27/02/2023
সাম্প্রতিককালে তুরস্কে যে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে অসংখ্য মানুষ মারা গেল, তার পিছনে কি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ এককভাবে দায়ী?!!!
উ: অবশ্যই না।
সেখানে বিল্ডিং তৈরি করতে যে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল তা কোনভাবেই ভূমিকম্প সহনীয় সামগ্রী ছিল না! নিচের ছবিটি দেখলেই তা স্পষ্ট হবে। সেখানে যদি ভূমিকম্প সহনীয় ভালো মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হতো তাহলে তাদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক অনেক কমে যেত। আমাদের বাংলাদেশও যেহেতু একটি "ট্রিপল জংশন প্লেটের হটস্পট" এর মধ্যে ভৌগলিকভাবে অবস্থিত সেহেতু আমাদের দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই আমাদের উচিত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনা করা। এজন্য বাড়ি বা কোন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাথরকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাথরকে আসলে নির্মাণ সামগ্রীর রাজা বলা হয় নিচের তথ্যগুলো জানলেই আমরা বুঝতে পারবো সেটি কেন বলা হয়।
পাথর হলো খুবই শক্ত, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী সামগ্রী । পাথর প্রাকৃতিক উপায়ে গঠিত জটিল রাসায়নিক যৌগবিশেষ । বহুবিদ খনিজ সামগ্রী দীর্ঘমেয়াদি প্রাকৃতিক তাপ, চাপ ইত্যাদির প্রভাবে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জমাটবদ্ধ হয়ে পাথরের উৎপত্তি ঘটায় । বহুবিধ খনিজ পদার্থের জটিল রাসায়নিক যৌগই পাথর ।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস-এ নির্মাণসামগ্রী পাথরের গুরুত্ব:
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস এ পাথর খু্বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস এ পাথরের বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । মানুষ আদিকাল থেকে পাথর ব্যবহার করে আসছে । প্রস্তর যুগের মানুষ পাথরকে আত্মরক্ষা ও পশু শিকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত । কালক্রমে এ পাথর নির্মাণের প্রধান উপকরণ এ পরিণত হয় । সড়ক, সেতু, ইমারত ইত্যাদি নির্মাণকার্যে পাথর ব্যবহার করা হয় । যেসকল পাথর আকৃতি প্রদত্ত শিলা হতে সংগৃহীত, দৃঢ়, শক্ত, সমসত্ত্ব, অগ্নিরোধী, ক্ষয়রোধী, টেকসই, ওজনে ভারি, আকার-আকৃতিসম্পন্ন এ জাতীয় পাথরই নির্মাণ পাথর । নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী সমূহের মধ্যে পাথরের ন্যায় স্থায়িত্বশীল সামগ্রী অন্য আর একটিও নেই বিধায় পাথরকে নির্মাণ উপকরণের রাজা বলা হয় ।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস এর পাথরের নাম ও ব্যবহার:
১.গ্রানাইট: ভিত্তি নির্মাণ, পিলার, ইমারত, ব্রিজ, পিলার, রেলপথের ব্যালাস্ট, রাস্তার খোয়া, কারুকার্য ইত্যাদি।
২.ট্রাপ ও ব্যাসাল্ট: ভিত্তি নির্মাণ, কংক্রিটের খোঁয়া, কৃত্রিম পাথর তৈরি, পেভিং ।
৩.বেলে পাথর: ইমারত নির্মাণ, রাস্তার খোয়া, যাঁতা ও শানপাথর ।
৪.চুনাপাথর: চুন ও সিমেন্ট তৈরি, রাস্তার খোয়া, রেলপথের ব্যালাস্ট, ইমারত ।
৫.শেল: খেলনা, সিরামিক ।
৬.নিস ও সিস্ট: পেভিং এর কাজ, গাঁথুনির কাজ ।
৭.ল্যাটারাইট: রাস্তার খোয়া, ছোট খাটো নির্মাণ ।
৮.কোয়ার্টজাইট: ঠেস দেয়াল, এপ্রোন, রিভিটমেন্ট, খোয়া ।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস এ নির্মাণ পাথরের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
নির্মাণ কাজে ব্যবহার উপযোগী উত্তম পাথরের গড়ন ও গঠনশৈলী নিখুঁত হবে । এর পর্যাপ্ত কাঠিন্য, ঘাতসহনীয়তা, শক্তি, ক্ষয়রোধ ক্ষমতা, আগুন-তাপরোধক ক্ষমতা ও কার্য সুবিধা থাকবে এবং তরল খুবই নগন্য হবে । এগুলোতে ছিদ্র খুবই কম থাকবে এবং ভারী হতে হবে। এগুলো আকর্ষণীয় বর্ণের সৌন্দর্যবর্ধন হতে হবে।
১.পাথরের গঠনশৈলী: পাথরের উৎপত্তিতে যে প্রক্রিয়ায় পাথরের কণাগুলি সন্নিবেশিত হয় ঐ প্রক্রিয়ার উপর পাথরের গঠনশৈলী নির্ভর করে ।
২.আপেক্ষিক গুরুত্ব ও ঘনত্ব: পাথরের মোট ওজনকে তার মোট আয়তন দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্ব পাওয়া যায় । অধিক ঘনত্বের পাথরের আপেক্ষিক গুরুত্বও অধিক হয় এবং শক্তিও অধিক হয় ।
৩.পাথরের কাঠিন্য, ঘাতসহন ক্ষমতা ও শক্তি: যে পাথর দ্বারা অন্য পাথরের উপর আঁচড় বা দাগটানা যায়, তার কাঠিন্য অধিক ।
৪.পাথরের ক্ষয়রোধ ক্ষমতা: যে পাথর ঘর্ষণে কম ক্ষয় প্রাপ্ত হয় তা রাস্তা তৈরির সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার হয় ।
৫.বাহ্যিক অবয়ব ও বর্ণ: সাম্য বর্ণের পাথর সাধারণত শক্তিশালী ও স্থায়ত্বশীল । কারুকার্য, স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য পাথরের এ-জাতীয় গুণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
৬.তরলের প্রবেশ্যতা: পাথরের ভিতর দিয়ে তরল পদার্থের প্রবাহ দুর্বল পাথর নির্দেশ করে অর্থাৎ রন্ধ্রযুক্ত পাথরের ভিতর দিয়ে তরল পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে । উত্তম পাথর তরল অপ্রবেশ্য হবে ।
৭.পাথরের তাপসহন ক্ষমতা: পাথর তাপ কুপরিবাহী । তাই বিল্ডিং তাপের প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় না বরং তাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এর ফলে বিল্ডিং শীতকালে গরম এবং গরমকালে শীতল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
Modified by:
Dinajpur Stone Repository.
পিডিবি মোড়, দিনাজপুর সদর।
01717506669