01/09/2025
একজন শিক্ষীতকে বলতে শুনলাম —"গুগল বা মাইক্রোসফটে চাকরি পেতে হলে আপনাকে দুই ঘণ্টায় একটা ওয়েবসাইট বানাতে জানতে হবে। কিন্তু বুয়েটের ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে—'স্যার, এখনো ডেটাবেস পড়ায়নি, পরের সেমিস্টারে পড়াবে।'
আরেকজনকে বলতে শুনলাম — “ধোলাইপাড় বা জিঞ্জিরায় যে কোন পাটর্স সহজে বানাতে পারে কিন্তু বুয়েটের ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলে এটা কিভাবে করে তার কোন উত্তর হয়তো তারা দিতে পাবে না বলবে কোনদিন এই মেশিন চালায়নি।
এমন কথা শুনলে হাসিও পায়, আবার ভয়ও লাগে।
কেন? কারণ উনি #স্কিল আর #জ্ঞান—এই দুইয়ের পার্থক্যটাই বোঝেন না।
স্কিল হলো দ্রুত কিছু বানাতে পারা, রিপিটিশন করে করে আয়ত্ত করা। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের দেশের হাজারো তরুণ ইউটিউব দেখে ওয়েবসাইট বানানো শিখেছে। ফাইভারে গিগ খুলে দুদিনেই কাজ শুরু করেছে। এগুলো অমূল্য দক্ষতা।
কিন্তু জ্ঞান (Knowledge) মানে হলো কেন এই ওয়েবসাইট কাজ করে, এর ব্যাকএন্ডে কেমন অ্যালগরিদম চলছে, ডেটা সিকিউরিটি কীভাবে হচ্ছে, কোন প্রোটোকল স্কেলেবল আর কোনটা নয়—এসব গভীর বোঝাপড়া।
আপনি কি ভাবেন, শুধু দ্রুত কোড লিখতে পারলে বা যে কোন পাটর্স সহজে বানাতে পারলেই , বা আপনাকে তাদের রিসার্চে নেবে? না। ওরা খোঁজে এমন মানুষকে—যারা নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পারবে, নতুন চিন্তা আনতে পারবে।
বাংলাদেশের জব মার্কেট: দ্বিমুখী চিত্র
এখনকার বাংলাদেশে একদিকে দেখা যায়—যুব বেকারত্বের হার ~৩০% (বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে), অন্যদিকে হাজার হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন পড়ে থাকে লোক না পাওয়ার কারণে। কারণ কোম্পানিগুলো শুধু স্কিল নয়, সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা খুঁজছে।
এখানেই আসে জ্ঞান আর স্কিলের সমন্বয়।
#মেধা_পাচার: কার লাভ, কার ক্ষতি
প্রতিবছর শত শত বুয়েটিয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী গ্র্যাজুয়েট চলে যাচ্ছে বিদেশে। MIT, Cambridge, Stanford–এর মতো জায়গায় তারা ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাচ্ছে। কেন? কারণ তারা ১০ মিনিটে গাড়ি বা ওয়েবসাইটের সমস্যা ধরতে পারে বলে নয়—বরং তারা মৌলিক জ্ঞান রাখে, গবেষণা করতে পারে, নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে।
ফল কী? একদিকে আমরা পাচ্ছি বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। কিন্তু অন্যদিকে দেশের ভেতরে নতুন প্রযুক্তি, নতুন স্টার্টআপ, নতুন গবেষণা সেন্টার গড়ে ওঠার গতি কমে যাচ্ছে। এটাই ব্রেন ড্রেইন।
বুয়েটের বিশ্বজোড়া সাফল্য:
১. ড. ফজলুর রহমান খান—যার নকশা ছাড়া আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপার কল্পনা করা যায় না।
২. প্রফেসর এ.কে.এম. ফজলে হুসাইন—যিনি যুক্তরাষ্ট্রের National Academy of Engineering-এর সদস্য।
৩. প্রফেসর সাঈফ সালাহউদ্দিন—UC Berkeley-তে Negative Capacitance গবেষণায় বিশ্বকে নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।
আরও অসংখ্য বুয়েটিয়ান এখন গুগল, ইন্টেল, মাইক্রোসফট, NVIDIA–তে কাজ করছেন।
প্রতিযোগিতায়ও তারা পেছনে নেই—ICPC World Finals 2023-এ BUET হয়েছে Asia West Champion।
আসল প্রশ্ন: আমরা কাকে মূল্য দিচ্ছি?
যদি আমরা শুধু হাতে-কলমে স্কিলকে মূল্য দিই, কিন্তু জ্ঞানকে উপহাস করি—তাহলে একদিন আমাদের মেধাবীরা সব বিদেশে চলে যাবে। দেশ হারাবে, বিদেশ পাবে।
কিন্তু যদি আমরা শিক্ষায় বিনিয়োগ করি, গবেষণায় ফান্ড বাড়াই, শিক্ষককে সম্মান দিই, এবং জ্ঞান + স্কিল মিলিয়ে নতুন প্রজন্ম তৈরি করি—তাহলেই বাংলাদেশ এগোবে।
দিনশেষে, ম্যাকানিকেল কাজের মূল্য আছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক আর উদ্ভাবকের কাজ ভিন্ন—তারা শুধু সমস্যার সমাধান করে না, নতুন দুনিয়া গড়ে।
#জ্ঞানVsদক্ষতা
#শিক্ষারমূল্য
#উদ্ভাবন
#গবেষণা
#বুয়েটিয়ান
#শিক্ষাইশক্তি
#মেধারমূল্যায়ন