22/07/2025
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা:
গতকাল (২১শে জুলাই, ২০২৫) উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি প্রশিক্ষণ বিমান আকস্মিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হওয়ায় যে ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা হারিয়েছি ৩১জন নিরীহ প্রাণ, যাদের মধ্যে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিমানের পাইলটও রয়েছেন। এছাড়াও, শতাধিক মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই শোকের সময়ে নিহত ও আহতদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা, সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করছি।
প্রতিদিনের মতো গতকালও হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস। হাসিখুশি মুখে জ্ঞান অর্জনের এই পবিত্র প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয় এক ধ্বংসস্তূপে। বেলা ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান আকস্মিকভাবে স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দ আর আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষেই গ্রাস করে নেয় সব স্বপ্ন আর সম্ভাবনা। যারা বেঁচে আছেন, তাদের মনেও হয়তো রয়ে গেল গভীর ক্ষত। এই দুর্ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও শহীদ হয়েছেন। তার প্রচেষ্টা ছিল বিমানটিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
এই দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের ওপর নেমে এসেছে এক অবর্ণনীয় শোকের ছায়া। বিশেষ করে, যে শিশুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল, তাদের অকালে ঝরে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। অনেক আহত শিক্ষার্থী গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও শোকাচ্ছন্ন। সরকার ইতিমধ্যে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং নিহত ও আহতদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, এমনকি ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হতাহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রক্তদান কর্মসূচিসহ নানাভাবে মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা আশা করি, এই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের প্রধান কর্তব্য। এই কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও সংহতিই আমাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন। আসুন, আমরা সকলে মিলে এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াই এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।
এই শোক আমাদের সম্মিলিত শক্তি হয়ে উঠুক, যাতে আমরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারি।🔳