই নেই। তাদের যাবতীয় সমালোচনা বরাদ্দ তারকার বাইরে অন্য ক্রিকেটারদের জন্য। তরুণরা দায়িত্ব নিতে পারছে না।

যারা জীবনে ১ ঘন্টা হলেও প্রোবাবিলিটি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তাদের জন্য একটা ধাঁধা। আপনার কাছে ৬ জন প্লেয়ার আছে, যার মধ্যে ৪ জন কখনো বাদ পড়বে না, যেমনই পারফর্ম করুক। অন্য ২ জন থাকবে গান পয়েন্টে, ২ ম্যাচ খারাপ করলে সর্বোচ্চ ৩য় ম্যাচে সুযোগ মিলতে পারে, এরপর অবশ্যই বাদ।

প্রথম প্রশ্ন, আপনার দল যদি জিতে কাদের পারফর্ম করার সম্ভাবনা বেশি; ওই ৪ জনের, নাকি ২ জনের?

দ্বিতীয় প্রশ্ন, কাদের খারাপ করার সম্ভাবনা বেশি, এবং পারসেন্টেজ কত?

গাণিতিক মডেলটা এবার ঘুরিয়ে দিই। লিটন, আফিফ, শান্ত, মাহেদিকে ৪টা পজিশনে ফিক্স করি, এবং রিয়াদ-তামিম-মুশফিক-সাকিবের যে কোনো দুইজনকে বাই রোটেশনে খেলান ৩-৪টা সিরিজ, তারপর পারফরম্যান্স কার্ভ তুলনা করুন। তা না করে ক্রমাগত দোষারোপ, অভিযোগ দিয়ে তারকাদের বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে সাকিবের ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হওয়া এবং ৩য় ম্যাচে মুস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে ১২৭ ডিফেন্ড করা--- এ দুটো ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরো ৩ বছর স্থবির করে দিল। মানুষ এখন বিশ্বাস করছে মাহমুদুল্লাহ এর ওই সেলফিশ ইনিংস টি২০ এর জন্য দারুণ উপযোগি, নইলে দল জিততো না, এবং সাকিব এখনো তার সেরা সময়ে অবস্থান করছে, তার অবশ্যই ৩ নম্বরে ব্যাট করা উচিত টি২০ তে।

আমি ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে আফিফকে অধিনায়ক দেখতে চাই, সহ অধিনায়ক লিটন দাস।

সেখানে ওপেন করবে পারভেজ ইমন আর মুনিম শাহরিয়ার। এরপর পর্যায়ক্রমে আসবে লিটন, আফিফ, শান্ত/রাব্বি, সোহান, মাহেদি, শামীম, তানভীর/রাকিবুল, মুস্তাফিজ, শরীফুল এবং খালেদ আহমেদ। রিজার্ভে থাকবে সৌম্য, তানজিদ তামিম, নাহিদুল, শহিদুল, রিশাদ।

জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে আর সিরিজ নেই। বিশ্বকাপে তারকারা সেইফ ব্যাটিং করে লিটন, আফিফ, মাহেদিদের দায়িত্ব দিবে মেরে খেলার, যে কারণে তাদের এপ্রোচ দেখে প্রজ্ঞাহীন দর্শক মণ্ডুপাত করবে; এই মেকানিজম দিয়েও কি শেষরক্ষা হবে?

সাকিব-মুশফিকদের প্রজন্ম অত্যধিক ভাগ্যবান কারণ তারা দলে ঢোকার কিছুদিনের মধ্যেই কী-প্লেয়ারদের প্রায় সবাই আইসিএল এ চলে গিয়েছিল, এবং আশরাফুলের মতো চরম অধারাবাহিক একজন ছিল দলের মূল ব্যাটসম্যান। যে কারণে প্রাইম পজিশনগুলো অনায়াসেই তাদের আয়ত্তে এসে গেছে; লিটন বা আফিফরা সেই ভাগ্যটা পেল না, বরং পেইড মিডিয়া আর ক্রিকেট গ্রুপগুলো এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছে তারকা বনাম অতারকা ইস্যুটা বিএনপি-আওয়ামিলীগের মতো মুখোমুখি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত হয়েছে। সবারই সেরা সময় শেষ হয় একদিন, সেই অমোঘ সত্যটাই নানা গোঁজামিল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত এই সিস্টেমে সেই সত্য আদৌ কোনোদিন উন্মোচিত হবে কিনা বা ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে কিনা, ভবিষ্যতের কাঁধেই অর্পিত হোক সেই বিচারকের দায়িত্ব

