21/11/2025
এবারের ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিটা বেশি জোরে কেন অনুভব করেছেন জানেন? কারণ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আপনার দেশের মধ্যেই—ঘোরাশাল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে।
ভূমিকম্প সাধারণত টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হয়, যেটাকে আমরা ফল্ট লাইন বলি। নিচের ছবিতে আপনি ফল্ট লাইন দেখতে পাচ্ছেন। লাইনের কাছাকাছি যেসব এলাকা থাকে, তারা দূরের এলাকার তুলনায় বেশি তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করে। এই কারণেই বাংলাদেশকে ৪টি seismic zone-এ ভাগ করা হয়েছে। সিভিয়ারিটির দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো জোন ৩ এবং জোন ৪, খেয়াল করলে দেখবেন—এই দুটি ফল্ট লাইনের কাছাকাছি।
আপনারা যারা মানচিত্রের জোন ৩ ও ৪-এ আছেন, তারা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সাবধান থাকবেন। ভূমিকম্পের সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব অনুভব করতে হয় এ অঞ্চলগুলোকেই।
আমরা যারা বিল্ডিং ডিজাইন করি, আমাদের প্রধান উদ্বেগ থাকে ভূমিকম্প। ভুমিকম্প নিয়ে শতসহস্র রিসার্চ এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে আমাদের বিল্ডিংয়ের এনালাইসিস করতে হয়। আপনি একটা এক তলা বাড়ি করলেও BNBC অনুসারে সেটাতেও সেই এনালাইসিস থাকা জরুরি। কোডে সেভাবেই গাইডলাইন দেয়া আছে।
দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে যারা ডিজাইন করে ব্যবসা চালান—বিশেষ করে ঢাকার বাইরে—তাদের অনেকেই earthquake analysis-এর মতো জটিল বিষয় তো দূরের কথা, সামান্য গ্রাভিটি লোডের হিসাবও ঠিকভাবে করতে জানেন না। অন্যদিকে যারা ভুমিকম্প সহনশীল করে বাড়ি ডিজাইন করে,ক্লাইন্ট তাদের ডিজাইন খায়না। এবারের ঝাঁকুনিতে আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন এর গুরুত্ব কতটা। মাত্র একটা ঝাকুনিই যথেষ্ট। তাই জীবনের সব জমানো পুজি দিয়ে বাড়ি করবেন, সেটার ডিজাইন কার থেকে করছেন এবং কিভাবে করছেন সে ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরী।
আপনাদের জন্য আর একটি সতর্কবার্তা বলি—ভূমিকম্পের কোন পূর্বাভাস পাওয়া যায়না সত্য, তবে অতীতের ইতিহাস বলছে বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প ঘনঘন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যেগুলো দেখছেন—এগুলো বড় ভূমিকম্পের একটি সম্ভাব্য আলামত। বাংলাদেশে বিগত ১০০ বছরে সিভিয়ার কোন ভুমিকম্প হয়নি,কিন্তু তার আগে প্রতি ১০-২০ বছর পরপরই বড় ভুমিকম্প রিপিট করতো। এই লম্বা সময় বড় ভুমিকম্প না হওয়াতেই মুলতঃ বিশেষজ্ঞরা বেশি চিন্তিত,কারন এর মানে বড় ভুমিকম্পের জন্য শক্তি জমা হচ্ছে ফল্ট লাইনে...
আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুক।
ধন্যবাদান্তে: সামস আল রিফাত