20/08/2026
যারা বাচ্চাদের নিয়ে উমরাহ বা হজ্জ করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য বলছি পুরোপুরি প্রিপেরেশন ছাড়া আসবেন না।
১. মদিনা আর মক্কা কিছু বিষয় ভিন্ন। যেমন মদিনাতে মক্কার তুলনায় যথেষ্ট গরম- বেশিরভাগ বাচ্চা এই গরম সহ্য করতে পারে না। মদিনা আমি দিন রাত যখন ই পেরেছি জামায়াতে নামাজ পড়েছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি-এখানে বাচ্চারা টেনট্রাম করেছে গরম এর কারনে। রাতের বেলায়ও গরমে কমতি নেই। ফ্লোর গরম থাকে। এজন্য যখন ই মসজিদে বসবেন , খেয়াল রাখবেন ছায়ার মধ্যে বসার। পারলে সাথে ২-৩ টা মোটা জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। এটা আপনার কি পরিমাণ কাজে আসবে নিজে আসলে বুঝবেন। বাচ্চার মায়েদের বলবো যোহরের নামাজ হোটেলে পড়তে। আর রাতে ১০-১১ টার পর আসতে। এই সময় বাচ্চারা প্রফুল্ল থাকে, মসজিদে স্পেস থাকে যার কারনে আরামসে দৌড়াদৌড়ি করতে পারে। আর যদি বাচ্চার ঘুমও আসে বাচ্চাকে জায়নামাজে শুয়ে দিয়ে আরামসে নামাজ পড়তে পারবেন, তেলওয়াতও করতে পারবেন।
২.মক্কাতে গরম না থাকলেও মানুষ বেশি, কিন্তু মদিনার তুলনায় বেশি হাটটে হয়। এই ক্ষেত্রে আপনি স্ট্রোলার রাখতে পারেন। হেন্ডবেল্ট রাখতে পারেন। কিন্তু অনেক বাচ্চাদের এগুলো দিয়েও কাজে আসে না। এই ক্ষেত্রে আপনার সময় বুঝে আসতে হবে। সেখানে হাউজকিপার থেকে আপডেট নিতে পারেন যে মানুষ কখন কম থাকে। মক্কাতে আমি বাচ্চাদের টেনট্রাম করতে তুলনামূলকভাবে কম দেখেছি। ভিতরে অনেক জায়গা পাবেন,যেখানে আপনি বাচ্চাকে নিয়ে ২-৩ ঘন্টা আরামসে কাটাতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনার ওয়াক্তের আগে ১ ঘন্টা আগে আসতে হবে ,না হলে মনের মতো জায়গা পেতে কস্ট হবে। চেস্টা করবেন, গিলাফ এর আশেপাশে বা নিচে জায়গা নেওয়ার।
৩. যতটুকু পারেন ,বাচ্চার জন্য বিস্কুট কেক , ড্রাই ফুডস এগুলো দেশ থেকে নিয়ে আসবেন। হোমমেড খাবার হলে আরও বেশি ভালো হয়। বাইরের প্যাকেজিং খাবার টানা খেলে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আপনার অজস্র সামথ্য থাকে, এখানে থেকেও কিনে খেতে পারবেন।
৪. এখানে অনেক বাচ্চা স্ট্রলার বা হেন্ডবেল্ট দিয়ে থাকছে না। এই ক্ষেত্রে আপনারা মা বাবারা টাইমিং ভাগ করে নিতে পারেন বাচ্চা দেখাশোনার। শুধু জামায়াত বাদে আপনারা তাওয়াফে আর এক্সট্রা নফল আমল নিজের সুবিধা মতো ভাগ করে নিতে পারেন।জামায়াত নামায সময় অনেক বাচ্চা শান্ত থাকে না।এই ক্ষেত্রে আলাদা ছোট ছোট খেলনা নিতে পারেন।
৫. বাচ্চাদের তাওয়াফ করানোর ইচ্ছে থাকে অনেক মাবাবার। বাচ্চা ছোট হলে কোলে নিয়ে করানো যায়। তবে বড় হলে একটু কস্ট হয়ে যায়। আপনি যদি স্ট্রলারে করাতে চান,এই ক্ষেত্রে উপরের ফ্লোর গুলোতে করাতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে আপনার অনেক সময় লাগবে যেহেতু স্পেস বড়।কিন্তু আমার কাছে যদি সাজেশন চান, আমি বলবো বাচ্চাদের বেশি তাওয়াফ ইনভলভ না করাতে যদি আপনি স্ট্রলার ব্যবহার না করেন। কেননা বাচ্চাদের এতো হাটার অভ্যাস নেই। ফলাফল বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাচ্চা নিয়ে বেশি বেশি নফল তাওয়াফ করা আপনার শরীর এর অনেকটা কষ্টকর হয়ে যাবে আপনার। এর পরিবতে আপনি বাচ্চাদের জন্য বেশি বেশি দুয়া করেন।
৬. বাচ্চা নিয়ে বারবার কাবা শরীফ আসা যাওয়া থেকে ভালো হয় আপনি বেশি সময় সেখানে সময় কাটানো। আসা যাওয়াতে তে এনাজিটা যায় সেটা অনেকটা কন্ট্রোলে আনতে পারবেন। কিন্তু মদিনাতে বাচ্চা নিয়ে বেশি সময় থাকতে পারবেন না। কেন নিজে গেলে বুঝবেন। এই ক্ষেত্রে ওয়াশরুম কাছে আছে এমন জায়গায় বসতে পারেন। পাশাপাশি আপনি বাচ্চাদের জন্য পযাপ্ত খাবার আর যমযম এর পানি রাখবেন বোতলে।
