23/07/2026
আয়কর আইন ২০২৩ এর ১৬৩ ধারায় সকল ধরনের ব্যবসার ওপর ১% টার্নওভার ট্যাক্স—ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এটি সত্যিই একটি ভয়ংকর ব্যবস্থা।
ধরা যাক, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রয় ৪০ লাখ টাকা। গত বছর তাঁর GP ছিল ১৫%। সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর কর দাঁড়িয়েছিল ৫,০০০ টাকা—তিনি ৫,০০০ টাকা কর দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলেন।
এবার ১% টার্নওভার ট্যাক্সের কারণে তাঁকে দিতে হবে ৪০,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, প্রকৃত কর ৫,০০০ টাকা হলেও অতিরিক্ত ৩৫,০০০ টাকা কর দিতে হবে।
এখন তিনি যদি বলেন—
“আমার অতিরিক্ত ৩৫,০০০ টাকা ফেরত দিন”—তাহলে ফেরতযোগ্য কর সৃষ্টি হবে, ১৮৩ ধারায় অ্যাসেসমেন্টের সম্ভাবনা তৈরি হবে, অডিটে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
আবার যদি বলেন—
“থাক, ফেরত চাইব না; পুরো ৪০,০০০ টাকাই হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করে নিই”—তাহলে তাঁর GP বেড়ে যেতে পারে।
আর GP বেড়ে গেলে পরের প্রশ্ন—
“এ বছর GP এত বেশি কেন? তাহলে গত বছর কম দেখিয়েছিলেন কেন?”
এরপর ২১২ ধারায় আগের বছরের হিসাব পুনরায় উন্মোচনের পরিকল্পনা শুরু হতে পারে!
অর্থাৎ—
কর দিলে সমস্যা,
কর ফেরত চাইলে আরও সমস্যা,
আর কর ফেরত না চাইলে ভবিষ্যতে নতুন সমস্যা!
এভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়তে থাকলে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ হারাবেন। উদ্যোক্তা কমবে, ব্যবসা সংকুচিত হবে—আর দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিক্রয় কখনোই লাভ নয়। করব্যবস্থার উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায়; কিন্তু রাজস্বের স্থায়ী ভিত্তি হলো ব্যবসা ও উদ্যোক্তাকে বাঁচিয়ে রাখা। ব্যবসা বাঁচলে রাজস্ব বাড়বে। উদ্যোক্তা বাঁচলে করদাতা বাড়বে।
নির্বিচারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সব ব্যবসার বিক্রি বা টার্নওভারের উপর ১% কর বসাই দিলে কি, প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ে কি এত টাকা লাভ হয়???
অবাস্তব আইন করে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে,তাহা দ্রুত সময়ে এস আরও দিয়ে এবং অনলাইন আপডেট দিলে উপকৃত হবেন সকলে,
পরামর্শ আমাদের, সিদ্ধান্ত আপনাদের।💥