02/11/2025
তিমির দুধ পৃথিবীর অন্য সব প্রাণীর দুধ থেকে আলাদা। তিমির দুধ খুব ঘন, তৈলাক্ত এবং পুষ্টিকর। এটি পানিতে মিশে যায় না, বরং ক্রিমের বা পুডিংয়ের মতো হয়ে থাকে। উচ্চ পুষ্টির কারণে মায়ের দুধ খেয়ে তিমি বাচ্চা খুব দ্রুত বড় হয়। তিমির দুধে প্রায় ৫০% চর্বি থাকে। যা ঘনত্বে অনেকটা ক্রিম চিজের মতো। এই ঘন দুধ পানিতে গলে না, ফলে ছোট্ট তিমিশাবক সমুদ্রের নিচে থেকেও এক ফোঁটা দুধ না হারিয়েই পান করতে পারে।
নীল তিমির বাচ্চা প্রতিদিন ২০০-৩০০ লিটার দুধ খায় এবং ৯০ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়ে! প্রতিটি চুমুকেই শিশুতিমি শক্তি সঞ্চয় করে।
মজার তথ্য হলো, নীল তিমির বাচ্চা জন্মের সময় ৩ টন ওজনের হয়! আর ১ বছরে ২০ টন পর্যন্ত বড় হয়– শুধু দুধ খেয়েই!
মা তিমি পানির নিচে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়। তিমির স্তনবৃন্ত (ni**le) থাকে পেটের কাছে। পেটের দুই পাশে দুটি স্তনগ্রন্থি। বাচ্চা মুখ দিয়ে চাপ দিলে মা পেশি সংকোচন করে দুধ ছিটিয়ে দেয়। দুধের থিকনেস বেশি হওয়ার কারণে পানিতে ছড়িয়ে যায় না, বরং সরাসরি বাচ্চার মুখে ঢোকে। অনেকটা গরু-ছাগল বা মানুষের মতোই তিমি শাবকগুলোও পানির নিচে মা তিমি থেকে দুধ পান করে বড় হয়।
তিমির বাচ্চা জন্মের পরপরই সেগুলো সাঁতার কাটতে পারে এবং মায়ের কাছে এসে দুধ খেতে শেখে। বাচ্চা তিমি মায়ের পাখনার নিচে লুকিয়ে দুধ খায়। যার কারণে অন্যান্য শিকারীও প্রাণীগুলো বাচ্চা তিমিকে আক্রমণ করতে পারে না।
প্রজাতি ভেদে এক একটি তিমি শাবক প্রায় ৬-১২ মাস যাবত মা তিমির থেকে দুধ খেয়ে থাকে। এরপর মাছ বা অন্য খাবার খেতে শেখে।
প্রকৃতি যেন নিজেই এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে, যাতে নবজাতকটি সমুদ্রের অবারিত গভীরতায়ও নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।