23/04/2020
আজকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব জাপানি গাড়ির #অকশনপেপার নিয়ে।
জাপানি ব্যবহৃত গাড়ি জাপানে অবস্থিত বিভিন্ন নিলামকারি প্রতিষ্ঠান কতৃক নিলামে বিক্রি হয়। নিলাম পরিচালনাকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উপস্থিত ও অনলাইনে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের জন্য প্রতিটি গাড়ি ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে।যাকেই অকশন পেপার বলা হয়ে থাকে। এ রিপোর্টগুলো এতই নির্ভরযোগ্য যে, শুধু এই রিপোর্ট ও গাড়ির কয়েকটি ছবি দেখে নিশ্চিন্তে অকশনের গাড়ি সারা দুনিয়ার গাড়ির ক্রেতারা কিনে থাকেন।
সামগ্রিক গ্রেড 1 থেকে 6 (ও অতিরিক্ত গ্রেড S) এবং ইন্টেরিওর/এক্সটেরিওর গ্রেড A, B, C ও D দ্বারা নির্দেশিত হয়। সামগ্রিক গ্রেড নির্ধারিত হয় মাইলেজ, বডি কন্ডিশন, রিপেয়ার ও মেইন্টেন্যান্স রেকর্ড, ইঞ্জিন ও চেসিস কন্ডিশন ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে। এখন সংক্ষেপে গ্রেডগুলো কি নির্দেশ করে তা একটু বলে নেই।
S গ্রেড–এই গ্রেডের গাড়ি এতই নতুনের মত ঝকঝকে যে, না বলে দিলে আপনি বলতেই পারবেন না যে এটি ব্র্যান্ড নিউ না।এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ৫০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে S গ্রেডের গাড়ি সাধারণত কয়েকশ কিলোমিটার মাইলেজের, এমনকি শুধু ডেলিভারি মাইলেজেরও হয়ে থাকে। S গ্রেডের গাড়ি বাংলাদেশে ব্র্যান্ড নিউ বলেই বিক্রি হয়।
6 গ্রেড– প্রায় নতুন গাড়িকে এই গ্রেড দেয়া হয়। এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ১০০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। বাস্তবে 6 গ্রেডের গাড়ি সাধারণত ১০-৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজের হতে দেখা যায়। কোনরকম দূর্ঘটনা তো দূরের কথা, কোন রিপেয়ারের ইতিহাস থাকলেও এই গ্রেড দেয়া হয় না, রিপেয়ারটি স্বয়ং গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে করা হয়।
5 গ্রেড-এই গ্রেডের গাড়িগুলো সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, যদিও বডিতে প্রায় দেখা যায় না এমন দু-একটি আঁচর থাকতে পারে।আদর্শ রাস্তায় ও দক্ষ চালকের হাতে চললে এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ১৫০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।
4.5 গ্রেড-সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত এই গ্রেডের গাড়িও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। প্রায়ই দেখা যায় 6 বা 5 পেতে পারত এমন গাড়ি একটি রিপেয়ারের জন্য 4.5 গ্রেডে চিহ্নিত হয়েছে। ইঞ্জিন বা মেকানিক্যাল কোন বড় রিপেয়ার হয়েছে অথবা সামনে বা পিছন থেকে ধাক্কা খেয়েছে এমন গাড়িকে এই গ্রেড দেয়া হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আপনার হাতের মুঠোর সমান একটি বা দুটি ডেন্ট অথবা বড় স্ক্র্যাচের জন্য এই গ্রেড পেয়ে থাকে। 4.5 গ্রেডের জন্য শুধুমাত্র সামান্য রিপেয়ারকেই বিবেচনা করা হয়। আদর্শ রাস্তায় ও দক্ষ চালকের হাতে চললে এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ৫০,০০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। বাস্তবে 4.5 গ্রেডের গাড়ি সাধারণত সর্বোচ্চ ৪০-৫০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজের হতে দেখা যায়।
auction grade 5
4 গ্রেড– এই গ্রেডের গাড়িগুলোও খুবই নির্ভরযোগ্য ও ভালো। দুই ধরনের গাড়িকে এই গ্রেড দেয়া হয়ে থাকে। এক, কম মাইলেজের ভাল গাড়ি, তবে যার কিছুটা সামান্য রিপেয়ার(ছোট-খাট স্ক্র্যাচ/ডেন্ট কারেকশন/পেইন্টিং টাইপের) দরকার, অথবা,যার মাইনর কিছু রিপেয়ার হয়েছে, অথবা, যার মাঝারি ধরনের রিপেয়ার বা পেইন্ট ওয়ার্ক টপ ক্লাস মানের হয়নি।দুই, ১,০০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলা বাইরে থেকে এবং ফিল্ড টেস্টে অভিজ্ঞ পরিদর্শকের চোখে মাইলেজ জনিত স্বাভাবিক ক্ষয় ছাড়া আর কোন ত্রুটি ধরা পড়েনি। বাস্তবে 4.০ গ্রেডের গাড়ি সাধারণত সর্বোচ্চ ৭০-৮০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজের হতে দেখা যায়।আগেই বলেছি, ২০-৩০,০০০ কিলোমিটার চলা এবং 6,5 বা 4.5 পেতে পারত এমন গাড়ি এই গ্রেড পেতে পারে। বস্তুত 4.0 গ্রেডপ্রাপ্ত গাড়ির প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই এই ধরনের, বাকিগুলো ৪০-৭০,০০০ মাইলেজের এবং সামান্য ডেন্ট, স্ক্র্যাচ ইত্যাদির জন্য এই গ্রেড পেয়ে থাকে।
