Itminan Life

Itminan Life Sharia Advisory & Counselling

দু'দিন হল ওয়াইফ বাসায় নেই। বাপের বাড়িতে গিয়েছে। আজকে আসার কথা ছিল। কিছুক্ষণ আগে ফোন করে বলল, আরেক দিন থাকতে দেয়া যায় ...
01/05/2026

দু'দিন হল ওয়াইফ বাসায় নেই। বাপের বাড়িতে গিয়েছে। আজকে আসার কথা ছিল। কিছুক্ষণ আগে ফোন করে বলল, আরেক দিন থাকতে দেয়া যায় না? এদিকে আমার খাবার-দাবার শেষ। সে যা রান্না করে রেখে গিয়েছিল এই দুই দিনে তা খেয়ে শেষ করে ফেলেছি। পুরুষ মানুষ হিসেবে রান্নাবান্নার ঝামেলা নেয়াটা একটু কষ্টকর। যেহেতু অন্যান্য কাজও থাকে। সে কারণে একটু ভাবলাম কী করা যেতে পারে। তাকে কি ছুটি দিব না চলে আসতে বলব। ভেবেচিন্তে দেখলাম বাবার বাড়িতে গিয়েছে। হয়তো তার আরো একদিন থাকতে মন চাচ্ছে। সে যদি আমার চাপে চলে আসে তাহলে হতে পারে তার মনটা ভালো থাকবে না। সে কথা চিন্তা করে কিছুক্ষণ পর ফোন করে বললাম, ঠিক আছে তুমি আরেকদিন থেকে আসো। এতে সে খুশি হলো এবং আরেকদিন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। আমার একটু কষ্ট হলেও সেটা আমি মেনে নিলাম এবং একটু ত্যাগ স্বীকার করলাম। জীবনে ইতমিনান পেতে হলে আপনাকে ছোট ছোট ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমরা ত্যাগ বলতে বুঝি বড় বড় ত্যাগ। কিন্তু মাঝে মাঝে ছোট ছোট ত্যাগ স্বীকার করাটাও জীবনকে সুন্দর করে তোলে। Itminan Life এর সাথেই থাকুন। ক্লান্তি দূর করে লাইফে নিয়ে আসুন প্রশান্তি।

সালিশ মানি তালগাছ আমার....জামায়াতে ইসলামি ও কওমী সমাজের বিরোধ কোথায়? সারসংক্ষেপ জানতে পড়তে পারেন।‘মুখোশ উন্মোচন’, কিন্তু...
27/03/2026

সালিশ মানি তালগাছ আমার....

জামায়াতে ইসলামি ও কওমী সমাজের বিরোধ কোথায়? সারসংক্ষেপ জানতে পড়তে পারেন।

‘মুখোশ উন্মোচন’, কিন্তু...!
মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ
[আদীব হুযুর দামাত বারাকাতুহুমের এ গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি একুশ বছর আগের। আমার জানামতে তা এখনো ছাপা হয়নি। হঠাৎ লেখাটির কথা মনে পড়ল এবং মনে হল, এ মহূর্তে তা পাঠকদের জন্য উপকারী হবে। মূলত এতে আমাদের সবার জন্যই শিক্ষা গ্রহণের অনেক কিছু রয়েছে। আর এমন একটি ঐতিহাসিক লেখা এমনিতেও সংরক্ষিত হওয়া জরুরি।

কারো পুরনো লেখা ছাপার আগে তাকে দেখিয়ে নেওয়া বা তার থেকে নতুন করে অনুমতি নেওয়া মুনাসিব। এ লেখাটির ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। সেজন্য লেখকের খেদমতে পূর্ব মা‘যেরাত।

جزاه الله خيرا جزيلا في الدارين جميعا، وبارك في حياته وقلبه وقلمه، ومدرسته وذريته في البيت والمدرسة.

–বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক]



‘ইনকিলাবে’র মুক্তাঙ্গনে কিছুদিন আগে (মাওলানা) মওদূদী ও জামায়াতের সমালোচনা করে একটা ‘কড়া’ লেখা লিখেছিলেন সাইফুল আদল নামে জনৈক মুফতী সাহেব। সেই লেখার একটা ‘চড়া’ জওয়াব দিয়েছেন গত ১৭ই মে (২০০৫) ইনকিলাবের একই পাতায় জনৈক আবদুল আযীয। তিনি, অবশ্য মুফতী নন, ‘কলেজ লেকচারার’। লেকচারার সাহেব তার লেখাটার নাম দিয়েছেন ‘মুখোশ উন্মোচন’। তা মুখোশ তিনি ভালোই উন্মোচন করেছেন, তবে কিনা বেচারা মুফতী সাহেবের চেহারার ত্বকেরও যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করেছেন।

আমার এক দ্বীনী ভাইয়ের অনুরোধে দুটো লেখাই পড়লাম। তিনি বলেছিলেন, কষ্ট করে হলেও পড়তে। কষ্ট করেই পড়তে হল। এত কষ্ট হল যে, প্রথমে ঝরল চোখের পানি, এখন ঝরছে কলমের কালি। দুঃখের বিষয়, ‘মুফতী’ এবং ‘অমুফতী’, শালীনতা উভয়েরই হাতছাড়া (কিংবা বলুন ‘কলমছাড়া’) হয়ে গেছে। দু’জনেরই মনে রাখা উচিত ছিল, এটা চারদেয়ালের বাইরে মুক্তাঙ্গন এবং আমাদের ‘কলম ঠোকাঠুকি’ হতে পারে ‘অন্যদের’ পুলকের কারণ। লেকচারার সাহেবের ভাষায় মুফতী সাহেব না হয়, অজ্ঞ, অপরিপক্ব, ঈর্ষাকাতর, ফতোয়াবাজ ইত্যাদি। কিন্তু তিনি নিজে তো ‘কিঞ্চিৎ’ বিজ্ঞতা ও পক্বতার পরিচয় দিতে পারতেন! মুফতী সাহেবকে তিনি আসমানী আয়াত ‘বিল্লাতী হিয়া আহসান’ (তর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়)-এর যে তালীম দিয়েছেন, নিজের বেলায় কেন তিনি তা ভুলে গেলেন। ‘ফতোয়াবাজি’ হল বামপাড়ার খান্দানি গালি। এটা ব্যবহার না করেও তো মুফতী সাহেবকে ‘হেদায়েত’ করা যেত!

একটা বিষয় আমার বড় অবাক লাগে, জামায়াতের দলীয় ‘আকীদা’ হল, ‘রাসূলে খোদা ছাড়া আর কাউকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করবে না’, সেজন্য মওদূদী সাহেব একেবারে কলজে পোড়ানো ভাষায় সাহাবা কেরামের সমালোচনা করে গেছেন। কিন্তু একই সূত্রে যখন মওদূদী সাহেবের সামান্যতম সমালোচনাও করা হয়, তখন জামাতী বন্ধুরা একেবারে ‘কোরতা’র বাইরে এসে পড়েন এবং বেচারা সমালোচনাকারীকে তুলোধুনো করে ছাড়েন। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে, তাদের মতে সাহাবা কেরামের সমালোচনা জায়েয আর মওদূদী সাহেবের সমালোচনা না জায়েয!

যাই হোক, উভয় পক্ষকেই আমি অনুরোধ করব, পত্রিকার পাতায় যা খুশি লিখুন এবং মুক্তাঙ্গনে যত ইচ্ছে বিতর্ক করুন, কিন্তু কলম যেন ‘বেপর্দা’ না হয় এবং লেখা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে, এ বিষয়ে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।

লেকচারার আবদুল আযীয সাহেব যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আমি কিছু কথা বলতে চাই তার লেখার জবাবে। কাদিয়ানী প্রসঙ্গে নিযামী সাহেব কী বললেন, কেন বললেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সাথে তার বক্তব্যের ‘মিতালি’ কতটুকু– সে প্রসঙ্গে না-ই বা গেলাম, কিন্তু এটা তো পরিষ্কার যে, নিযামী সাহেবের মন্তব্য অন্তত এ যাত্রা কাদিয়ানীদের শেষ রক্ষা করেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এটাই চেয়েছিলেন। জামায়াত সব সময় গর্ব করে, আমরাও স্বীকার করি, কাদিয়ানী বিরোধী জিহাদে শরীক হয়ে মওদূদী সাহেব অনেকটা ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত এ কথা কেন ভুলে যায় যে, কাদিয়ানী বিরোধী জিহাদে মওদূদী সাহেব যাদের কাতারে শামিল হয়েছিলেন, সেই ওলামায়ে কেরামই তাকে ফাঁসির মঞ্চ থেকে ছিনিয়ে এনেছিলেন? ফাঁসির রায় ঘোষণার মূল রহস্য অবশ্য এখনো অজ্ঞাত, তবে এটা তো ঠিক যে, এর ফলে আন্দোলন সেদিন ভিন্নপথে চলে গিয়েছিল এবং সে যাত্রা কাদিয়ানীদের শেষ রক্ষা হয়েছিল! জনৈক সাংবাদিক তাই মন্তব্য করেছিলেন, ‘মওদূদী হলেন হিরো, আন্দোলন হল জিরো।’

এ বিষয়ে আমি নিজে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্তমূলক কথা বলছি না, আমি শুধু বলতে চাই, ওলামায়ে কেরাম অকারণে ‘ফতোয়ার তীর’ দ্বারা কাউকে বিদ্ধ করেন না। মওদূদী সাহেবের কলম যতদিন সংযত ছিল, ততদিন তারা তার উদার প্রশংসা করেছেন এবং প্রয়োজনে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু যখনই তার অসংযত কলম সাহাবা কেরামের সমালোচনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তখন উম্মতের অভিভাবক হিসেবে ওলামায়ে কেরামকে বাধ্য হয়েই তার প্রতিবাদ করতে হয়েছে। অথচ বিভেদ সৃষ্টির দায়ে উল্টো তাদেরকেই দায়ী করা হয়। বলুন তো, কে মওদূদী সাহেবকে মজবুর করেছিল উম্মতের এমন নাযুক সময়ে, এমন নাযুক বিষয়ে কলম ধরতে! তার পরে ওলামায়ে কেরাম বিভিন্নভাবে তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন বিষয়টির গুরুতরতা, কিন্তু তিনি তার কলম থামাতে রাজী হলেন না। তখন উম্মতকে গোমরাহী থেকে হেফাজত করতে প্রতিবাদ করা ছাড়া ওলামায়ে কেরামের আর কী উপায় ছিল?

মওদূদী সাহেবের ‘ফায়সাল পুরস্কার’ সম্পর্কে তার অনুসারীরা একটু যেন বেশী মাত্রায় উদ্বেলিত, আবদুল আযীয সাহেবও ব্যতিক্রম নন। কিন্তু একজন বাদশাহর পুরস্কার তো আর হক না-হকের আলামত হতে পারে না, সুতরাং এ নিয়ে এত হৈ চৈ করার কী কারণ হল। ‘ফায়সাল পুরস্কার’ আরো অনেকেই পেয়েছেন। আমাদের মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-কে জোর অনুরোধ করা হয়েছিল। প্রথমে তিনি সম্মত হননি, পরে আপন শায়েখের আদেশে তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু এ নিয়ে তাঁর ভক্তকুলের মাঝে কোনো হৈ চৈ হয়নি। প্রসঙ্গত, আল্লামা নদভী রাহ. যিনি একসময় আরব বিশ্বে মওদূদীকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, পরবর্তী জীবনে কিন্তু তিনি শক্ত হাতে তার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। আল্লামা নদভীর বইটি (বাংলায় অনুবাদ হয়েছে) প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তিরই পড়ে দেখা উচিত।

আরব বিশ্বে মওদূদীর ‘গগনচুম্বী’ জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সুপ্রিয় আবদুল আযীয অনেক কথাই বলেছেন, কিন্তু আসল বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। মুফতী সাহেবের এ প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি যে, মওদূদীর এত এত বই আরবীতে তরজমা হল, ‘খেলাফত ও রাজতন্ত্র’ বইটির তরজমা কেন হল না? কীসের ভয়ে? আবদুল আযীয সাহেবের ভাষায় ‘আকীদাতুল উস্তায আলমাওদূদী’ কিতাবটি আলিমরা লিখেছিলেন সউদী আরব তথা আরব বিশ্ব থেকে মওদূদীকে উৎখাত করার জন্য, কিন্তু তিনি নাকি যতই ভাবেন, ততই অবাক হন যে, আলিমদের উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার কারণ কী?

কারণ আমাদের আলিমগণ বুখারী, মুসলিমের শায়েখ হলেও আধুনিক প্রচার কলাকৌশলের ‘শায়েখ’ নন। আপনাদের মোকাবেলায় এ ক্ষেত্রেও তারা বরং একেবারেই ‘তিফলে মাকতাব’। তাই বাজার থেকে বই উধাও করে ফেলার কৌশল আমাদের ভোলাভালা আলিমদের কল্পনায়ও আসে না। আপনাদের সংগঠন মজবুত, কম্যুনিস্টদের চেয়েও মজবুত, পক্ষান্তরে তখন এবং এখন সব সময় সংগঠনে আমরা আনাড়ী। নইলে আপনারা যেখানে এমন ‘একাট্টা’ সেখানে আমাদের ঐক্য মাত্র তিন ভাগ। সুতরাং সউদী আরব বা তাদের মুরব্বী আমেরিকা, কোথাও থেকে আপনাদের উৎখাত করা সম্ভব নয়। অবশ্য ওলামায়ে কেরাম একবার যদি এক হতে পারতেন, তাহলে বোঝা যেত ইসলামী জনতা কাদেরকে ইসলামী শক্তি মনে করে। তবে একটা কথা, শক্তি ও সংগঠন যতই মজবুত হোক, জামায়াতের সুদীর্ঘ কালের বিশাল আয়োজনপূর্ণ রাজনীতির খোলাছা কিন্তু একটাই, জোয়ারের তোড়ে এগিয়ে যাওয়া এবং ভাটার টানে পিছিয়ে আসা। এটা কীসের আলামত, জামাতীদের অবশ্যই তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।

সুপ্রিয় আবদুল আযীয গর্ব করে লিখেছেন, ‘বাতিলের মোকাবেলায় হকের প্রতিষ্ঠায় প্রায় দুই শতাধিক তেজোদীপ্ত যুবক অম্লান বদনে শীর দিয়েছে, আমামা দেয়নি।’

আমার জানা মতে জামাতী বন্ধুদের মুখে কিঞ্চিৎ দাড়ি থাকলেও কখনো মাথায় তাদের আমামা থাকে না, সুতরাং দেয়া না দেয়ারও প্রশ্ন আসে না। আমামা তো থাকে আলিমদের মাথায়, তারা অবশ্য ‘শীর দেয় আমামা দেয় না’ এবং বিপদকালে লেবাসও বদল করে না। বেশী দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, মালিবাগে এবং ‘শহীদ বাড়িয়ায়’ কারা শহীদ হল? আফগানিস্তানে কারা জান দিল? সর্বোপরি মার্কিন সরকার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাদরাসাগুলো নিয়ে কেন এত চিন্তিত? হল দখলের দাঙ্গায় মারা যাওয়া আর মসজিদ রক্ষার জন্য জান দেয়া কি এক হল?

আবদুল আযীয লিখেছেন, ‘ঐক্যের বাণী নিয়ে প্রফেসর গোলাম আযমসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ মরহুম হাফেজ্জী হুজুর, শায়খুল হাদীস মাওলানা আযীযুল হক, চরমোনাইয়ের পীর ছাহেব প্রমুখের কাছে বার বার ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু... ...

জী, আমিও বলি, এখানে একটা ‘কিন্তু’ আছে। ইতিহাস সাক্ষী, জামায়াতের বিভিন্ন দুঃসময়ে ওলামায়ে কেরাম বার বার আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু ‘প্রয়োজনে ব্যবহার’ এটাই ছিল জামায়াতের ‘ব্যবহার’। একাত্তরের ‘কেয়ামতের’ পর যার ছায়ায় জামায়াত ‘আত্মপ্রকাশ’ করেছিল (ইত্তেহাদুল উম্মাহর ব্যানারে), তার নাম খতীবে আযম মাওলানা ছিদ্দীক আহমদ। তিনি ভেবেছিলেন, এত বড় কেয়ামত জামায়াতের চরিত্রে নিশ্চয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। না, যথারীতি সেখানেও বড় একটা ‘কিন্তু’ এসে হাজির হয়েছিল এবং খতীবে আযমের মতো ব্যক্তিকেও ‘ব্যবহৃত’ হওয়ার ‘মধুর’ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছিল।

মওদূদী সাহেব ও তার অনুসারীদেরকে ওলামায়ে কেরাম বার বার অনুরোধ করেছেন, ‘মাকামে সাহাবা ও ইছমাতে আম্বিয়া’-এর মতো নাযুক আকীদার বিষয়ে কলম বন্ধ রাখুন এবং ঐক্যের পথে আসুন। কিন্তু জামায়াতের এক কথা, মওদূদী যা খুশী লিখবেন, আমরা শুধু পড়ব, তিনি যা খুশী বলবেন, আমরা শুধু শুনব, প্রতিবাদ করলেই বলা হবে, আলিমরা ইসলামী ঐক্যের বিরোধী। ‘তালগাছ আমার’ এমন ঐক্য তো হতে পারে শুধু ভারত-বাংলাদেশের মাঝে।

হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর দরবারে গোলাম আযমের ‘ধরনা’ দেয়ার যে কথা আবদুল আযীয সাহেব বলছেন! আমি নিজেই তার সাক্ষী। গোলাম আযমের আবদার এবং হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর জবাব আমি নিজের কানে শুনেছি। আমার সৌভাগ্য, সেদিন আমি দেখেছিলাম, কেমন হয় মুমিনের ঈমানী ফারাসাত! ধৈর্য ধরে গোলাম আযমের দীর্ঘ ‘বয়ান’ শুনে হযরত শুধু দুটি বাক্য বললেন, ‘ইত্তিহাদুল উম্মা’ ভালো কথা, তবে কীসের ওপর ইত্তিহাদ? শাড়ি তো নয়া, কিন্তু দুলহান তো পুরানা। শুধু শাড়ি নয়, দুলহান বদল করুন। আকলমন্দের জন্য ইশারা কাফী, আর গোলাম আযমকে তার শত্রুরাও আকলমন্দ মনে করে। তাই বুঝতে তার বিলম্ব হল না যে, ইনি আসলে অন্য কিছু। সুতরাং আবদুল আযীয সাহেবরা যা-ই করুন ঐক্যের ‘মারছিয়া’ আর শোনাবেন না।

আমি বলি না, জামায়াত ও কাদিয়ানী একেবারে এক কাতারে। আমি শুধু বলতে চাই, কাদিয়ানীদের সাথে বিরোধের মূল বিষয় হল আকীদায়ে খতমে নবুওয়াত। এই আকীদার বিশ্বাস হল ঈমান আর এই আকীদার অস্বীকার বা বিকৃতি হল কুফর। আর জামাতের সাথে বিরোধের মূল বিষয় হল, ইছমতে নবী ও আদালাতে সাহাবা। এটা হক ও গোমরাহীর মাসআলা। ইসলামী উম্মাহর সর্বকালীন ও সর্বজনীন আকীদা এই যে, নবীগণ সকলেই মাসুম ও নিষ্পাপ, কিন্তু মওদূদী বলে(ন), নবীদের ইছমত কখনো কখনো তুলে নেয়া হত, যাতে প্রমাণিত হয় যে, তারা ‘মানব’ ছিলেন। এটা সত্য হলে নবুওয়াত ও রিসালাতের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তদ্রূপ নবুওয়াতের সোহবতপ্রাপ্ত সাহাবা কেরামের ‘একক ও সামগ্রিক’ আদালাত ও ন্যায়পরতা স্বীকার না করলে দ্বীনের বুনিয়াদই ধ্বসে যায়। সুতরাং এ বড় ভয়ংকর গোমরাহী। এটা ইসলামী ফিকহের মাযহাবী ইখতিলাফ নয়, এটা হক ও গোমরাহীর বিরোধ।

আবদুল আযীয বলতে চান, যে মওদূদী শত শত পৃষ্ঠা লিখেছেন ‘সাহাবা-প্রশস্তি’র উপর, তিনি কীভাবে হতে পারেন সাহাবার নিন্দাকারী!

দেখুন, কেউ যদি জেগে ঘুমুতে চান, আমি তার ‘নিদ্রায়’ ব্যঘাত ঘটাব না। তবে সত্যি যারা নিদ্রিত, শুধু তাদের জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শত পৃষ্ঠার প্রশংসা এক পৃষ্ঠার নিন্দাকে বৈধতা দান করে না। এক মন দুধে এক ফোঁটা... ... এ তো আমাদেরই দেশের প্রবাদ। গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ‘নবী প্রশস্তি’ শুনবার মতো, যাকে বলে ‘পাক্কা আশেকে রাসূল’। তাঁর একটি মশহুর কাবিতাপঙ্ক্তি হল–

‘মুহম্মদ-প্রেম’ হয় যদি কুফুরি,

কসম খোদার, সেরা কাফির আমি দুনিয়ার।

‘গোলামের বাচ্চা’ ‘ছোট্ট’ একটা কাজ করেছে। নবীর শুরু থেকে ‘আখেরী’ শব্দটি সরিয়ে দিয়েছে।

মওদূদীর ‘সাহাবা প্রশস্তিও’ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য হত, যদি তিনি ছোট্ট একটা কাজ না করতেন, ‘একটু একটু’ নিন্দা করে সাহাবা কেরামের ‘আদালাত ভবনের’ ইট খুলে না ফেলতেন। ‘অমুক সাহাবী ঘুষের লেনদেন করেছেন, তহবিল তছরুপ করেছেন, অমুক সাহাবী স্বৈরাচার ও স্বজনপ্রীতির ‘পলিসি’ গ্রহণ করেছেন।’ আপনিই বলুন, এই ‘তবরুক’ বিতরণের পর প্রশস্তির কী মূল্য থাকে! তবু আমরা কৃতজ্ঞ, কারণ নামের আগে ‘হযরত’ এবং পরে ‘রাদিয়াল্লা’টুকু তিনি বহাল রেখেছেন।

লেকচারার আবদুল আযীয সাহেবের একটি ‘লেকচার’ শুনুন– মওদূদীর ‘সাহাবা সমালোচনা’ তো তার নিজস্ব নয়, আলবিদায়া, আলকামিল, তাবারী প্রভৃতি জগদ্বিখ্যাত ও সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাসগ্রন্থ থেকে ‘আহরিত’। সুতরাং অপরাধ হলে ঐ ইতিহাস সংকলক জগদ্বরেণ্য ঐতিহাসিকদের হবে, মওদূদীর কেন হবে?

জী, অতি সরল যুক্তি এবং বহুবার ব্যবহৃত এবং আবদুল আযীযের পূর্বে তাদের নেতা মওদূদী সাহেবও এসব যুক্তি বারবার দেখিয়েছেন। কিন্তু স্বয়ং আল্লামা তাবারী যে তার কিতাবের ভূমিকায় সুস্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, এসকল বর্ণনার সত্যমিথ্যার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা শুধু সংগ্রহ ও সংকলন করেছি, পর্যালোচনা ও নির্বাচন করিনি, এ প্রশ্নের কী জবাব আছে ‘বড় হুজুর’ এবং ‘ছোট হুজুর’দের কাছে?

