এসো কম্পিউটার শিখি

এসো কম্পিউটার শিখি Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from এসো কম্পিউটার শিখি, Business service, Nawabganj, Dianjpur, Dinajpur.

12/07/2016

অপারেটিং সফটওয়্যার

কম্পিউটার চালাতে গেলে শুধু হার্ডওয়্যার দিয়ে কাজ হবেনা বা চলবে না, এর সাথে চাই উপযুক্ত সফটওয়্যার। কম্পিউটারকে প্রাথমিকভাবে চালু করার জন্য বেশ কয়েকটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। তবে তার মধ্যে যে সফটওয়্যারটি সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত সেটার নাম হচ্ছে ডিস্ক অপারেটিং সিষ্টেম বা সংক্ষেপে ‘ডস’।মাত্র কয়েক বছল আগেও এই ডস-এর সাহায্যে কম্পিউটার ওপেন করে ডস ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হতো। কিন্তু আমরা ভাগ্যবান,কারণ আধুনিক বিজ্ঞানের প্রচেষ্টায় আমরা এমন একটি সফটওয়্যার পেয়েছি যেটা ডসের সাহায্যে চালু হলেও পরবর্তীতে এই সফটওয়্যারটি ডসের মতই কাজ করতে পারে। এর অধীনের চমৎকার সব এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। এই সফটওয়্যারটির নাম হচ্ছে ‘উইন্ডোজ’। আমেরিকার সর্ববৃহৎ ও বিখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এর আবিষ্কর্তা। উইন্ডোজ হচ্ছে এক ধরণের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম বা অপারেটিং সফটওয়্যার। তবে এর সাথে সিষ্টেম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডাটা থাকে বলে একে অন্য কথায় সিষ্টেম সফটওয়্যারও বলা হয়ে থাকে। এর অধীনে রয়েছে অসংখ্য এ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার। সর্বপরী উইন্ডোজের রয়েছে এক চমৎকার যাদুকরী কার্যক্ষমতা।মাইক্রোসফট কর্পোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি সর্বপ্রথম ১৯৮৫ সালে উইন্ডোজের একটি প্রাথমিক প্রোগ্রাম তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। সে সময় ঐ প্রোগ্রামের ছিল অনেক বাধ্যবাধকতা। সেজন্য ওটা জনপ্রিয় হতে পারেনি। পরবর্তীতে উক্ত সফটওয়্যারটি কিছু পরিমার্জন করে নতুন ভার্সন হিসেবে ১৯৮৭ সালে বাজারে আসে উইন্ডেজ ২.০১ ভার্সন। তারপর ১৯৯০ সালে উইন্ডোজ ৩.০ ভার্সন, ১৯৯২ সালে ৩.১ ভার্সন, ১৯৯৩ সালে ৩.১১ ভার্সন। এভাবে একের পর এক ভার্সন বদলে উইন্ডোজের কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠলো বিশাল আর স্বাচ্ছন্দময়। কিন্তু তখনও উইন্ডোজ প্রোগ্রামটি সরাসরি কম্পিউটারে চালানো যেত না। প্রথমে ডস এর মাধ্যমে কম্পিউটার ওপেন করে তারপর উইন্ডোজ চালু করতে হতো। ১৯৯৫ সালে ঘটে যায় শতাব্দীর সেরা ঘটনা। সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের নির্মাতা বিল গেটস নামের এক বিজ্ঞানী উইন্ডোজের সম্পূর্ণ নতুন ভার্সন বাজারে ছাড়লেন, নাম দিলেন উইন্ডোজ ৯৫। এই সফটওয়্যারটির বৈশিষ্ঠ্য হলো এটাকে চালতে ডসের প্রত্যক্ষ সহায়তা লাগে না।কম্পিউটার প্রাথমিকভাবে ডস চালু করবে বটে তবে সেটা অনেকটা প্রচ্ছন্নভাবে, মূল কাজটা করবে উইন্ডোজ।সুতরাং ব্যবহারকারী কম্পিউটার ওপেন করলেই সরাসরি উইন্ডেজের ডেস্কটপে উপস্থিত হতে পারবে। আর এর অধীনের এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারেও আনা হলো বেশ কিছু পরিবর্তন। ফলে একজন সাধারণ বা নতুন কোন ব্যবহারকারীর পক্ষেও কম্পিউটারে কাজ করার পরিবেশে কোন সমস্যা থাকলো না। উইন্ডোজ ৯৫ ভার্সন নিয়ে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তার সফল যাত্রা শুরু করলেও প্রায় প্রতিবছরই পুরাতন উইন্ডোজের ভার্সনকে আরও কিছু সুবিধা যোগ করে নতুন নতুন ভার্সন বাজারে আসতে থাকে। তবে যে ভার্সনই থাকুক না কেন, অপারেটিং সিষ্টেমে কোন পরিবর্তন হয় না। অর্থাৎ যে ব্যবহারকারী যে ভার্সনই ব্যবহার করুক না কেন, ব্যবহারকারীর কাজের কোন অসুবিধা হবে না। বর্তমানে বাজারে উইন্ডোজের অনেক আপগ্রেড ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে এবং তা জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উইন্ডোজ এক্সপি, ভিস্তা, উইন্ডোজ সেভেন, এইট ইত্যাদি। ভাবতেও অবাক লাগে, শুধু এই উইন্ডোজ সফটওয়্যার বিক্রি করেই বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের মালিক বিল গেটস।

05/07/2016

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?