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভক্তের সঙ্গে সংলাপআজ দুপুরে এক তরুণের তীব্র জেরার মুখে পড়ি Whatsapp এ। আমার মৌনতা ক্লাব আর রঙপ্যাথি ব...
07/08/2021

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভক্তের সঙ্গে সংলাপ

আজ দুপুরে এক তরুণের তীব্র জেরার মুখে পড়ি Whatsapp এ। আমার মৌনতা ক্লাব আর রঙপ্যাথি বই পড়ে যতটা মুগ্ধ হয়েছিল ফেসবুকে ক্রিকেটকেন্দ্রিক লেখা পড়ে ক্ষুব্ধতা বেড়েছে কয়েকগুণ। যার মানসিকতা এতটা কুরুচিপূর্ণ তার লেখা কোনো বই আগামীতে সে আর পড়বে না যতই ব্যতিক্রমী হোক সেটা। উত্তর দিই বই পড়তে বা কিনতে কি আমি অনুরোধ বা প্রলুব্ধ করেছিলাম; সেটা যেহেতু আমাকে না জানিয়েই করেছে, পড়বে না তা এত ঘটা করে জানানোর কী হলো!

এক কথায় দু কথায় সময় আগাতে থাকে যার বেশিরভাগটাই তামিম ইকবাল আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকেন্দ্রিক। আলাপটা ইন্টারেস্টিং ছিল বিধায় পরিপাটি করলাম।

[অনিবার্য কারণেই তরুণের প্রকৃত নাম প্রকাশে বিরত থাকলাম; ধরা যাক তার নাম মোকসেদ!]

মোকসেদ: আপনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি এতটা ডিসরেসপেক্টফুল কেন, তারা কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কিছুই করেনি?

আমি: রেসপেক্ট বলতে কী বোঝো আগে বোঝাও আমাকে। পারফর্মিং আর্টে প্রশংসা আর নিন্দার বাইরে কমপ্লিমেন্ট তো থাকবে না সচরাচর। কোটি কোটি লোক টেন্ডুলকারের অন্ধভক্ত, কোটি না হলেও লাখখানেকের বেশি লোক তার নিন্দুক অথবা সমালোচক। ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত না হলে কোনো ব্যক্তির প্রতি সম্মান তৈরি কীভাবে হয় বোঝাও আমাকে। যার সাথে কখনো ইন্টারেকশনই হয়নি, মাঠের বাইরে যার সম্বন্ধে জানার উপায় পত্রিকায় প্রকাশিত ফিচার বা ইন্টারভিউ যেগুলো প্রায় সবটাই আরোপিত আর মেকি ভাবধারার, তার ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির প্রতি সম্মান-অসম্মান কোনোটাই আসা উচিত না। তোমাকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে তুমি ব্যক্তি মাশরাফিকে সম্মান করছো, নাকি এথলেটকে। ব্যক্তি মাশরাফির সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা বা কথাই হয়নি, তাকে সম্মানের প্রসঙ্গই অবান্তর। এথলেট মাশরাফিকে তার পারফরম্যান্সের কারণে কখনো এপ্রিসিয়েট করবো, কখনো সমালোচনা। এই ইমপ্রেসনটা স্থায়ী না,কারণ বিশ্বক্রিকেটের মানদণ্ডে সাকিব আর মুস্তাফিজ বাদে বাকিরা বিলো এভারেজ; এই কথাটা স্মরণ করিয়ে দেয়া যদি অসম্মানের হয় তাহলে অসম্মানই তারা ডিজার্ভ করে।

মোকসেদ: হুমায়ূন আহমেদ বা রনে দেকার্তকেও তো ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তার মানে কি তাদের প্রতিও সম্মান তৈরি হবে না?

আমি: হবে না, তাদের চিন্তা বা কর্মের প্রতি ফ্যাসিনেটেড হতে পারি, তার থেকে এপ্রিসিয়েশন আসতে পারে। আবার কোনো চিন্তা বা কর্ম পছন্দ না হলে ক্রিটিক করবো। সম্মান একটি ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়াজনিত অনুভূতি। এখনকার প্রজন্ম মনের দিক থেকে আনসার আর আর্মির নন-কমিশন র‍্যাংকে চাকরি করে, যে কারণে উঠতে বসতে স্যালুট দেয় বিভিন্ন সেলিব্রিটিকে। তোমার কেইসটাই দেখ, মৌনতা ক্লাব আর রঙপ্যাথি পড়ে এত ভালো লেগেছে বলছো, সেখানে কি ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনা ছিল? অথচ তুমি আমার লেখা কোনো বই আর পড়বে না। তার মানে তুমিও আসলে আমার নামে মাজার খুলে খাদেমগিরি করতে চেয়েছিলে, তোমার নিজস্ব কোনো মতাদর্শ নেই।

