13/04/2020
করোনা বিধ্বস্ত অর্থনীতি – পূন:উদ্ধারে করনীয় কি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষি, কৃষিই হতে পারে অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি
-রহমান মাহফুজ
“এমন পরিস্থিতে বাংলাদেশসহ জনবহুল নিম্ন অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াতে পারে – এত বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্য যোগান দেওয়া। মানুষ ঘরে বা বাসায় অবস্থান করলে এমনিতেই বেশীরূপে ও বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য গ্রহন করে।”
করোণা যে বিশ্ব অর্থনীতির কি অবস্থা করেছে -তা বলা বাহুল্য। তার প্রধান শীকার আমাদের দেশের মত জনবহুল দেশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। এ পরিস্থিতি আরও কত ভয়াবহ হতে পারে – তা এখনও ধারণাতীত। যদি এখনই বিশ্ব করোনা মুক্ত হয় – তারপরও এর মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির যে বিপর্যয় ঘটেছেন তা তা পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর, এমনকি কয়েক যুগও লেগে যেতে পারে।
এতদিন বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল শিল্প উৎপাদন, আর দ্বিতীয়তে নেমে এসেছিল কৃষি। ১৭৫০ সালে শিল্প বিপ্লব শুরুর পর হতে শিল্পের কারনে অর্থনীতির চাকা রকেটের মত ছুটে চলেছিল, যার গতি এখন কোভিড-১৯ নামক করোণা ভাইরাস থামিয়ে দিয়েছে।
কোভিড-১৯
বিজ্ঞানীদের ধারনা এ পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন বছর এবং ২.৫ মিলিয়ন বছর পুর্বে পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে। প্রায় ১২০০০ বছর পূর্ব হতে মানুষ কৃষি কাজ শুরু করে এবং ষোড়ষ শতাব্দিতে বিশ্বে কৃষি বিপ্লব শুরু হয়।
১৭৫০ সালে শিল্প বিপ্লবের পূর্বে একমাত্র কৃষিই ছিল বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। শিল্পও কৃষিকে শক্তি যুগিয়েছে। ফলে কৃষির আধুনিকতা ও শিল্পের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে বর্তমানে ৮.৭ বিলিয়ন জনসংখ্যার পৃথিবীর খাদ্য যোগানে কৃষি সক্ষম হয়েছে।
যদিও অমানবিকতা ও হিংসা – বিদ্বেষ এর কারণে পৃথিবী ক্ষুধামুক্ত হতে পারেনি। কোভিদ -১৯ (COVID-19) করোনাভাইরাসের কারণে শিল্প এখন বিপর্যস্ত – ইহা কৃষি উৎপাদনকেও যে বাঁধাগ্রস্ত করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তারপরও বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন হতে পারে কৃষি এবং শুধু কৃষিই পারে এ অন্তবর্তী কালীন সময়ে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে। এত বিপুল জনসংখ্যার পৃথিবীর মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও স্বাস্থ্য ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা মিটানোর একমাত্র উৎস হতে পারে এমূহুর্তে কৃষি ও কৃষির খাদ্য উৎপাদন খাত। যে দেশের কৃষি উৎপাদন যত বেশী হবে এবং কৃষির সুরক্ষা হবে, আগামী পৃথিবীতে তারাই ভালোভাবে টিকে থাকবে।
বাংলাদেশের মত বিশাল জনগোষ্ঠীর ছোট অর্থনীতির দেশটির কথাই ধরা যাক। এ দেশের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে দেশের জন্য এতদিন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছিল। তাছাড়া বিদেশে অবস্থান করার কারনে তাদের জন্য দেশকে খাদ্য যোগান দিতেও হত না।
