28/08/2020
উপস্থাপক
মাহমুদুল ইসলাম স্যার,
যারা বীমা পেশায় নিযুক্ত আছেন তাদের অনেকের ধারণা যারা টপ লেভেলে কাজ করছেন তারা আপনা আপনি তরতর করে উপরে উঠে গেছেন না-কি অন্য কোনো গল্প আছে। আসুন আজ আমাদের দু'জন অতিথির মূল্যবান বক্তব্য থেকে জেনে নিই।আমাদের সাথে আজ যে সম্মানিত অতিথিরা উনাদের মূল্যবান সময় দিচ্ছেন। আসলে তারা একেবারে মাঠ পর্যায় থেকে কাজ করে করে ধাপে ধাপে একের পর এক বাঁধা অতিক্রম করে আজ পর্যন্ত সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন এবং নিজেদের সফল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছেন।
'ইন্স্যুরেন্স ক্যারিয়ারে কিভাবে জিরো থেকে হিরো হয়ে উঠলেন?
মোশাররফ হোসেন স্যারঃ
আসলে আমরা যখন সাধারণত মাঠ পর্যায় কাজ করি তখন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।আমি ২০০৪ সালে মাঠ পর্যায় থেকে কাজ করা শুরু করি।তখনকার সময় আমি সাভারের বি,কে,এসফি এলাকাতে থাকতাম এলাকাটা আসলে মফস্বল এলাকা ছিল। আমি যে বাসাতে থাকতাম তার পেছনের বাসায় এক ভদ্রলোক বীমাতে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি তেমন মনোযোগ সহকারে কাজ করেনি তাই কয়েক দিন কাজ করার পর যখন বার বার বাধা সমূখীন হয় তখন হতাশ হয়ে কাজ ছেড়ে দেন। আমি যখন বীমা পেশাতে কাজটা শুরু করি একটু গুরুত্ব সহকারে নিই যাতে কাজটা ভালো করতে পারি।সে জন্য কাজটা আমি গুরুত্ব সহকারে করি। তাই প্রতিদিন কাজের শিডিউল তৈরি করে রীতি মতো কাজে বের হয়ে যেতাম। কাজে যাওয়ার সময় আমার প্রতিবেশির সামনে দিয়ে একেবারে তার জানালার পাশ দিয়ে যেতে হতো।যখন আমি ঐ বাসার পাশ দিয়ে যেতাম তখন উনারা স্বামী স্ত্রী দু'জন মিলে আমাকে নিয়ে খুব হাসি ঠাট্টা করতো বিদ্রুপ করতো আর বলতো দেখ এই ছেলেটিও কয়েক দিন দৌঁড় ঝাপ করবে তারপর যখন তেমন কোন সুবিধা করতে পারবে না তখন কাজ ছেড়ে পালাবে।আসলে বীমাতে কোন দিন ক্যারিয়ার করা যায় না।বীমা পেশায় কোন ক্যারিয়ার নেই। তাদের হাসি ঠাট্টা ও বিদ্রুপ উপেক্ষা করেও অনেকের কাছে যাচ্ছি, চেষ্টা করছি কিভাবে ভালো কিছু করা যায়, যখন লোকজনের কাছে যাই তখন উনারাও অনেকে বলতে লাগলো দেখ বাবা তুমি তো খুব ভালো ছেলে নামায রোজা কর তুমি কেন এমন পেশা বেচে নিলে আর কোন কাজ পেলেনা,এটাতো ভালো পেশা না এটা একটা ধান্দা বাজির কাজ, আরো অনেকেই অনেক কথা শুনাতে লাগলো।অন্য দিকে দেখলাম আমার বন্ধুরা অনেকে এম,এল,এম,এ কাজ করছে তারাও আমাকে উপহাস করা শুরু করলো।কি মিয়া এটা কি কাজ কর সকালে ব্যাগ একটা নিয়ে বের হও সারাদিন ঘুরো এটাতে কোন ক্যারিয়ার আছে? এই ধরনের কথা বার্তায় মাঝে মাঝে আমি হতাশায় ভুগতাম। এই সব কথাবার্তা শুনে রীতি মতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়তাম আর ভাবতাম আসলেই কি বীমা পেশায় কাজ করলে কোন দিন কি নিজের ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করতে পারব না?