মোকসেদ: এই যে দেখেন আপনি পারসোনাল এটাক করছেন, এজন্যই আপনাকে পরিত্যাজ্য মনে করি; আপনি অন্যের ইমোশনকে খুব বিশ্রিভাবে অপমান করেন। আমারটা বাদ দিলাম, সিনিয়র প্লেয়ারদের যে ভাষায় অপমান করেন এটা কি আপনার সঙ্গে যায়? রাস্তার ছেলেদের সঙ্গে আপনার পার্থক্য করতে পারি না তখন।

আমি: তুমি যখন বললা আমার মানসিকতা কুরুচিপূর্ণ সেটা ছিল মন্তব্য, আমি তোমার আচরণের প্রেক্ষিতে ফ্যাক্ট ব্যাখ্যা করলাম সেটা হয়ে গেল পারসোনাল এটাক। ঠিক একারণেই মেলামেশা এবং ইন্টারেকশনের ক্ষেত্রে আমি অতি সিলেক্টিভ, কার মতকে আমলে নিব কাকে পাতেই তুলবো না সে ব্যাপারেও মহা খুতখুতে। অবাক হচ্ছি, আমি অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করি না- সমালোচনা নিতে পারি না- প্রচণ্ড অহংকারি এ জাতের কথাগুলো এখনো না বলায়। i don't like to be liked; অপমানের প্রসঙ্গেই যেহেতু বারবার ফেরত আসতেছ, চলো ফ্যাক্ট এনালাইসিস করি। অনলাইনে তামিম ইকবালকে নিয়ে সর্বাধিক পঠিত এবং শেয়ারকৃত আর্টিকেলের নাম 'ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর তামিম ইকবাল', মুশফিককে নিয়ে এনালাইসিসকৃত 'মুশফিক মোস্টট্রিট' আর্টিকেলটি পৌঁছে গিয়েছিল স্বয়ং মুশফিকের কাছেই, মুশফিককে নিয়ে আর কোনো লেখা এতটা ভাইরাল হয়নি। 'কেন ট্যাগ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ' লেখাটি কতগুলো পোর্টালে ছাপা হয়েছে ইয়ত্তা নেই। সাকিব কেন ও কীভাবে চিন্তা করে শুধু এ বিষয়েই থিসিস লেখা হয়েছে ১৫-১৬ হাজার শব্দের, তার বিকেএসপির কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্বয়ং সেসব পড়ে লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মাশরাফি অবসর নিতে পারে খবর প্রকাশিত হলে তাকে ট্রিবিউট জানিয়ে লেখাটা তুমুলভাবে ভাইরাল হয়েছিল, এর বাইরেও মাশরাফি কেন্দ্রিক থিসিসে ব্যয়িত হয়েছে ৯-১০ হাজার শব্দ। প্রতিটি কনটেন্টের লেখক একজনই, মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়! তোমরা তো সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মানের ভারে নুয়ে পড়েছ, বলো কয়টা আর্টিকেল পড়েছ তাদের বুঝতে বা নিজেরা কয়টা শব্দ লিখেছ, সম্মানের বহিঃপ্রকাশটা কোথায়! লাভ ইউ সাকিব, তামিম বস, রিয়াদ সাইলেন্ট কিলার-- এসবের মধ্যেই সম্মান?

মোকসেদ: ঠিক আছে মানলাম আপনি তাদের নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন, আপনার চাইতে বেশি এপ্রিসিয়েট তাদের কেউ করেনি, তার মানে কি তাদের অপমান করার অধিকারটাও আপনি পেয়ে গেছেন? রিয়াদকে ভুচরা ছাড়া কথাই বলেন না, তামিমের আগে বিশেষণ দিয়েছেন ভটভটি; এগুলো কোন ধরনের শিষ্টাচার?

আমি: তুমি কি এধরনের সংবাদ কখনো পড়েছ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবনে রোগীর মৃত্যু? আমি অজস্রবার পড়েছি। যে কোন প্যাকেটজাত খাবার কিনতে যাও, দেখবে এক্সপায়ার ডেট লেখা থাকে। ওষুধে জীবন বাঁঁচবে, সেই ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়লে রূপান্তরিত হয় বিষে। বিষকে কেন ওষুধের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে না এটা তো অভিযোগের বিষয় হতে পারে না। তোমার তথাকথিত সিনিয়রদের জন্য সেই বর্ডারলাইনটা ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত, তার পূর্ব পর্যন্ত কন্ট্রিবিউশন ছিল বলেই তাদের নিয়ে বিস্তর লেখালিখি করেছি। বিশ্বকাপ শেষ, বিদায় হবে কি, উলটো তামিম আর রিয়াদকে বানানো হলো সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক। আমি এখনো মনে করি টেস্টে তামিমের মানের ওপেনার আমাদের নিকটবর্তী রাডারে নেই। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তাদের ব্যাচের সবারই ইনক্লুডিং সাকিব হিমসেল্ফ মেয়াদ শেষ; প্রত্যেকেই তাদের স্বর্ণসময়ের ছায়া। তুমি বলতে পারো নির্বাচক বা বোর্ড তাদের বাদ দেয় না কেন। বিশ্বকাপের পরে উৎপল শুভ্র এর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তাকে বলি ৪টা বিশ্বকাপে ফ্লপ, তামিমকে আর ওয়ানডেতে কন্টিনিউ করা উচিত না। তিনি বলেন- 'একটা টুর্নামেন্ট খারাপ করলেই তাকে বাদ দিতে হবে? এটা তো মেসি বিশ্বকাপ জিততে না পারার কারণে তাকে গ্রেট প্লেয়ার বলা যাবে না টাইপের লজিক হয়ে গেল'! তার মন্তব্যটা নিয়ে পরে ভেবেছি অনেক। মিডিয়া বা বোর্ডের কাছে ম্যাচ জেতার চাইতেও কোন প্লেয়ার খেলবে সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিনেমায় যেমন মান্না-শাকিব খান থাকলে দর্শক দেখে, অনুরূপ মাঠে তামিম-রিয়াদ-মুশফিক থাকলে দর্শকরা দলটাকে বেশি ঔন করবে, যেহেতু দিনের পর দিন তাদের দেখেই অভ্যস্ততা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট সাংবাদিকতায় উৎপল শুভ্র এর চাইতে বড় ব্রান্ড তো নেই, তিনি যেহেতু এই প্যাটার্নে চিন্তা করেন বা করছেন, তার মানে এটাই এস্টাব্লিশমেন্টের চাওয়া। তখন আমার মনে পড়ে পঞ্চপাণ্ডব, দেশসেরা ওপেনার, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, মিস্টার ডিপেন্ডেবল, সাইলেন্ট কিলার প্রভৃতি ফাঁপরবাজি। দেখ সাকিব আর মুশফিকও খেলার ধার হারিয়ে ফেলেছে, পারফর্ম করছে কিন্তু ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তবু এ দুইজনকে নিয়ে সচরাচর কিছু বলি না, বললেও কনস্ট্রাকটিভ উপায়ে বলার চেষ্টা করি। কিন্তু তামিম আর রিয়াদের ক্ষেত্রে আমি নির্দয়, এটাও স্ট্র‍্যাটেজিক সিদ্ধান্ত। দেশসেরা ওপেনার, সাইলেন্ট কিলার কমপ্লিমেন্টগুলোর বিপরীতে একটা এন্টি এস্টাব্লিশমেন্ট বা কাউন্টার ফোর্স কমপ্লিমেন্ট এর প্রয়োজনীয়তা বোধ করছিলাম, ভুচরা বা ভটভটি সেই প্ল্যানেরই অংশ। একদম ম্যাচ বাই ম্যাচ গ্রাফিকাল প্রেজেন্টেশনে দেখিয়েছি বাংলাদেশের জয়ে তামিম-রিয়াদের চাইতে সৌম্য-রুবেল-মুস্তাফিজের আনুপাতিক কন্ট্রিবিউশন বেশি, সেগুলো কয়জনের চোখে পড়েছে! কিন্তু যখনই ভুচরা আর ভটভটি উদ্ভব করলাম নির্বিচারে আক্রমণের শিকার হলাম, এক পর্যায়ে পাবলিক কমেন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। এখন তুমি যে কোনো ক্রিকেট গ্রুপে ঢুকো, রিয়াদের নামের পূর্বে মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা ভুচরা পাবেই। মিডিয়া যে ব্রেইনওয়াশড অবস্থার সৃষ্টি করেছে ৫ প্লেয়ারকে ঘিরে সেই মিথ বাবল ভাঙার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ভুচরা-ভটভটির অবদান আছে। তাতে আমি নিজে নিন্দিত হয়েছি, গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছি। কিন্তু তুমি তো বুঝতেই পেরেছ ফেসবুকের জনতাকে আদতেই গোনায় ধরি না। তামিম আর রিয়াদকে অধিনায়ক বানিয়ে বিসিবি ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩টা বিশ্বকাপ, ১টা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টানা ৪ বছরে--- সেখানে যদি মেয়াদোত্তীর্ণদের অধীনে খেলে দল, রেজাল্ট কেমন হবে ২০১৯ এই কিন্তু দেখেছি।

মোকসেদ: আপনি যে সব সিনিয়রকে বাদ দিতে বলেন শ্রীলংকা দলের বর্তমান অবস্থা দেখেও কি শিক্ষা হয় না যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার না থাকলে পরিণতি কেমন হতে পারে?