পৃথিবী করোণা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ছুটে এসেছে। বর্তমানে করোনার কারনে বিশ্ব যোগাযোগ বিছিন্ন থাকায় এখন অনেকে আসতে না পারলেও বিদেশে যারা আটকা পড়েছে এবং জীবন- মৃত্যর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে অবস্থা একটু ভাল হলে তারাও যে তারাও মাতৃভূমির দিকে ছুটে আসাটা স্বাভাবিক।
বিশ্ব অচিরে করোণা মুক্ত হলেও বিশ্ব অর্থনীতির যে অবস্থা দাড়াবে সহসায় এরা যে বিদেশে ফিরে যেতে পারবে সেতো নয়ই, বরং বহু দিন হতে দেশের যে সকল নাগরিকেরা স্থায়ীভাবে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন এবং দেশকে প্রায় ভূলে গিয়েছিলেন – তাদেরও আগমন ঘটতে পারে।
বিদেশ ফেরত প্রবাসী এ জনগোষ্ঠি আমাদের ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশে প্রধানত ৩টি বিষয়ের উপর প্রাথমিক অবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে:
(১) বৈদেশিক মুদ্রা আয় মারাত্বকভাবে হ্রাস পেতে পারে,
(২) বাড়তি খাদ্য যোগান দিতে হবে বলে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে, এবং
(৩) এরা সম্পূর্ণ বেকার জনগোষ্ঠিতে পরিনত হবে। কারন প্রবাসিরা দেশে ফিরেই উৎপাদনমূখী কোন কর্মকান্ডে সমৃক্ত হতে পারবে না। অতীতে দেখা গেছে যে, প্রবাসিরা দেশে ফিরে আরাম – আয়েশেই জীবন যাপন কাটাতে বেশী পছন্দ করে।
অন্য দিকে শিক্ষিত- অর্ধ শিক্ষিত -স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যারা দেশে শিল্প উৎপাদনের সাথে জড়িৎ ছিল, বিদেশে রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এসব শিল্প ইন্ড্রাস্ট্রীজও ক্রমে বন্ধ হয়ে তারাও বেকার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও আমদানী- রপ্তানীর সাথে সংযুক্ত ব্যবসা, পরিবহন শ্রমিক, মালিক, পেশাজীবিরাও সম্পূর্ণরূপে বেকার হয়ে দেশের জন্য মারাত্বক বোঝা হয়ে দাড়াচ্ছে।
করোণায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত বিশাল জনগোষ্ঠী। এসব জনগোষ্টীকে কৃষিসহ অন্য উৎপাদনমূখী কর্মকান্ডে সহজেই সম্পৃক্ত করা যাবে না।
বিশ্ব করোণা মুক্ত হলেও রপ্তানী পূর্বের মত প্রবৃদ্ধিতে আসতে সময় লাগবে। তাছাড়া একবার যেহেতু এ কাঠামো শ্লথ বা ভেঙ্গে পড়েছে, পূনরায় শুরু করতে এবং গতিশীল হতে সময়ের প্রয়োজন হবে। আবার বন্ধ থাকার পরে শিল্প ইন্ড্রাস্টীজের মেশিনারী পুনরায় কার্যক্ষম করতেও সময় লাগবে, কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার/পুন:স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ বা রপ্তানী স্থগিত হওয়ার কারনে রপ্তানীর জন্য প্রস্তুতকৃত বা প্রস্তুতাধীন পণ্য দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, বিদ্যমান কাঁচামালেরও একই অবস্থা হতে পারে, নতুন কাঁচামাল সরবরাহ করতেও সময় লাগবে। তারপরও শিল্প উৎপাদন পূনরায় শুরু করে পরিবহনসহ এতদিনের গড়ে উঠা অবকাঠামো পূর্নরূপে সচল করে পূনরায় রপ্তানীতে আসতেও অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে।
করোণার জন্য বর্তমানে মানুষের আয় রোজগারও বন্ধ রয়েছে এবং মানুষ এখন সঞ্চয় খরচ করে জীবন চালাতে বাধ্য হচ্ছে। যদি বিশ্ব সহসায় করোনামূক্ত হয়ও তবে সাধারণ মানুষের পণ্য ক্রয়ে সক্ষমতা অর্জণেও প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই বেকার হয়ে পড়া ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বড় ব্যবসায়রিা যে সহজে উঠে দাড়াতে পারবে তার বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতে বাংলাদেশসহ জনবহুল নিম্ন অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াতে পারে – এত বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্য যোগান দেওয়া। মানুষ ঘরে বা বাসায় অবস্থান করলে এমনিতেই বেশী রূপে ও বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য গ্রহন করে।
