13/06/2026
পর্ব ২ঃ
🔷 ১০০% কটন নিট ফেব্রিক ডাইং: মূল ধারণা (Core Concept)
তুলা গাছ থেকে তুলা আসে, তারপর সুতা হয়ে কাপড় (নিট ফেব্রিক) তৈরি হয়। কিন্তু এই কাপড় সরাসরি রং করার উপযোগী নয়। কারণ, তুলার ভেতরে প্রাকৃতিক মোম (Wax), পেকটিন (Pectin), তেল, ধুলো, প্রাকৃতিক রঞ্জক (Natural Pigments) এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ (Minerals) থাকে। এগুলো অপসারণ না করলে Reactive Dye সঠিকভাবে ফাইবারের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধন (Covalent Bond) তৈরি করতে পারে না। ফলে Shade Variation, Poor Washing Fastness, Uneven Dye Absorption, Patchy Appearance এবং Reprocessing-এর মতো সমস্যা দেখা দেয়।
তাই Dyeing-এর আগে ফেব্রিককে একটি “Smooth, Clean and Highly Absorbent Canvas”-এ পরিণত করা অত্যন্ত জরুরি।
✪☞ ১. ডিমিনারেলাইজেশন (Demineralization):
কেন প্রয়োজন: সুতা বা ফেব্রিকে প্রাকৃতিকভাবে থাকা Calcium, Magnesium, Iron-এর মতো মিনারেল Reactive Dye-এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে insoluble dye-metal complex তৈরি করে। এতে রং নষ্ট হয়, Levelness খারাপ হয় এবং Soaping-এর পরেও Fabric দাগযুক্ত দেখায়।
➤ ➤ প্রসেস ডিটেইলস:
ফেব্রিক লোড করার পর পানির তাপমাত্রা ৫০-৫৫°C করা হয়।
নিচের কেমিক্যাল গুলো ব্যাচে যোগ করা হয়:
➤ Wetting Agent: ফেব্রিক দ্রুত ভিজানোর জন্য।
➤ Sequestering Agent: মিনারেল আয়নকে আটকে (chelate) নিষ্ক্রিয় করে।
২০-৩০ মিনিট রান করে সরাসরি Drain করা হয়। (সাধারণত স্কাওরিং-এর আগে এক্সট্রা ওয়াশের দরকার নেই, তবে হাই হার্ডনেসের ক্ষেত্রে ওয়াশ করে নেওয়া ভালো)।
✪☞ ২. Scouring & Bleaching (তেল-মোম ধোয়া ও সাদা করা)
কম্বাইন্ড প্রসেস: একই বাথে দুই কাজ করা হয়, সময় ও ইউটিলিটি বাঁচে।
সাধারণ ভাষায়:
কাঁচা কাপড়ের গায়ে প্রাকৃতিক মোম (wax), পেকটিন, তেল, এবং হালকা হলদেটে রং থাকে। এগুলো রং ধরতে বাধা দেয়। তাই প্রথমে Caustic Soda (NaOH, কস্টিক সোডা) দিয়ে তেল-মোম গলিয়ে ফেলা হয় (স্কাওরিং), তারপর হাইড্রোজেন পারক্সাইড দিয়ে প্রাকৃতিক রং সাদা করা হয় (ব্লিচিং)। এতে কাপড় স্পঞ্জের মতো পানি শোষণকারী (absorbent) ও উজ্জ্বল সাদা হয়।
➤ Caustic Soda (NaOH, কস্টিক সোডা): ক্ষার। এটি মোম ও চর্বিকে সাবানে রূপান্তর করে (স্যাপোনিফিকেশন) ধুয়ে বের করে দেয়। সুতার ফোলানো (swelling) বাড়িয়ে দেয়, পরে রং গভীরে যেতে পারে।
➤ Hydrogen Peroxide (H₂O₂, হাইড্রোজেন পারক্সাইড): গরমে ভেঙে অক্সিজেন বের করে, যা রঙের অনুকে ভেঙে সাদা করে। কিন্তু খুব গরমে এটি দ্রুত ভেঙে গিয়ে কাপড়কে পুড়িয়ে ফেলতে পারে (অক্সিডেটিভ ড্যামেজ), তাই প্রয়োজন Peroxide Stabilizer।
➤ Stabilizer (রক্ষক): এটি পারক্সাইডের ভাঙনের গতি ধীর করে, যাতে অক্সিজেন ধীরে ধীরে বেরিয়ে সমানভাবে ব্লিচিং হয়। সিলিকেট বা জৈব স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার হয়।
প্রসেস ডিটেইলস:
তাপমাত্রা ৪০°C: পানি নিয়ে নিচের কেমিক্যাল মেশানো হয়—
➤ Detergent/Wetting Agent
➤ Anti-creasing Agent
➤ Sequestering Agent
➤ ৬০°C তাপমাত্রা: Caustic Soda (NaOH) ৭ মিনিটে ডোজ করা হয় (Shade ও ফেব্রিক জিএসএম অনুযায়ী)।
➤ Peroxide Stabilizer: Peroxide Stabilizer যোগ করা হয়। H₂O₂ যাতে ৯৮°C-তে দ্রুত ভেঙে না যায় এবং ফেব্রিকের ক্ষতি না করে, আর সমান ভাবে ব্লিচিং হয়।
➤ ৭০°C তাপমাত্রা: Hydrogen Peroxide (H₂O₂ 50%) যোগ করা হয়।
➤ ৯৮°C তাপমাত্রা: ৬০ মিনিট রান করানো হয়। এই পর্যায়ে মোম, তেল অপসারিত হয় এবং প্রাকৃতিক রং সাদা হয়।
➤ ৭৮°C-তে ঠাণ্ডা: Absorbency (ড্রপ টেস্ট) ও Brightness (Whiteness Index) চেক করা হয়। ৭৮°C-তে নামিয়ে পানি শোষণের পরীক্ষা (এক ফোঁটা পানি ফেললেই টুপ করে টেনে নেবে) ও সাদা হওয়ার পরীক্ষা।
➤ Drain: পানি ফেলে দিয়ে ৮০°C-তে Hot wash (১০ মিনিট)।
➤ Neutralization: Organic Weak Acid (Acetic Acid)/Green Acid/Organic Acid Buffer দিয়ে pH ৬-৭ করা হয়। Organic Weak Acid (Acetic Acid)/Green Acid/Organic Acid Buffer দিয়ে ক্ষার নিষ্ক্রিয় করা → পারক্সাইড কিলার দিয়ে বাকি থাকা পারক্সাইড পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। (পারক্সাইড পেপার টেস্টে জিরো না এলে পরবর্তী এনজাইম মরে যাবে, ডাই নষ্ট হবে)।
➤ Peroxide Killer: অবশিষ্ট H₂O₂ ধ্বংস করতে এনজাইম বা রিডিউসিং এজেন্ট যোগ করে ১০ মিনিট রান। Peroxide Paper দিয়ে চেক করে নিশ্চিত হওয়া হয় যে পারক্সাইড জিরো। (পারক্সাইড থাকলে বায়োপলিশিং এনজাইম নষ্ট হবে, ডাইং-এ রং স্পট হবে)।
✪☞ পরবর্তী পর্ব গুলোতে বাকি প্রতিটি ধাপ এবং বাকি প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন Chemicals ব্যবহারের প্রক্রিয়া এবং প্রতিটা প্রক্রিয়াতে ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় pH স্থিতিশীল রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ - তা নিয়ে আলোচনা করবো।