24/07/2026
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা (যেখানে ন্যূনতম কর বা Minimum Tax-এর বিধান রয়েছে) অনুযায়ী টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম করের ধাক্কা সত্যিই অনেক ব্যবসায়ের স্বাভাবিক মুনাফার হারের সাথে মেলে না।
কেন এই ১% টার্নওভার ট্যাক্স ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ?
বিক্রয় বা টার্নওভার কখনো মুনাফা নয়: ১ কোটি টাকা বিক্রি হলেও একজন ব্যবসায়ীর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত নিট লাভ হতে পারে মাত্র ২০,০০০ বা ৫০,০০০ টাকা। কিন্তু ১% টার্নওভার ট্যাক্স অনুযায়ী তাঁকে দিতে হবে ১,০০,০০০ টাকা—যা তাঁর প্রকৃত লাভের চেয়েও বেশি!
মার্জিন কম যেসব ব্যবসায়: বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ে পণের হার (Margin) খুব কম (যেমন: ট্রেডিং, পাইকারি ব্যবসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য), সেখানে ১% ট্যাক্স ব্যবসায়ীর পুরো মুনাফা তো বটেই, এমনকি মূলধনও খেয়ে ফেলে।
সমন্বয় ও অডিটের চক্রাবর্ত:
-যদি অতিরিক্ত অগ্রিম কর (AIT) ফেরত চাইতে যান, তবে ১৮৩ ধারায় অ্যাসেসমেন্ট এবং অডিটের আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
-আর ফেরত না নিয়ে খাত সমন্বয় করতে গেলে হিসাব মেলাতে গিয়ে ২১২ ধারায় পুনারায় হিসাব উন্মোচনের (Reopening) জটিলতা তৈরি হয়।
সমাধানের সম্ভাব্য উপায় (যে বিষয়ে SRO বা নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন) রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য নীতি নির্ধারকদের কয়েকটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
-টার্নওভার ট্যাক্সের স্ল্যাব ও হার পুনর্নির্ধারণ: ক্ষুদ্র ও মার্জিনাল ব্যবসায়ীদের জন্য এই ন্যূনতম করের হার ১% থেকে কমিয়ে ০.২৫% বা ০.৫০% করা অথবা নির্দিষ্ট টার্নওভার পর্যন্ত (যেমন: ৫০ লাখ বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত) ন্যূনতম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
-প্রকৃত মুনাফার ওপর করের বাধ্যবাধকতা: টার্নওভার ট্যাক্স যেন ফাইনাল ডিসচার্জ বা ন্যূনতম বাধ্যবাধকতা না হয়ে সাধারণ নিয়মে প্রকৃত নিট লাভের ওপর কর পরিশোধের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
-অনলাইন রিটার্ন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন: অনলাইন পোর্টালে অটোমেটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট ও রিফান্ড ক্যালকুলেশনের সুবিধা প্রদান করা, যাতে নিরীক্ষা বা অডিটের অযথা ভয় ছাড়া ব্যবসায়ী নিজের প্রাপ্য ফেরত বা সমন্বয় করতে পারেন।
ব্যবসা টিকে থাকলে করদাতা বাড়বে, আর করদাতা বাড়লেই দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর করের বোঝা কমিয়ে আইনকে সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করাই এখন সময়ের দাবি।