আর এখনতো করোনা ভাইরাসের কারনে সার্বক্ষনিক বেকার অবস্থায় ঘরে আবস্থান করতে হচ্ছে। ফলে খাদ্যের উপরও বেশী চাপ পড়ছে। এ অবস্থায় শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বেই জনসংখ্যার ভিত্তিতে বর্তমান খাদ্য গ্রহনের পরিসংখ্যান অকার্যকর হওয়ার আশংকাই বেশী। অধিকন্ত, বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে বিদেশ ফেরত বাড়তি লোকের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য যোগানের বিষয়টি তো রয়েছেই।
মনে রাখতে হবে বর্তমান বিশ্বের হিংস্র শাসক কোভিদ -১৯ করোনা ভাইরাসের হুকার ধ্বনিতে শুধু শহরাঞ্চলকে প্রকোম্পিত করেনি, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের জীবনকেও থামিয়ে দিয়েছে, তার সাথে সার, ঔষধ, ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম এর সরবরাহ লাইন বন্ধ হওয়া তো রয়েছেই , তাই কৃষি উৎপাদনও কয়েকগুণ হ্রাস পাওয়ার আশংকা রয়েছে। এমনও হতে পারে টাকা থাকলেও খাদ্য পাওয়া যাবে না।
তাই বাংলাদেশের মত জনবহুল ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশগুলোর উচিত হবে আগামী কয়েক বছর অনুৎপাদনশীল অবকাঠমো নির্মাণ খাত যেমন ব্রীজ, কালভাট, রাস্তা নির্মাণ, বিল্ডিং নির্মাণ এবং সোন্দর্য বর্ধন সম্পর্কিত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হ্রাস করে, সম্ভব হলে একেবারে স্থগিত রেখে কৃষি ও কৃষি খাদ্য সুরক্ষায় অধিক সহায়তা প্রদান করা।
সরকার কিভাবে কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কৃষিতে সুরক্ষা প্রদান করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে তার কয়েকটি খাত নিন্মে উল্লেখ করা হলঃ
০১। কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে, সম্ভব হলে বিনামূল্যে কৃষি উপকরন যেমনঃ বীজ, সার, এবং জমি চাষের, ফসল কাটার ও ফসল মাড়াইয়ের যন্ত্রপাতী বিতরণ ও সরবরাহ করা।
০২। সেচের অভাবে যাতে কোন জমির ফসল নষ্ট না হয় বা সেচ সুবিধার অভাবে কৃষিযোগ্য সামান্য জমিও কৃষির আওতার বাহিরে না থাকে তার ব্যবস্থা করা।
০৩। ফসল রোপণ, বোপন, সেচ ও সার প্রদান, ফসলি ক্ষেত আগাছা মুক্ত করন, ফসল কাটা, মাড়াই, শুকানো, ঘরে ঘরে বা বসত বাড়িতে সংরক্ষণ ইত্যাদির বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা। কৃষকদের বাড়ী বাড়ী বা পাড়া-মহল্লায় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রনালয় কতৃক উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সুরক্ষার জন্য বিনামূল্যে কৃষক পর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও যথাযথ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।
০৪। পতিত জমিসমূহ কৃষির আওতায় নিয়ে আসা এবং যে সব অঞ্চলে শুধু জমিদার থাকার জন্য শহরাঞ্চলের মানুষ ও প্রবাসীরা পৌত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত বা ক্রয় করে কৃষি জমি পতিত করে রেখেছে – সে সকল জমি আইন করে কৃষিতে ফিরে আনার ব্যবস্থা করা। বরিশাল, সিলেট এর মত কয়েকটি জেলায় এমন প্রচুর কৃষিযোগ্য জমি পতিত হয়ে আছে।
