30/04/2025
অবিলম্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হোক, বড় বড় পন্ডিত লাগবেনা,সাধারণ নৈতিক জ্ঞান ও মানসমপন্ন শিক্ষিতদের নিয়ে কমিশন গঠন করা হোক, যারা একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তক, ৫১ বছরেও শিক্ষার কোন মান নির্মিত হয় নাই।…..
ইতিপুর্বে ড.খুদরত-ই -খোদা ও মনিরুজজামান শিক্ষা কমিশনসহ যতগুলা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল তার একটিও এদেশের শিক্ষার কৃষ্টি-ক্যালচারের অনুকুল ছিল না, সংগত কারনেই এর একটিও আলোর মুখ দেখেনি
———————১৩/৯/২৪————
জাতীয় শিক্ষা কমিশন প্রয়োজন:-
দরকার নৈতিকমানসমপন্ন সৃজনশীল কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা :
: 👉 আজকের সব কটা দৈনিকের মাধ্যমে জাতি জাতি জানতে পারলো যে, জাতীয় শিক্ষাক্রমে আমুল পরিবর্তন আসছে, থাকছেনা ৫ম ও ৮ম শ্রেনীতে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি - জেডিসি পরীক্ষাও, আমাদের মত উন্নয়নশীল গণতন্ত্রের শিশুকাল অতিক্রমের দেশে দলীয় সরকারের সরকারী সিদ্ধান্তে প্রতিযোগিতার অভাবে শিক্ষারথীদের তেমন ভাল ফল বয়ে আনতে সক্ষম হবেনা বলেই শিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন !
তাই স্থায়ীভাবে দরকার একটি জাতীয় শিক্ষাকমিশন।
👉 নৈতিকমানসমপন্ন সৃজনশীল মানুষ সৃষ্টির জন্য একমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন:
ঔপনিবেশিক(Colonia/المستعمرة)
আমলের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় কেরানী ও শ্রেনী সৃষ্টি হয়।
তাই এমন শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন যাতে নৈতিকমানসমপন্ন,উৎপাদনমুখী,সৃজনশীল,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণ হতে পারে।
তার জন্য প্রয়োজন হবে একটি সাংবিধানিক, স্বতন্ত্র ও স্বাধীন শিক্ষা কমিশন।
(চলবে....November 09,2021.)
👉। বিশ্বমহামারী করোনায়ভাইরাস(COVID-19) শিখিয়ে গেল যে, Virtual Education التعليم الافتراضي কিংবা দূরশিক্ষণ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সবার জন্য সহজীকরণ প্রয়োজন:
জাতীয় শিক্ষা কমিশন প্রয়োজন:-
নির্বাচন কমিশনের ন্যায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হতে হবে জাতীয় শিক্ষা কমিশন।বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান আছে যেমন-নায়েব,এডুকেশনাল ইক্যুইপমেন্ট বোর্ড,পাঠক্রম ও টেকসবুক বোর্ড,অডিট এন্ড একাউন্টস ডিরেক্টর্ট, বিশ্ববিদ্যালয় মনজুরী কমিশন,ইসলামিক এ্যরাবিক ইউনিভার্সিটি,কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, সকল শিক্ষা বোর্ড,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড,কওমী মাদ্রাসাগুলোকে সম্পুর্ণ সরকারের তত্বাবধানে নিয়ে তাদের বোর্ড,ইংলিশ মেডিয়ামসহ ইত্যাদি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্নয়ে এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট আরো বিষয় যোগ করে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবী।
মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এই রকম একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আমরা জাতি হিসাবে লজ্জাবোধ করি !
