02/09/2025
🚧 বিশ্বের আর্দ্রতম চেরাপুঞ্জি সিংহাসনচ্যুত: ভারতের আর্দ্রতম স্থান এখন মহারাষ্ট্রের তামহিনি ও কর্নাটকের সুরলাব্বি....😲😲😲
🔸 ১৬৪ বছরের ইতিহাস এক ঝটকায় পাল্টে গেল। ১৮৬১ সাল থেকে বিশ্বের আর্দ্রতম স্থানের শিরোপা ধরে রেখেছিল মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও তার সংলগ্ন মৌসিনরাম। কিন্তু ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুমে সেই তকমা হাতছাড়া হলো উত্তর–পূর্ব ভারতের এই পাহাড়ি জনপদের। দেশের নতুন আর্দ্রতম স্থানের শিরোপা এখন মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের তামহিনি এবং কর্নাটকের কুর্গ জেলার সুরলাব্বির দখলে।
🔸 চেরাপুঞ্জির ইতিহাস:-
▪️ ১৮৬১ সালে প্রথমবার আবহাওয়া বিজ্ঞানের রেকর্ড বইয়ে ওঠে চেরাপুঞ্জির নাম। ওই বছর ২৬ হাজার ৪৬৭ মিমি (১০৪২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছিল, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, ১৯৯৫ সালের ১৬ জুন চেরাপুঞ্জিতে ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬৩ মিমি (৬১ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছিল, যা আজও বিশ্ব রেকর্ড। পরবর্তীতে নিকটবর্তী মৌসিনরামকেও “সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপ্রাপ্ত স্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
🔸 রেকর্ড ভাঙার বছর:-
▪️ ২০২৫ সালের বর্ষায় চেরাপুঞ্জির অবস্থাই সবচেয়ে করুণ। অগস্ট পর্যন্ত এখানে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশ। যদি সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ১৯০০ মিমি বৃষ্টি না হয়, তবে এ বছরের বর্ষা চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামের ইতিহাসে সবচেয়ে শুষ্ক মৌসুম হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। মেঘালয়ের ১১টি জেলার মধ্যে ছ’টিতে বৃষ্টির ঘাটতি ২০–৫৯ শতাংশ, দুই জেলায় ৬০ শতাংশের বেশি। ওয়েস্ট জয়ন্তিয়া হিলসে ঘাটতি পৌঁছেছে ৭৫ শতাংশে।
▪️ অন্যদিকে, দেশের পশ্চিম প্রান্তে একেবারে ভিন্ন চিত্র। মহারাষ্ট্রের তামহিনি এ বছর অগস্টের শেষ নাগাদ পেয়েছে ৭৮০০ মিমি–র বেশি বৃষ্টি, যার মধ্যে জুন–জুলাইতেই হয়েছে ৫৭৮৮ মিমি। কর্নাটকের সুরলাব্বি একই সময়ে পেয়েছে ৫৯৫১ মিমি বৃষ্টি। মৌসম ভবনের হিসাবে, এ বছর ভারতের অন্তত ৩২টি জায়গায় চেরাপুঞ্জির চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
🔸 কেন এই অস্বাভাবিকতা?
▪️ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চেরাপুঞ্জির পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং মৌসুমি বায়ুর জলীয়বাষ্প অরোগ্রাফিক লিফটের কারণে অতিরিক্ত বৃষ্টি ঘটায়। কিন্তু চলতি বছরে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই ‘সেভেন সিস্টার্স ফলস’ শুকিয়ে যাওয়া ছিল খারাপ লক্ষণ। এ বছর বর্ষায় সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হলো।
🔸 উদ্বেগের কারণ:-
▪️ চেরাপুঞ্জির মতো একটি জায়গা—যাকে পৃথিবীর আর্দ্রতম অঞ্চল হিসেবে সবাই জানে—সেখানে মেঘের এমন ঘাটতি বিজ্ঞানীদের গভীর চিন্তায় ফেলেছে। একদিকে যখন মরুভূমি সাহারা ও গোবিকে বাঁচাতে পারে এমন মেঘের ভাণ্ডার ছিল চেরাপুঞ্জিতে, অন্যদিকে আজ সেখানেই মেঘের হাহাকার।
✍️ ১৬৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালে ভারতের আর্দ্রতম স্থানের মুকুট গিয়েছে পশ্চিমঘাটের তামহিনি ও কর্নাটকের সুরলাব্বির মাথায়। ইতিহাসগর্ব চেরাপুঞ্জি সিংহাসনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে শুষ্কতার বোঝা বুকে নিয়ে।
🚧 যে সম্পর্কে আপনাদের মতামত নিশ্চয়ই কমেন্ট করে জানাবেন।।
🚧 এইধরনের নতুন নতুন তথ্যপূর্ণ পোস্ট পেতে হলে আমাদের পেজটিকে ফলো করবেন।।
゚