০৫। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খড়া ইত্যাদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে যাতে ফসলহানী না ঘটে- তার জন্য আগাম ব্যবস্থা হিসাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার, বাঁধের ভাঙ্গা অংশ বন্ধ করণ (Breach closing), বাঁধ পুর্ন নির্মাণ, উঁচু করণ ও শক্তিশালী করণ, সেচ অবকাঠামো শক্তিশালী করণ এবং নিষ্কাশনের অভাবে যাতে মাঠের ফসল বন্যা বা জলোছ্বাসের পানিতে তলিয়ে না যায় তার জন্য স্লুইচ, রেগুলটর সংস্কার, মেরামত, পূর্ণনির্মাণ ও নিষ্কাশস ব্যবস্থার উন্নয়ন যেমন খাল, নদী খনন/পূর্ণখনন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
০৬। ইদানিং বিভিন্ন এলাকায় ত্রি ফসলী উঁচু জমি ফুল ও তামাক চাষের এবং দু’ফসলী জমি মিষ্টি পানির মাছ চাষের আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে, সরকারের উচিৎ হবে এসকল জমি আপাত ৫ বছরের জন্য কৃষিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহন করা। মনে রাখতে হবে খাদ্যাভাব ঘটলে ফুল ও মাছের ব্যবসায় ধ্বস নামতে বাধ্য।
০৭। কৃষকদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা মহাজনী ঋণ পরিশোধ এবং সাংসারিক খরচ মিঠানোর তাগিদে ফসল উঠা মাত্র কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদিত ফসল যথাযথ ভাবে সংরক্ষনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও জ্ঞান না থাকায়ও ফসল উঠা মাত্র কমদামে বিক্রয় করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ঋন ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে একেবারে কৃষকদের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা ও উৎপাদিত ফসলের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরক্ষণের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণ সহায়তাই একমাত্র উপায় হতে পারে।
এক্ষেত্রে সরকার প্রকৃত কৃষকদের একটি ডাটাবেজ তৈরী, সংরক্ষণ ও কৃষি কার্ড এর প্রচলন করতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এতদবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে, কিন্তু উহাকে জোরদার ও দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একাজে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।
আর কৃষি ঋণ বিতরনে গ্রাম্য মাতাব্বর অপেক্ষা কৃষকদের পরিবারের স্বাক্ষ্য নেয়াটাই উত্তম হতে পারে, তাহলে পুরো ঋণের টাকাটা যেমন কৃষকদের হাতে পোৗছবে তেমনি নামে বেনামে কৃষি ঋণের নামে ঋণের টাকার লোপাট বন্ধ হবে এবং সুদ আসলে যথাসময়ে ফেরত পাওয়া যাবে। ইহা অবশ্যই ম্বীকৃত যে, কৃষকদের সততা আমাদের সমাজের অন্য অংশ অপেক্ষা বেশি । কৃষি ঋণ বিতরণ ও আদায়ের কাজ ব্যাংকে নয় কৃষকদের বাড়ীতে বাড়ীতে বিতরণের সংষ্কৃতি চালু করিতে হবে।
০৮। দেশে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হলে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষকেরা সাধারনত সংরক্ষিত বীজ পর্যন্ত খেয়ে ফেলে বা বিক্রি করে ফেলে। ফলে পরবর্তীতে বীজ সংকটের কারনে কৃষি চাষ করতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে কৃষি কর্পোরেশনের অধিন বীজ সংক্ষরণ বিভাগ অতিরিক্ত বীজের সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