৭. এটা একটা পারসোনাল পরামর্শ ,যদি আপনি বেশি বেশি ইবাদতে শামিল হতে চান, রাস্তা গুলো চিনে রাখবেন আর একা আসা যাওয়া করবেন। এতে করে বাচ্চা বেশিভাগ সময় হোটেলে থাকবে। এক সাথে সবাই গেলে আপনি ইবাদতে বেশি সময় দিতে পারবেন না, পাশাপাশি মনোযোগও দিতে পারবেন না। একা একা নিজেই চলাফেরা করতে পারলে বাচ্চা ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ আপনি হোটেলে থাকলেন আবার কিছুক্ষণ বাচ্চার বাবা।
৮. আপনারা যারা বাচ্চা নিয়ে ফরজ উমরাহ করবেন, বাচ্চা যদি হেটে পুরো উমরাহ করে তাহলে খেয়াল করবেন যে বাচ্চা মিনিমাম ২-৩ দিন বিশ্রামে থাকে, বেশি হাটাহাটি যেন না করে। বাচ্চাদের এতো হাটার অভ্যাস থাকে না। দেখা যাবে, অতিরিক্ত হাটাহাটি আর বিশ্রাম এর অভাবে বাচ্চার গায়ে জর চলে আসে। যেদিন ফরজ উমরাহ বা তাওয়াফ করাবেন - বাচ্চার জর আসুক না আসুক খেয়াল করে নাপা খাইয়ে দিবেন।
৯. এখানে মেডিসিন ২০-২৫ রিয়েল এর নিচে নেই, তার উপর বাচ্চাকে সুট করে কিনা সেটা বিষয়। এই ক্ষেত্রে আপনি বাচ্চার জন্য এক্সট্রা মেডিসিন নিয়ে আসবেন।
১০. এখানে এসে যেটা দেখেছি বেশিরভাগ বাচ্চার ইহরাম সেলাই করানো। যার কারনে বাচ্চারা কমফোর্টলি হাটাহাটি দৌড়াদৌড়ি করতে পারছে। এদিকে আমার বাচ্চা দুষ্টমির ছলে বারবার খুলে ফেলছিলো।
১১. এখানে ঠোঁট থেকে শুরু করে গায়ের স্কিন, পায়ের তালু ফেটে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি ফাটে। অনেক সময় রক্ত বের হয়ে যায়।বাচ্চাদের কালো বা গাড় রংগের কাপড় দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।আমার অভিজ্ঞতা মতে মনে হলো পাতলা কাপড় আরও তাড়াতাড়ি রোদের তাপ প্রভাব দেয়। সিউর না এই বিষয়ে। প্রতিটি নিয়মিত ৩-৪ বার ভেজলিন আর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিবেন বাচ্চাকে। এমনি কি পায়ের তালু বাদ রাখবেন না।
১৩. বাচ্চার জন্য দুই ডিজাইন এর সেন্ডেল রাখবেন। কারনে এক সেন্ডেল টানা পড়তে পড়তে পায়ের চামড়া ছিড়ে যায়।
১৪. মক্কা আর মদিনার আবহাওয়া অনেক বাচ্চা সুট করবে না। বিশেষ করে সাইনিস আর এডোনিয়েট আছে এমন বাচ্চাদের। এই ক্ষেত্রে বাচ্চাদের মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন -রাস্তায় হাটাচলার সময় যেহেতু হোটেল গুলো কাছে হয় না পাশাপাশি মসজিদ গেইটে অনেক হাটাহাটি করতে হয়।
১৫. রওযা মুবারক আর রিয়াজুল জান্নাহ এর ছেলে মেয়েদের সময় এক না। যদি কাফেলার আন্ডারে যান, তাহলে উনারাই আপনাদের নিয়ম করে নেওয়া যাবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে সব সময় রওজা মোবারক যেতে পারবেন বিশেষ করে রাত ১২ টার পর গেইট খোলা থাকে, আর মেয়েদের ক্ষেত্রে সকাল ৬ টার পর। বাকী মেয়েরা নিজেদের মতো যেতে চাইলে নাসুক এপ এর মাধ্যমে স্লড নিতে হবে।
১৬. হাতিমে নামায এর ক্ষেত্রেও ছেলে মেয়েদের সময় ভিন্ন। মেয়েদের ক্ষেত্রে সকাল ৭ টা থেকে আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এশারের পর থেকে। মাঝে মাঝে সময় পরিবর্তনও হয়। তবে এই নামাজ যেহেতু এশারের পর হয়, তাই রাতে বাচ্চাদের নিয়ে নিশ্চিন্তে বসতে পারবেন সারারাত। তবে মনে রাখবেন মেয়েদের হাতিমে নামায পড়তে হলে তাহাজ্জুদ এর টাইমে আল ফাতেহ গেইটে ঢুকতে হবে, ৩-৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।সে ক্ষেত্রে সেইভাবে প্রিপারেশন নিয়ে যাবেন।
আপাতত এগুলো মনে আছে। আর গুলো মনে পড়লে এডিট করে দিবো।