18/06/2026
লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়: মানব পাচার চক্রের সদস্য ও মানিলন্ডারিং মামলার আসামি গ্রেফতার
লিবিয়াভিত্তিক মানব পাচার চক্রের সদস্য রাব্বানী ফরাজী (৩৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃত আসামী- রাব্বানী ফরাজী (৩৫), পিতা: অলিয়ার ফরাজী, ঠিকানা: সাতবাড়িয়া, কালিয়া নড়াইল।
কোতোয়ালি (ডিএমপি) থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-১৩/০৪/২০২৬ খ্রি., ধারা- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৪)-এর এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বানী ফরাজীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রাব্বানী ফরাজী এবং তার ছোট ভাই রুবেল ফরাজী আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা তাদের বড় ভাই আউয়াল ফরাজী। তারা বাংলাদেশ থেকে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠাত। সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণের অর্থ আদায় করা হতো।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে রাব্বানী ফরাজী এবং তার ভাই রুবেল ফরাজী নিজেদের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানিক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন করেছেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা খুলনা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বিধিমালা অনুসারে আসামিদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নামে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানব পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস, অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ নিরূপণের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।