বস্তুত এ বিষয়ে শেষ কথা হল, দুটি মাত্র শব্দ, ‘কালেকশন’ ও ‘সিলেকশন’। ঐতিহাসিকগণ যা কিছু পেয়েছেন বিনা বিচারে তা সংগ্রহ করেছেন এবং সনদ ও সূত্র উল্লেখ করে দায়িত্বমুক্ত হয়েছেন। সেটাই ছিল তাদের তখনকার করণীয়। পরবর্তী কালের গবেষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, সনদ ও সূত্র এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে বর্ণনার সত্যমিথ্যা নির্ধারণ করা এবং গ্রহণ-বর্জনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ‘বড় হুজুর’ তা করেননি, তিনি শুধু ‘পছন্দের’ বর্ণনাগুলো ‘বরণ’ করেছেন, আর ‘অপছন্দের’গুলো বিসর্জন দিয়েছেন। আমাদের অপরাধ, আমরা ‘জী হুজুর’ বলতে পারিনি এবং বলতে পারব না।

ইমাম ইবনে তায়মিয়া, মোল্লা আলী কারী, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও শাহ ইসমাঈল শহীদ, এদের নাম নিয়েছেন (শাহ) আবদুল আযীয। তিনি বলতে চান, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের এসকল বরেণ্য ইমামের সাহাবা সম্পর্কিত বক্তব্যের মওদূদী সাহেব প্রতিধ্বনি করেছেন মাত্র। সুতরাং ‘ইমামের নামায নষ্ট না হলে মুক্তাদির নামায কেন নষ্ট হবে?’

হয়, মুক্তাদি ‘দুষ্ট’ হলে এমনও হয়। প্রথম কথা, ‘সাহাবানিন্দা’ সবার জন্য সমান অপরাধ। এখানে আগে-পিছে নেই, ইমাম-মুক্তাদি নেই। দ্বিতীয় কথা, সে যুগের ইমামদের বক্তব্যে ‘ভুল কিছু থাকলে’ তা কিতাবের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল, তার প্রভাব সর্বপ্লাবী ছিল না। পক্ষান্তরে প্রধানত বিশ শতকের একাডেমিক, সাংগঠনিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সুবাদে মওদূদীর ‘মতামত’ সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে, তাই তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তৃতীয় কথা, পূর্ববর্তী কোনো ইমাম কোনো সাহাবীর শানে গোস্তাখী করেছেন এটা আসলেই মিথ্যা কথা।

আবদুল আযীয সাহেব ইমামদের উদ্ধৃতি এনেছেন এবং সেগুলোর কুশলী তরজমা করেছেন। সময়ের অভাবে আমরা তার কৃত তরজমা মেনে নিয়েই বলছি, ইমামদের বক্তব্যের খোলাছা তো শুধু এই :

ক. শক্তি, প্রজ্ঞা ও অন্যান্য গুণে হযরত উছমান হযরত ওমরের মতো ছিলেন না।

এ বক্তব্যে দোষের কিছু নেই। হযরত উছমানের স্তর ও মর্যাদা যে হযরত ওমরের পরে ছিল, সে তো জানা কথা, যেমন হযরত ওমর রা.-এর স্তর হযরত আবু বকর রা.-এর পরে ছিল। তবে তাঁরা সবাই ‘আদর্শ’ খলীফা ছিলেন। নিজ নিজ সময় ও পরিস্থিতিতে তাঁদের নীতি ও পদক্ষেপ সঠিক ছিল এবং পরবর্তী কালের উম্মতের জন্য তা আদর্শ।

খ. হযরত উছমান রা.-এর স্বভাবপ্রকৃতি হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রা. থেকে ভিন্ন ছিল। কেননা হযরত উছমান কখনো কঠোরতার পরিবর্তে নমনীয়তার (সঠিক তরজমা, ‘নম্রতার’) আশ্রয় নিতেন।

এ মন্তব্যেও আপত্তির কিছু নেই। কারণ আসলেই তিনি ছিলেন স্বভাবনম্র। এই স্বভাবনম্রতার কারণেই তো নিজের জীবনের বিনিময়েও তিনি মদীনায় রক্তপাতের অনুমতি দেননি।

গ. তাঁর নিযুক্ত প্রশাসকদের মাঝে ছিদ্দীকী ও ফারুকী যুগের প্রশাসকদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য ছিল না। এটাও সত্য কথা। ছিদ্দীকী, ফারুকী, উছমানী ও আলাবী এই চার যুগের শাসক ও শাসিতদের মাঝে পার্থক্য থাকাই তো স্বাভাবিক, তবে তা হল ন্যায় ও কল্যাণেরই স্তর তারতম্য, ভালো ও মন্দের নয়।

মওদূদী সাহেব যদি শুধু এইটুকু বলতেন, তাহলে আমাদের ‘নরম’ মাথা এত গরম হত না। কিন্তু মওদূদী সাহেব যা বলেছেন, তার একটি মাত্র নমুনা দেখুন-

‘খলীফা ওমর রা.-এর নির্দেশ ছিল, পরবর্তী খলীফা এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবেন যে, তিনি আপন গোত্রের সাথে কোনো সুবিধামূলক আচরণ করবেন না, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তৃতীয় খলীফা হযরত উছমান এ ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত মানদণ্ড রক্ষা করতে পারেননি। তার আমলে বনু উমাইয়াকে প্রচুর পরিমাণে বড় বড় পদ এবং বাইতুল মাল থেকে বড় বড় দান প্রদান করা হয়েছিল।’ (খিঃ ওয়া মুঃ পৃঃ ৯৯)