০৯। রিক্সা সম্পূর্ণ একটি অনুৎপাদনশীল খাত। এ খাতে আমাদের লক্ষ লক্ষ কর্মক্ষম জনবল ন্ষ্ট হচ্ছে। এই অনুৎপাদনশীল খাতের অপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। এ খাতের জন্যই আমাদের কৃষি খাতে শ্রমিকের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে এর জন্যই নগরে বস্তি গড়ে উঠেছে। বস্তি হল সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী হতে শুরু করে সকল দুষ্কর্মের আবাসস্থল। রিক্সাচালক হওয়ার জন্য মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে ছুটছে, শহরের মানুষের সামান্যতম দূরত্বও হাটার অভ্যাস দূরীভূত হচ্ছে- ফলে অল্প বয়সে শহরের মানুষ কর্মহীন ও রোগক্রান্ত হয়ে জাতীর জন্য বোঝা হয়ে দাড়াচ্ছে। রিক্সার দৌরাত্বে ঝানঝট এর ফলে নগরবাসীর প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ কর্ম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। Covid -19 Coronavirus ভাইরাস এসকল কর্মক্ষম জনগোষ্টীকে সহজেই কৃষিখাতে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে সরকারকেও এখন রাজনীতিক ভাবে বেগ পেতে হবে না। এর জন্য প্রয়োজন পাড়ায় মহল্লায় রিক্সার গ্যারেজসমূহে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সকৃত রিকাসাসমূহ অধিগ্রহন করত সকল রিক্সা ধ্বংসসহ রিক্সার গ্যারেজ ও নির্মাণ কারখানাসমূহ বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে। রিকক্সা না থাকলে দ্রুতম বড় বড় যানবাহন সে স্থান দখল করবে এবং শহরবাসীর মধ্যে বাইসাকেল এর অভ্যাস গড়ে উঠবে।
প্রয়োজনে মানণীয় প্রধান মন্ত্রীর সরাসরি তত্বাবধানে সরকারী ও বেসরকারী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কৃষি বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের টাক্সফোর্স কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
করোণা বিধ্বস্ত অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কৃষি ব্যতীত অন্য যেসব খাতকে সরকার গুরুত্ব দিতে পারেঃ
অনেক সময় খারাপ পরিস্থিতিগুলোও কারো কারো জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদনের কথাই ধরা যাক। বিশ্ব অবাধ বানিজ্য অর্থনীতি ( Free Market Economy) এর যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বিদেশী পণ্য ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর আগ্রাসনে আমাদের দেশজ শিল্প ক্রমেই রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়ে পড়েছিল, কোভিদ -১৯ করোনা ভাইরাস সেগুলোকে পুনরুজীবিত করার একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
সরকারের নীতি ও আর্থিক সহায়তা পেলে এসকল মৃত শিল্প অবার ঘুরে দাড়াতে পারে, নিম্নে এ ধরনের কিছু শিল্প উল্লেখ করা হলঃ
০১। বস্ত্র ও সূতাঃ শিল্প: ৮০’র দশকের পূর্বে ভারতীয় বস্ত্রের দাপটে বাংলাদেশের বস্র শিল্প প্রায় মৃত: হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার কর্তৃক ভারত হতে স্থল পথে সূতা আমদানীতে নিষেদাজ্ঞা আরোপ এবং সীমান্ত দিয়ে চোরা পথে কাপড় আমদানীর উপর কড়াকড়ি আরোপ করার পর ১৯৮৫-২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প আবার উঠে দাড়িয়েছিল।