আমরা এখন জেনে নেব কিভাবে আমাদের এই কম্পিউটার নামের যন্ত্রটি আমাদের নির্দেশ মত সব কাজ করে দেয়।আমরা যখন কম্পিউটারের কীবোর্ড থেকে একাট কী চাপ দিচ্ছি প্রায় সাথে সাথেই মনিটরের পর্দায় ফুটে উঠছে আমাদের কাংখিত সেই অক্ষর বা সংখ্যা।মজার ব্যাপর হলো কম্পিউটার কিন্তু আমাদের চেনা জানা কোন অক্ষর বা সংখ্যা কিছুই বোঝে না। তার কাছে মাত্র দু’টো সংখ্যা পরিচিত। সেটা হলো-‘১’ এবং ‘০’। এই ১ এবং ০ এর সাহায্যে কম্পিউটার আমাদের যাবতীয় তথ্য বা নির্দেশকে মনিটরের পর্দায় ফুটিয়ে তোলে।আবার এই ০ আর ১ সংখ্যার মানেও কিন্তু কম্পিউটারের কাছে ভিন্ন রকম।কম্পিউটার বোঝে ০ মানে ‘না’ এবং ১ মানে ‘হ্যাঁ’, অন্য অর্থে ০ মানে অফ(বন্ধ)এবং ১ মানে অন(চালু)। ধরা যাক, একটি বৈদ্যুতিক টেবিল ল্যাম্প এবং এর একটা সুইচ আছে। যখন সুইচ অন করা হবে বাতি জ্বলবে, আবার অফ করা হলে বাতি নিভে যাবে। ব্যপারটা এমন হয় বাতি জ্বলবে না হয় নিভে যাবে এর মাঝখানে কোন পথ বা ব্যবস্থা নেই।ঠিক এমনই একটি নিয়মের মধ্যে থেকে কম্পিউটার তার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে।হয় সে অফ বুঝবে নাহয় অন বুঝবে। অর্থাৎ হয় ০ বুঝবে নাহয় ১ বুঝবে এর বাইরে বা মাঝখানে কোন কিছুই বোঝেনা আমাদের কম্পিউটার।কম্পিউটারের ভাষায় এই দু’টো সংখ্যাকে বলা হয় বাইনারী সংখ্যা।টেবিল ল্যাম্পের জ্বলাকে বাইনারী ১ এবং নিভে যাওয়াকে বাইনারী ০ ধরে নিলে ব্যাপারটা এমন হয়- ০ বাইনারী সংখ্যা = না = অফ এবং ১ বাইনারী সংখ্যা = হ্যাঁ = অন। কল্পনাতীত ব্যপার যে, কম্পিউটার যখন চালু অবস্থায় থাকে, তখন তার ভেতরকার ছোট্ট সিলিকন চিপসের উপর বসানো মাইক্রোপ্রসেসরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহ। এই প্রবাহ বয়ে চলার সময় সৃষ্টি করে নানা ধরণের স্পন্দন- ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয় পালস।আর এই পালস থেকে তৈরি হয় সয়কেত বা কোড। এই কোড নম্বরকে বলা হয় এসকি বা এসকাই কোড।কম্পিউটার সোজাসুজি কোন অক্ষরকে চিনতে পারে না বা চিনতে দেওয়া হয়না তাকে। প্রতিটি সংখ্যা বা অক্ষরের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা কোড। এই কোড নম্বর আবার ঐ ০ আর ১ দিয়েই তৈরি। কীবোর্ডের প্রতিটি অক্ষর বা সংখ্যার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ভাবে সাজানো আটটি বাইনারী সংখ্যা-যা দিয়ে তৈরি হয় একটি কোড। মজার ব্যাপার হলো,পালসের এই যাবতীয় সংকেত সৃষ্টি করে কিন্তু চিপসের উপর বসানো ঐ ট্রানজিষ্টারগুলো।এই ট্রানজিষ্টারগুলো সাধারণত: টেবিল ল্যাম্পের অন-অফ সুইচের মত কাজ করে। অর্থাৎ কখনো সার্কিটে বহমান বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় আবার কখনো তা চালু করে দেয়।সেকেন্ডে প্রায় দশলক্ষ বারের চেয়েও দ্রুত গতিতে এই কাজ করতে থাকে ট্রানজিষ্টারগুলো। আর এর মাধ্যমেই কম্পিউটার চিনে নেয় বাইনারী সংখ্যা ০ এবং ১ কে। এ প্রসঙ্গে আরও একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার হবে।টেলিফোনে যখন কোন দুজন গ্রাহকের মধ্যে কথপোকথন হয় তখন কি ঘটে? একপ্রান্ত থেকে কথা বলার সাথে সাথে অপরপ্রান্তে বসে তা শোনা যায়। এই বলা এবং শোনার মধ্যে ঘটে যায় অনেক কিছুই যা আমরা বুঝতেও পারি না।একপ্রান্তের গ্রাহক কথা বলার সাথে সাথে কথাগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎপ্রবাহে বা বিদ্যুৎ তরঙ্গে। আবার এই বিদ্যুতিক তরঙ্গ অপরপ্রান্তে গ্রাহকের কানের কাছে পৌছাবার আগেই আবার পরিবর্তিত হচ্ছে শব্দ তরঙ্গে।এখানেও কিন্তু পুরো ব্যাপারটা ঘটে যাচ্ছে পালসের সাহায্যে। অর্থাৎ ঐ অফ আর অন এর স্পন্দন বা পালস।পুরো ব্যাপারটা এমন- শব্দ > বিদ্যুৎ > শব্দ।এইরকম সাজানো নিয়মে টেলিফোনে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাহকের মধ্যে কথা আদান প্রদান চলে। আমাদের কম্পিউটার যন্ত্রও ঠিক এভাবেই কোন শব্দ বা অক্ষরকে তার মনিটরের পর্দায় ফুটিয়ে তোলে।যখন কীবোর্ডথেকে একটি সয়খ্যা বা অক্ষর কী চাপ দেওয়া হচ্ছে তখন সাথে সাথেই সেটা বিদ্যুৎতরঙ্গে রূপান্তরিত হচ্ছে। মুহুর্তে আবার সেই বিদ্যুৎতরঙ্গ পরিবর্তীত হচ্ছে আমাদের চেনা অক্ষর বা সংখ্যায়। আর ফুটে উঠছে মনিটরের পর্দায়। অর্থাৎ- অক্ষর > বিদ্যুৎ > অক্ষর। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ‍কিন্তু ঘটে যাচ্ছে আরেকটা প্রক্রিয়া। যখনই কীবোর্ডথেকে কোন অক্ষর বা সংখ্যার কী চাপা হচ্ছে তখনই চাপ দেওয়া অক্ষর বা সংখ্যাটি পরিণত হচ্ছে বিদ্যুৎপ্রবাহে এবং তখনই সৃষ্টি হচচ্ছে পালস। অর্থাৎ অন আর অফ এর স্পন্দন। এই স্পন্দন প্রতিসরিত হয়ে যাচ্ছে বাইনারী সংখ্যায়। তৈরি হচ্ছে কোড বা সংকেত।কম্পিউটার এই সংকেতের মধ্যেকার বাইনারী সংখ্যাগুলো সাজিয়ে মিলিয়ে নিচ্ছে তার মধ্যে আগে থেকে দিয়ে রাখা কোড নম্বরের সাথে।মিলে গেলেই সেটা ফুটিয়ে তুলছে মনিটরের পর্দায়। এতগুলো কাজ কিন্তু ঘটে যাচ্ছে পলকের মধ্যেই।কীবোর্ডের ইংরেজি বর্ণ ‘এ’ অক্ষরটি চাপ দেওয়া হলে সাথে সাথে মনিটরের পর্দায় ‘এ’ অক্ষরটি ফুটে ওঠে। তার মানে- অক্ষর > বিদ্যুৎ > বাইনারী সংখ্যা > অক্ষর। প্রতিটি অক্ষর বা সংখ্যার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সাজানো আটটি বাইনারী সংখ্যার মাধ্যমেই কম্পিউটার বোঝে। এই বাইনারী সংখ্যাকে বলা হয় বিট।আর আটটি বাইনারী সংখ্যা দিয়ে তৈরী হয় একটি কোড, তাকে বলা হয় বাইট।অর্থাৎ একটি অক্ষর তৈরী করতে আটটি বাইনারী সংখ্যা বিট লাগে- সেহেতু একটি অক্ষরকে অবশ্যই একটি বাইট বলা যায়।আমরা যেটাকে একাটা অক্ষর হিসেবে বুঝি কম্পিউটার সেটাকে একাট বাইট হিসেবে বুঝে। এভাবে প্রতিটি অক্ষরের জন্য আলাদা আলাদা ৮টি বাইনারী সংখ্যায় সাজানো থাকে। ৮টি বাইনারী সংখ্যাকে এভাবে ২৫৬ রকমে সাজানো যায়। অথচ আমাদের ইংরেজি কিংবা বাংলা অক্ষর ২৫৬টি নেই।সুতরাং অনায়াসেই অক্ষরগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন বাইনারী সংখ্যায় সাজানো সম্ভব।
বাইনারী পদ্ধতি ও সংখ্যা গণনাঃ
সাধারণত: অংকশাস্ত্রে যেসব সংখ্যা অহরহ ব্যবহার করা হয় তাকে চলতি ভাষায় দশমিক সংখ্যা বলে।এই দশমিক সংখ্যা পদ্ধতিতে আছে দশটি সংখ্যা। দশের উপর ভিত্তি করেই এই সংখ্যাগুলোর একটা দল গড়ে উঠেছে। অংকের যাবতীয় সমাধান এই দশটি সংখ্যা দিয়েই হয়। যেমন ৫০ এবং ৬০ অংকটিকেই ধরা যাক। এখানে ৫এর ১০গুণ হচ্ছে ৫০ এবং ৬এর ১০গুণ হচ্ছে ৬০। এখানে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা দিয়ে দশমিক সংখ্যা গঠিত। এখানে ৯০৪১ এই অংকটি লিখতে আমরা ৯, ০, ৪, ১ সংখ্যা ব্যবহার করেছি। এখানে অন্যভাবেও কিন্তু এটাকে লেখা যায়। যেমন ৯´১০০০+০´১০০+৪´১০+১´০=৯০৪১। অর্থাৎ আমাদের দশমিক পদ্ধতির হিসাবের রূপটা এমন যে, একক=১, দশক=১০, শতক=১০০, সহস্র=১০০০। এগুলো হলো আমাদের সৃষ্ট দশমিক হিসাব পদ্ধতি। কম্পিউটার আমাদের এই দশমিক পদ্ধতি বোঝে না।সে বোঝে বাইনারী সংখ্যা।এই বাইনারী সংখ্যা গুনতে কম্পিউটারও তার নিজের পদ্ধতি অনুসরণ করে। অবশ্য তার আছেতো মাত্র দু’টো সংখ্যা ০ এবং ১। এরমধ্যে বড় সংখ্যা হচ্ছে ১। কিন্তু কম্পিউটারকে যদি ১ থেকে কোন বড় সংখ্যা হিসেব করতে হয় সেক্ষেত্রে সে ১ এর পাশে একটি ০ বসিয়ে নেয় অর্থাৎ ১০। তার থেকেও কোন বড় সংখ্যা হিসেব করতে ১০ এর জায়গায় ১১ ধরবে। অতএব তার কাছে- শূন্য=০, এক=১, দুই=১০, তিন=১১, চার=১০০, পাঁচ=১০১, ছয়=১১০, সাত=১১১, আট=১০০০ইত্যাদি। এই হিসেবে বাইনারী পদ্ধতির কোন সংখ্যাকে যদি পাশাপাশি সাজিয়ে একক, দশক, শতক, সহস্র ইত্যাদি হিসেবে গণনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে-বাইনারী একক=১(কারণ এক=১), দশক=২(কারণ দশ=২), শতক=৪(কারণ ১০০=৪), সহস্র=৮(কারণ ১০০০=৮)ইত্যাদি। ধরা যাক বাইনারী ১১১১ সংখ্যাটিকে সাধারণ দশমিক সংখ্যার পদ্ধতিতে বদলে দিতে হবে।তাহলে প্রথমেই সহস্র, শতক, দশক, একক হিসেবে সাজিয়ে নিতে হবে সংখ্যাটিকে। তাহলে এমনটি দাড়ায়- একক ১=১, দশক ১=২, শতক ১=৪, সহস্র ১=৮। এদের প্রত্যেকের মান হিসেব করলে পাওয়া যাবে- ১´৮+১´৪+১´২+১´১=১৫। তার মানে ১১১১বাইনারী সংখ্যার দশমিক মান ১৫।
এসকি বা এসকাই কোড কি?
