19/09/2020
আলুটিলা হাতীর কবর, খাগড়াছড়ি
হাতির নামঃ ফুলকলি।
জন্ম আনুমানিক ১৯৫০ সালের দিকে।১৯৬২ সাল বা তার কিছুদিন আগে তৎকালীন সাব ডিভিশনাল অফিসার (মহাকুমা প্রশাসক) জনাব হাবিবুল ইসলাম এর সময়ে ফুলকলিকে খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের একটি ঐতিহ্য ছিল ফুলকলি।
মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ফুলকলিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্টেডিয়াম মাঠে নিয়ে যাওয়া হত। হাতির মাহুত ছিলেন আব্দুর রশিদ, চিন্তা হরণ। জনমানুষের সাথে ফুলকলির ছিল আত্মিক বন্ধন। ৭০ বা ৮০ এর দশকে যখন পাহাড়ে দুর্ঘটনা ঘটতো তখন দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িকে পাহাড়ের খাদ থেকে তুলতে ফুলকলিকে ব্যাবহার করা হতো। কিন্তু মর্মান্তিকভাবে পাহাড়ের খাদে পড়েই মারা যায় ফুলকলি।ফুলকলি যখন তার অবসর সময়ে আলুটিলা পাহাড়ের জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতো তখন ৫-৬ টি ইন্ডিয়ান পাহাড়ি জংলী হাতীর আক্রমনের শিকার হয়। সেই সময় আলুটিলা পাহাড়সহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ে হাতী ঘুরে বেড়াতো।ধারনা করা হয়ে থাকে ফুলকলি যখন আলুটিলা পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো তখন পাহাড়ী জংলী পুরুষ হাতিগুলো প্রজননের জন্য ফুলকলি কে আক্রমণ করে। এতে ফুলকলি মারাত্মকভাবে আহত হয়, বিশেষত তার বাম পায়ের পাতা আলাদা হয়ে যায়।ফুলকলি প্রায় ২.৫ মাস আসুস্থ ছিল। ফুলকলির চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হয়। তখন ফুলকলির চিকিৎসার সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করতেন সেই সময়ের কম্পাউন্ডার জনাব শশীবিন্দু চাকমা। ফুলকলির চিকিৎসার জন্য তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি ফাইল খোলা হয়। চিকিৎসার সময় ফুলকলিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে বেঁধে রাখা হতো। ফুলকলি প্রায় আড়াই মাসের চিকিৎসা শেষে পুনরায় ১৯৯০ সালের ২৭ জুলাই আলুটিলা পাহাড়ে গেলে এক ঝুম বৃষ্টির দিনে পাহাড়ের খাদে পড়ে যায়। সেই খাদে পড়ে থেকে আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে মারা যায়। পরে ক্রেন দিয়ে ফুলকলিকে কবরের স্থানে নিয়ে আসা হয় এবং সেই সময় সদর ইউ এন ও আজিজুল হক এর নির্দেশে গুচ্ছগ্রামের প্রায় ১০০ লোক মিলে ফুলকলির জন্য কবর খুঁড়ে এবং ফুলকলিকে কবর দেয়া হয়। সেই থেকে এই জায়গার নাম হয় হাতীর কবর। ফুলকলি মারা যাওয়ার সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ছিলেন জনাব খোরশেদ আনসার খান। জানা যায় জনাব খোরশেদ আনসার খান হাতীর পিঠে চড়ে রামগড় যেতেন।