এ সময়ে দেশে অনেকগুলো স্পিনিং মিল ও কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল স্থাপিত হয় । কিন্তু ধীরে ধীরে গার্মেন্টস এর কাপড় চীন হতে আমদানী এবং পুনরায় ভারতীয় সূতার দাপটে দেশীয় বন্ত্র ও স্পিনিং শিল্পের মারাত্বক বির্পযয় ঘটে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গার্মেন্টেস এর বিশ্ব ব্যবহারকারীদের চীনের কাপড়ের প্রতি নিশ্চয় একটা অনীহা সৃষ্ট হতে বাধ্য। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন সুন্দর মিহি বস্ত্র অপেক্ষা স্বাস্থ্যসম্মত (Hygienic) বস্ত্রের প্রতিই পশ্চিমা ক্রেতারা বেশী আগ্রহী হবে। তাই বাংলাদেশের এ সুযোগ কাজে লাগানোর বিস্তর সুযোগ রয়েছে।
০২। কসমেটিক ও টয়লেটিজঃ শিল্প: আমাদের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রসারে সৌন্দর্য বর্ধন ও ফ্যাশন প্রীতিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বিশ্ব অবাধ বানিজ্যের সুযোগে আমাদের দেশ বিদেশী কসমেটিকস ও টয়লেটিজ পণ্যে সয়লাব হয়ে যায় এবং দেশবসিীও বিদেশী পণ্যের প্রতি ঝুকে পড়ে। পরিনতিতে এসব পণ্যের দেশীয় উৎপাদনকারীরা বাজার হারিয়ে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশ হতে সারা বিশ্বে বিশেষ করে যে সকল দেশ হতে এসকল পণ্য আমদানী হচ্ছে, সেসকল দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত বেশী হওয়ায় স্বাভাবিক কারনেই আগামী ১/২ বছর দেশের মানুষের মধ্যে এ সকল বিদেশী পন্যের ব্যবহারে অনীহা দেখা দিবে এবং দেশীয় পন্য ব্যবহারের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দেশীয় এ সকল পন্য উৎপাদনকারীদেরকে নীতি সহায়তা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হলে দেশজ শিল্পগুলো আবার উঠে দাড়াতে পারবে।
যেহেতু দেশের উঁচু শ্রেনীর নাগরিকগনই এসকল বিদেশী পন্য অধিক ব্যবহার করে থাকে, সেহেতু এসকল পন্যের আমদানী শুল্ক বৃদ্ধি করলে সাধারন জনগনের ক্ষতি তো হবেই না, বরং একদিকে এ জাতীয় ফ্যাশনাবল খাতে বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়সহ সরকারে আয় বাড়বে এবং অন্যদিকে দেশীয় শিল্প প্রসার লাভ করতে পারবে। এখাতে ব্যান্ডিং র্সৃষ্টি হওয়ারও একটা সুযোগ রয়েছে।
০৩। টিন ও প্যাকেজিং জাতীয় প্রক্রিয়াকরণ খাদ্যঃ মালেশিয়া ও থাইল্যান্ডের এ জাতীয় পণ্য অমাদের দেশের বাজার এখন সয়লাব হয়ে গিয়েছে। এ জাতীয় পণ্যের মধ্যে বিস্কুট, শিশুখাদ্য ও ক্যান্ডি জাতীয় খাদ্যই প্রধান।এমনিতেই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তাজা ও সতেজ রাখার জন্য টিন ও পলি ব্যাগ এর ভিতর লিডের প্রলেপ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয় এবং এসকল প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানী ও ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ে চাপে ও তাপে লিডের প্রলেপ গলে খাদ্যের সাথে মিশে যায়। লিড একটি বিষাক্ত হেভী মেটাল। এর প্রভাবে আমাদের শিশুদের ব্রেন ডেমারেজ হয়ে বিদ্যা-বুদ্ধির লোপ পাচ্ছে এবং হাবা গোবায় পরিনত হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও বেশ কতকগুলো খাদ্য প্রক্রিয়া জাত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের বিদেশ প্রীতির কারণে এবং বিদেশ হতে আমদানীকৃত এসব খাদ্য পন্যের আগ্রাসনে আমাদের দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে মারাত্বক প্রতিযোগীতার মূখোমখি হতে হচ্ছে।