সব ধরণের কম্পিউটারে যে কমন বা সাধারণ কোড ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাকে এসকি বা এসকাই কোড বলে।কম্পিউটার যখন সবেমাত্র তৈরি হয়েছে সেই প্রথমদিকের কথা, তখন তাদের নির্মাতারা নিজেদের সুবিধামত এই এসকি কোড তৈরি করে নিতেন।ফলে তাদের এই কোড বাইরের কেউ সহজে পড়তে পারতো না। এতে করে বিপাকে পড়ে যেত সাধারণ ব্যবহারকারিরা।একটি নির্দিষ্ট কোন কোম্পানীর সিষ্টেমের সাথে অন্য কোম্পানীর সিষ্টেম মিলতো না।একারণে কম্পিউটারও ঠিকমতো কাজ করতে পারতো না। উদাহরণ হিসেব ধরা যাক, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেকশন ভিত্তিক ক্লাশ পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি সেকশনে আলাদা আলাদা বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে পাঠদান করা হয়। বিষয়টি এমন- হয়তো কোন সেকশনে নতুন নতুন বিষয় পড়ানো হলো আবার কোন কোন সেকশনে সে বিষয় সম্পর্কে কিছুই বলা হলো না।এরূপ যদি হয় তাহলে অবশ্যই পরীক্ষার সময় সমস্যা দেখা দেবে।কারণ পরীক্ষাতো একই প্রশ্ন সবার জন্য থাকবে।সুতরাং প্রশ্নের উত্তর লেখা শিক্ষার্থীদের জন্য সকজ হবে না।কারণ প্রতিটি সেকশনেতো একই পাঠ পড়ানো হয়নি। কম্পিউটার নির্মাণের ক্ষেত্রেও যখন এই ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হলো, তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সবাই মিলে একটি আন্তর্জাতিক কোড তৈরি করে নিলেন।যার সাহায্যে আমেরিকার কম্পিউটারে বসে ব্যবহারকারী যা বুঝবে, বাংলাদেশের অজ পাড়াগায়ের ব্যবহারকারীও তাই বুঝবে।এই কোডকেই বলা হয় এসকি বা এসকাই কোড।তারপর থেকে পৃথিবীর সব কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের কম্পিউটারে এই আন্তর্জাতিক এসকি কোড ব্যবহার করে আসছেন।এসকি কোডে প্রত্যেক অক্ষর বা সংখ্যার জন্য ৭টি বিট ব্যবহৃত হয়। এতে বামদিকের ৩টি বিটকে বলা হয় জোন এবং ডানদিকের ৪টি বিটকে বলা হয় নিউমেরিক, এগুলোর সাথে আরও একটি প্যারিটি বিট যোগ করা হয়। এভাবেই ৮টি বিটের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় একটি বাইট বা একটি অক্ষর।
কম্পিউটারে কোড ব্যবহারঃ
AND GATE, NOR GATE,OR GATE পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে কম্পিউটার অফ আর অন পদ্ধাততে কাজ করে। অফ অর্থাৎ ০, আর অন অর্থাৎ ১, এর বাইরে বা মাঝামাঝি কোন কিছুই বোঝে না আমাদের কম্পিউটার।কম্পিউটারের মধ্যকার ইন্টিগেট সার্কিটের মধ্যদিয়ে যখন উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তখন সেই বিদ্যুৎকে বেশ কিছু ট্রানজিষ্টর সুইচের মতো কাজ করে। তারা সেই বিদ্যুৎকে অফ আর অন এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। ট্রানজিষ্টরগুলো এই বিদ্যুৎ স্পন্দন বা পালসকে কখনো ঘুরিয়ে দেয় আবার কখনো পিছনে ধরে রাখে। এইসব ট্রানজিষ্টর সুইচকে গেট বলা হয়। একটা সাধারণ গেটের থাকে দুটো করে পয়েন্ট। এই পয়েন্টকে বলা হয় টার্মিনাল। এখান থেকেই গেট পালস সংগ্রহ করে।তবে সেই পালস সার্কিটে পাঠাবে কি পাঠাবে না সেটা কিন্তু নির্ভর করে পালসের ধরণের উপর। এক ধরণের গেট আছে যারা দুটো টার্মিনাল দিয়ে পালস গ্রহণ করে এবং সেই পালস পুরো সার্কিটে ছড়িয়ে দেয়- এর নাম ‘এন্ড গেট’।আর এক ধরণের গেট আছে একটা বা দুটো টার্মিনাল দিয়ে পালস গ্রহণ করে-এর নাম ‘অর গেট’।‘নর গেট’ নামের আর একটা গেট আছে যার মাধ্যমে পালস ছড়িয়ে পড়ে সার্কিটে। এইরকম হাজার হাজার গেট পুরো সার্কিটে সাজানো থাকে। এর মধ্যদিয়ে ছুটোছুটি করে পালস বা স্পন্দন। এইসব পালস কখনো যোগ, কখনো বিয়োগ, কখনো তুলনা, কখনো স্মৃতি থেকে তথ্য উদ্ধার, কখনো স্মৃতিতে নতুন কোন তথ্য যোগ করে। এভাবে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তোলা অক্ষর বা সংখ্যা দেখতে পাই।
কম্পিউটারের বাসঃ
কম্পিউটারে প্রবেশ করানো তথ্য থেকে সৃষ্টি পালসগুলোকে জটিল গেটগুলোর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত করতে যে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় তাকেই কম্পিউটারের ‘বাস’ বলে।এই বাসকেই ‘ডাটা বাস’ বলা হয়।এই বাসের সাহায্যে সিপিইউ-এ তথ্য বা নির্দেশ দেয়া, সিপিইউ থেকে তথ্য বা নির্দেশ নিয়ে আউটপুটে সেটাকে প্রদর্শণ করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে থাকে কম্পিউটার।বিভিন্ন জটিল গেট এর মধ্যদিয়ে পালস বা স্পন্দন চলাচলের কাজটিও মহান দায়িত্বের সাথে পালন করে এই ডাটা বাস। এই ডাটা বাস চলাচলের জন্য সিপিইউ এর সাথে কম্পিউটারের অন্যান্য অংশ অসংখ্য তার দিয়ে সংযুক্ত করা থাকে। এগুলোকে ইনপুট-আউটপুট পোর্ট বা আই.ও পোর্ট বলে। কম্পিউটারে এই ধরণের বাস বেশ কয়েকটি থাকে। সেগুলোর মধ্যে কম্পিউটারকে নির্দেশ প্রদাণের জন্য যে বাস ব্যবহার করা হয় তাকে বলে ‘কন্ট্রোল বাস’।আবার যে বাসের সাহায্যে কম্পিউটারের ভেতরের স্মৃতির তথ্য পড়া হয় তাকে বা সেই বাসকে বলে ‘এ্যাড্রেস বাস’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