আমি: শ্রীলংকা-উইন্ডিজ এই দলগুলোর সাথে ভুলেও বাংলাদেশকে মেলাতে যেও না, সেটা হবে উৎকৃষ্ট নির্বুদ্ধিতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দীর্ঘদিন ক্রিকেটের পরাশক্তি ছিল, বিশ্বকাপ জিতেছে, টেস্ট জিতেছে--- তাদের যা যা অর্জন করার ছিল প্রায় কিছুই আর বাকি নেই। কিংবদন্তী ক্রিকেটারের লিস্ট করতে বসলে কাকে রেখে কাকে বাদ দিবে। পরের প্রজন্মের তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার জায়গা নেই, যে কারণে পতন হতেই পারে। শ্রীলিংকা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ৩ বার ফাইনাল খেলেছে, টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে, মুরালিধরন টেস্টে যে পরিমাণ উইকেট পেয়েছে নির্দ্বিধায় বলা যায় সেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। জয়াসুরিয়া, ডি সিলভা, ভাস, জয়াবর্ধনে, মালিঙ্গা, সাঙ্গাকারা, হেরাথ, দিলশান কত কত লিজেন্ড; পরবর্তী প্রজন্ম তাদের ছাড়িয়ে আসলে কতদূর যাবে। সেখানে দল হিসেবে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা পুরোটাই ফাঁকি, ৬টা বিশ্বকাপ খেলে কোনোটায় ৩টার বেশি ম্যাচ জিততে পারলো না, টেস্টে এখনো পর্যন্ত ইনিংসে হারে, ১৫ জয়ের মধ্যে ১২টাই জিম্বাবুইয়ে আর উইন্ডিজের বিপক্ষে। সাকিব এত বড়ো প্লেয়ার, কই সে ক্রিজে থাকলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে তো কখনো বিচলিত দেখলাম না বা তার বোলিং খেলার সময় ব্যাটসম্যানকে বাড়তি সতর্কতাও নিতে দেখলাম না ১৫ বছরে, তামিম-মুশফিক-মাশরাফিকে বাদই দিলাম। অথচ মিডিয়া এখনই সর্বকালের সেরা ওয়ানডে-টেস্ট দল বানায়, সেখানে আবার বিশেষজ্ঞরাও থাকেন। একবার ভাবো ভারত অথবা ইংল্যান্ড যদি সর্বকালের ওয়ানডে-টেস্ট একাদশ গঠন করতে চায় প্রতিটি পজিশনের জন্য কমপক্ষে ৪-৫ জনের নাম আসবে, কত কিংবদন্তী বাদ পড়ে যাবে। বাংলাদেশে এই কাজটা করতে দাও, ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া কিশোর আর দেশের অভিজ্ঞতম কোচ উভয়ের লিস্টেই ৯টা নাম কমন থাকবে, এবং বেশিরভাগই এখনো খেলছে।

মোকসেদ: তাই বলে অভিজ্ঞতার দাম নেই, বড়ো ম্যাচে তো অভিজ্ঞতাই কাজে দেয়। গত বছরের টি২০ টুর্নামেন্টে দেখেন লিটন-সৌম্যদের দল টুর্নামেন্টজুড়ে কেমন দাপট দেখালো, ফাইনালে মাহমুদুল্লাহ ক্যামিও খেলে ঠিকই খুলনাকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিল।