😗 সরকারী সিলেবাসে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন:
সমবৃদধশালী ভারত উপ-মহাদেশে ফরাসি, পর্তুগিজ ও বৃটিশ আগমনের পুর্বে এখানকার প্রায় সব শিক্ষাব্যবস্থা ছিল মসজিদ, মন্দির, প্রেগুডা, বৌদ্ধিবিহারসহ অন্যান্য উপাসনালয় ও ব্যক্তি কেন্দ্রীক।
১৭৫৭ সালে বৃটিশ কুচক্রী লর্ড ক্লাইভ এর প্ররোচনায় মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজুদদৌলার
পতনের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় উপ-মহাদেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর বৃটিশরা এদেশের মুসলিমদের মন জয় করার জন্য ১৭৮০ সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা, ইংরেজী মাধ্যম স্কুল ও কলেজ এবং সাধারন শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন করে বৃটিশরা।১৮৬৬ সালে হযরত কাসেম নানুতুবীর উদ্যোগে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেন কওমী ধারার উলামা হযরত।
১৯৪৭ সালে উপ-মহাদেশের স্বাধীনতা পুনরুজ্জীবন পেল।তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তান আজকের আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও আরাকানসহ বাংলা ভাষার ভিত্তিতে দেশ ভাগ না হয়ে হলো ধর্মের ভিত্তিতে।কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জনক হওয়ার স্বপ্ন আর জওহর লাল নেহেরুর ভারতের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতোনা যদি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সেই সময় কংগ্রেসের সভাপতির পদ না ছাড়তেন আর মোহন দাস করম চাঁদ মহাত্মা গান্ধীর ও নেতাজি সুবাস বসুর প্রভাব থাকতো।
কিন্ত বৃটিশ চলে গেলেও তাদের শিক্ষা ও শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন এখনো হয়নি।উপ-মহাদেশে এখনো বৃটিশ ‘ল’ চলে।১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময়ে এবং পরবর্তীতে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ দেওয়ার মাধ্যমে এবং মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে তৎকালী পুর্ব পাকিস্তান আর আজকের বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বীর-বিক্রমে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আর লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সন্মানের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।বিশ্বের অন্য কোথাও এতো স্বল্প সময়ে কোন দেশ স্বাধীনতা লাভ করতে পারেনি, এটা বাঙালীর বীরত্ব ও গর্ব।
শিক্ষাব্যবস্থায় ওয়ান সাইট এডুকেটেড কওমী শিক্ষা, ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারন বা জেনারেল শিক্ষা এই ৪ রকম ধারার শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের প্রাণ প্রিয় বাংলাদেশে চালু আছে।
সরকার দেশের শিক্ষাবিদগণের সহযোগীতায় বেশ কয়েকবার একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা উদ্যোগ নেন।মওলানা আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিটি, ড.কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ড. এম এ বারী শিক্ষা কমিশন, মাদ্রাসা সংস্কার কমিটি ও মনিরুজজামান শিক্ষা কমিশন গঠিত হলেও একটি পূর্নাঙ্গ শিক্ষানীতি বা সরকারী সিলেবাসে একই শিক্ষানীতি বা একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু হয়নি।
দেশে প্রচলিত ৪ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাই ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত সরকারী সিলেবাস অনুসরণ করে এবং সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রনে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন কিছু নয়।
দরকার সরকারী উদ্যোগে এই সব ধারার শিক্ষাবিদদের সমন্নয়ে উদার মনোভাব ও মুক্ত মনে আলোচনা করে তা বাস্তবায়ন করা।
আমাদের মনে রাখতে হব-
“The World of Globalisation. Whole World We are a Family. We Have to Changes for Peaceful World.
বিশ্বায়ন বিশ্ব। সমগ্র বিশ্ব আমরা একটি পরিবার।শান্তিময় বিশ্বের জন্য আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।
عالم العولمة. العالم كله نحن عائلة. يتعين علينا تغيير العالم السلمي.”
