01/11/2025
বেশি না, মাত্র দু'দিনে দু'হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছে। রক্তের বন্যা বয়ে গেছে আক্ষরিক অর্থেই। সেসব খুন করা হয়েছে হাসতে খেলতে, শখের বশে। খুন করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তবুও করেছে।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব এই খুনকে রুয়ান্ডার গণহত্যার প্রথম দিনের সঙ্গে তুলনা করেছে। এত বেশি রক্তপাত হয়েছে যে স্যাটেলাইটে মাটির রঙ পরিবর্তিত হয়ে গেছে সেটা পর্যন্ত ধরা পড়েছে।
সেখানে দুই বছরে খুন হয়েছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। বর্তমান পৃথিবীতে এটাই সম্ভবত চলমান সবচেয়ে ভয়ংকর গণহত্যা। যেখানে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সংখ্যা যোগ হচ্ছে।
সুদান। আফ্রিকার একটা অত্যন্ত গরীব দেশ। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশের অবস্থা করুণ। দুর্ভিক্ষ চলছে দেশের অনেক অংশে। এই গৃহযুদ্ধ যাদের মধ্যে চলছে এদেরই এক পক্ষ আরএসএফ। যারা অধিকাংশ খুনের জন্যে দায়ী।
প্রশ্ন উঠতে পারব এত মানুষ খুন হচ্ছে, এত গোলাবারুদ দিচ্ছে কে? দিচ্ছে আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মুসলিম দেশগুলোর চেয়ে জঘন্য দেশ দুনিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরা টাকার জন্যে নিজের মায়ের গলা কাটতেও দ্বিধা করবে না। দুবাই থেকে প্লেনে অস্ত্র যায় আরএসএফের কাছে। আরএসএফ বিনিময়ে কী দেয়?
সোনা দেয়। টন টন সোনা আসে সুদান থেকে। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত সোনার খনি থেকে যত সোনা উত্তোলন করা হয় সব উড়ে চলে যায় দুবাই। শুধু সোনা পাওয়ার লোভে লাখ লাখ মানুষ হত্যায় কুত্তামিরাত সহায়তা করছে। সাথে বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাধরদের নানা হিসাব কিতাব তো আছেই।
সুদানিরা কালো। গরীব। আফ্রিকান দেশ। তাই এত বড়ো গণহত্যা হওয়ার পরেও খুব বেশি উচ্চবাচ্য নেই দুনিয়া জুড়ে। কালোদের জন্মই হয়েছে অন্যের হাতে নিপীড়িত হওয়ার জন্যে। খুন হওয়ার জন্য। আদিকালে দাস ব্যবসা চলত। এখনও চলে। সেটা সভ্যতার আবরণ চাপিয়ে দিয়ে পর্দার আড়ালে। এই আর কী।
আমিরাত হোক বা পশ্চিমা দেশ, নিজেদের প্রয়োজনে রক্তের বন্যা বইয়ে দিলেও সেটা অন্যায় না। কিন্তু গণহত্যার বিরুদ্ধে যদি কেউ দাঁড়িয়ে যায়, সে হয়ে যায় সভ্যতার শত্রু।
আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত দান করুক এবং মুসলমানকে ঐক্য হওয়ার তৌফিক দান করুক.©️..