13/03/2023
সহজে বাংলা বানান জানার কিছু কৌশল :-
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
# কি/ কী এর ব্যবহার : 'হ্যাঁ বা না' দিয়ে অথবা মাথা নেড়ে উত্তর দেওয়া গেলে বানানে হবে 'কি'/ অন্যথায় 'কী' হবে। যেমন- তুমি কি খেয়েছ?(হ্যাঁ /না)। তুমি কী খেয়েছ?(হ্যাঁ বা না বললে হবে না)।
# কোন গুণকে পুঁজি বা আয়ের উৎস হিসেবে জীবন ধারন করলে সে যে জীবী। এ প্রকার জীবী শব্দে দুটোই 'ঈ' কার হবে। যেমন- বুদ্ধিজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, মৎস্যজীবী, পেশাজীবী, আইনজীবী, চাকরিজীবী ইত্যাদি (,ব্যতিক্রম :ক্ষীণজীবী, ক্ষণজীবী) ।
# সকল প্রকার 'অঞ্জলি' শব্দে 'ই' কার হবে।যেমন-শ্রদ্ধাঞ্জলি,গীতাঞ্জলি,পুষ্পাঞ্জলি, পতঞ্জলি।
# অদ্ভুত, ভুতুড়ে বানানে উ-কার হবে। এ ছাড়া সকল ভূতে ঊ-কার হবে। যেমন— ভূত, অভিভূত,অঙ্গীভূত আবির্ভূত একীভূত, ঘনীভূত, পরাভূত, ভস্মীভূত, দ্রবীভূত, বহির্ভূত, উদ্ভূত ভূতপূর্ব, প্রভূত,বশীভূত, ইত্যাদি।
# যে 'দূর' দূরত্ব / দূর করা বুঝায় না,সেই দূরে 'উ' হবে।যেমন-দুর্ঘটনা,দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্বিষহ, দুর্বল, দুর্নিবার দুর্যোগ,দুর্গ,দুর্গা, দুর্বার ইত্যাদি (ব্যতিক্রম দূর্বা) ।
# যে সব শব্দের বানানে ই/ঈ দুটোই শুদ্ধ ও প্রচলিত,সে সব ক্ষেত্রে 'ই' কার ব্যবহৃত হবে। যেমন- বাড়ি,গাড়ি,পাখি,শাড়ি,হাতি,মাসি,পিসি,কেরানি,সুচি ইত্যাদি।
# বিদেশি শব্দের বানানে সর্বদা 'ই' কার হবে। যেমন-জানুয়ারি, শুটিং, দামি,বেশি,উজির, নাজির,ফাঁসি, কারিগরি, সবজি, তরকারি, দরকারি, সরকারি, আসামি,আমদানি, রপ্তানি ইত্যাদি।
# স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে 'ঈ' কার হবে।যেমন - দাসী, গাভী,পিশাচী, রানী, নারী,নেত্রী, হরিণী, তরুণী, মানবী ইত্যাদি।
# বিদেশি শব্দে 'ষ/ণ' হয় না, 'স/ন' হয়।যেমন- স্টোর,স্টার,স্টুডিয়ো, স্টেজ, স্টেশন, স্টিল, মাস্টার, কারেন্ট,একাউন্টিং, ইন্টারনেট, ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি।
# তৎসম শব্দের বানানে 'ষ'/ণ হবে।যেমন- ঘণ্টা, কণ্ঠ,লুণ্ঠন, বণ্টন, কষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি, নষ্ট ইত্যাদি
# কোন বিশেষ্য / বিশেষণ শব্দের শেষে যদি 'ঈ' কার থাকে এরপর যদি ত্ব/তা/সভা/বিদ্যা থাকলে ঐ শব্দের শেষের 'ঈ' কার 'ই' কারে পরিণত হবে। যেমন- একাকী -একাকিত্ব, পক্ষপাতী -পক্ষপাতিত্ব, স্থায়ী -স্থায়িত্ব, সহযোগী -সহযোগিতা, সত্যবাদী -সত্যবাদিতা, মন্ত্রী -মন্ত্রিসভা,প্রাণী -প্রাণিবিদ্যা ইত্যাদি।
# ব্যক্তির ‘-কারী’-তে (আরী) ঈ-কার হবে। যেমন— সহকারী, আবেদনকারী, ছিনতাইকারী, পথচারী,নভোচারী, ব্রহ্মচারী, হত্যাকারী, কর্মচারী ইত্যাদি। ব্যক্তির ‘-কারী’ নয়, এমন শব্দে ই-কার হবে। যেমন— সরকারি, দরকারি,তরকারি ইত্যাদি।
# বিশেষণবাচক আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। যেমন— চৈতালি,সোনালি, রূপালি, বর্ণালি,খেয়ালি, মিতালি ইত্যাদি।
# নাই, নেই, না, পদগুলো আলাদা করে লিখতে হবে। যেমন— বলে নাই, আমার ভয় নাই, আমার ভয় নেই, হবে না, যাবে না, ইত্যাদি। এছাড়া 'না' বাচক উপসর্গে না আগে যুক্ত হলে ও সমাসবদ্ধ পদে একসাথে হবে।যেমন - নাবালক, নারাজ, করিনি, না-বলা,না-শোনা,না-গোনা ইত্যাদি।
# কে’ এবং ‘-কে’ ব্যবহার: প্রশ্নবোধক অর্থে ‘কে’ (ইংরেজিতে Who অর্থে) আলাদা ব্যবহার হয়। যেমন— আয়ান কে? প্রশ্ন করা বোঝায় না এমন শব্দে ‘-কে’ এক সাথে ব্যবহার হবে। যেমন— আয়ানকে আসতে বলো।
# কোণ, কোন ও কোনো’-এর ব্যবহার:
কোণ : ইংরেজিতে Angle/Corner (∠) অর্থে।
কোন : উচ্চারণ হবে কোন্। বিশেষত প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন— তুমি কোন দিকে যাবে?
কোনো : ও-কার যোগে উচ্চারণ হবে। যেমন— যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
# সমাসবদ্ধ পদ ও বহুবচনমূলক শব্দগুলোর মাঝে ফাঁক রাখা যাবে না। যেমন— চিঠিপত্র, আবেদনপত্র, ছাড়পত্র (পত্র), অনুগ্রহপূর্বক, উল্লেখপূর্বক (পূর্বক), প্রতিষ্ঠানভুক্ত, এমপিওভুক্ত, এমপিওভুক্তি (ভুক্ত/ভুক্তি), গ্রামভিত্তিক, এলাকাভিত্তিক, রোলভিত্তিক (ভিত্তিক),বিপদগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত (গ্রস্ত), গ্রামগুলি/গ্রামগুলো (গুলি/গুলো), রচনামূলক (মূলক), সেবাসমূহ (সমূহ), যত্নসহ, পরিমাপসহ (সহ), ত্রুটিজনিত, (জনিত), আশঙ্কাজনক, বিপজ্জনক (জনক)।
# দেশ ভাষা ও জাতির নামের শেষে সর্বদা 'ই'-কার হবে। যেমন—আমেরিকা,ইতালি,গ্রিস,জাপানি, ইংরেজি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, আরবি,ফারসি,বাঙালি,মার্কিন,বর্মি,তুর্কি ইত্যাদি (ব্যতিক্রম- চীন দেশ,চীন ভাষা,চীন জাতি)।