তারপর আমি চিন্তা করলাম বীমা পেশা সম্পর্কে আরো ভালো ভাবে জানার চেষ্টা করে দেখি বীমা কেমন ধরনের পেশা। যদি সব জানার পর গ্রহন যোগ্যতা না থাকে এটা ছেড়ে দিব। আর যদি ভালো কিছু পাওয়া যায় তাহলে ঘুরে দাঁড়াব। একটা নিজের উপর জিত চাপলো। আসলে জিতের বশবর্তী হয়ে যখন ভালো ভাবে জানতে গেলাম তখন আমি বীমা কোম্পানির বিভিন্ন সেমিনার এটেন্ড করা,বিভিন্ন ট্রেনিং করা শুরু করলাম,আমি বিভিন্ন লিটারেচার কালেক্ট করা শুরু করি, বীমা বিষয়ক পড়াশোনা শুরু করলাম। এইসব কিছু জানার জানতে পারলাম বীমা আসলে চমৎকার একটি অবাক হওয়ার মতো বিষয়। এখানে এত সুন্দর সিস্টেম, আর একটি বিশ্বব্যাপী এত সমাদৃত কনসেপ্ট এবং আমাদের দেশের জন্য মানুষের জন্য এটা একটি অর্থনৈতিক মুক্তি ও পারিবারিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তার অত্যন্ত প্রয়োজনিয় একটি বিষয়। হে কালচার গত ভাবে হয়তো তখন আমরা কিছু কিছু ব্যাপারে পিছিয়ে ছিলাম। যখন আমি বিষয়টা বুঝতে পারলাম যে,না অন্যরা আসলে যে আদলে বীমা বিষয়টাকে সবার কাছে তুলে ধরছে বা বীমাকে মানুষ যেভাবে দেখছে আসলে বিষয়টা তেমন না। তখন আমি নিজের সাথে নিজে ওয়াদা বদ্ধ হই,যে যা-ই বলুক, যতই বাধা দিক,ঠাট্টা করুক,বিদ্রুপ করুক, তারপরও আমি আমার কর্মে অটুট থাকবো এবং আমি আমার কর্মের মধ্যে দিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করবো যদি সিরিয়াসলি কাজ করি,সততার মধ্যে দিয়ে কাজ করি, আমরা গ্রাহকদের ভালো সেবা দিতে পারি গ্রাহকদের কাছে গ্রহন যোগ্যতা বাড়াতে পারি।তাহলে এই পেশাতেই ভালো ক্যারিয়ার আশা করতে পারি। তারপর থেকে মনোযোগ সহকারে কাজ করা শুরু করি। তখন প্রথম এক বছর বিভিন্ন সমস্যা ও বিদ্রুপের মধ্যে দিয়ে কাজ করি মাঝে মধ্যে খুব হতাশাও কাজ করতো। আসলে প্রথম দিকে তো আমি ছাত্র অবস্থায় ছিলাম আবার সবার কাছে নতুন মুখ ছিলাম তাই সবাইকে কনভিন্স করতে পারতাম না। আসলে প্রথম দিকেতো মানুষ দেখতে চাইতো আমি এই পেশাতে নিজেকে কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারি।তখন আবার ছাত্র অবস্থায় তেমনটা ভালো আয়ও আসতো না।তাই সব মিলে বিভিন্ন কারণে হতাশা কাজ করতো মনে হতো দূর কিসের জন্য যে বীমাতে কাজ করছি তার চাইতে তো আমার টিউশন ভালো ছিল। তারপরও নিজেকে যখন কনফিডেন্সলি করে তৈরি করলাম, না আসলে আমি যদি নিজের একনিষ্ঠ পরিশ্রম, সততা ও নিয়মাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে বীমা পেশায় ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারব। তখন মনযোগ সহকারে কাজ করতে শুরু করি। এইদিকে ততদিনে সবার কাছে আমার একটা গ্রহন যোগ্যতা তৈরি হয়ে গেলো।এর পাশাপাশি আমি টিম ওয়ার্কটাও ভালো ভাবে শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এরপর থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মোটামুটি ২০০৪ সাল থেকে ২০০৫ সালের শেষের দিকে ভালো করতে শুরু করি। তখন কার সময় আমার একটা বাইসাইকেল ছিল সেটা দিয়ে আমি ফিল্ড ওয়ার্ক করতাম। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর ২০০৬ সালের দিকে কোম্পানি প্রদত্ত টার্গেট পূরণ করে তখনকার সময়ের 80 cc এর একটি মোটরসাইকেল একসেপ্ট করি,এর পরের বছর 100 ccএর একটি মোটরসাইকেল একসেপ্ট করি, তৃতীয়বারে আমি 125 cc এর মোটরসাইকেল একসেপ্ট করি। ততদিনে আরো ভালো ও নির্ভর যোগ্য একটি টিম তৈরি করে ফেলেছি। অন্য দিকে আমার যে প্রতিবেশীরা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপে মেতে থাকতো তারাও আমার সহযোগী হয়ে গেল। এই ভাবে সবার কাছে আমার একটা গ্রহন যোগ্যতা তৈরি হয়ে গেল। মনে পড়লো আমরা বিভিন্ন ট্রেনিংএ শুনি এসেছি আপনার যখন সফলতা আসবে তখন দেখবেন আপনাকে যারা একসময় হেয় প্রতিপণ্য করেছিলো তারাই আপনাকে জয়ের মালা দিয়ে বরণ করে নিবে।