03/02/2017
ক্যরিয়ার #ক #খ #গ (প্রশ্নের জট ও ভুল ভ্রান্তি) #পর্ব-২
সেই ছেলেবেলা, যখন থেকে মনেপরে, আত্মীয়, প্রতিবেশী বাবা মা সবাই একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে জিজ্ঞশ করতো, বুঝে ওঠার আগে থেকে শুনে আশা একি প্রশ্ন এখনো শুনি আমরা।
সহজ নির্দোষ প্রশ্ন “ বর হয়ে কি হবে বাবু ?”
মজার বেপার হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে প্রশ্নের উত্তর দেয়া টা আমাদের কারো কারো জন্য, ভুল বল্লাম, আমাদের বেশীর ভাগের জন্যেই ততই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ভাবুন তো ছোট বেলার সেই আপনাকে যখন জিজ্ঞাস করা হত “বর হয়ে কি হবে বাবু”
আপনি এক নিমিষেই বলে দিতেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,নাপিত, দোকানদার, মাছ ওয়ালা আরও কত কিছু… !
যন্ত্রপাতি জোগার করে কখনো ঘরের মানুষের সেবা করেছেন ডাক্তার হয়ে, কখনো বা গারি ঠিক করেছেন, কখনো নাপিত হয়ে মায়ের চুল কাটতে গেছেন। আর আমি তো ফেরিওয়ালা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে দিন কাটাতাম। আমাদের কারোরই পরিবার আর আত্তিয়দের উৎসাহের অভাব হয়নি কখনো!!
কি অদ্ভুত সুন্দর ছিলো সেই দিন গূলো!!
যত দিন যায় আমরা বর হই, জীবন সম্পর্কে জানতে থাকি, ততই সপ্ন গুলো আমাদের কাছে কঠিন আর অপ্রিয় হয়ে ওঠে, আমরা নুতন কিছু খুজি, সহজ কিছু বা এক্সাইটিং কিছু। স্কুলে, ক্লাস ফাইভ সিক্স থেকে প্রশ্ন টা আমাদের কাছে কঠিন হওয়া শুরু করে, কলেজ ভর্তির সময় নাগাদ সহজ প্রশ্ন টা আমাদের কাছে খুব অপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে, আর উত্তর গুলো কেমন জানি ক্লুলেস হতে থাকে।
কলেজ ফাইনাল দেয়ার সময় নাগাদ বা ভর্তি পরিক্ষার আগ মুহূর্তে কোন মতে একটা উত্তর আমরা খুজে পাই (সবাই না কেউ কেউ) শুরু হয় ভর্তি যুদ্ধ, ভুল বল্লাম ভর্তি যাত্রা (আমি যুদ্ধে বিশ্বাসী নই)।
“বড় হয়ে কি হবে”এই একটা প্রশ্ন দিন দিন কঠিন থেকে কঠিন তর হয়ে ওঠে আমাদের কাছে । ভুল বুঝবেন না, আমি সবার কথা বলছি না, আমি জানি অনেকের কাছেই এই প্রশ্নটা তখন ও যেমন প্রিয় ছিলো, আজ বড় কোম্পানি তে বড় পজিশনে চাকরি করছেন বা ব্যবসা, এখনো একিরকম ভালো লাগে বলতে।
আমি তাদের কথা বলছি যারা আমার মতো ফেরিওয়ালা হতে চেয়ে নানা ঘাট ঘুরে আজ কোন এক ঘাটে এসে ঠেকেছেন।
এবং আজ তাদের কথা বলব যারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়ে কমার্স বা মানবিক বেকগ্রাউন্ডে পরে অথবা ব্যবসাহি হতে চেয়ে সাইন্স বেকগ্রাউন্ডে পরে আজ ইচ্ছে মত ইউনিভার্সিটি তে এডমিশন নিতে না পেরে সহজ প্রশ্নের উত্তর টা জটিল করে জীবনে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন।
একটু খেয়াল করলে দেখবেন আজকের দিনে যারা মোটামোটি সুখি জীবন কাটাচ্ছে তাদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর টা সহজ, আর যারা কঠিন সময় এর ভিতর দিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর টা কঠিন। ভিন্ন ভাবে বলতে গেলে যারা এই প্রশ্নের উত্তর টা সহজে দিতে পারে, যারা জানে কি হতে বা করতে চায় তারা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ভালই আছে, আর যারা উত্তর টা জানে না, বা যাদের উত্তর টা ঝাপসা তারা তুলনা মুলক কম সুখে আছে।
#হিউমেন_নেচার_এর_একটা_মজার_তথ্য দেই, আমরা যখন কোন কিছু ভয় পাই, বা কঠিন মনে করি তখন এটাকে সহজ বা আলোকিত না করে সেখান থেকে দূরে থাকতে কমফোরট ফিল করি।
উদাহরন দেই, অনেকেই সন্ধার পর জঙ্গল বা বর গাছ ভয়পাই এবং ওখান থেকে দূরে থাকাই আরাম বোধ করি। কখনো গিয়ে দেখিনা ওখানে আসলেই ভূত আছে কিনা। সমস্যা টা হয় কি জানেন? গাছের নিচে যাই না ঠিক আছে, কিন্ত মনের ভিতর কিন্তু ওই অন্ধকারের ভুতটা থেকে যায়, আর সেই ভুত আপনি জঙ্গলে না গেলেও একসময় ঘরের ভেতরেই প্রবেশ করে মনের দরজা দিয়ে।
অর্থাৎ জীবন আমাদের পালিয়ে থাকতে দেয় না, দুর্বল যায়গায় বার বার আঘাত হানে।
সে কারনেই কেরিয়ার কি হবে বা কি হতে চাই এর উত্তর আমাদের যত কঠিন মনে হয় আমরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করি, ভাবতে থাকি যা হবার হবে। আর আমরা যতই মুখফেরাই, এই প্রশ্নটা ততই জীবনের সবচেয়ে বর আর কমন প্রশ্ন হতে থাক।
পাঠক হয়তো ভাবছেন এই টুকু তো জানি কিন্তু উত্তরনের উপায় কি?