30/06/2016

কম্পিউটারের গঠণপ্রণালী

একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি করতে দু’টো প্রধান অংশের প্রয়োজন হয়। সেগুলো হলো-
(১) হার্ডওয়্যার
(২) সফটওয়্যার।
১) হার্ডওয়্যারঃ কম্পিউটার তৈরি করতে যেসব শক্ত জিনিষের ব্যবহার করা হয়েছে তার সবগুলোকেই হার্ডওয়্যার বলে।এক কথায় আমরা চোখের সামনে কম্পিউটারের যে সব ডিভাইস বা যন্ত্রগুলো দেখি তা সবই হার্ডওয়্যার। যেমন- মনিটর, সিপিইউ,কীবোর্ড, মাউস ইত্যাদি হার্ডওয়্যারের অন্তর্গত। এই হার্ডওয়্যারের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে আবার চারটি অংশে বিভক্ত করা যায়। সেগুলো হলো-
(ক)ইনপুট অংশ।
(খ)কেন্দ্রিয় প্রক্রিয়াজাত করণ অংশ।
(গ)মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশ।
(ঘ)আউটপুট অংশ।
(ক)ইনপুট অংশঃ যে অংশের সাহায্যে কম্পিউটারে কোন নির্দেশ বা তথ্য প্রবেশ করানো হয় সেই অংশকেই ইনপুট অংশ বলা হয়।পরবর্তীতে সেই নির্দেশ বা তথ্যের ভিত্তিতেই কম্পিউটার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারে।বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো যায়। তবে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন ইত্যাদি এবং এগুলো সবই ইনপুট অংশের অন্তরভুক্ত।
(খ)কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় সেই অংশকেই বলা হয় কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশ।এই অংশটি হলো কম্পিউটারের মূল বা প্রাণকেন্দ্র।আমাদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে মগজ যেমন আমাদের সবধরণের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে-ঠিক তেমনি এই অংশ কম্পিউটারের অভ্যন্তরে সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে। তারপর সেই প্রক্রিয়াজাত করা তথ্যকে পাঠ উপযোগি করে প্রেরণ করে আউটপুট অংশে।
(গ)মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো তথ্যকে সংরক্ষণ করে রাখা যায় সেই অংশকেই মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশ বলে।কম্পিউটারে কোন তথ্য প্রবেশ করিয়ে তার ফলাফল দেখলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না।সেগুলো জমা করে রাখারও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।অনেক সময় কম্পিউটারে কাজ করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশ প্রদাণ করতে হয়। এগুলো আগে থেকেই কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে রাখা যায়।কম্পিউটারের এই স্মৃতিকে দু’টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।
(১)ভেতরের স্মৃতিঃ যে স্মৃতিধারক কম্পিউটার যন্ত্রের ভিতরে থাকে সেই স্মৃতিধারককে বলা হয় ভেতরের স্মৃতি। এই স্মৃতি আবার দুই প্রকার। যেমনঃ রিড অনলি মেমোরী বা রম ও র‌্যানডম একসেস মেমোরী বা র‌্যাম।
ক. রিড অনলি মেমোরী বা রমঃ যে স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে কেবলমাত্র পড়া যায় কিন্তু কোন পরিবর্তন করা যায় না, সেই স্মৃতিকে বলা হয় রিড অনলি মেমোরী বা রম।এই স্মৃতিকে আবার কম্পিউটার চালানোর প্রাথমিক স্মৃতিও বলা হয়ে থাকে।সাধারণত: কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরণের স্মৃতির মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশ স্থায়ীভাবে দিয়ে দেন।
খ. র‌্যানডম একসেস মেমোরী বা র‌্যামঃ যে স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে দেখা যায়, পাঠ করা যায় এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যায় সেই স্মৃতিকেই র‌্যানডম একসেস মেমোরী বা র‌্যাম বলে। এই ধরণের স্মৃতি হচ্ছে অস্থায়ী। কারণ এই স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে ব্যবহারকারী তার ইচ্ছামত পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করতে পারে।
(২)বাইরের স্মৃতিঃ কম্পিউটারের বাইরে যে মাধ্যমে কোন তথ্যকে সংরক্ষণ করা হয় সেই স্মৃতিকেই বলা হয় বাইরের স্মৃতি। এই স্মৃতি কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ স্মৃতি।ব্যবহারকারী তার তথ্য কম্পিউটারে সরক্ষণ করতে চাইলে এই স্মৃতির সহযোগিতা বা সাহায্য নিতে হবে। এই স্মৃতির উদাহরণ হলো- হার্ডডিস্ক, ফ্লপিডিস্ক ইত্যাদি।এই বাইরের স্মৃতিধারকগুলো সাধারণভাবে যে কোন কম্পিউটারেই ব্যবহার করা যায়। ইদানিং বাজারে বেশ কিছু নতুন ও উপযোগি বাইরের স্মৃতিধারক পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে সিডি বা কম্প্যাক্ট ডিস্ক, এমও ডিস্ক, জিপ ডিস্ক, সুপার ডিস্ক ইত্যাদি।কিন্তু এধরণের স্মৃতিধারককে ব্যবহারের জন্য আলাদা ধরণের ডিভাইস বা ড্রাইভ দরকার হয়।
(ঘ) আউটপুট অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারের যাবতীয় ফলাফল প্রদর্শিত হয় সেই অংশকেই বলা হয় কম্পিউটারের আউটপুট অংশ। এই অংশটা কম্পিউটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশে আমাদের যাবতীয় কাজের ফলাফল প্রদর্শিত হয়।কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন ধরণের ডিভাইস বা মাধ্যম রয়েছে।এরমধ্যে প্রাথমিক বা উল্লেখযোগ্য হলো মনিটর। কম্পিউটারের সামনে থাকা টেলিভিশনের মতো দেখতে এই যন্ত্রটির নাম মনিটর। মনিটরের পর্দায় আমাদের বা ব্যবহারকারীর যাবতীয় কাজের ফলাফল ফুটে উঠে।এই মনিটরের অপর নাম ভিডিইউ বা ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট। এছাড়া ফলাফল কাগজে প্রিন্ট করে নেওয়ার জন্য রয়েছে প্রিন্টার। শব্দের ফলাফল শোনার জন্য আছে স্পীকার ইত্যাদি।
২)সফটওয়্যারঃ সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণশক্তি। কম্পিউটার চালাতে যে প্রাণশক্তি দরকার হয় তাকে সফটওয়্যার বলে। মানুষের যেমন হাত, পা, কান, মাথা ইত্যাদি থাকলেই চলে না- তার সাথে থাকতে হয় প্রাণশক্তি। তেমনি শুধু হার্ডওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার চলে না। একে চালাতে হলে চাই সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যার খালি চোখে দেখা যায় কিন্তু সফটওয়্যার দেখা যায় না। কম্পিউটারে যে সমস্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় সেগুলিকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
(ক) সিষ্টেম সফটওয়্যার: কম্পিউটারকে প্রাথমিক ভাবে চালু করার জন্য যে ধরণের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তাকে সিষ্টেম সফটওয়্যার বলে। সাধারণত: এটিকে ডস বা ডিস্ক অপারেটিং সিষ্টেমও বলা হয়ে থাকে।
(খ)এপ্লিকেশন সফটওয়্যার: প্রাথমিক ভাবে কম্পিউটার চালু হওয়ার পর লেখা, ছবি আঁকা, গান শোনা বা কোন ডিজাইন করা ইত্যাদি কাজের জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয় তাকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। কম্পিউটারে অনেক ধরণের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে উইন্ডোজ,মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাউক্রোসফট একসেল, এডোবি ফটোশপ, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, কোরেল ড্র, এডোব পেজমেকার ইত্যাদি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলি বেশী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এপ্লিকেশন সফটওয়্যারের দিগন্ত অনেক বিস্তৃত, এর যেন কোন শেষ নেই। বড় বড় কোম্পানী গুলি তাদের কাজের সুবিধার জন্য নিজেরা সফটওয়্যার তৈরী করে নিচ্ছেন।আমরা যে ভিডিও গেম খেলি এটাও একটি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
(গ) ইউটিলিটি সফটওয়্যার: কম্পিউটার চালাতে গেলে ব্যবহারকারীকে মাঝে মাঝে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ কিছু উপযোগি সফটওয়্যার তৈরী করা হয়ে থাকে। এই ধরণের সফটওয়্যারের নাম ইউটিলিটি সফটওয়্যার। কম্পিউটার থেকে ভাইরাস দুর করবার জন্য যেমন ব্যবহৃত হয় এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার। এছাড়া আরও এক ধরণের সফটওয়্যার আছে, যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে মোটেও সুখকর নয়। কারণ এই সফটওয়্যারটির নাম হচ্ছে ভাইরাস সফটওয়্যার।মানুষ যেমন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তেমনি আমাদের কম্পিউটারও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এমন কিছু ভাইরাস সফটওয়্যার আছে যা পুরো কম্পিউটার সিষ্টেমকে ধ্বংস করে দিতে পারে। পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে ভাল জিনিষের পাশাপশি মন্দ জিনিষ ভাগাভাগি করে আছে এবং থাকবে। কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো যেমন প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা বা গবেষকরা তৈরী হরে থাকেন তেমনি অসৎ চরিত্রের গবেষকরা এই ধরণের ভাইরাস সফটওয়্যার তৈরী করে থাকেন। কম্পিউটারকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে অন্যের নিকট থেকে আনা কোন সিডি বা ফ্লপি ডিস্ক ভাইরাস আক্রান্ত কিনা তা না জেনে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো উচিৎ নয়।আবার ইন্টারনেট থেকে কোন ভাইরাস আক্রান্ত সফটওয়্যার নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে নিলেও কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে।এজন্য প্রথমেই কম্পিউটারে ভাল ও আপডেট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।
কম্পিউটারের প্রকৃতিগত বিভাগঃ
গতি, সংরক্ষণ ক্ষমতা, মূল্য, প্রকৃতি ইত্যাদি অনুসারে কম্পিউটারকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন-
(১) এনালগ কম্পিউটার,
(২) ডিজিটাল কম্পিউটার ও
(৩)হাইব্রিড কম্পিউটার।