এই কথা গুলি উপলব্ধি করতে থাকি।সব কিছু মিলে তখন নিজের উপর কনফিডেন্স বাড়তে থাকে। এ-থেকে কয়েক বছরের মধ্যে প্রাইভেট কার একসেপ্ট করি। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসি তাদের মধ্যে তেমন কারো প্রাইভেট কারে চড়ার মতো এক্সপিরিয়ান্স ছিলোনা। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমি আমার পরিবারে প্রথম প্রাইভেট কার ব্যবহার করার মতো যোগ্যতা অর্জন করি। সেই সুযোগটা আমি শুধুমাত্র পেরেছি বীমাতে কাজ করার কারনে।আর এই অর্জেনে পেছনে যারা ছিলেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ঐ সময় যারা আমার গ্রাহক হয়েছিলেন এবং যারা আমার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। আমি আগেই বলেছি আমি যখন কাজ শুরু করি তখন আমি H.S.Cপাস করি।বীমায় কাজ করার পাশাপাশি আমি গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি।সাধারণত সবাই গ্র্যাজুয়েশন করার পর কাজ খুঁজেন সেই ভাবেই আমার অনেক বন্ধুরা চাকুরী খুজতেছে।কেহ কেহ পেয়েছে আবার অনেকই পাইনি। কিন্তু আমি যেহেতু লেখা পড়ার পাশাপাশি বীমা পেশায় কাজ করছি সেই কারণে তখনি আমি প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করার মতো যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছি এবং ক্যারিয়ারের দিক দিয়ে অনেকটা সফল।তখনকার সময়টাতেই আমি প্রতিমাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করি।সেটা সেই সময়ের জন্য কিন্তু অনেক বড়ো পাওয়া।আমার বন্ধুদের কাছে কিন্তু এটা অনেকটা অবাক হওয়ার মতো বিষয় ছিল। এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছিল বীমাতে কাজ করার কারনে।
"আমি একটা কথাই বলতে পারি একমাত্র বীমা পেশায় কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে নিজের স্বপ্ন পূরণ ও ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব"
তো আপনারা যারা বীমাতে কাজ করছেন বা নতুন যারা বীমাতে কাজ করবেন বলে ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্য বলবো কোন কাজই ফুল বিছানো না সেখানে কাঁটাও আছে। আমরা যদি বাঁধা বিপত্তিকে ধৈর্য্য সহকারে মনোযোগের মধ্যে দিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে এই বীমা পেশার চাইতে মহৎ ও খুব দ্রুত সফল হওয়ার মতো আর কোন পেশা নেই। শুধু মাত্র আপনি যদি এক'বার দু'বার হেরে গিয়ে থেমে না যান তাহলে এই পেশাটি আপনার জন্য One of the best profession . যেখানে আপনার লাইফটা খুব সুন্দর হতে পারে যেখানে আপনার পরিবার গর্ব করবে, আপনার সমাজ গর্ববোধ করবে, আপনার দেশও আপনাকে নিয়ে গর্ব করবে।"ইনশাআল্লাহ "
আমার পরবর্তী লেখায় সাজিদুল আনোয়ার স্যারের ইন্স্যুরেন্স ক্যারিয়ারে কিভাবে জিরো থেকে হিরো হয়ে উঠেছেন সে গল্প জানতে পারবেন।
স্ক্রিপ্ট রাইটারঃ
রহিমা আক্তার রুমা
মডারেটর
ইন্স্যুরেন্স বিডি গ্রুপ
সম্পাদনার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছেনঃ
ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ
চীফ মডারেটর
ইন্স্যুরেন্স বিডি গ্রুপ।