শব্দপ্রয়োগ কুশলী বটে, কিন্তু ফলাফল কী দাঁড়ায়। পূর্ববর্তী খলীফার আদেশ লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি, বাইতুল মালের খেয়ানত এবং (আধুনিক যুগের) দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ, এই নয় কি! সুতরাং হে সৈয়দ মওদূদী! এখন আপনি যেখানে আছেন, সেখানে আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন।

হাদীস শরীফে এসেছে, যে শাসক সরকারি পদ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি করে, তার ওপর আল্লাহর লানত (আততারগীব ওয়াত তারহীব) এমনকি এ যুগের শাসকের জন্যও এটা অমার্জনীয় অপরাধ। তাহলে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, যার সম্পর্কে আল্লাহর নবীর ভবিষ্যদ্বাণী হল– ‘ফেতনার সময় উছমান হেদায়াতের উপর সুদৃঢ় থাকবেন’ (তিরমিযী, আলবিদায়া)। একজন খলীফা নিহত হবেন এবং ফেতনা হবে, কিন্তু তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়নীতির ওপর অবিচল থাকবেন। (আলবিদায়া- ৭) তাঁর সম্পর্কে এমন গোসতাখী কীভাবে বরদাশত করা যায়!

আমাদের প্রশ্ন, নবুওয়াতের ছোহবতধন্য উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির খেলাফতের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে এ যুগের মওদূদী যখন ‘আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন’ কায়েম করবেন, তখন কী অবস্থা হবে?

শরীয়তী দৃষ্টিকোণ ছাড়া নিছক ইতিহাসের দৃষ্টিতেও এ জঘন্য অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। হযরত উছমান রা.-এর খেলাফতকালে ৪৭ জন প্রশাসক ছিলেন। ইতিহাসে তাদের নামের তালিকা রয়েছে। (আলকামিল, খ. ৩, পৃ. ৫০-৫১)

আদমের বেটা হিসাবে অবশ্য এই সাতচল্লিশ জনের সবাই হযরত উছমানের আত্মীয়। তবে ঐতিহাসিকগণ এ দীর্ঘ তালিকা থেকে মাত্র পাঁচজনকে চিহ্নিত করেছেন, যারা দূর বা নিকট কোনো না কোনোভাবে তাঁর আত্মীয় ছিলেন।

যথা : মুআবিয়া রা., ওয়ালীদ ইবনে ওকবা রা., সাঈদ ইবনুল আছ রা. এই তিনজন ছিলেন উমাইয়া বংশের। তবে তাদের আত্মীয়তাও ঘরের আত্মীয়তা ছিল না। অন্য দু’জন হলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমির রা. এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ ইবনে আবী সারাহ। এই পাঁচ জনই ছিলেন আল্লাহর রাসূলের সাহাবী।

ফেতনাকারীদের অভিযোগের জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে মজলুম খলীফা হযরত উছমান রা. যা বলেছিলেন এ যুগের ‘ফেতনাকারী’রাও তা শুনে রাখুন– ‘তারা বলে, আমি আমার খান্দানকে বেশী ভালবাসি এবং তাদেরকে বেশী দান করি। কিন্তু সে ভালবাসা অন্যায় কাজে তাদের সাহায্য করে না, শুধু তাদের ‘হক’ তাদের কাছে পৌঁছে দেয়, আর তাদেরকে আমি শুধু নিজের মাল থেকে দান করি। মুসলমানদের মাল না আমি নিজের জন্য হালাল মনে করি, না অন্য কারো জন্য। আমি তো পূর্ববর্তী তিন যুগেও তাদেরকে দান করতাম। খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমি আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলাম। অথচ এখন আমার হজে¦র জন্য দুটি উট ছাড়া কিছু নেই। (তারপর তিনি মদীনার হাজিরানদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমার কথা সত্য নয়? তারা বলল, আল্লাহর কসম, সত্য)

মওদূদী সাহেব! আল্লাহর কসম, সত্য! ‘ইতিহাস’ যদি অন্য কিছু বলে তবে তা ছুড়ে ফেলুন এবং ‘জান্নাতী’ খলীফার কথা সত্য বলে গ্রহণ করুন।

অবশেষে এই বলে আমি আমার লেখার ইতি টানছি, মওদূদী ও তার জামাতের প্রতি ওলামায়ে কেরামের ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ তখনো ছিল না, এখনো নেই, কিন্তু সাহাবা কেরামের সমালোচনা ও দোষচর্চা তারা বরদাশত করতে পারেন না। সুতরাং সুপ্রিয় আবদুল আযীয, আপনি আপনার লেখার সমাপ্তিতে ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা যদি আন্তরিক হয়, তাহলে দয়া করে সাহাবা কেরামের সমালোচনার ফিতনা পরিত্যাগ করুন, তারপর ঐক্যের কথা বলুন। ইনশাআল্লাহ ইস্পাত কঠিন ঐক্যের জন্য আমরা প্রস্তুত। আল্লাহ কবুল করুন, আমীন।

–আবু তাহের মিছবাহ্
শিক্ষক, আরবী ভাষা ও সাহিত্য
মাদরাসাতুল মাদীনাহ, ঢাকা
১১/৪/১৪২৬ হি.
[ মাসিক আলকাউসার || রমযান ১৪৪৭ || মার্চ ২০২৬ ]

বাংলাদেশে কি ইনকিলাব হয়েছে?নিজের মূর্খতা থেকে মনের গভীরে একটু আশার আলো দেখেছিলাম যে, ইসলামি দলগুলোর জোট হলে হয়ত বাংলাদেশ...
24/02/2026

বাংলাদেশে কি ইনকিলাব হয়েছে?