করোণা ভাইরাসের প্রভাবে এসকল বিদেশী পণ্যের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ লোপ পাবে এবং দেশীয় খাদ্য পন্যের উপর মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। সরকার এক্ষেত্রেও কসমেটিক ও টয়লেটিজ শিল্পের ন্যয় নীতি সহায়তা ও ভূর্তকি দিয়ে এ সব শিল্পের পূর্ণজাগরণ ঘটাতে পারে।
এইরূপ আরো যে সব শিল্পকে সরকার নীতি সহায়তা ও ভূর্তকি দিয়ে শিল্প খাতকে চাংগা করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে কাগজ ও প্রিন্টিং শিল্প, দেশীয় হালকা মিশিনারীজ শিল্প, টাইলস ও স্যানিটারি শিল্প, চশমার ফ্রেম, হালকা ইলেটিক্যাল পণ্য ইত্যাদি।
এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের ঔষুধ শিল্প বিশ্বব্যাপী সুনামের সাথে ব্যবসা করছে। বিশ্ব আজ রোগাক্রান্ত এবং প্রচুর ঔষুধের চাহিদা অচীরেই সৃষ্টি হবে। এ পরিস্থিতিতে কোন কোন দেশ অভ্যন্তরীন চাহিদা মোকাবেলায় নিজস্ব ঔষুধ শিল্পের বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করতে পারে।
ফলে দেশীয় ঔষধ শিল্প ভবিষ্যতে চ্যালেজ্ঞ এর মুখামূখি হতে পারে। তাই বিশ্বে বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা অনুসারে যাতে দেশীয় ঔষধ শিল্পগুলো আরও সক্ষমতা অর্জন করতে পারে – তার জন্যও সরকারকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। অন্য খাতে বেকার হয়ে যাওয়া জনবল এখাতে পূর্ণ নিয়োগের একটি সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান পেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীগণ একেবারে পথে বসে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। খাদ্য পণ্য ছাড়া সকল ব্যবসা- বানিজ্য, দোকান – পাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সাধারনত নিজস্ব বাসা বা বাড়ী নাই, ৯০% ব্যবসায়ীরাই ভাড়া বাসায় থাকেন্ ।
শিল্পপতিদের নেসা বা স্বপ্ন থাকে তার শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বড় করার, সম্প্রসারণ করার বা নতুন শিল্প স্থাপন করার, আর ব্যবসায়ীদেরও অবস্থা একইরূপ। তারা শুধু চায় ব্যবসা বড় করতে বা নতুন নতুন ব্যবসা গড়ে তুলতে, তারা জমি, বাড়ী বা ফ্লাট ক্রয় করার মত অনুৎপাদনশীল খাতে সাধারণত অর্থ ব্যয় করে না। বরং এরা বাপ- দাদার জমি বা বাড়ী বিক্রয় করে, এমনকি বউয়ের গয়না পর্যন্ত বিক্রয় করে বা বন্ধক দিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে।
অবশ্য শিল্পপতি, ব্যবসায়ী সেজে কিছু ব্যাংক লুটেরাশ্রেণী আমাদের দেশে রয়েছে, তারা প্রকৃত শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী নয়। প্রকৃত ব্যবসায়ী, শিল্প পতিরা মূলত ব্যাংক ঋণ সহায়তা তেমন পায় না, তাইতো বউয়ের গয়না বেঁচে, মাত্রারিক্ত সুদে মহাজনী ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের ৮০%ই ব্যবসার আয়ে প্রতি মাসে বাসা ভাড়া পরিশোধ করে, সন্তানদের লেখা পড়া ও সাংসারিক খরচ চালিয়ে থাকেন। এমন অবস্থায় সমাজের এ বিরাট জনগোষ্ঠীর সকল আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে- তাদেরকে রক্ষা করতে হবে, নতুবা এরা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাড়াবে। যারা এতদিন ব্যবসা করেছে, তাদরে কৃষি জমিও তেমন একটা নাই, কৃষিতে কাজ করাও সম্ভব নয় বা সে সুযোগও নাই। তাদেরকে রক্ষার জণ্য সরকার এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে অবস্থাপূর্ণ নাগরিকেরা এগিয়ে আসতে পারে।
