Red and Green Events

Red and Green Events Recruitment Agent's Consultant, Tours and Travels, Air Ticketing and Event Management Company.

30/06/2026

স্বাক্ষর মিললেই কি চেকের মামলায় জেতা যায়? ফাঁকা চেকের ব্যবসার দিন শেষ!
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:
“চেকের স্বাক্ষর তো আপনারই, তাহলে টাকা দেন না কেন?” এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় আদালত কক্ষে এই একটি প্রশ্নই বহু আসামিকে কোণঠাসা করে ফেলে। আইনের ১১৮ ও ১৩৯ ধারার ‘সংবিধিবদ্ধ অনুমান’ অনেক সময়ই বাদীর পক্ষে একচেটিয়া সুবিধা তৈরি করে। কিন্তু আসলেই কি তাই? শুধু একটি স্বাক্ষর থাকলেই কি যেকোনো ফাঁকা চেক আইনি বৈধতা পেয়ে যায়?

উচ্চ আদালতের সা¤প্রতিক কিছু যুগান্তকারী রায় এবং ফরেনসিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি এই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন আর ফাঁকা চেকে নিজের ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে মামলা জিতে যাওয়া সহজ নয়।

স্বাক্ষর সঠিক, কিন্তু ভেতরের লেখা আলাদা?
আমাদের সমাজে ব্যবসা, ঋণ বা সিকিউরিটির নামে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর রাখার একটা ভয়াবহ কু-প্রথা রয়েছে। পরবর্তীতে শত্রুতা বা লোভের বশে সেই চেকে কোটি টাকা বসিয়ে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।

এখানেই ডিফেন্সের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ৫৬ ডিএলআর পৃষ্ঠা ৬৩৬ (এম.এ মজিদ বনাম মোঃ আব্দুল মোতালেব) মামলাটি। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট করে বলেছেন:

"আসামির স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখায় থাকলে এন.আই অ্যাক্ট-এর ধারা ৩(ই) অনুসারে উহাকে 'ইস্যুয়েন্স অব চেক' বলা যাবে না এবং অনুরূপ চেক আইনানুগভাবে বৈধ নয়।" অর্থাৎ, চেকটি যে আসামী নিজেই বাদীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পূরণ করে দিয়েছেন তা বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে।

কেন অন্য হাতে লেখা?
অনেক সময় বাদী দাবি করেন, "আসামি লিখতে পারেন না বা অনুরোধ করেছেন, তাই আমি লিখেছি।" কিন্তু উচ্চ আদালত এই খোঁড়া যুক্তিকে কঠোরভাবে খÐন করেছেন। ৭৫ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৪৪৭ (এ.এইচ. এরশাদুল হক বনাম রাষ্ট্র) মামলায় আদালত পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। যদি চেকের হস্তাক্ষরে অসংগতি থাকে, তবে মামলার মোড় ঘুরে যাবে। বাদীকে আদালতে দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে: কেন চেকটি ড্রয়ার (আসামি) নিজে পূরণ করেননি? অন্য কে এটি পূরণ করেছে? অন্যের পূরণের ক্ষেত্রে ড্রয়ারের লিখিত বা স্পষ্ট অনুমতি ছিল কি-না? বাদী যদি এই হস্তাক্ষরের ভিন্নতার কোনো সন্তোষজনক এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে মামলার মূল ভিত্তিই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং আসামি সরাসরি খালাস পাবেন।

চেকের বস্তুতগত পরিবর্তন:
এন.আই অ্যাক্টের ৮৭ ধারা অনুযায়ী, চেকে যদি দাতার সম্মতি ছাড়া পরবর্তীতে কোনো কাটাকাটি, ঘষামাজা বা এমন কোনো পরিবর্তন করা হয় যা চেকের মূল চরিত্র বদলে দেয় (যেমন: তারিখ বসানো বা টাকার অংক বাড়ানো), তবে সেই চেকটি আইনগতভাবে বাতিল হয়ে যায়। ফাঁকা চেকে পরবর্তীতে তারিখ বা অংক বসানোও এক ধরণের অবৈধ পরিবর্তন, যদি তা প্রমাণের সুযোগ আসামি পান।

ফরেনসিক পরীক্ষা ও ‘ফেয়ার ট্রায়াল’ আসামির মৌলিক অধিকার
"স্বাক্ষর আমার, কিন্তু ভেতরের লেখা ৫ বছর পরের!" এই সত্যটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক উপায় কী? এখানেই আসে ফরেনসিক বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা। সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩(২) ধারা অনুযায়ী এই পরীক্ষা আসামির একটি আইনি অধিকার।
উপ-মহাদেশের সমাদৃত নজির 'টি. নাগাপ্পা বনাম ওয়াই.আর. মুরলিধর' (এআইআর ২০০৮ সুপ্রিম কোর্ট ২০১০) এবং 'কল্যাণী ভাস্কর' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন যে:

শুধু আইনের অনুমানের ওপর ভর করে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কেড়ে নেওয়া যাবে না। চেকের কালি, হস্তাক্ষর এবং তা ভিন্ন সময়ে (যেমন ৫ বছর পর) পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে চেক ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো 'ফেয়ার ট্রায়াল' বা ন্যায়বিচারের অংশ। আদালত এই আবেদন সহজে খারিজ করতে পারেন না।

সন্দেহের সুবিধা কার?
মহামান্য আপিল বিভাগ ৭১ ডিএলআর (এডি)-তে (হুমায়ুন রশিদ বনাম শাহিন আকন্দ) সিকিউরিটি চেকের অপব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ফৌজদারি আইনের চিরন্তন সত্য হলো যেকোনো যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বা অসংগতির সুবিধা পাবেন আসামি।

অতএব, চেকে হস্তাক্ষরের ভিন্নতা, কালির অমিল এবং ভিন্ন সময়ে লিখনকাল যদি ফরেনসিক বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দ্বারা আদালতে তুলে ধরা যায়, তবে শতকোটি টাকার চেকের মামলাও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য। ফাঁকা চেকের ব্যবসার দিন এবার শেষ হতে চলেছে!

লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও পিএইচ.ডি-ইন-ল। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮, ইমেইলঃ [email protected]

27/06/2026

ব্ল্যাঙ্ক চেক বা সিকিউরিটি চেক কি গলার ফাঁস? আদালতে যেভাবে লড়াই করবেন
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:
ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যাংক লোন কিংবা ব্যক্তিগত ধারদেনার ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটি চেক’ বা ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়ার প্রচলন আমাদের সমাজে বেশ পুরোনো। অনেকেই বিশ্বাসের খাতিরে শুধু একটা স্বাক্ষর করে ফাঁকা চেক অন্য পক্ষের হাতে তুলে দেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন, যখন সেই বিশ্বাসের অপব্যবহার করে চেকে ইচ্ছামতো মোটা অঙ্কের টাকা ও তারিখ বসিয়ে আদালতে এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।

হঠাৎ এমন আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে যান। কিন্তু আইন কাউকে অন্ধভাবে শাস্তি দেয় না। আপনার দেওয়া চেকটি যদি সত্যিই কেবল ‘সিকিউরিটি’ বা ‘নিরাপত্তা স্মারক’ হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে এবং সেখানে যদি জালিয়াতি করা হয়, তবে আদালতে মুখের কথায় নয়, আইনি ও বৈজ্ঞানিক যুক্তিতে লড়াই করতে হবে।

আদালতে আসামিপক্ষে লড়াই করার এবং খালাস পাওয়ার প্রধান ৫টি আইনি অস্ত্র নিচে আলোচনা করা হলো:

১. চেকের ভিন্ন হাতের লেখা ও ভিন্ন কালি (ধারা ৮৭)
একটি চেকের মূল চরিত্র হচ্ছে এর সত্যতা। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ৮৭ ধারা অনুযায়ী, চেকে যদি ড্রয়ারের (চেক দাতা) সম্মতি ছাড়া কোনো মৌলিক পরিবর্তন করা হয়, তবে সেই চেকটি বাতিল বলে গণ্য হবে। আপনার স্বাক্ষর যদি সঠিকও হয়, কিন্তু চেকের ভেতরের তারিখ, টাকার অঙ্ক এবং নাম যদি সম্পূর্ণ ভিন্ন হাতের লেখায় এবং ভিন্ন কালিতে লেখা হয়, তবে তা আদালতে বড় একটি ডিফেন্স। বাদীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, এই ভিন্ন লেখার পেছনে চেক দাতার সম্মতি ছিল।

২. স্বাক্ষর থাকলেই কি তা ‘ইস্যু করা চেক’?
আমাদের দেশের উচ্চ আদালতের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত রয়েছে এম.এ মজিদ বনাম মোঃ আব্দুল মোতালেব (৫৬ ডিএলআর, ৬৩৬) মামলায়। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট বলেছেন:
"আসামির স্বাক্ষর, টাকার অঙ্ক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখায় থাকলে এর ধারা ৩(ন) অনুসারে উহাকে 'ইস্যুয়েন্স অব চেক' বলা যাইবে না।" অর্থাৎ, আপনি শুধু স্বাক্ষর দিয়েছেন মানেই এই নয় যে আপনি পুরো চেকটি ওই টাকা বসিয়ে আইনসম্মতভাবে ইস্যু করেছেন।

