25/08/2024
বাংলাদেশে সোলার প্যানেল স্থানান্তর করতে চীনের প্রতি আহ্বান ড. ইউনূসের
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০২:৫৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনকে সে দেশের কয়েকটি সোলার প্যানেল কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বেইজিং এবং ঢাকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, চীন সোলার প্যানেলের অন্যতম বৃহত্তম প্রস্তুতকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, কিন্তু দেশটি ক্রমবর্ধমানভাবে রপ্তানি বাজারে বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে।
ড. ইউনূস বলেন, চীনা প্রস্তুতকারীরা তাদের সোলার প্যানেল কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারে, যা বাংলাদেশকে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে এবং সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।
তিনি চীনের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা এবং কৃষিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বানও জানান।
ইয়াও ওয়েন চীনের নেতৃত্ব এবং জনগণের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বেইজিং ঢাকার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। আমি আশা করি প্রধান উপদেষ্টা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করবেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি চীন এবং বাংলাদেশ উভয়ের সম্পর্ককে সমগ্র কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত করেছে এবং উভয় দেশ আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আশা করেন, চীন এক ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগণের জন্য রাজনৈতিক, আর্থিক এবং মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা চীনে তার স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনূস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং অনেক তরুণ তিন শূন্য ক্লাব গঠন করেছে; যার সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তনে শূন্য, সম্পদ সঞ্চালনে শূন্য এবং বেকারত্বে শূন্য- অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে যুব থেকে যুব সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সংযোগের ওপর জোর দেন।