আমি : অভিজ্ঞতার মূল্য অবশ্যই আছে। তবে এও মনে রাখা দরকার ১৫ বছরের কেরানিগিরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকে দিয়ে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতে চাওয়া বরং বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। তুমি টি২০ এর উদাহরণ দিয়ে ভালো করেছ। আফগানিস্তান সরাসরি বিশ্বকাপে খেলছে, সেখানে আমরা স্কটল্যান্ড, ওমান, পাপুয়ানিউগিনির সঙ্গে খেলছি বাছাইপর্ব। স্কটল্যান্ডে যে মানের স্ট্রোকপ্লেয়ার আছে ওরা আগে ব্যাটিং পেলে এমনকি হারিয়েও দিতে পারে বাংলাদেশকে। ৪ জন অভিজ্ঞ সেনানী রেখে এই ফলাফল কেন; টি২০ তে তাদের সিগনিফিক্যান্ট পারফরম্যান্স তো হাতে গোনা। অর্থাৎ তাদের স্বর্ণালী সময়েই তারা অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে, এই পড়ন্ত বেলায় তারা আর কী করবে! বাংলাদেশের নির্বোধ দর্শকেরা খেলা বলতে ব্যাটিং-বোলিংয়ের বাইরে কিছু বুঝে না, কিন্তু সীমিত শক্তির দলগুলো যে ফিল্ডিং দিয়েই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে সেসব অনুধাবনে পর্যবেক্ষণ আর এনালিটিকাল এবিলিটি থাকতে হয়। হুজুগে বাঙালির জন্য এই প্রত্যাশা তো রীতিমত জুলুম। রিয়াদের কথা আলাদাভাবে বলতে চাই। ২০১৯ বিশ্বকাপের পরেই ক্রিকবাজ এ আর্টিকেল এসেছিল রিয়াদের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, অথচ সেই রিয়াদ হয়ে গেল টি২০ ক্যাপ্টেন। তুমি নিদহাস ট্রফির সেই ছক্কার পরে রিয়াদের কোনো ইফেক্টিভ ইনিংস মনে করতে পার? হ্যাঁ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে একটা ৪২ বলে ৬০ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটা কুইক ফায়ার ছিল, দুটো ম্যাচেই লিটনের স্কোরটা দেখে নিয়ো, তাহলেই মোমেন্টামের ব্যাপারটা ধরতে পারবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কতগুলো টি২০ খেললো; কোথায় রিয়াদ! অথচ এত খারাপ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ২০১৮ পূর্ব গল্প বেচে তাকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটে যে বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস আর রিফ্লেক্সই আসল কথা এই সরল ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃত এড়িয়ে যাওয়া হয়। টেন্ডুলকার বা লারার যা রেকর্ড তাতে তাদের অবসরে পাঠানোর চিন্তা করাটাও পাপ, এমনকি গত বছর ইন্ডিয়াতে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে শেওয়াগ-টেন্ডুলকার যেভাবে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের রানিং প্লেয়াররাও ওভাবে পারবে না। তবু তারা সরে গেছে। রিয়াদ আগে রাইজিং ডেলিভারিতে অবলীলায় ওভার দ্য টপ খেলতে পারত, আউটসাইড অফ লেন্থের বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে উড়িয়ে মারতো, এখন তার একমাত্র হিটিং জোন প্যাডের বল, ওইসব শট চেষ্টা করেও টাইমিং হয় না। এটাই বুঝিয়ে দেয় কখন একজন ক্রিকেটার ফুরিয়ে যায়। রিয়াদ এখনো ৩০ বল খেলে ৩৪-৩৫ করে দিতে পারবে, কিন্তু তাতে কি দল জিতবে? এজন্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তামিম বা রিয়াদ খেলাটা জরুরী, নাকি দল জেতা। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং এটাক নিয়ে তো প্রশ্নের অবকাশ নেই, ২ ম্যাচেই আফিফ যে সাহসিকতা নিয়ে খেলেছে রিয়াদ পারবে এই বয়সে? ক্রিকেট রানের খেলা, তবে অনেক সময় রান করাটাও হারের কারণ হয় এই ফ্যাক্টটা উপলব্ধি করতে হবে। তামিম বা রিয়াদ যদি এখন ম্যাচের অধিকাংশ বল খেলে, নিশ্চিত থাকো দল হেরে যাবে।

মোকসেদ: আপনি প্রচণ্ড বায়াসড। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও তামিম ৮৭ বলে সেঞ্চুরি করলো, এটা লিটন বা আফিফ করলে তো থিসিস লিখতেন, অথচ মাত্রই বললেন তামিম-রিয়াদ বেশি বল খেললে ম্যাচ হারবে।

