20/05/2026
আপনি যে পানি পান করছেন, সেটা কত বছরের পুরোনো জানেন?
আপনি কি জানেন—এইমাত্র যে পানিটুকু পান করলেন, তা কিন্তু কোটি কোটি বছর ধরে এই পৃথিবীতে ঘুরেফিরে আসছে। পৃথিবীতে নতুন করে কোনো পানি তৈরি হচ্ছে না...
কথাটা শুনে একটু অদ্ভুত বা অবিশ্বাস্য লাগতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি! আমাদের এই পৃথিবীতে নতুন করে কোনো পানি তৈরি হচ্ছে না। কোটি কোটি বছর ধরে একই পানি বারবার রিসাইকেল হয়ে, ঘুরেফিরে আমাদের গ্লাসে এসে পৌঁছাচ্ছে।
একটু ভাবুন তো—পৃথিবীর সব ড্রেনের নোংরা পানি, কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, আর সমুদ্রের সেই তেতো নোনতা পানি শেষমেশ কোথায় যায়? এগুলো যখন রোদের তাপে বাষ্প হয়ে আকাশের দিকে উড়তে শুরু করে, তখন প্রকৃতির বুকে ম্যাজিক ঘটে।
বাষ্প হওয়ার সময় পানি তার ভেতরের সব ময়লা, বিষাক্ত কেমিক্যাল আর লবণকে নিচে ফেলে রেখে একদম একা, হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। বিজ্ঞান যেটাকে বলে ‘ইভাপোরেশন’ বা বাষ্পীভবন। এরপর আকাশে সেই বাষ্পগুলো জমাট বেঁধে যখন মেঘ হয় এবং বৃষ্টি হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে, তখন তা আর নোংরা পানি থাকে না। সেটা হয়ে যায় ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা পৃথিবীর বিশুদ্ধতম পাতিত পানি (Distilled Water)!
আমাদের ঘরের ওয়াটার ফিল্টারের ক্যান্ডেল বা মেমব্রেন কয়েক মাস পর পরই পাল্টাতে হয়, জ্যাম হয়ে যায়। কিন্তু একটু ভাবুন তো—পুরো পৃথিবীর জন্য বসানো এই বিশাল ‘গ্লোবাল ফিল্টারিং সিস্টেম’ কোটি কোটি বছর ধরে কোনো জ্যাম বা বিরতি ছাড়া কে সচল রেখেছেন? কে এই নোংরা পানিকে নিখুঁতভাবে রি-সাইকেল করে প্রতিবার আমাদের তৃষ্ণা মেটানোর যোগ্য করছেন?
আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই জলচক্রের দিকে ইঙ্গিত করে আমাদের সরাসরি একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
“তোমরা কি সেই পানি দেখেছ যা তোমরা পান করো? তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, না কি আমিই তা বর্ষণ করি?”
— (সুরা আল-ওয়াকিয়াহ: ৬৮-৬৯)
সুবহানাল্লাহ! আমরা ফিল্টারের পানি বা বোতলের মিনারেল ওয়াটার কিনে ভাবি আমরা কত আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আছি। অথচ প্রতি ফোঁটা বৃষ্টির পানির পেছনে রবের যে কত বড় ইঞ্জিনিয়ারিং আর দয়া লুকিয়ে আছে, তা আমরা কজন টের পাই? সমুদ্রের নোনতা পানি যদি বাষ্প হওয়ার সময় লবণ আর ময়লা সাথে নিয়ে ওপরে উঠে যেত, তবে এই পৃথিবীতে আজ কোনো মিষ্টি পানির অস্তিত্ব থাকত না। কোনো জীব বাঁচতে পারত না।
পরের বার যখন এক গ্লাস পানি হাতে নেবেন বা বৃষ্টিতে ভিজবেন, তখন মন থেকে "আলহামদুলিল্লাহ!" বলতে ভুলবেন না যেন!
#সংগৃহীত