৩. প্রমাণের দায় কার? (৭৫ ডিএলআর, ৪৪৭):
সাম্প্রতিক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হলো এ.এইচ. এরশাদুল হক বনাম রাষ্ট্র (৭৫ ডিএলআর, ৪৪৭) মামলা। এই সিদ্ধান্তে মহামান্য হাইকোর্ট আরও কঠোরভাবে বলেছেন যদি ড্রয়ার নিজে চেক সম্পূর্ণ পূরণ না করেন এবং হস্তাক্ষরে স্পষ্ট অসঙ্গতি থাকে, তবে বাদীকে (যিনি মামলা করেছেন) অবশ্যই আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, অন্যের দ্বারা চেকটি পূরণের ক্ষেত্রে চেক দাতার স্পষ্ট অনুমতি বা সম্মতি ছিল। বাদী এই ব্যাখ্যার সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে মামলার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়।

৪. ফরেনসিক পরীক্ষা: আসামির মৌলিক অধিকার
অনেকেই ভাবেন, চেকে স্বাক্ষর যখন মিলে গেছে, তখন আর বাঁচার উপায় নেই। এটি ভুল ধারণা। সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, চেকের লেখার বয়স এবং কালির ভিন্নতা পরীক্ষার জন্য সরকারি ফরেনসিক ল্যাবে (যেমন সিআইডি বা পিবিআই-এর হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ) চেকটি পাঠানোর আবেদন করা আসামির আইনগত অধিকার।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিখ্যাত সিদ্ধান্তÍ কল্যাণী ভাস্কর বনাম এম.এস. সম্পূর্ণম (২০০৭) এবং টি. নাগাপ্পা (২০০৮) মামলায় বলা হয়েছে, আইনে বাদীর পক্ষে প্রাথমিক অনুমানের সুযোগ থাকলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের ‘ফেয়ার ট্রায়াল’ বা ন্যায়বিচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যদি প্রমাণ হয় যে স্বাক্ষরটি ৫ বছর আগের আর ভেতরের লেখাগুলো ২ মাস আগের তবে জালিয়াতি সহজেই ধরা পড়বে।

৫. সিকিউরিটি চেকের অপব্যবহার অপরাধ নয়
মহামান্য আপিল বিভাগের একটি লিডিং জাজমেন্ট হলো হুমায়ুন রশিদ বনাম শাহিন আকন্দ (৭১ ডিএলআর (এডি))। এই মামলার মূল নীতি হলো কোনো ব্ল্যাঙ্ক চেক যদি শুধুমাত্র সিকিউরিটি বা জামানত হিসেবে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পাওনাদার যদি নিজের ইচ্ছামতো বড় অঙ্ক বসিয়ে তার অপব্যবহার করে মামলা করে, তবে এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অধীনে কোনো অপরাধ গঠিত হয় না।

শেষ কথা
আইন সচেতনতাই আইনি ফাঁদ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। কারো বিরুদ্ধে সিকিউরিটি চেকের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা হলে, ভয় না পেয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে শুরুতেই চেকটি ফরেনসিক পরীক্ষার আবেদন করা উচিত এবং উচ্চ আদালতের এই চমৎকার নজিরগুলো যুক্তিতর্কের সময় উপস্থাপন করা উচিত। আইন যেমন অপরাধীকে সাজা দেয়, তেমনি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে জালিয়াতির শিকার না হন, তার সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।

সতর্কতা: যেকোনো আইনি লেনদেনে ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি দিতেই হয়, তবে চেকে 'সিকিউরিটি চেক’ লিখে দিন এবং কোন চুক্তির অধীনে দিচ্ছেন তা লিখিত আকারে রাখুন।

লেখক: আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আইনগ্রন্থ প্রণেতা, কলামিস্ট ও আইন গবেষক, মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮

22/06/2026

Address

Apt#A2, House:16, Road:2/3, Block: L, Banani Chairman Bari, Dhaka 1213
Dhaka
DHAKA-1213

Opening Hours

Monday 09:00 - 19:00
Tuesday 09:00 - 19:00
Wednesday 09:00 - 19:00
Thursday 09:00 - 19:00
Saturday 09:00 - 19:00
Sunday 09:00 - 19:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Red and Green Events posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share