06/09/2016
অনুপ্রেরণার আলো - ৪৭ (আমরা তিন)
Md Zakaria Haider
Mrinmoy Sarkar
Dhiman Chowdhury
আমাদের দলের প্রধান সদস্য ৩ জন... মৃন্ময় সরকার, মোঃ জাকারিয়া হায়দার, ধীমান চৌধুরী । আমাদের দলের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে International Robotics Challenge , Bangladesh Round এ অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে । কিন্তু শুরুটা আমাদের মোটেও ভাল ছিল না । ১৪ টা দলের ভিতর আমাদের দলের অবস্থান ছিল ১৪ তম । এর পরও দেশের অনেক জাতীয় রোবটিক্স প্রতিযগিতায় অংশ গ্রহন করলেও কখন বড় সফলতা আসে নাই ।সফলতার খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে অনেক বার ।প্রথম দিকে আমরা মূলত line Follower , Maze solver , Grid Solver জাতীয় রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করতাম । সব শেষে ২০১৫ সালে NASA Space App Challenge-2015 বাংলাদেশ রাউন্ডে 2nd Runner Up হবার মধ্য দিয়ে আমাদের সফলতার যাত্রা শুরু হয় । Robotics এর পাশাপাশি বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন প্রোজেক্টে নিয়ে কাজ করা শুরু করি ।
আমাদের দলের নাম দিশারী দেয়ার পিছনের একটা গল্প আছে। দিশারি নামটা এসেছিল মূলত দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের জন্য আমাদের একসাথে তৈরি করা স্বল্প মূল্যের ব্রেইল প্রিন্টারের নাম করণের মধ্য দিয়ে । আমাদের বিশ্বাস এই প্রোজেক্ট অন্ধদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে আলকবর্তিকার কাজ করবে । এই প্রোজেক্ট এর কারনে, আমরা গত বছর Microsoft Imagine Cup এর Bangladesh Round এ World Citizen Category তে 1st Runner Up হই। এই প্রোজেক্ট থেকে আমরা সবচেয়ে স্বীকৃতি পাই Young Bangla প্লাটফর্ম থেকে যেখানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের “জয় বাংলা Youth Award” প্রদান করেন। তাছাড়া Matlab এবং Element14 নামের দুইটি International Company থেকে আমরা এই প্রজেক্টের জন্য প্রশংসা পত্র পাই। ICT_EXPO -2015 তে এটি প্রদর্শিত করি। পরবর্তিতে IEEE ( The Institute of Electrical and Electronics Engineers ) থেকে এই প্রোজেক্টের development এর জন্য কিছু funding পাই, যা দিয়ে আমরা এখন এই যন্ত্রটির Development এর কাজ করে যাচ্ছি ।
রানা প্লাজা এর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে যখন আটকে থাকা মানুষের উদ্ধারের কাজ চলছিল, তখন বার বার আমাদের একটাই কথা মনে হচ্ছি, কেন আধুনিক কোন যন্ত্র আমাদের নেই যেটি ভিতরের ঐ মানুষদের অবস্থান গুল বাহিরে থাকা আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে । সব সময় ইচ্ছা ছিল এই রকম কিছু করার বা বানানোর যা দিয়ে আমরা এই সব পরিস্থিতিতে কিছুতা উপকার পেতে পারি।
সেই ধারনা থেকে আমরা তৈরি করেছিলাম “MAP EXPLORAR” রোবট যেটি ধ্বংস স্তূপের ভিতরে আটকে থাকা মানুষের অবস্থান বের করতে সাহায্য করবে। আমরা গত সেপ্টেম্বর মাসে 4th IEEE RAS International Robot PRIDE Competition এ অংশ গ্রহের আবেদন করি এবং প্রাথমিকবাছাই প্রক্রিয়া শেষে October মাসে Malaysia এর Langkawi final round এ অংশ নেওয়ার আমন্ত্রন পাই । আমাদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান , অস্ট্রেলিয়া ও মালয়শিয়ার মোট ১৭ টি দল অসাধারন সব প্রোজেক্ট নিয়ে অংশ নেয়। সেই প্রতিযগিতায় আমরা সাফল্যের সাথে GOLD Medal অর্জন করেছিলাম ।