সংগত কারনেই এমন একটি একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা দরকার যাতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এই শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বের যে কোন দেশে নিজ নিজ বিষয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করে বাস্তব জীবনে কর্মক্ষেত্র ও সফলতার সন্ধান পায়।
👉 বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশধারা :
শিক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়ায় যুগের চাহিদানুযায়ী শিক্ষার ধারনা,বিষয়বস্তু,কারিকুলাম,শিক্ষাদান প্রক্রিয়া সময়ের আবর্তনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয় বলেই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থারও অনেক উত্তরণ ঘটেছে।
প্রাক-মুসলিম এবং মুসলিম ভারতবর্ষে শিক্ষাব্যবস্থায়ছিল :-
👉 ১/ বৈদিক শিক্ষা বা বেদ হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আলোকে ব্রাক্ষণ্য উপাসনালয়ে গুরুকেন্দ্রিক শিক্ষা।....
👉 ২/ বৌদ্ধ শিক্ষা বা গৌতম বৌদ্ধেরঅহিংসনীতির ভিত্তিতে গুরুকেন্দ্রিক মৌখিক শিক্ষা উপাসনালয়কেন্দ্রিক এবং পরে উপমহাদেশে পাল আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ।....
👉 ৩/ মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থা বা মসজিদ বা উপাসনালয়কেন্দ্রিক মক্তব,দরগাহ ও মাদ্রাসা।
মুসলিম জমিদার,লাখেরাজদার,মুসলিম ধনাঢ্য ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় এসবের পৃষ্টপোষকতা করতেন।প্রখ্যাত ধর্মীয় আলেম এ বিচক্ষণ পন্ডিতের মাধ্যমে এ শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।একসময়ে মুসলিমদের উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে বর্তমান বাংলাদেশের সোনারগাঁও এ প্রখ্যাত পন্ডিত আলেম আবু তোয়ামা কর্তৃক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।......
👉 শিক্ষা কমিশন:
ব্রিটিশ আমলে শিক্ষাব্যবস্থার দ্বারা ব্রিটিশদের চাকুরে বানানোর জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দ্বারা ১৭৯২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মোট ১১টি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল।.....
👉 পাকিস্তান আমলে ১৯৪৭ সাল হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্তও মোট ১১টি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল।.....
👉 স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা :
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশেও ১৯৭২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মোট ৭টি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হলে সর্বশেষ ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি ব্রিটিশ আমলের শিক্ষানীতি ও ড.কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের আদলে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা অনুযায়ী বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকমানসমপন্ন ও মানবিক গুণাবলিসমপন্ন আলোকিত মানুষ তৈরীর সম্ভাবনা কম বলে ঐতিহ্যবাদী শিক্ষাহিদগণ মনে করেন ! .....
মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করার পরও একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে নির্ধারিত শিক্ষানীতি অনুসারে একমুখী শিক্ষায় চলতে পারেনা, সেখানে আলাদাভাবে শুধু শিক্ষানীতি নয়,গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়,কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসা এবং ইংলিশ ম্যাডিয়াম শিক্ষার প্রতিটি উপাদান নিয়ে।......
———————————-
হাতিরঝিল,রামপুরা,ঢাকা থেকে /
কওমী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা-
ড.এম এম আবদুল হাই।
মহররম ১০,১৪৪৪
শ্রাবণ ২৫,১৪২৯
আগষ্ট ০৯,২০২২
সেপ্টেম্বর ১৩,২০২৪।
——————————————
👉 কারন PEC & JSC এখন আর থাকছে না সহ একেক সময় একেক সিদ্ধান্তে কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীরা বিভ্রান্ত হয় এবং তাদের সময় নস্ট হয় !
👉 দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রস্তাবিত-কওমী ইউনিভার্সিটির পক্ষ হতে বিনীতভাবে সংশ্লিষ্ট মহলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
(September 14,2021)
(চলবে)৫/৩/১৯ সংশোধিত পুণ:পোস্ট November 22,2021.
June 01,2022.
Re-post June 03,2023
Dr.M M Abdul Hai
from
Gulshan,Hatirjheel ,Dhaka,Bangladesh.
Address: [email protected]
Contact: +8801711528898 & +8801953514586
Facebook/ M M Abdul Hai
Facebook/ Qaumi University-proposed