16/07/2020
এই করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় ফেস মাস্ক পরা খুব জরুরী এবং উপকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সবাই প্রতিদিন মাস্ক পরে আমাদের জীবিকা নির্বাহে বাসা থেকে বাইরে বের হচ্ছি। তাই এই ফেস মাস্কের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে এবং এজন্য অনেকেই এই মাস্ক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু যে কারনে এই মাস্ক পরা সে কাজ আদৌ হচ্ছে কিনা সেটা আমরা জানিনা। কারণ অনেকে এটাকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে এবং আজকাল আমরা যে মাস্কগুলো কিনে ব্যবহার করছি তার অনেকগুলোই ভেজাল মাস্ক।
মুলত সার্জিক্যাল মাস্ক এর ৩টি (তিন) লেয়ারই নন-ওভেন ফেব্রিক এ মেল্টব্লন প্রসেসিং করে তৈরি। কিন্তু এখন মাস্কগুলো স্পুনবন্ড (Spunbond) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নন-ওভেন এবং পিপি (Polypropylene) সংমিশ্রণ থেকে তৈরি করা এবং মাঝখানে ব্যবহৃত লেয়ারটি নন-ওভেন ফেব্রিক এ মেল্টব্লন (Meltblown) প্রসেসিং করে তৈরি যা ফিল্টারিং করে। এবং ১ম ও ৩য় লেয়ারটি শুধুমাত্র স্পুনবন্ড পিপি নন-ওভেন (PP Non-woven) ফেব্রিক। এ কারনে এই ম্যাটেরিয়াল গুলি Spunbond-Meltblown-Spunbond (SMS) ফেব্রিক নামেও পরিচিত।
কিন্তু আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা লাভের আশায় ২য় লেয়ারটি মেল্টব্লন ফেব্রিক ব্যবহার না করে ২য় এবং ৩য় লেয়ারটি একইরকম ব্যবহার করছে, যা নন-ওভেন ফেব্রিক এতে কোনো ধরনের ফিল্টারিং হচ্ছে না এবং আমরা যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছি সেটা অর্জিত হচ্ছে না। আমরা এইসব মাস্ক কিনে শুধুমাত্র অসাধু ব্যবসায়ীদের লাভবান করছি এবং না জেনেই মূলত এসব ভেজাল মাস্ক ব্যবহার করছি।
সার্জিক্যাল মাস্ক এ ৩টি (তিন) লেয়ার থাকে:
১ম লেয়ারটি হচ্ছে Fluid Resistance যা তরল পদার্থ, যেমন লিকুইড ড্রপ লেট, স্প্ল্যাস, স্প্রে বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশে বাধা দেয়। ১ম লেয়ারটি পিপি নন-ওভেন ফেব্রিক। এটি নীল, গোলাপি রং এর হয়ে থাকে।
২য় লেয়ারটি হচ্ছে ফিল্টারিং লেয়ার, যেটা মূল লেয়ার হিসেবে কাজ করে। এটা নন-ওভেন মেল্টব্লন ফেব্রিক যেটাতে আগুন লাগালে আগুন লাগবে না কিন্তু পুরে যাবে / গলে যাবে। এই লেয়ারটিকে BFE (Bacterial Filtration Efficiency) লেয়ার বলে। যার মিনিমাম ফিল্টারেশন রেট হচ্ছে ৯৫%। মেল্টব্লন ফেব্রিক না হলে এটাতে আগুন ধরে পুড়ে যাবে। এটি ৩য় লেয়ার থেকে উজ্জ্বল সাদা রং এর হয়।
৩য় লেয়ারটি হচ্ছে নন-ওভেন ফেব্রিক দিয়ে তৈরি যা সফট / নরম হয়। এটিও সাদা রং এর হয় কিন্তু ২য় লেয়ার থেকে কম উজ্জ্বল।
মনে রাখবেন, একটি মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না। নিয়ম অনুযায়ী একটি মাস্ক ২ ঘণ্টার চেয়ে বেশি পরে থাকা যায় না। কোন কোন ভাল মানের মাস্ক একটানা ৮ ঘন্টার বেশি পরা ঠিক না। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো আর বার বার এই মাস্ক পরিবর্তন করা সম্ভব না। কাজেই সর্বোচ্চ এক দিন ব্যবহার করবেন এবং ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে না ফেলে রোগ জীবাণু যেন না ছড়ায় সেভাবে ডাস্টবিনে ফেলুন।