উত্তরনএর উপায় আলোচনা করার আগে একটা কথা বলতে চাই, যা হয়তো বোমার মত ফাটবে, অনেকের কানে তালা লেগেযাবে কিন্তু এটাই সত্য আর এই সত্য যতদিন আমরা সামনা সামনি কাছা কাছি থেকে না দেখব , তত দিন জীবন টা কঠিনই থেকে যাবে।
কথা টা হচ্ছে, ছেলেবেলা থেকে শুনে আশা সেই প্রশ্ন টা, সেই প্রশ্ন টাই
আসলে ভুল ছিলো, “বর হয়ে কি হতে চাও” এটা একটা ভয়াবহ ভুল প্রশ্ন আর সাভাবিক কারনেই যারা এই ভুল প্রশ্নটা সঠিক প্রশ্নে রুপান্তর করতে পারেনা তাদের উত্তর গুল স্বাভাবিক কারনেই বার বার ভুল হুয়ে যাচ্ছে, যাবে।
সঠিক প্রশ্ন টা হচ্ছে, “তুমি বর হয়ে কি করতে চাও”
দেখুন হতে চাওয়া আর করতে চাওয়ার মাঝে সুক্ষ কিন্তু আসমান জমিন পার্থক্য।
আমরা হতে চাই নিজের জন্য, এটা কোন কিছু পাওয়া বোঝায়, আর করতে চাওয়া টা পরের (পরিবার, সমাজ ,দেশ) জন্য এখানে কিছু দেয়া বোঝায়।
হতে চাওয়ায় অপশন অনেক কমে যায়, ছোট হয়ে আসে চিন্তার আঁকাস, জীবন টা মনে হয় প্রতিজোগিতা। বিশাল প্রতিযোগিতায় নিজেকে মনে হয় অনেক খুদ্র।
আর করতে চাওয়ায় বেরে যায় অপশন, জীবনটা মনে হয় মুল্যবান, প্রতিযোগীদের মনে হয় সহযোগী, আর বিশাল ইচ্ছাসক্তির কাছে সব কিছুই মনে হয় সম্ভব। বারে আত্যবিশ্বাস ।
করতে চাওয়া কাজ বোঝায়, কিছু করা বোঝায় অর্থাৎ যে দেশের সেবা করতে চায় পাইলট হয়ে তার মাথায় থাকবে কিছু কাজ, যে কাজ গুলো কে
আমরা সেবা বলছি, সে একসময় খুজবে আরও কি করা যায়, বা অন্য কিভাবে আর ও বেশি ভাল কিছু (দেশসেবা) করা যায় কারন তার ফোকাস দেশ, সমাজ বা পরিবার কে কিছু দেয়ায়, কিছু পাওয়ায় না। সে ইয়ারফোরস এ চান্স না পেলে মুখথুব্রে না পরে পরদিনই অন্য পথে হাটা শুরু করবে কারন তার লক্ষ কিছু দেয়ার আর দেয়ার অপশন অগনিত ।
আর যে পাইলট হতে চায় কিছু হওয়ার জন্য সে কল্পনায় দেখে বিমানে ওরার ছবি, সে ইয়ারফোরস এ চান্স না পেলে মুখথুব্রে পরবে অন্তত আগের ছেলেটার/মেয়েটার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য। কারন তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে! বিশাল কিছু পাওয়ার স্বপ্ন (কোন একদিন এই টপিকিএ দীর্ঘ আলোচনা করব)।
এবার আপনি বলুন কার জীবন টা সুন্দর হবে যে কিছু হতে চায় নাকি যে কিছু করতে চায়? কে বেশি দূর আগাবে জীবনে, কার কোন কিছু হারানোর ভয় থাকবে না যে পাবার সপ্ন নিয়ে বর হয়েছে নাকি যে দেওয়ার সপ্নে ?
পরবর্তী লেখা গুলোয় আলোচনা করব কি করে কিছু দেয়ার স্বপ্ন আমাদের সেখানে নিয়ে যেতে পারে যেখানে আমাদের স্বপ্ন ও যায়নি কখনো!
সাথেই থাকুন!