(১)এনালগ কম্পিউটারঃ যে কম্পিউটারে যেকোন গণনার কাজ কোন ভৌত রাশির(দৈর্ঘ্য, ভোল্টেজ ইত্যাদি)সাহায্যে কিংবা একটি ভৌত রাশিকে অন্য একটি ভৌত রাশির সাথে তুলনা করে গণনা করে সেই ধরণের কম্পিউটারকে এনালগ কম্পিউটার বলা হয়। উদাহরণঃধরা যাক একটি বাক্স ভর্তি রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট মার্বেল বল দিয়ে। এখন এনালগ কম্পিউটারকে যদি মার্বেলগুলো গণনা করতে বলা হয় তাহলে সে ঐ বাক্সের মার্বেলের মোট ওজনকে একটি মার্বেলের ওজন দিয়ে ভাগ করে মার্বেলের সংখ্যা বের করবে।এনালগ কম্পিউটারের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রেডিও, ক্যাসেট রের্কডার কিংবা টেলিভিশন জাতীয় ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র থেকে গান শোনা বা ছবি দেখার কাজ করা হয়। এসব যন্ত্র থেকে গান,কথা বা ছবি আমাদের কানে আসে মুলত: এনালগ সংকেতের মাধ্যমে। রেডিও বা টেলিভিশন সেন্টার থেকে পাঠানো ডিজিটাল সংকেত এনালগ সংকেতে রূপান্তরিত হয়ে ইথারে ভেসে বেড়ায়। পরবর্তীতে গ্রাহকের রেডিও কিংবা টেলিভিশনে আসার পর সেটা আবার ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তরিত হয়ে শব্দ এবং ছবি সৃষ্টি করে।
(২) ডিজিটাল কম্পিউটারঃ যে ধরণের কম্পিউটার কোন বিচ্ছিন্ন জিনিষ(সরবরাহকৃত তথ্য বা উপাত্ত)সরাসরি গুণে কিংবা বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ বা চালু করে গণনার কাজ করে তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে।উল্লেখিত মার্বেলগুলো গণনার কাজে যদি ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হত তাহলে সে এটা একটা একটা করে সোজাসুজি গুণে মোট সংখ্যা বের করতো।
(৩) হাইব্রিড কম্পিউটারঃ যে কম্পিউটার তার গণনার কাজ এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতিতেই করে থাকে তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। এই কম্পিউটার বেশী দামী বলে ক্ষেত্রবিষেশ এগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত: ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি।

30/06/2016

কম্পিউটারের ইতিহাস

কম্পিউটারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
আমরা সবাই অত্যাধুনিক বিজ্ঞানের যুগের অধিবাসী।এযুগের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় কম্পিউটার নামের এই যন্ত্রটির আধুনিক রূপ কিন্তু একদিনে পায়নি। এর জন্য যুগ যুগ ধরে বিশেষজ্ঞদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে।এরমধ্যে বারংবার এই যন্ত্রের পরিবর্তনও ঘটেছে। সবশেষে আজকের এই আধুনিক রূপ পেয়েছে এবং এর ব্যবহারও সহজ হয়েছে।কম্পিউটার নামের এই যন্ত্রটি কোথা থেকে এলো এবং কিভাবে এলো তা জানার আগ্রহ নিশ্চয়ই প্রত্যেকেরই রয়েছে, তাছাড়া জানাটাও একান্ত আবশ্যক। কারণ যাকে অহরহ ব্যবহার করবো অথচ তার সম্পর্কে কিছুই জানবো না তা কি হয়? কম্পিউটার যন্ত্রের জন্মলগ্ন থেকে এই সময়কাল পর্যন্ত সময়কে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ
(১) প্রাচীন যুগ,
(২) মধ্য যুগ এবং
৩) বর্তমান বা আধুনিক যুগ।

(১) প্রাচীন যুগঃ
মূলত: কম্পিউটারের জন্ম কিন্তু আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে চীন দেশে গণনা কাজের জন্য এক ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করা হতো। যার নাম ছিল এ্যাবাকাস(Abacus)। এই Abacus নামের যন্ত্রের সাহায্যে প্রাচীন যুগে বিভিন্ন গণনার কাজ করা হতো। আবার এই Abacus থেকেই আধুনিক ক্যালকুলেটর তৈরীর ধারণা এসেছে এটা অনস্বীকার্য।এই যন্ত্রে গণনার কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো কতকগুলো গোল চাকতি। এই চাকতি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গণনার কাজ সম্পন্ন করা হতো।কম্পিউটারকে যদি বড় আকারের গণনা যন্ত্র হিসেবে ধরা হয় তাহলে এই Abacus-ই কম্পিউটারের প্রথম চিন্তার সূত্রপাত।
(২) মধ্যযূগঃ

