07/05/2016
আজ চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ
শনিবার, ৭ মে ২০১৬
কাগজ প্রতিবেদক : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ দফায় দেশের ৭২৪টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ শনিবার। উৎসবের সঙ্গে ভয় ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্য দিয়ে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। আর এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের ভোটসামগ্রী পৌঁছে গেছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে। সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আর্মড ফোর্স ও আনসারের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী। চতুর্থ ধাপে ৭৪০টি ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আগেই ১৫টি ইউপির নির্বাচন বিভিন্ন আইনি জটিলতায় স্থগিত ঘোষণা করে ইসি। আবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এলাকায় কাপড় বিতরণের জন্য কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ২নং সরসপুর ইউপির নির্বাচন গতকাল শুক্রবার স্থগিত ঘোষণা করে ইসি।
স্থানীয় সরকারের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচন উপযোগী প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২২ মার্চ ৭২১, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ ৬৪৩ এবং তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল ৬১৭টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। এ তিন দফা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অধিকাংশ ইউপিতে বিজয়ী হন। এ তিন দফা নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, নিহত হন ৩৭ জন। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রথম থেকেই জোর করে বুথদখল ও সহিংসতার অভিযোগ করে আসছে।
এবারে চতুর্থ পর্যায়ের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য ১২টি দলের মোট ৩ হাজার ২৪৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ সদস্যপদে ২৪ হাজার ১৮৭ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ৭ হাজার ১৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৩৩, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে ৯৮ এবং সাধারণ মেম্বার পদে ২২৭ জন জয়ী হয়েছেন।
এদিকে ভোট উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সকাল হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সব ধরনের ভোটসামগ্রী নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে যান। সঙ্গে থাকে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে র্যাব, বিজিবি, আনসার, আর্মড ফোর্স ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে মাঠে রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিট্রেটও।
এদিকে গত তৃতীয় ধাপে নির্বাচনে অনিয়ম সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবারে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ভোটকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সঠিক অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে শেরপুর সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের পর এবার শেরপুর-১ আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিককে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
গত বুধবার মধ্য রাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগের মধ্য রাত থেকে অর্থাৎ শুক্রবার দিনগত মধ্য রাত থেকে আজ মধ্য রাত পর্যন্ত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও অনুমোদিত সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তা শিথিল থাকবে। এ ছাড়া চিকিৎসা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে ব্যবহারের জন্য উল্লেখিত যানবাহন চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।
প্রকাশ্য প্রচারণা বন্ধ থাকলেও গতকালও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট ভিক্ষে ও দোয়া চাইতে দেখা গেছে তাদের। বাদ যাননি নারী প্রার্থীদেরও। তারা প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে প্রচার চালিয়ে গেছেন।
আর ভোট উপলক্ষে ভোটাররাও প্রস্তুত তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে। নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে জয়ী দেখতে চান তারা। নির্বাচন উপলক্ষে দেশের ৭২৪টি ইউপিতে যেমন আছে উৎসবের আমেজ, তেমনি রয়েছে সহিংসতারও আশঙ্কা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম হলে সে ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখাতে নির্দেশ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
তিনি জানান, ডিসি, এসপি, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সব কর্মকর্তাদের কঠোর হাতে নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। ভোটারদের নির্ভয়ে তাদরে ভোটাধিকার প্রয়োগেরও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ইউপি নির্বাচন একটা বিশাল নির্বাচন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের থেকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা একেবারেই হয়নি বললেই চলে। চতুর্থ ধাপের এই নির্বাচনে যাতে করে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না হয় এ বিষয়ে ইসি যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, গত দুই ধাপের চেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আপনারা নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে এসে নিঃসংকোচে ভোট দিয়ে যান। ভোটকেন্দ্রে আসতে কেউ বাধা দিলেই ব্যবস্থা নেব। কোনো দল বা বিশেষ ব্যক্তি বিবেচনায় না রেখে অনিয়মে জড়িত যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান এ কমিশনার।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২০ জন করে ফোর্স মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ইউপিতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রতিটি উপজেলায় একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। থাকছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে।
আগামীকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত মাঠে থাকছে পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডের ভ্রাম্যমাণ ও মোবাইল টিম। এ ছাড়া নির্বাচনী অপরাধের শাস্তি প্রদানে থাকবেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। সবমিলিয়ে নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ফোর্স মাঠে থাকছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাও নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।
ইসির সব আয়োজন সত্ত্বেও বিএনপিসহ মহাজোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সহিংসতা, বুথ দখলসহ নানা অনিয়মের আশঙ্কা আর উদ্বেগের অভিযোগ করা হয়েছে। অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নির্বিঘ্ন পরিবেশের আশ্বাস দিলেও এসব কারণে