আমি: বাংলাদেশের দর্শকের আরেকটা সমস্যা, এরা ভুলে যায় ক্রিকেটে ফরম্যাট ৩টা, এবং একটার সঙ্গে অন্যটার ব্যাপক ব্যবধান। তোমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল টি২০ নিয়ে। ওয়ানডের জন্যও যে ভুল তা বলা যায় না। তামিম যেহেতু রান করছে, আমি তাকে একেবারে বাদ দেয়ার পক্ষে না, তবে তাকে ওপেনেও দেখতে চাই না। এংকর রোল শব্দটার চরম ভুল প্রয়োগ ঘটিয়েছে তামিম আর স্বার্থাণ্বেষী মিডিয়া। এংকর হলো সেই প্লেয়ার যে প্রচুর স্ট্রাইক রোটেট করতে পারে, চাইলে স্ট্রোক খেলতে পারে। মুশফিককে তুমি এই ক্যাটেগরিতে ফেলতে পার। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ লিটন দাস। সে গ্যাপ বের করে প্রচুর সিঙ্গেলস নিতে পারে, মারতেও পারে। তামিম আগাগোড়া বাউন্ডারি নির্ভর প্লেয়ার, স্ট্রাইক রোটেশন অতি বাজে, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট বলাই বাহুল্য। সে ৫৫-৬৫ রানের প্লেয়ার; এটুকু করতেই ফিটনেস নিয়ে যেরকম স্ট্রাগল করে। সেলফিশ ইনিংস সব। আরও দেখবে সে সিরিজের একটা ম্যাচে ফিফটি করে, বাকি ২টাতে ডাবল ফিগারে পৌঁছায় কদাচিৎ,তবু প্রতি সিরিজে একটা ফিফটি খারাপ না। এরকম একজন প্লেয়ারকে এফোর্ড করাই যায় ৩ নম্বরে, কিন্তু ওপেন স্লটটা তাকে ছাড়তেই হবে। সেখানে লিটনের সঙ্গে একজন ডেস্ট্রাক্টিভ ওপেনার থাকবে যে আসলে বোনাস উইকেট, তার একমাত্র টার্গেট প্রতিপক্ষের স্ট্রাইক বোলারকে খুন করা অথবা নিজে খুন হওয়া। সে যদি ১০ ম্যাচেও ব্যর্থ হয় কিচ্ছু বলা যাবে না৷ রানের স্ট্যাবিলিটি আনবে বাকি ৫ ব্যাটসম্যান। কিন্তু তামিম বলবে আমি ওপেন ছাড়া কোথাও খেলতে পারি না, মিডিয়া বলবে যে প্লেয়ার সারাজীবনে ওপেনের বাইরে ব্যাট করেনি এই পড়ন্তবেলায় তাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট না করলেই কি নয়! অর্থাৎ কোনটা দলের জন্য ট্যাকটিকালি এডভান্টেজ দিবে তার চাইতে কিসে তামিমের উপকার হবে সেটা বেশি জরুরী। এজন্য তামিমের নির্বাসন ব্যতীত সমাধান নেই।

মোকসেদ: টি২০ বিশ্বকাপের আগে সিরিজ আছে মাত্র ১টা, পৃথিবীর কোনো প্রফেশনাল দল এই অবস্থায় অধিনায়ক পালটায় না, দল থেকে বাদ দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

আমি: 'প্রফেশনাল' শব্দটার মধ্যেই সমাধান আছে। বাংলাদেশ দলকে প্রফেশনাল মনে হয় তোমার; কেন ও কোন এঙ্গেলে মনে হয়? গত ২ বছর ধরে কোনো ফরম্যাটে ভাইস ক্যাপ্টেন নেই, বিশ্বাস হয়! এই টিমে কোচ বা ক্যাপ্টেনের রোলটাই বা কী! তুমি দেখছো ২ বছর ধরে একটা প্লেয়ারের কোনো কন্ট্রিবিউশন নেই, অন্যদিকে লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করার মতো ৪-৫ জন অপশন রেডি হয়ে আছে, তবু তারা বেঞ্চে বসে থাকবে ক্যাপ্টেনকে জায়গা দিতে। তাহলে বোর্ডের করণীয় কী হওয়া উচিত? জেনেশুনে একটি ক্যাপ্টেন কোটা তৈরি করে সেখানে একজন প্রুভেন ফেইলারকে বহন করা, নাকি নতুন অধিনায়কের অধীনে নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের জন্য সঠিক কম্বিনেশন আবিষ্কার করা। জিম্বাবুইয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দল, তবু দেখ উভয় সিরিজেই পারফরম্যান্সে ডমিনেট করছে তারাই যাদের দলে জায়গা নড়বড়ে। সাকিব কিছুটা কন্ট্রিবিউট করলেও রিয়াদ কিন্তু কোথাও নেই, বরং ৩য় টি২০ হারিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠেছিল, শামীমের কৃপায় বেঁচে গেছে। তবুও কি বার্তা পাচ্ছো না তামিম-মুশফিক-রিয়াদদের আসলে সময় শেষ!

