04/10/2023
আমি এখনো এরকম উচ্ছিষ্ট খাওয়া মা হতে পারিনি, ইনফ্যাক্ট হতে চাইওনা কখনো। আমার ছেলে যখন অনেক ছোট ছিল সাধারনত আমি আগে খেয়ে তারপর ওকে খাওয়াতাম। কারন আমাকে সারাদিন অফিস করে, ক্লাশ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতে হতো। ছেলে মুখে খাবার নিয়ে অনেক সময় বসে থাকত। গিলতে চাইত না। তাই আমি খেয়ে ফুল এনার্জি নিয়ে ধীরেসুস্হে ওকে খাওয়াতাম। তাড়াহুড়ো করতাম না। বকতাম না । কারন আমার পেট ভরা থাকত বলে মাথাটাও ঠান্ডা থাকত। মনে মনে বলতাম -- রাখ মুখে ভাত যতোখন, আমার কি, আমি খেয়ে নিয়েছি 😋।
ছবির পোস্টটা পড়ে হাসি পেয়েছে আমার। দেখুন আপুরা, যে নিজেরে ভাল রাখতে জানে না, যে নিজে নিজের মূল্যায়ন করে না তারে কেউ গোনে না, এইটা জীবনে বহুবার দেখেছি আমি।
এসব এঁটো-ঝুঁটা খেয়ে অল্প বয়সেই আমাদের মেয়েদের গিটে গিটে বাত, ইউরিন ইনফেকশন, প্রেসার লো, ঘুমের সমস্যা, মেজাজ গরম , dysfunctional sexual life
চলতেই থাকে। এদের জামাই অন্য মহিলার আঁচলে আশ্রয় খুঁজতে থাকে।
এদের বয়স চল্লিশ হলেই দেখা যায় জীবন নিয়ে হাতাশা। না পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে সংসারে যুদ্ধ। শরীরের বয়স চল্লিশ হলেও দেখায় আরো বয়ষ্ক। মেজাজ সব সময়ই তিরিক্ষি থাকছে।
আর এই মায়েরাই ছেলের বউ এলে তার সাথে করবে কঠিন ব্যবহার। তাকেও এঁটো খেতে দিবে। মানে আশা করবে
এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বংশ পরম্পরায়.......
বারবার বলবে "কত কষ্ট করে ছেলে মানুষ করেছি। নিজে না খেয়ে ছেলেকে খাইয়েছি। আর তুমি আজকে এসেই ছেলেকে দখল করতে চাও?"
আপুরা ,
এক টুকরো মাছ/মাংস, এক গ্লাস দুধ আপনি না খেলে আপনার পরিবার কোটিপতি হয়ে যাবে না। বরং আপনার শরীরটা ভালো থাকবে। এটা জরুরী আপনার পরিবারের জন্য।
মা মানেই নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়া না। মা নিজেও একজন আলাদা আইডেন্টি, একজন মানুষ। এটা মনে রাখা দরকার। নিজের খাবার নিজে খাবেন। বাচ্চার খাবার বাচ্চা খাবে। আদ্যিকালের থিওরি এই যুগে অচল। আদ্যিকালে দশজন সন্তান থাকতো। দশটার এটো খাবার সুযোগ ছিল। ঐ সময়ে ব্রেন ওয়ার্ক কজন নারী করত? এখন 90% নারী করে। এটা করার জন্য পুষ্টিকর খাবারের দরকার আছে।
সন্তানকে ভালোবাসলে বরং নিজে মা হিসেবে ফিট থাকুন শারীরিক,মানসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে। এটাই হবে বেষ্ট গিফট সন্তানের জন্য।
লেখাও ছবিঃ~ সংগৃহীত