নিজের মূর্খতা থেকে মনের গভীরে একটু আশার আলো দেখেছিলাম যে, ইসলামি দলগুলোর জোট হলে হয়ত বাংলাদেশে ইনসাফ কায়েম হবে। কিন্তু, নির্বাচন পরবর্তী কার্যকলাপ থেকে এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হলো যে, শুধু জোট নয়, বরং দেশের ৯৮% ভোটও যদি ইসলামি জোট পেত, তবুও তারা ক্ষমতায় আসতে পারত না। এর পিছনে বহুবিধ কারণ আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো, পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ধারার মধ্য দিয়ে কখনোই ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব নয়। কারণ, জনগণ ভোট দিতে পারে, কিন্তু দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দেশের নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে প্রশাসন ও তথাকথিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর হাতে। যেহেতু, বিশ্ব মোড়লরা চায় না যে, বিশ্বের কোথাও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক, সেহেতু তারা সব সময় বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রশাসনকে কিনে নিয়ে নিজেদের গোলাম বানিয়ে রাখে। আন্দোল, নির্বাচন যাই হোক না কেন, প্রকৃত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসে। জুলাই সনদ বলেন, ইনকিলাব বলেন এগুলো জাস্ট জনগণের আকাঙ্খা। যেহেতু এটা প্রকৃত প্রভুদের আকাঙ্খা নয়, সেহেতু এটা কখনোই বাস্তবায়ন হবে না। বিএনপিও যদি প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে বিএনকেও সরিয়ে দিয়ে অন্য কাউকে বসানো হবে যারা বিশ্ব মোড়লদের গোলামি করতে পারবে। মামুনুল হক সাহেবরা যতই জীবন উৎসর্গ করে সংসদে যাওয়ার চেষ্টা করুক না কেন তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হবে। তাদের জন-সমর্থন যদি ১০০%ও তবুও তারা সংসদে যেতে পারবে না। আর সংসদে গেলেও টিকতে পারবে না। জনগণ চায় তারপরও কেন পারবে না? পারবে না, কারণ, দেশ জনগণের টাকায় চলে, জনগণের ইচ্ছায় না। দেশ চলে বিশ্ব মোড়লদের ইচ্ছায়। জামায়াতে ইসলামী যদি বিশ্ব মোড়লদের গোলামি মেনে না নেয় কোন দিনই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যদি কখনো তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় যায়, তাহলে শতভাগ ধরে নিতে হবে, তারা আল্লাহকে নয় খোদাদ্রোহীদেরকে প্রভু বানিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, যেকোন ইসলামি দলই যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসে আর জিহাদ ছাড়াই টিকে যায় তাহলে ধরে নিতে হবে তারা মোড়লদের গোলামি মেনে নিয়েই টিকে আছে। এটাই বাস্তব। কারো যদি এই কথাগুলো অবাস্তব মনে হয় তাহলে সে যেন ধরে নেয় যে, তার রাজনৈতিক জাহালত এখনো দূর হয় নাই।

প্রশ্ন হলো, তাহলে সমাধান কোথায়? উত্তর হলো, সমাধান একমাত্র আল্লাহর কুরআনে। যেখানে এই পাশবিক গণতন্ত্রের কোন সমর্থন নেই।

তাহলে, বর্তমান বিশ্বে কি ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব নয়, হ্যাঁ, সম্ভব। আর তার স্পষ্ট পথ প্রদর্শক হলো ছাত্র ভাইয়েরা, যারা বিশ্ব মোড়লদের গোলামি নয়,
বরং, বিশ্ব মোড়লদের চ্যালেঞ্জ করে ইনসাফ কায়েম করতে পেরেছে ।

তারা কেন টিকে আছে এখনো জানেন? কারণ, তারা জিহাদ করেছে। গণতন্ত্র নয়।

আল্লাহ যেন আমাদের সকলের অন্তর্চক্ষু খুলে দেন। আমীন।

মুফতি Harun Izhar সাহেবের টাইমলাইন চেক করে আপনারাও সাধ্যানুযায়ী শরিক হতে পারেন। আল্লাহ যালিমদের হিদায়াত দান করুন।
18/01/2026

মুফতি Harun Izhar সাহেবের টাইমলাইন চেক করে আপনারাও সাধ্যানুযায়ী শরিক হতে পারেন। আল্লাহ যালিমদের হিদায়াত দান করুন।

23/12/2025

ওরা বলে কলমের জবাব কলম দিয়ে হবে কিন্তু যখন আপনি কলম দিয়ে জবাব দিবেন তখন ওরা সিভিল ড্রেসে গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাবে।

ওরা বলে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, কিন্তু যখন আপনি গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা চর্চা করবেন তখন ওরা আপনাকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাবে।

আসলে সবকিছুর মূল উৎস ক্ষমতা, শক্তি, জোর, দালালী, ভণ্ডামি, হিপোক্রেসি।
কথায় আছে— জোর যার মুল্লুক তার।
ফুআদ মুবতাসিম
😥😥

শীতের শুক্রবারে সকলকে বাপ-বেটির পক্ষ থেকে জুমআ মুবারক। 🥰😍🫀♥️। প্রিয় উসমান হাদি ভাইয়ের ছেলেটার কথা খুব স্মরণ হচ্ছে।
19/12/2025

শীতের শুক্রবারে সকলকে বাপ-বেটির পক্ষ থেকে জুমআ মুবারক। 🥰😍🫀♥️।
প্রিয় উসমান হাদি ভাইয়ের ছেলেটার কথা খুব স্মরণ হচ্ছে।