সবাই এ দেশের নাগরিক। তাই শুধু সরকার নয়, দেশের এ ক্লান্তিকালে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। যে সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি ভাড়ায় থাকেন, দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন – এ সংকটকালীন সময় বাড়ীর মালিক, দোকান মালিক, মার্কেট কতৃপক্ষকে ভাড়া মওকুফ করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। কারন, বাড়ীর মালিক, দোকান মালিক, মার্কেট কর্তৃপক্ষ দেশের সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা পেয়েই আজ বাড়ি, দোকান ও মার্কেটের মালিক হয়েছে।
তাই দেশের এ সংকটকালীন সময়ে তাদেরকে ছাড় দিতে হব। অবশ্য সোসাল মিডিয়ায় অবগত হওয়া যায় যে, কেহ কেহ ইতোমধ্যে ভাড়াটিয়াদের বাড়ী ভাড়া মওকূফ করার ঘোষণা দিয়েছে। যারা দিয়েছেন, তাদেরকে এ মহান কাজের জন্য ধন্যবাদ। বাকিদেরকেও তাদের নিকট হতে শিক্ষা নেয়ার অনুরোধ জানাই। যদি কোন বাড়ীর মালিক, দোকান মালিক, মার্কেট কর্তৃপক্ষ তা না করে, তবে সরকার আইন করে তা করতে বাধ্য করতে পারে।
মালিক সম্প্রাদায়ের জানা উচিৎ যে, এ সকল ব্যবসায়ী সমাজ না থাকলে বাড়ী ও দোকান মূল্যহীন এবং এরা টিকে না থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বাড়ী, দোকান বা মার্কেট ভাড়া দেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না- এটা তাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে। পাশাপাশি সরকার ভর্তুকি হিসাবে ব্যবসায়ী ভাড়াটিয়াদের সকল পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দিতে পারে। সরকার অনুৎপাদনশীল ও ফ্যাশনেবল খাতে ব্যয় হ্রাস করে এসব খাতে তা সমন্বয় করতে পারে।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা এদেশের জন্য প্রাণ দিয়ে গেছে এবং প্রায় ৩ লক্ষ্ মা -বোনদের ইজ্জত লুন্ঠিত হয়েছে। তাদের আত্বত্যাগে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। স্বাধীন দেশের সরকারের সুযোগ সুবিধা পেয়ে আজ আমরা সরকারের উচ্চ পদে চাকুরী করছি, প্রবাসে পড়ালেখার সুযোগ পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি, আমাদের নিজ নিজ অবস্থানের উন্নতিসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছি এবং হচ্ছি, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছি, লক্ষ লক্ষ লোক কোটিপতি হয়েছি, কোন পরাধীন দেশের নাগরিকদের পক্ষে যা কল্পনাতীত।
আজ ইচ্ছে করলেও আমরা মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবো না, তাদের মত দেশের জন্য জীবন দেওয়ার সুযোগও নাই, তাই জাতির এই ক্লান্তিকালে সুযোগ এসেছে অবস্থাপূর্ণ নাগরিকদের সম্পদের কিয়ৎদংশ দেশের মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, বস্ত্র সেবায় উৎসর্গ করার। আশা রাখি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং দেশবাসীর আসন্ন খাদ্যসহ আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সবাই এগিয়ে আসবে।
সর্বশেষ বলব দেশের সংকটময় সময়ই বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী ও বিপথগামীরা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠে – সে দিকে অবশ্যই আইন শৃঙ্খলা বাহিণীকে সর্বদা সর্তক দৃষ্টি রাখা জরুরী। দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীকে দেশ সেবার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জন নিরাপত্তা আরোপে সর্বদা সজাগ থাকা প্রয়োজন।