06/04/2026
অভিভাবক হিসেবে জীবিত থাকা অবস্থায় কিছু কাজ করে যাবেন।
১। বাড়ি এই যুগে কখনো বিশাল করে বানাবেন না। বাড়ির থেকে ফ্ল্যাটকে প্রাধান্য দিবেন। বিশাল বড় বাড়ি বানাবেন সেই বাড়িতে সবাই একসাথে থাকবে এই চিন্তাধারা থেকে বের হন। কারণ, সন্তানরা বড় হলে সেই বিশাল বড় বাড়ি একটা সময় ভূতের বাড়ি মনে হবে। কেউ চলে যাবে পড়াশোনার খাতিরে দূর দেশে, কেউ চান্স পাবে পাবলিকে, মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে। সবাই একসাথে থাকার জন্য বাড়ি বানালে দেখবেন সন্তানদের মাঝে বড় ডিস্পিউট হবে।
২। পরিবারের কে কি পাবে চুপচাপ তার খসরা বানিয়ে রেখে যাবেন। নইলে আপনি মারা গেলে দেখবেন দাফন থামিয়ে দিয়ে সবাই ভাগাভাগিতে বসবে। সম্পদ বাড়ার সাথে সাথেই খসরা বদলাবেন। সব সময় ভাববেন আজ ই শেষ দিন। এইটা ভেবে খসরা বানিয়ে যাবেন।
৩। ধরেন আপনার চার সন্তান। সম্ভব হলে পাচটা ফ্ল্যাট কিনুন বা বাড়ি বানালেও চারটা ফ্ল্যাট পাশাপাশি কিনুন কিংবা উপরে নিচের ফ্লোরে কিনুন চারটা। সন্তানদের সাথে একত্রে থাকার মেন্টালিটি বাদ দিয়ে দিন। এক ঘরে না থেকে একি ভবনে থাকবেন এইটা করুন। ছেলে বিয়ে দিয়েছেন যার বিয়ে হলো ভদ্রলোকের মত তাকে একটা ফ্ল্যাটে শিফট করে দিবেন। এইভাবে চারজনকে ৪ টা ফ্ল্যাটে শিফট করেন। ভদ্রলোকের মত নিজে ওয়াইফের সাথে পাঁচ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকুন। সন্তানদের নিজে থেকে আলাদা করবেন। তাদের যেন বলতে না হয়। এর ফলে কলহ কম হবে। বিবাদ কম হবে। সবার বিয়ে হয়ে গেলেও সুসম্পর্ক থাকবে।
৪। ব্যাংকে যেসব অ্যাসেট আছে সেগুলিও কে কত পাবে এইসবের খসরা বানিয়ে রাখুন।
৫। মনে রাখবেন কেয়ারলেস হলে পরের প্রজন্মদের মাঝে সম্পর্ক নস্ট হবে। তারা ওসবের জন্য শত্রুতে রুপান্তর হবে যা আপনার কস্ট করে বানাবো। তাদের কস্ট করে নয়। তাদের জিরো ইনভেস্টের প্রোপার্টির জন্য শুরু হবে কুরুক্ষেত্র। আমার সন্তানরা এমন হবে না। এইসব মান্ধাতা আমলের চিন্তা থেকে বের হন।
৬। যে সন্তান আলাদা হতে চাইবে এক মিনিটও দেড়ি করবেন না। সাথে সাথে আলাদা করে দিবেন। কাউকে আকড়িয়ে ধরতে চাইবেন না। এইটা ভাববেন না যে সম্পদ নস্ট করবে। যা খুশি তাই করুক। ভদ্রলোকের মত আলাদা করে দিবেন।
৭। অভিভাবক হিসেবে ইমোশনাল হওয়া যাবে না। খুব প্র্যাক্টিক্যাল থাকবেন। স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরবেন, ফিরবেন, ভাল পোশাক পরবেন, লাক্সারিতে কাটাবেন। সন্তানদের শুধু উচ্চশিক্ষিত বানাবেন। আয়ু যদি ভাগ্যক্রমে অনেক বেশি হয়ে যায়। শেষ বয়সে সন্তানদের ভরসায় থাকার রিস্ক নিবেন না। ভদ্রলোকের মত নিজের জন্য আর ওয়াইফের প্রচুর ক্যাশ রেখে দিবেন ব্যাংকে। যা সন্তানরা জানবেই না। সন্তানের ভরসায় থাকবেন এই চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিন।
৮। যারা চান না সন্তানরা সম্পদ বিক্রি করে নস্ট করুক তাহলে সম্পদ গুলি একটা ট্রাস্টের আন্ডারে নিয়ে আসবেন। আপনার সন্তানরা ভোগ করতে পারবে কিন্তু বিক্রি করতে পারবে না। নাতি থেকে শুরু করে পরের প্রজন্ম শুধু ভোগ ই করতে পারবে। কেউ বিক্রি করতে পারবে না।
৯। সন্তানদের আঠারো বছর হয়ে গেলে ধীরে ধীরে মুক্ত করে দিন। তাদের অতিসুখে রাখা বন্ধ করে দিন। টিউসন ফি দিবেন আর বলবেন বাকি খরচ আয় করে জোগাড় করো। হার্টলেস ভাবুক যাই ভাবুক করেন। সন্তানদের বিয়ে কেন নিজের খরচে দিবেন? তারা নিজের খরচে বিয়ে করবে। ১৮ হলেই টিউসন ফি বাদে পকেট মানি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিন। এর ফলে কম বয়স থেকেই টাকা কামাই করা শিখবে। এইটা করলেই বুঝে যাবে জীবনের আঠারো বছর বাপ মা কি কি করেছে। নইলে বুঝবে না। যারা কম বয়স থেকে কামাইয়ে নামে দেখবেন বাপ মায়ের প্রতি প্রচুর ভক্তি থাকে। বাস্তবতা বুঝে যায়। ১৮ বছর হয়ে গেলে সন্তানদের জীবনে যা যা ঘটবে এর দ্বায়ভার তাদের। ১৮ হয়ে গেলে অতিরিক্ত বারডেন নেওয়া যাবে না তাদের নিয়ে। যার জীবন তার দ্বায়। ৮ নাম্বার পয়েন্ট খুব কাজে আসে। অমানুষ হলেও সম্পদ নস্ট করতে পারবে না ট্রাস্টের আন্ডারে সব সম্পদ রেখে গেলে। সন্তান জুয়ারি হোক, নেশাবাজ হোক, যা খুশি তাই হোক আপনার সম্পদ নস্ট হবে না। নিজের মেন্টাল হেলথ আগে। টিপিক্যাল অতি আবেগী মা বাবা হওয়া বাদ দেন। আল্লাহ একটা জিনিস বলেছেন উনি ছাড়া কারোর মুখাপেক্ষী না হতে। এইটা সব সময় প্রতিদিন মনে করবেন।
Mobasser hossain Muid