জাপান থেকে রপ্তানিকৃত ব্যবহৃত গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এই গ্রেডের গাড়ি। এই গ্রেডের গাড়িকে সলিড বলা যায়। বাংলাদেশে আমদানীকৃত গাড়ির ১০%এর মত গাড়ি এই গ্রেডের।
3.5 গ্রেড- 4 কিংবা 4.5 পেতে পারত, এমন গাড়িগুলোই সাধারণত ছোট-খাটো বেশ কয়েকটি ডেন্ট-পেইন্ট টাইপের সমস্যার জন্য কিংবা দূর্বল মানের রিপেয়ারের (সাধারণত পেইন্টিং-এর ফিনিশং দূর্বলতার জন্য) জন্য এই গ্রেড পেয়ে থাকে। এই গ্রেডের গাড়িতে সামান্য মেরামতের প্রয়োজনও হতে পারে। মেরামত গুলো খুবই ছোট-খাটো ধরণেরই হয়ে থাকে, তবে মেরামতযোগ্য সমস্যা থাকে বেশ কয়েকটি।
প্রয়োজনীয় মেরামতের ধরণ ও সংখ্যা এবং মেরামতের মানের উপরে এই গ্রেড-এর গাড়ি নির্ভরযোগ্য হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। বাংলাদেশে আমদানীকৃত গাড়ির ২০% এর মত গাড়ি এই গ্রেডের।
3 গ্রেডের গাড়িগুলোর বড় ধরণের রিপেয়ার দরকার এবং 1,2 গ্রেডের গাড়িগুলো ড্যামেজড, পানি বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মডিফায়েড গাড়ি হয়ে থাকে বিধায় 1,2,3 গ্রেডের গাড়ি সম্পূর্ণ বর্জন করাই ভালো। যদিও, বাংলাদেশে এই গ্রেডেরগাড়িও কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী আমদানি করে থাকেন।
R/ RA/ RS নামে আরেকটি গ্রেড রয়েছে যেগুলো দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা যেগুলোর বিভিন্ন ধরণের রিপেয়ার দরকার। এই গাড়িগুলো রিপেয়ার না করেই জাপানে বিক্রি হয়। এই গ্রেডের গাড়িগুলোর কিছু অংশ ভালো মানের রিপেয়ার করলে 4/4.5 গ্রেডের গাড়িগুলোর মানেরও হয়ে উঠতে পারে। আবার ভালো মেরামত আমাদের দেশে সম্ভব না হওয়ায় এই গাড়িগুলো কিনে বিপদেও পড়তে হতে পারে। কেস টু কেস বিবেচনায় R গ্রেডের গাড়ি গুলো সমন্ধে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাংলাদেশের গাড়ি ব্যবসায়ীরা তাদের কোন গাড়িকেই এই গ্রেডের গাড়ি বলে স্বীকার করতে চায় না, বাংলাদেশে আমদানীকৃত গাড়ির ২০% এর মত গাড়ি এই গ্রেডের।
ইন্টেরিওর/এক্সটেরিওর গ্রেড
A, B,C,D দ্বারা এই গ্রেড নির্দেশিত হয়। কোন কোন অকশন হাউজ এক্সটেরিওর গ্রেড আলাদা করে নির্দেশ করে না। এক্সটেরিওর গ্রেড স্ক্র্যাচ, ডেন্ট, ঘঁষা ইত্যাদির সংখ্যা অনুযায়ি যথাক্রমে A, B,C,D দ্বারা বোঝানো হয়। ইন্টেরিওর গ্রেড সমন্ধে সংক্ষেপে বলতে গেলে A গ্রেড মানে নতুনের মত, B গ্রেড অর্থ সামান্য ডার্টি তবে পরিষ্কারযোগ্য, C গ্রেডের মানে কন্ডিশন ভালো তবে ইন্টেরিওরে সিগারেট এর পোড়া দাগ রয়েছে(জাপানীরা ভয়ংকর ধূমপায়ী ) আর D গ্রেড মানে অবস্থা কেরোসিন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫০০০ এর মত প্রাইভেট গাড়ি বিক্রি হয়। বেশির ভাগ গাড়ির বিক্রেতা তাদের আমদানি করা গাড়ি ৫/৪.৫/৪ গ্রেডের গাড়ি দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে ৫০%এর মত গাড়ি অকশন গ্রেডের, আর বাকিগুলো স্টকের গাড়ি। এর মধ্যে মাত্র ১০-১২% গাড়ি ৪ এবং ৪.৫/৫ গ্রেডের। অকশন গ্রেডের গাড়ি ছাড়া সরাসরি জাপানে অবস্থিত ডিলার বা স্টক থেকে গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ট্যাক্সি-ক্যাব, রেন্ট-এ-কার বা হোটেল সহ বিভিন্ন রকম এজেন্সির অত্যন্ত হাই মাইলেজের গাড়ি। এই গাড়িগুলো ১,৫০,০০০ – ৩,০০,০০০লাখ মাইল পর্যন্ত চলা থাকতে পারে। এই গাড়িগুলোই সাধারণত AC বা গিয়ার বক্স ফেইলিউর টাইপের সমস্যায় পড়ে যায় কেনার এক দেড় বছরের মধ্যেই।
তাই গাড়ি কেনার সময় বিশেষ করে রিকন্ডিশন গাড়ির ক্ষেত্রে অনলাইনে অকশন পেপার চেক করে নেওয়া উচিত। এখন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে খুব সহজেই এটি চেক করে নেওয়া যায়।
মামুন, ডেপুটি ম্যানেজার
এম জি কার শোরুম, র্যানকন
মোবাইলঃ ০১৭১১-৫৭৯৭০৭
#অকশনপেপার #জাপানিগাড়ি #রিকন্ডিশনগাড়ি