26/10/2024
(রিপোস্ট)
বাচ্চার হার্টের ট্রিটমেন্ট বা চেকআপ নিয়ে কোথাও পোস্ট দেখলেই সেখানে ইন্ডিয়া নিয়ে যাবার ব্যাপারে অনেক বেশি সাজেশন দেখি। বাচ্চার ট্রিটমেন্ট বাংলাদেশ না ইন্ডিয়া কোথায় করবেন সেটা-
*বাচ্চার শারিরীক অবস্থার উপর নির্ভর করবে, যেটা সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট/সার্জন বলতে পারবেন
*এর সাথে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়েও দেখতে হবে
ইন্ডিয়াতে বাচ্চাদের হার্টের ট্রিটমেন্ট ভালো হয় এইটায় কোন সন্দেহ নাই; তবে আমি ঢালাওভাবে সাজেস্ট করতে পারিনা ইন্ডিয়ার ব্যাপারে।
সিভিয়ার হাইপারটেনশন সাথে সিংগেল ভেন্ট্রিকেল এর সাথে টুইস্টেড হার্ট (সিটিজিএ)- এই জটিল সমস্যা নিয়েও প্রায় সম্পুর্ন নেগেটিভ আউটকাম যেখানে প্রেডিক্টেড ছিলো; করোনায় বর্ডার বন্ধের জন্য বাধ্য হয়ে যেখানে ড: শরিফুজ্জামান স্যার আমাদের রিকোয়েস্টে সার্জারীতে রাজি হিয়েছিলেন- সেই অবস্থা থেকে পরবর্তী সার্জারীতে ইন্ডিয়ার নাম করা কার্ডিওলজিস্ট+সার্জন দের মুখে বারবার প্রথম সার্জারীর প্রশংসা শুনতে শুনতে আমার ভেতর খুব বিশ্বাস জন্মে গেছে বাংলাদেশ এর "ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন" এর টিম এর ওপর। আলহামদুলিল্লাহ!
আমাকে যদি প্রশ্ন করেন যে আমার যদি বাহিরে যাবার সুযোগ সেই সময় থাকতো আমি কি দেশ এ করতাম? আমার উত্তর হবে- "না! করতাম না।"
প্রথমত হলো আমার বাচ্চার জটিলতার জন্য তার জন্মই দেশের বাহিরে হওয়া লেগেছে কারন তার ইনিশিয়াল সার্জারী দেশে সম্ভব না (জন্মের পর পরই সার্জিকাল ইন্টারভেনশনের ঘটনা বাংলাদেশ এ হবার সুযোগ ও হয়না), মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি বাংলাদেশ এর হার্ট সার্জনদের হাতের কাজের ব্যাপারে বিস্তারিত ধারনা ছিলোনা আমার, আর বাহিরে যাবার সামর্থ্য ও আল্লাহর রহমতে ছিলো- তাই দেশ এ করতাম না সেই সময় সুযোগ থাকলে। তবে এখন আমার বাচ্চার সামনের সার্জারী যদি দেশ এর সার্জন সাহস করেন, আমি অবশ্যই অবশ্যই বাংলাদেশকেও আমার চিন্তায় আনবো।
এইবার আসি আরেকটা পয়েন্ট, ইন্ডিয়ায় করলে কোথায় করাবো? এইখানে বলবো আমার দেখা ৮৫-৯০% পেশেন্ট যায় নারায়ানা ব্যাংগালুরে, আর বাকি ১০-১৫% যায় দিল্লীর বিভিন্ন জায়গায়। এখানেও যদি আমি এই সিলেকশন নিয়ে কথা বলতে যাই লেখা অনেক বড় হবে। পার্সোনালি পেশেন্ট এর প্যারেন্টস দের সাথে এইটা নিয়ে ডিটেইলস এ কথা বললেই সহজ হয়, তাই এইটা এইখানে বলবোনা।
***সবথেকে কঠিন পয়েন্ট, সার্জারীর আউটকাম নিয়ে। হায়াত-মউত নিয়ে আসলে কারোই কিছু করার নাই সার্জারীর সাকসেস এর পেছনে তাই কোন দেশকেই আমি আগে পরে রাখতে পারবোনা। তবে প্রি-পোস্ট অপারেটিভ ম্যানেজমেন্ট এর কারনে বাচ্চার লাইফ থ্রেটেনিং কোন বিষয় সামনে না আসলেও অনেক সাফারিং এর ভেতর দিয়ে যেতে হয় বাচ্চাকে। এইখানেও আমি দেখেছি দেশে যেমন মিস ম্যানেজমেন্ট হয়, ইন্ডিয়াতেও হয়। ইন্ডিয়াতে তুলোনামুলক কম হয় এইটা সত্য। এই কারনে আমি যদি নিজে থেকে কাওকে ইন্ডিয়া সাজেস্ট করি সব বিষয় দেখে আর বুঝে- সেটা মুলতো এই একটা কারনেই করে থাকি।
এই জন্য যেসব বাচ্চার সহজ কারেক্টিভ সার্জারী প্রয়োজন+আর্থিক সমস্যা ও আছে কিন্তু দেশে করতে চাচ্ছেন না কেবল ভয়ের কারনে; তাদের আমি পারিনা কোনভাবে সাহায্য করতে। আমার সাজেশনে হার্ট ফাউন্ডেশন-ই থাকে শুধু তখন।
দেশের সার্জারীতে আমার মেয়ের সাকসেস স্টোরি আমি বেশি বেশি শেয়ার করার পক্ষে কারন ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স আমার খুবই ছিলো সেই সময়ে, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাধ্য হয়ে হলেও একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জন হলো ঝুড়িতে যা নিয়ে আমি গর্বিত আমার দেশের সার্জনদের এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে। অভিজ্ঞতার সেই ঝোলায় ইন্ডিয়ারই একাধিক পজিটিভ সাকসেস স্টোরিও আছে। সবার গল্পের ক্ষেত্রে শেষগুলো এমনটা হয়না, হবেও না।
তাই বাচ্চার বা নিজের ট্রিটমেন্ট কোথায় করবেন দেশে না বাহিরে, বাহিরে হলে কোন সেন্টারে- এইসব ব্যাপারে সরাসরি কার্ডিওলজিস্ট এর সাজেশন নিবেন আর সাথে ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স শুনবেন যতজনের কাছ থেকে সম্ভব।
সব থেকে ইম্পর্টেন্ট হলো যেই ডিসিশনই নেন না কেন, আল্লাহর উপর সম্পুর্ণ বিশ্বাস রেখে ভবিষ্যৎ তার হাতেই ছেড়ে দিবেন। যেই রাস্তাকেই আপনার জন্য উনি সমস্যা সমাধানের উছিলা হিসেবে নির্ধারণ করবেন, সেটায় কোন দ্বিধা রাখবেন না। আল্লাহ ভরসা