Abacus আবিষ্কারের পর পার হয়ে যায় কয়েক হাজার বছর। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের চিন্তা চেতনা, জ্ঞান ও জানার ক্ষেত্রও হয়ে উঠে বড়ো ও উন্নত। Abacus তৈরী হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে চীন দেশে। আর প্রথম যান্ত্রিক গণনা যন্ত্র তৈরি হয় ১৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে। স্যার ব্লায়াস প্যাসকেল নামের একজন ফরাসি বিজ্ঞানী এটা তৈরি করেন।বিজ্ঞানীর নাসানুসারে এই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল প্যাসকেলাইন। এটার কার্যপ্রণালী কিন্তু ছিল Abacus এর মতই।তবে এতে চাকতির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছিল দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ার। মানুষ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ব্যবহার করলো এই যন্ত্র। ১৬৯৪ সালের দিকে প্যাসকেলাইন যন্ত্রের কিছুটা উন্নত সংষ্করণ তৈরি করলেন গটফ্রেড উইলহেম ভন লেইবনিজ।এই যন্ত্রে নাম দিলেন তিনি স্টেপড রেকোনার। পেরিয়ে গেল প্রায় আরও সোয়া এক’শ বছর। ১৮২০ সালের মাঝামাঝি স্টেপড রেকোনার যন্ত্রকে আরও একটু উন্নত করলেন টমাস দ্যা কোমার। ততদিনে মানুষও বেশ আধুনিক হয়েছে।নতুন নতুন প্রযুক্তির দিকে তাদের অনুসন্ধান অব্যহত রয়েছে। আর এরই ফলশ্রুতিতে ১৮২১ সালে ঘটে গেল এক বিপ্লব। চার্লস ব্যাবেজ নামের একজন ইংরেজ গণিতবিদ অংকের বিভিন্ন তথ্যের সহজ সমাধানের জন্য তৈরি করে ফেললেন একটি যন্ত্র। যার নাম দেওয়া হলো ডিফারেন্স ইঞ্জিন।অনতিকাল পরে এই যন্ত্রটিকে আরও আধুনিক করা হলো, নাম দেওয়া হলো এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন। ১৮২১ সালের পূর্বে যেসব যন্ত্র তৈরি হয়েছিল সেগুলো শুধু অংক আর সংখ্যা নিয়ে কাজ করা হতো কিন্তু চার্লস ব্যাবেজের উদ্ভাবিত এই যন্ত্রে অংকের পাশাপাশি তথ্য নিয়েও কাজ করা যেত। তবে এই যন্ত্রের কিছু বাধ্যবাধকতাও ছিল।যন্ত্রটি চালাতে হতো একধরণের ছিদ্রযুক্ত পাঞ্চকার্ড দিয়ে এবং এই পাঞ্চকার্ডটি একবারই মাত্র ব্যবহার করা যেত। দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে হলে আবার নতুন কার্ড প্রয়োজন হতো। ব্যাভেজের যন্ত্রে ছিল তিনটি অংশ। সেগুলো হলো-
(ক)তথ্য বা নির্দেশ প্রদাণের অংশ- এই অংশে থাকবে যন্ত্রটি চালানোর সমস্ত তথ্য বা নির্দেশ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ফলাফল।
(খ)ফলাফল প্রদানের অংশ- এই অংশে গণনার উপযুক্ত ফলাফল প্রদান করবে।
(গ)তথ্য সংরক্ষণ-এই অংশে তথ্যগুলো সংরক্ষণ করা যাবে।
বর্তমানের আধুনিক একটি কম্পিউটারে যেসব অংশ দেখা যায় বা বিদ্যমান রয়েছে চার্লস ব্যাবেজের এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিনে তার সবগুলোই বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া এই প্রথম কোন যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করতে পারতো। সুতরাং এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, চার্লস ব্যাবেজই হচ্ছেন কম্পিউটারের আদি পিতা। ১৮৯০সাল। ডঃ হারম্যান হলোরিথ নামের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারী বিভাগে কাজ করতেন।সেই সময় লোক গণনার কাজ হাতে নেন আমেরিকান সেনসাস ব্যুরো নামের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।তারা নিশ্চিত জানতো এই গণনার কাজে লোকবল লাগবে প্রচুর, তেমনি সময়ও লাগবে অনেক। মোটামুটি দশ বছরের আগে গণনার কাজ শেষ করা যাবে না, এমই ধারণা ছিল তাদের। ডঃ হারম্যান তাদের এই ধারণা ভেঙ্গে দিলেন। তিনি চার্লস ব্যাবেজের যন্ত্রের সাথে টেবুলেটর নামের একটি যন্ত্র জুড়ে দিলেন। আর এই যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হলো এতে কাগজের তৈরী পাঞ্চকার্ড ব্যবহার করা যাবে, আর এই পাঞ্চকার্ডে ছিদ্রও করতে পারবে তার এই নতুন যন্ত্র টেবুলেটর।এসময় যন্ত্রটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই যন্ত্রের অবিষ্কারের সাথে সাথে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাড়া পড়ে গেল। অবিশ্বাস্যভাবে ডঃ হারম্যান এই যন্ত্রের সাহায্যে আদমশুমারীর দশ বছরের কাজ শেষ করে ফেললেন মাত্র তিন বছরে।এই অভূতপূর্ব সাফল্য ডঃ হারম্যানকে উদ্বুদ্ধ করে তুললো।তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন একটি কোম্পানী। নাম দিলেন টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানী। এই কোম্পানীই পরবর্তীতে আইবিএম নামে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কম্পিউটার কোম্পানী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
(৩) আধুনিক যুগঃ

