09/05/2012
আওয়ামী লীগের 'সমুদ্র বিজয়' এবং তারপর ...
by Abidul Islam on Saturday, May 5, 2012 at 10:43am ·
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্য সমুদ্র সীমা নির্ধারিত হবার পর একে 'সমুদ্র বিজয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে রং-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনের শহরব্যাপী কুৎসিত প্রদর্শনী এবং তাকে বর্তমান সরকারের একক কৃতিত্ব হিসেবে জাহির করার প্রচেষ্টার সীমাহীন প্রতিযোগিতা গত এক মাসের অধিক সময়কাল থেকে আমরা লক্ষ্য করেছি। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরাও এই সুযোগে আরেকবার প্রধানমন্ত্রীর পদলেহন করে নিলেন। এখন প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, মানচিত্র অনুযায়ী নির্ধারিত অঞ্চলটি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের হলেও এর সম্ভাব্য গ্যাস সম্পদ হলো মার্কিন তেল কোম্পানি কনোকো-ফিলিপসের অধীন, যারা দশ হাজার টাকার কাজ করে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ভাউচার তৈরিতে ওস্তাদ। শুধু কনোকো-ফিলিপস নয়, এই ধরনের সব বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রকৃত খরচ অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি দেখিয়ে তা আদায় অথবা উৎপাদন খরচের অন্তর্ভূক্ত করা, অঞ্চলের অধিবাসীদের উচ্ছেদ, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট, পরিবেশ বিপর্যয়, উৎপাদন অংশিদারিত্ব চুক্তির নামে দেশীয় সম্পদ অধিক দামে সরকারকে কিনতে বাধ্য করা অথবা বিদেশে পাচারসহ আরো অনেক অপকর্মের সাথে জড়িত। এর সাথে আরো জড়িত এইসব দেশের স্থানীয় কমিশন ভোগী লুটেরার দল।
'সমুদ্র বিজয়' নিয়ে আওয়ামী লীগের ধুলো ওড়াউড়ি শেষ হয়ে গিয়ে দৃষ্টি কিছুটা পরিচ্ছন্ন হওয়ার পর এখন এই বিষয়গুলোর দিকে নজর ফেরানো প্রয়োজন। কেননা সমুদ্র সীমা নির্ধারণ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রদত্ত রায়কে একটি সরকারের 'বিজয়' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি কি কেবলই আওয়ামী লীগ আর তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবী পরিষদের অভূতপূর্ব সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ- নাকি এর পেছনে আরো গূঢ় তাৎপর্য রয়েছে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা দেশের স্বার্থেই অতীব জরুরি।
আজ বিকেলে দ্বি-পক্ষীয় 'বন্ধুত্ব' জোরদার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন, দুই দলের বাহাস মেটানো- ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয় আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'মহান' পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন। তার মতো মহান ব্যক্তিই হয় না! এদেশের সব সমস্যা সমাধানের জন্য দেবদূত হয়ে তিনি বাংলার আকাশ আলোকিত করে নেমে আসবেন- আমাদের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তাবড় তাবড় অন্যান্য নেতা-নেত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ তার 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্পে'র লোকজন আকাশের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছেন। মহান এই দেবদূত তার সম্মানে এদেশীয় প্রতিপক্ষের দেয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানালেও পরম বন্ধু 'সুশীল' 'গরীব-ত্রাতা' 'বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি' 'এদেশের ইমেজ' ডঃ ইউনুস এবং তার স্বগোত্রীয় ফজলে হোসেন আবেদের সাথে সাক্ষাৎপর্ব সারবেন। এসবের অন্তরালে মূল যেসব উদ্দেশ্য হাসিল হবে সেগুলো জনগণের দৃষ্টিগোচর যাতে না হয় সেজন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় কর্তৃপক্ষসহ মূল ধারার মিডিয়াগুলো সজাগ।