27/11/2025

দেশ পরিচালনার সকল ভার অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত, ধর্মহীন, পরকালীন ভাবনাহীন ব্যক্তিদের উপর ছেড়ে দিয়ে আমরা ইসলামকে রক্ষা করতে চাই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং শিআরে ইসলামের হুরমত রক্ষা করতে চাই। এটা আসলে সম্ভব না। আমাদের অস্ত্র হলো সামান্য আন্দোলন আর প্রতিবাদ। এটা অবশ্যই কার্যকরী। তবে এটা কোন সমাধান না। আর উলুল আমর তথা আলেম সমাজকে আল্লাহ এভাবে ইসলাম হেফাজতের নির্দেশও দেন নাই। ইসলামের হিফাজত বা আল্লাহর খিলাফতের মূল কথাই হলো, সর্বশক্তি ব্যয় করে পৃথিবী বা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ক্ষমতা উলুল আমরদের অর্জন করতে হবে। কিন্তু, যুগের পর যুগের চলে যাচ্ছে। আমরা সে পথে হাটছি না। মিছিল-আন্দোলন করে আপনি যার কাছে বিচার চান, সে কি কুরআনের মর্যাদা বুঝে? সে কি আল্লাহকে চেনে? সে জানে রাম যেমন দিন্দুদের দেবতা আল্লাহ তেমন মুসলমানদের দেবতা। সে মনে করে, অনুষ্ঠানের আগে কুরআন তিলাওয়াত যেমন জরুরি গীতা পাঠও তেমন জরুরি। তো এই ধরণের পুলিশ, সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল বা সংসদের কাছে বিচার চাওয়া এক ধরনের ইসলামকে ছোট করা। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের এই ধারা থেকে বের হতে হবে। মানুষ বুঝে না তাই সমালোচনা করে। এই জন্য তাদেরকে বুঝাতে হবে। যে বুঝবে না সে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পাবে। কিন্তু, রাষ্ট্র পরিচালনার কোন পর্যায়ে তাকে সংশ্লিষ্ট করা যাবে না। এটার প্রায়োগিক উদাহরণ চাইলে সেটাও আছে। Ta-লি-Ban এটার বর্তমান সময়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মিছিল-মিটিং আন্দোলন আমরা করতে থাকি। কিন্তু, মনে রাখি এটা কোন সমাধানই না। আসল সমাধান প্রশাসন পরিবর্তন।

চেয়ারে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ চেয়ার, টেবিল, ডেস্কটপ সব কেপে উঠল। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়ত আমিই কোন কারণে কাপছি। পরক্ষণেই বুঝ...
21/11/2025

চেয়ারে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ চেয়ার, টেবিল, ডেস্কটপ সব কেপে উঠল। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়ত আমিই কোন কারণে কাপছি। পরক্ষণেই বুঝতে বাকি রইল না, আল্লাহ যমিনকে প্রকম্পিত করেছেন। ছোট্ট মেয়েটি আমার পাশেই খেলা করছিল। ভাবলাম ওকে নিয়ে বিল্ডিং থেকে বের হয়ে যাই। তবে, ভাবতে ভাবতেই কম্পন থেমে গেলো। কিন্তু, কোন একদিনের ভূমিকম্প সবকিছু নিঃশেষ না করে থামবে না।
আজ জুমআর দিন। কোন এক জুমআর দিন এভাবেই মহাবিশ্ব ধূলিকণার ন্যায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের ইমান মজবুত করে দিন।

ইনামুল হাসান ফারুকী ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আরো অর্থ দরকার। যারা এখনো শরিক হইনি সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করি। অনেক আগেই শরিক...
19/11/2025

ইনামুল হাসান ফারুকী ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আরো অর্থ দরকার। যারা এখনো শরিক হইনি সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করি। অনেক আগেই শরিক হতে চেয়েছিলাম, পেরে উঠিনি। আজকে সামান্য কিছু পাঠানোর তাওফিক হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আমার জানামতে নিচের উপায়গুলো তাকে অর্থ পাঠানোর মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা ভাইটিকে সুস্থ করে মুসলিম জাতির মুক্তির সিপাহ সালার হিসেবে কবুল করুন।

বিচারক আদালতে, সিকিউরিটি গার্ড গেটে, দোকানি দোকানে, কৃষক মাঠে, শিক্ষক বিদ্যালয়ে, অফিসার অফিসে কাজ করে কিন্তু, প্রগতিশীলর...
17/11/2025

বিচারক আদালতে, সিকিউরিটি গার্ড গেটে, দোকানি দোকানে, কৃষক মাঠে, শিক্ষক বিদ্যালয়ে, অফিসার অফিসে কাজ করে কিন্তু, প্রগতিশীলরা এই অভিযোগ তুলে না যে, তাদের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। তারা একই জায়গা প্রতিদিন একই কাজ করছে। বিপরীতে নারী গৃহে কাজ করলে নারীবাদী ও প্রগতিশীলরা বলে বেড়ায় যে, নারীর স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। আসলে ওদের মাথাব্যথা নারীদের কল্যাণ কামনা নয়, মূলত ওরা চায় পারিবারিক কাঠামো নষ্ট করে সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিতে।

শিশুদের ভালোবাসা। সকাল সকাল কাগদির বাওড়ে ভেসে বেড়ানো কস্তুরি ফুলের শুভেচ্ছা জানাল দুইজন ছাত্র। একজন হিন্দু আরেকজন মুসলিম...
03/11/2025

শিশুদের ভালোবাসা। সকাল সকাল কাগদির বাওড়ে ভেসে বেড়ানো কস্তুরি ফুলের শুভেচ্ছা জানাল দুইজন ছাত্র।
একজন হিন্দু আরেকজন মুসলিম। এখানে কোন দ্বন্দ্ব নেই। বাস্তবেও প্রান্তিক পর্যায়ে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব সাধারণত হয় না। হয় তখন যখন ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের শেষ করে তাগুতি শক্তি দিয়ে বিশ্ব পরিচালনা করতে চায়। এই মুসলিম বিদ্বেষী নেতাগুলো সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থে। আর তাদের স্বার্থের বলি হয়ে হাজারো মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। সমাজের শান্তি বিনষ্ট হয়।
দুনিয়ার সিস্টেম স্বাভাবিক রাখতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে সমাজে বসবাসের অনুমতি দিয়েছেন। যদিও, আখেরাতে অমুসলিমদের আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং মুসলিম না হওয়ার অপরাধে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। আল্লাহ সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুসলিম উম্মাহকে হিফাজত করুন।

Address

Faridpur
7800

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Itminan Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Itminan Life:

Share