মোকসেদ: শুধু তরুণ দিয়ে দল হয় না, অভিজ্ঞ দিয়েও না; ব্যালেন্স থাকতে হয়। আপনি যেভাবে বলছেন মনে হচ্ছে বিশ্বকাপজয়ী অনুর্ধ্ব১৯ দলটাকে নামিয়ে দিলেই সবচাইতে খুশি হবেন।

আমি: এগুলো তোমাদের মতো উগ্রপন্থী তরুণদের চিন্তাভাবনা। একটা প্লেয়ার ১০-১৫ টা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেললেই অভিজ্ঞ। লিটন, মুস্তাফিজ, আফিফ, মাহেদি, শরীফুল কাকে অনভিজ্ঞ মনে হয় তোমার? এমনকি শামীমও বিশ্বকাপ আসতে আসতে ১০-১২টা ম্যাচ খেলে ফেলবে। শান্তরাও সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২০ টার বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। কোন যুক্তিতে এরা অনভিজ্ঞ? নাকি ১৫ বছর ধরে জাতীয় দলে না খেললে তারা অভিজ্ঞ হয় না? আফিফ তার ২০-২৫ ম্যাচের ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারে ৫ বার দলকে উদ্ধার করেছে; তোমার ভুচরাদের খেলা ম্যাচের অনুপাতে উদ্ধারের পারসেন্টেজ হিসাব কর,তাহলেই বুঝতে পারবে ভুচরাদের সামর্থ্য কত কম। আমি বরং লিটন- মুস্তাফিজদের অভিজ্ঞ ধরে জয়, হৃদয়, রাব্বিদের তরুণ হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। তামিমদের প্রজন্ম যা দেয়ার দিয়ে ফেলেছে, এর বেশি আর তাদের সামর্থ্য নেই।২০১৬ এর পরে সাউথ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের বাইরে বাংলাদেশ কোয়ালিটি অপোনেন্টের বিপক্ষে খেললোই বা কই; সেই তো জিম্বাবুইয়ে-উইন্ডিজ আর শ্রীলংকা! সামনে সব কঠিন সিরিজ, তামিম-রিয়াদরা এমনিতেই এক্সপোজড হয়ে যাবে। সময় থাকতে এদের অপসারণ না করলে সবগুলো টুর্নামেন্টেই মহাভরাডুবি সুনিশ্চিত।

মোকসেদ: আপনি যাদের নিয়ে বাজি ধরছেন তাদের তো কনসিসটেন্সির বালাই নাই। কোন ভরসায় সিনিয়রদের অপসারণ করবে?

আমি:কনসিসটেন্সি মানে কী? ৭০ বলে ৪৫ করা, নাকি ৩১০ চেজ করতে গিয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে ২৬৫ তোলা যেখানে একাধিক ব্যাটসম্যানের ফিফটি থাকবে? এধরনের কনসিসটেন্সি দলের জন্য অভিশাপ। তুমি আমাকে বলো টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? তোমার বলতে হবে না, রিয়াদ-মুশফিক-তামিমকে জিজ্ঞেস কর; তারা বলবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে চাই। এর চাইতে ছ্যাবলামিপূর্ণ মন্তব্য স্পোর্টস এ হয় না। এবার সাকিব-আফিফ-শামীম-শরীফুলকে জিজ্ঞেস কর, প্রত্যেকেই বলবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ওই ধরনের মাইন্ডসেটের প্লেয়ারদের প্রমোট করলে দল ১০ নম্বরেই থাকবে। তুমি দেখবে তামিম আর মুশফিক নিজেদের স্ট্যাট নিয়ে যে পরিমাণ কনছার্ন, দলের স্ট্যাট নিয়ে তার কণা পরিমাণও চিন্তা নেই। বরং ওপেন করবো, কিপিং করব ধরনের পাড়ার দাদাগিরি মানসিকতা। টিম কালচারটা তাই এত জরুরী। তামিমরা ২০০০ দশকের প্লেয়ার, ২০২০ এর দশকের সঙ্গে শারীরিক-মানসিকভাবে এডজাস্ট করার যোগ্যতা তাদের নেই। রাজ্জাক ৬০ বয়সেও কলেজ ছাত্রের চরিত্রে অভিনয় করতে পারে, ধূর্ত মিডিয়া আর কতিপয় সিস্টেমবাজ বোর্ড পরিচালকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তামিম-রিয়াদকে নিয়েও সেই হাস্যকর খেলা চলছে; বুড়ো ভাম, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কাণ্ডারি!

মোকসেদ: আপনার সঙ্গে কথা বলা বৃথা। দুনিয়ার সব বুঝ আপনি একাই বুঝেন, অন্যরা ঘাস খায়

আমি:অন্যদের খাদ্য তালিকা তো জানি না, তবে তুমি যে ভুসি খাও সে ব্যাপারে অনুমান করা যাচ্ছে। ডেইরি ফার্মে ভর্তি হয়ে যাও, ভুসির চিন্তা ঘুচে যাবে।

Address

H 649 (6th Floor), R 31, New DOHS Mohakhali, DHaka
Dhaka
1206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when HumanLab777 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to HumanLab777:

Share