27/04/2025
বাংলাদেশের মানুষের অ্যাভারেজ আইকিউ স্কোর ৭৪, যেখানে জাপানের মানুষের গড় আইকিউ স্কোর ১০৬.৪৮। বিশ্বের ২০০+ দেশের মধ্যে র্যাংকিং করা হলে বাংলাদেশের নাম পাওয়া যাবে ১৫০ এর পরে। মাথার ভেতরে মগজ নামের যে পদার্থটা জন্মসূত্রে আমরা পেয়েছি, সেটার ব্যবহারে আমাদের বড্ড কুণ্ঠা। কোথায় কী বলতে হবে, কোথায় কী করতে হবে, এবং কোথায় খানিকটা মগজ খাটিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিত হবে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাতে হবে- সেটা আমরা বুঝি না। আমাদের মানসিক দৈন্যতার নগ্নরূপ সামনে আসে প্রায়শই। শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, তেমনই নিজেদের মগজ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধও আমরা চেপে রাখতে পারি না।
দুটো মানুষ ভালোবেসে এক হয়েছেন। সম্ভব হলে তাদেরকে শুভকামনা জানান। মানুষ দুটোকে পছন্দ না হলে পুরো ব্যাপারটা এড়িয়ে যান। তারা তো কারো ক্ষতি করেননি। কিন্তু আমরা সেটা করি না। আমরা খুঁড়ে বের করি তাদের অতীত। আমরা ক্লিক কিংবা ভিউ'র আশায় চটকদার সব 'কন্টেন্ট' পরিবেশনের নেশায় মাতি। আমরা ভুলে যাই, সেলিব্রেটি হলেও তারা মানুষ, তাদের জীবনেরও কিছু 'প্রাইভেসি' দরকার। ঢাকার বিষাক্ত বাতাসের মধ্যে টিকে থাকা যতটা চ্যালেঞ্জিং, তারচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং এই বিষাক্ত মানসিকতার মানুষগুলোর মধ্যে টিকে থাকাটা।
আমরা এটাও ভুলে যাই, কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলানো বা নোংরামি করার অধিকার আমাদের নেই। তাহসান-রোজা এখানে একটা কেস স্টাডি মাত্র। আমাদের আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে কারোরই নিস্তার নেই। যে কোন সেলিব্রেটির জীবনের সুখকর কিংবা দুঃখময় অধ্যায়গুলোতে আমাদের আচরণ থাকে প্রচণ্ড টক্সিক। জাতি হিসেবে, মানুষ হিসেবে আমাদের মানসিকতা যে প্রচণ্ড রকমের বিষাক্ত, সেটার জানান আমরা দিয়ে যাই প্রতিটা ঘটনায়। শিক্ষার অভাব একটা জাতিকে কতটা নিচু স্তরে নামিয়ে আনতে পারে, রুচির দুর্ভিক্ষ মানুষকে কতটা নিকৃষ্ট বানাতে পারে, তারই প্রদর্শনী যেন হাজির হয় এই ঘটনাগুলোতে।