ডঃ হারম্যানের আবিষ্কারের পর কেটে গেল প্রায় পঞ্চাশ বছর। এই দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে ছোটখাটো পরিবর্তন ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।১৯৪৩ সালের গোড়ার দিকে পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির জন মশলি ও প্রেসপার একার্ট নামের দুই প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরিতে হাত দিলেন। পুরো তিন বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১৯৪৬সালের মাঝামাঝি তারা সত্যি সত্যি তৈরি করে ফেললেন প্রথম ইলেক্ট্রনিকস ডিজিটাল কম্পিউটার। তার নাম দেওয়া হলো এনিয়াক। কম্পিউটারের ইতিহাসে এলো এক নতুন অধ্যায়।আমরা এখন যেসব কম্পিউটার দেখতে পাই এনিয়াক তার চাইতে অত্যন্ত কম ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও আকারে ছিল প্রকান্ড।এখন একটা কম্পিউটার রাখার জন্য একটি ছোট্ট টেবিল যথেষ্ট। কিন্তু তখন এনিয়াক কম্পিউটারকে রাখার জন্য দরকার পড়তো ৯মিটার প্রস্থ ও ১৫মিটার দৈঘ্যের একটি ঘর। আর এর ওজন ছিল প্রায় ১৫ টন। এটা চালানোর জন্য লাগতো ১৫০ কলোওয়াট বিদ্যুৎ। মজার ব্যাপার হলো কাজ করতে করতে এটা অসম্ভব রকমের গরম হয়ে উঠতো তখন এটাকে মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানি ঢেলে শীতল করার প্রয়োজন পড়তো।এনিয়াক ছিল বাল্ব নির্ভর কম্পিউটার আর এতে ১৮০০০ বাল্ব লাগানো ছিল।তবে আগেকার কম্পিউটারের তুলনায় এটা ছিল দ্রুত গতিসম্পন্ন। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০০ গণনার কাজ করতে পারতো। পৃথিবীর সভ্যতায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার সাথে সাথে এনিয়াকের বাধ্যবাধকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য মানুষ নিরলস গবেষনা চালিয়ে যেতে লাগলো।অবশেষে ১৯৪৬ সালের শেষ দিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার হাওয়ার্ড এইকিন নামের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী তৈরী করে ফেললেন এনিয়াকের চেয়ে কিছুটা ছোট এবং অরেকটু ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেক্ট্রনিকস কম্পিউটার। যার নাম দেওয়া হলো মার্কওয়ান। তবে ছোট হলেও এই কম্পিউটারটি ছিল ১৫মিটার দৈঘ্য ও ৬মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট। এর উচ্চতা ছিল ২.৪মিটার।এতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারের দৈর্ঘ্য ছিল ৮০০ কিলোমিটার। আর এটা তৈরি করতে যে খরচ পড়তো সেই খরচ দিয়ে বর্তমান সময়ের পুরো একটা কম্পিউটার কোম্পানী বানিয়ে ফেলা যাবে। ১৯৪৮ সালের শেষদিকে বারডিন, ব্রাটান এবং শকলি নামের তিন প্রতিভাবান আমেরিকান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করলেন ট্রানজিষ্টার। ফলে কম্পিউটার দিগন্তে সূচিত হলো এক নতুন বিপ্লবের।বাল্ব নির্ভর এনিয়াক এবং মার্কওয়ান কম্পিউটারের জায়গা জুড়ে নিল এই ট্রানজিষ্টার লাগানো কম্পিউটার।এতকরে কম্পিউটারের আকারেও বেশ পরিবর্তন এলো, ছোট হয়ে গেল বিশাল আকারের কম্পিউটার। তার উপর তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ফলাফল প্রদাণের সময়সীমা একেবারে কমে গেল। আবার তৈরী খরচও অনেক কমে গেল। এই সময়কার কম্পিউটারের মধ্যে ১৯৪৯ সালের তৈরি এডস্যাকের নাম উল্লেখযোগ্য।এই কম্পিউটারের মূল নির্মাতা হলেন হাঙ্গেরিয় গণিতবিদ জন ভন নিউম্যান। এর পরপরই ১৯৫১ সালে আমেরিকার রেমিংটন র‌্যান্ড নামের এক কোম্পানী তৈরি করে ইউনিভ্যাক ওয়ান নামের একটি কম্পিউটার। বাণিজ্যিক ডাটা প্রসেসিং কাজের উপযোগি এই কম্পিউটারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে উচ্চমাত্রায় বিদ্যুৎপ্রবাহ সরবরাহ করার সময় যন্ত্রটি বেশ গরম হয়ে উঠতো। ১৯৫৮সালের মাঝামাঝি সারা পৃথিবী চমকে উঠলো জ্যাক কিলবি নামের একজন প্রতিভাবান মার্কিন বৈজ্ঞানিকের কল্যাণে।তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন সিলিকন চিপ। এই সিলিকন চিপের ছোট্ট এক টুকরোর উপর স্থাপন করা হলো অনেকগুলো ট্রানজিষ্টর। এদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তৈরি করা হলো সুক্ষ্ম পথ, যাকে বলা হয় সার্কিট।এই সার্কিটের মধ্যদিয়ে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রবাহিত করা সম্ভব হয়ে উঠলো। এই সার্কিট সংযোজনের নাম দেওয়া হলো আইসি বা ইনটিগ্রেটর সার্কিট। এই ইনটিগ্রেটর সার্কিট দিয়ে কম্পিউটার তৈরি করতে উৎসাহী হলেন প্রস্তুতকারকরা। কারণ এতেকরে কম্পিউটার আকারে অনেক ছোট হবে। আর সেইসাথে খরচও কমে আসবে অনেক। আবার কম্পিউটারেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে।পরবর্তীতে এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ব্যপক উন্নতি সাধিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তাক্লারা উপত্যকায় চলতে থাকে গবেষণার পর গবেষণা।একসময় এই জায়গাটার নামই হয়ে যায় সিলিকন ভ্যালি।১৯৭১সালে ছোট্ট একটুকরো সিলিকন চিপের উপর অনেকগুলো ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বসানো সম্ভব হয়ে ওঠে। এই সন্নিবেশিত চিপের নাম দেওয়া হয় মাইক্রোপ্রসেসর। বর্তমানে আধুনিক কম্পিউটার এই মাইক্রোপসেসরের উপর নির্ভরশীল। তারপর থেকে উদ্যমী মানুষ একের পর এক উন্নতির সোপানে পা রাখতে শুরু করে। একসময় যে কম্পিউটারকে রাখতে হতো বিশাল এক হলরুমের মতো একটি ঘরে। এখনকার একটি কম্পিউটারকে একটি ছোট্ট টেবিলেই রাখা যাচ্ছে। শুধুকি তাই? এখন ছোট্ট কোল জুড়ে রাখা যায় এই কম্পিউটারকে। যার নাম ল্যাপটপ কম্পিউটার। এছাড়াও আছে হাতের উপর রেখে কাজ হরার মতো কম্পিউটার নাম যার পামটপ কম্পিউটার ইত্যাদি।কম্পিউটারের এই ব্যপক পরিবর্তনের সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র সিলিকন চিপস আবিষ্কারের পর থেকে এর ব্যবহারের মাধ্যমে।ভাবতে অবাক লাগবে ক্যালকুলেটর, ক্যামেরা, ঘড়ি ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিকস জিনিষের ভিতর বসানো চিপসেট ইচ্ছা করলে একটা সুচের ছিদ্রের ভিতর দিয়ে অনায়াসে যাতায়াত করানো যায়।এভাবেই আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার নামের যন্ত্রটির আধুনিকায়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক কিছুই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

30/06/2016

কম্পিউটার কি?

Computer শব্দটি গ্রিক শব্দ Compute শব্দ থেকে এসেছে। Compute শব্দের অর্থ গণনা করা। Computer শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। মূলতঃ এটি তৈরি করা হয়েছিল গণনার জন্য। কিন্তু বর্তমানে এটি জটিল ও কঠিন হিসাব-নিকাশ ছাড়াও আরো অনেক কাজে ব্যবহার হচ্ছে কম্পিউটার। কম্পিউটারের কাজের গতি হিসেব করা হয় ন্যানো সেকেন্ডে। ন্যানো সেকেন্ড হল এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের একভাগ। ইলেকট্রনিক প্রবাহের মাধ্যমে এটি তার যাবতীয় কার্য সম্পাদন করে। আপনাদের আরো ভালোভাবে বোঝানোর জন্য আমি আমার নিজের থেকে একটা উদাহরন দিচ্ছি তাহলে আপনারা আরও খুব সহজ ভাবে কম্পিউটার সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। কম্পিউটারকে আমরা অনেকটা নতুন একটা বাসা বাড়ি বা apartment হিসেবে ধরতে পারি, এপার্টমেন্টে কিনার সময় বিক্রেতা আপনাকে শুধু খালি একটা বাসার চাবি ধরিয়ে দিবে,হয়তো ভিতরে খুব বেশি হলে একটা টিউব লাইট ও সামান্ন কিছু নামমাত্র আসবাবপত্র পাবেন। এখন আপনার নতুন বাসা সাজানোর দায়িত্ব আপনার । আপনি চাইলে লাখ টাকার আলমারি বা ১ হাজার টাকার আলমারি ,এলসিডি টিভি বা সাদাকালো টিভি, ফ্যান লাগাবেন না এসি লাগাবেন, এককথায় কি করবেন না করবেন সব আপনার ইচ্ছা। তবে এখানে একটা জিনিস সত্যি আপনি যত ভালো ভালো ও বেশী বেশী জিনিস দিয়ে সাজাবেন আপনার ঘর ততবেশি আপনার চাহিদা মিটাতে ও আরাম দিতে সক্ষম।এখন যদি আপনি অল্পতেই সুখী হন, বা অল্পকিছু আসবাবপত্রই আপনার চাহিদা পূরণ করতে পারে সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যপার। ঠিক কম্পিউটারও অনেকটা সেই রকম আপণী বাজার থেকে কম্পিউটার কিনার সময় বিক্রেতা আপনার কাছে বিক্রি করার পর তার দায়িত্ব শেষ, তারা হয়ত নামমাত্র কিছু প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিবে, কিন্তু বাসায় আনার পর তাকে আপনাকেই নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে। আপনার চাহিদা মতো প্রোগ্রাম দিয়ে সাজাতে হবে আর ভালো ফল পেতে এর ভিতর ভালো ভালো ও নাম করা সব সফটওয়্যার ইনস্টল করাতে হবে।

Address

Nawabganj, Dianjpur
Dinajpur
5200

Telephone

01744889688

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এসো কম্পিউটার শিখি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share