এছাড়াও দেশ এবং দেশের বাহিরে বিভিন্ন International Conference এ আমাদের বিভিন্ন গবেষণাপত্র প্রকাশ হয় ।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একে বারে শেষ দিকে আমরা Humanitarian Robotics and Automation Technology Challenge -2016 তে অংশ গ্রহনের জন্য আবেদন করি । ৩য় বারের মত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে IEEE Robotics and Automation Society । প্রতিযোগিতাটি মুলত মাটির নিয়ে লুকিয়া থাকা Mine / Explosive Material সনাক্তকরন নিয়ে । আমাদের মুল কাজ Clear Path Robotics Company এর তৈরি করা একটা Customized HUSKY Robot কে প্রোগ্রাম করা যাতে সেটি মাটিতে লুকিয়ে রাখা Mine সনাক্তকরতে পারে । প্রাথমিক বাছাই শেষে উত্তীর্ণ দল গুলো সুযোগ পায় মুল প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের । এরপর প্রথম রাউণ্ড এ Qualify এর জন্য বিভিন্ন দল তাদের Project Proposal জমা দেয় । যাদের মধ্য থেকে প্রথম ১৫ টি দল সুযোগ পায় Second Round এ অংশ নেয়ার । দ্বিতীয় Round টি ছিল Simulation Round যা বেশ Challenging । যেখানে আমাদের ROS (Robot Operating System) ব্যবহার করে মূল Robot এর অনুরুপ একটা Virtual Robot কে প্রোগ্রাম করতে হয়েছে মূল প্রতিযোগিতার অনুরুপ একটা Virtual Field এ বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করার জন্য । এই Round টি ছিল সব চেয়ে দীর্ঘায়িত । প্রায় ৩ মাস ধরে চলা এই রাউন্ডের শেষে ৮ টি দল সুযোগ পায় ৩য় রাঊন্ডে অংশ নেয়ার যেটা ছিল Field Test Round । যেখানে উত্তীর্ন দল গুলোকে মূল Robot এর জন্য program করতে হয়। এই Field Test Roundটি অনুষ্ঠিত হয় University of Coimbra, Portugal এ । এই রাউন্ডে আমরা আমাদের Code গুলো Online এ Submit করতাম আর মূল Robot এ সেটি Load করে Field এ Mine Detection এর জন্য ছেড়ে দেয়া হত । এই Round শেষে মোট ৪টি দল সুযোগ পায় Grand Final এ অংশ নেওয়ার । Final Round টি মূলত Field Test Round এর মতই হবে। এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় মে মাসের ১৬-২১ তারিখ Sweden এর রাজধানী Stockholm এ, Robotics এর সব থেকে বড় Conference “International Conference on Robotics and Automation 2016” এর সাথে । ফাইনালে আমাদের সাথে India এর ২ টি এবং USA এর একটি দল অংশ গ্রহন করে । সেই ফাইনাল রাউন্ডে আমরা ৩য় স্থান । ১ম স্থান লাভ করে India এবং ২য় স্থান লাভ করে USA . চারটি দলের স্কোর বেশ কাছাকাছি ছিল এবং খুব অল্প ব্যবধানেই স্থানগুলো নিধারিত হয়েছিল । অংশগ্রহনকারী দলগুলোর ভিতর আমরাই সব থেকে জুনিয়র ছিলাম । প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রোবটিক্সের সব থেকে বড় কনফারেন্সে অংশ নেয়ার আমরা সুযোগ পাওয়া আর সেই সাথে সেখানে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করা Researcher দের সাথে আমাদের কথা বলার সুযোগ পাওয়াটা এক কথায় অনেক আনন্দের, যা ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য নির্ধারনে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।
প্রতিযোগিতার বিস্তারিত জানা যাবে –
http://www2.isr.uc.pt/~embedded/events/HRATC2016/Welcome.html
আর Conference এর বিস্তারিত জানা যাবে –
http://www.icra2016.org/
লেখক ফড়িংঃ- মৃণ্ময় সরকার