12/05/2026
রিয়েল এস্টেট: আভিজাত্যের ব্যবসা নাকি সস্তা বিনোদনের মঞ্চ?
১. আভিজাত্যই যেখানে শেষ কথা
রিয়েল এস্টেট কেবল ইট-পাথরের দেয়াল বিক্রি নয়; এটি একটি 'Posh' বা রাজকীয় বিজনেস। এই খাতের উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে কর্মী—সবার মন-মানসিকতা, রুচি এবং পোশাক-আশাকে সেই আভিজাত্য থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি কোনো সাধারণ পণ্য বা 'আলু-পটলের' ব্যবসা নয়; এখানে আমরা ক্রেতার স্বপ্ন এবং তার সামাজিক মর্যাদাকে সংজ্ঞায়িত করি।
২. ব্র্যান্ডিং যখন 'টিকটক' সংস্কৃতিতে বন্দি
বর্তমানে রিয়েল এস্টেটের ভিডিও কন্টেন্টগুলোর অবস্থা দেখে মনে হয়, আমরা ফ্ল্যাট নয় বরং গরুর হাটে পণ্য বিক্রি করছি। কন্টেন্টের নামে যে ধরণের 'জোকারগিরি' চলছে, তাতে সাময়িক কিছু ভিউ হয়তো আসে, কিন্তু ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। অনেকে হয়তো ভাবছেন, "ব্র্যান্ড দিয়ে কী হবে? আমার তো নগদ বিক্রি চাই!" কিন্তু মনে রাখা জরুরি, সস্তা কন্টেন্ট দিয়ে দামি পণ্য বিক্রি করা দীর্ঘমেয়াদে অসম্ভব।
৩. অপেশাদারত্বের জয়জয়কার
সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, বড় বড় কোম্পানিগুলোও এখন খরচ বাঁচাতে প্রফেশনাল মডেল বা প্রেজেন্টারের বদলে অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে দায়সারা ভিডিও বানাচ্ছে। ফলে পুরো আউটপুটটি অত্যন্ত অপরিপক্ব এবং সস্তা মানের হচ্ছে। এতে কোম্পানির কয়েক টাকা সাশ্রয় হলেও, ব্র্যান্ড ভ্যালুর যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা তারা টের পাচ্ছেন না।
৪. সিনেমার অ্যাকশন বনাম রিয়েল এস্টেট
আজকাল অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা আরজে (RJ) সাহেবদের অ্যাকশন দেখে মনে হয় তারা ফ্ল্যাট দেখাতে নয়, বরং কোনো সিনেমার ভিলেনের আস্তানা উন্মোচন করতে এসেছেন। "হ্যালো বন্ধুরা" স্টাইলে রিয়েল এস্টেটের মতো সিরিয়াস ইনভেস্টমেন্টের ভিডিও বানানো কতটা যুক্তিসঙ্গত? এটা কি রিয়েল এস্টেট নাকি রাস্তার পাশের হালুয়া বিক্রির বিজ্ঞাপন?
৫. ভবিষ্যতের আশঙ্কা
মার্কেটিংয়ের এই নিম্নগামী ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমরা হিরো আলম বা ভাইরাল সেলিব্রেটিদের দিয়ে বাথরুম ফিটিংসের অ্যাড দেখতে পাব। তখন স্ক্রিনে উদয় হয়ে তারা বলবে— "হ্যালো গাইজ! দেখুন কী দারুণ কল!"
উপসংহার:
রিয়েল এস্টেট বিজনেসের সেই চিরচেনা আভিজাত্য আজ যেন আইসিইউ-তে। আমরা কি আসলেই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তুলছি, নাকি স্রেফ হাস্যরসের খোরাক হচ্ছি? পেশাদারিত্ব এবং আভিজাত্যের এই সংকটে উত্তরটা বোধহয় সময়ের হাতেই তোলা থাক।
(সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত)