05/02/2018
গল্প ঃ #সুইট_ভালবাসার_গল্প !!!
Writer : Uponnaser Kisu Golpo !!!
- সাহরিয়য়য়য়য়য়য়া পালাআআআআআ (রাজু) ।
- সেই স্কুল এ পড়তে একবার কুকুরের তাঁরা
খেয়ে যেমন দৌড়ানি দিছিলাম ঠিক তেমন
ভাবে দৌড়াইতাছি ,
যেই দিন থেকে মিষ্টি আপুরে প্রেমে
পরছি তার পর থেকে এমন দৌড়ানির
ওপরে আছি ।
দুঃখের কথা কী আর কইতামরে ভাই ,
মিষ্টি আপুরে নাকি ওই আমাদের এলাকার
বড় ভাই রকি ও ভালবাসে ।
ঝামেলা তো ওই খানেই , কিন্তু হালাই এখন ও
কইতে পারে নাই ।
আর আমি সিওর মিষ্টি আপুরে কইলে কানের
নিছে দিবে একটা , আর আপনারাই বলেন আমার
মতো একটা মিষ্টি কিউট ছেলে থাকতে
ওই গাঙ্গা খোরকে ভালবাসতে যাবে কোন দুঃখে হি হি হি ।
সালাই আপুরে তো কিছু কইতে পারবে না
ক্যালানি খাইলে তো আমি খামু , ওর আবার
মেলা পোলাপান আছে , আসলে আমাদের দেশ এ
তো আবার গাঙ্গা খোর এর কোন অভাব নাই ।
কিন্তু আমি দৌড়াইতাছি ক্যান , ওই রকি কে কী
আবার রাজু দেখছে নাকি ।
- ওই সালা আমরা দৌড়াইতাছি ক্যান ।
- আরে আমার বাপরে বাজারে দেখলাম তাই ।
- কীইইইইই কইলি হারামি , তোর বাপের জন্য আমারে
আত্ত দৌড়ে নিলি ।
- কী করমু ভাই "ক" বাড়িত থেকে ৫ হাজার টাকা
নিয়া বলছি সাহরিয়া হাসপাতালে ।
- কীইইইইইই হারামি তুই , ভাল আমিটারে মাইরে দিলি ।
এখন ওই ৭৫% বেড় কর ।
- ভাই আজকে গফ এর সাথে দেখা করতে যামু ।
- ঠিক আছে যা একহাজার দে ।
- হুমমমমমমম এই নে , আমার বাপ কিছু বললে একটু
ম্যানেজ করিস ।
- আচ্ছা তাহলে আরও এক হাজার দে ।
- কীইইইইইইইই কেন ।
- আগের টা তো আমারে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য ,
তোর বাপরে ম্যানেজ করার জন্য তো না ।
এখন যদি না দিশ আমার আর কীইইইইই করার ।
- ঠিক আছে ভাই এই নে , তবু কিছু বলিস না ।
- হি হি হি কোন টেনশন নিসনা ভাই আমি তো আছি ,
আরামছে লাইন মার ।
- ঠিক আছে আমি গেলাম ।
- হুমমমমমমম যা , আমি ও যামু ।
বাসাই আসছিলাম , কত্ত বড় হারামি
আমারে নিয়া ও মিছা কথা কয় ।
আর ওই দিকে রকি সালার জ্বালাই বাঁচি না ,
আবার মিষ্টি আপুরে ও কিছু কইতে পারি না ।
আবার মিষ্টি আপু ও আমরে মনে হয় আমরে
ভালবাসে , তা না হলে ক্যান প্রতিদিন ঘুরতে
নিয়ে যাবে , এ সালা মহা ঝামেলাই পরছি যেমন ।
বাসাই এসে গোসল করে শুয়ে শুয়ে গান শুনছি ,
হঠাৎ মিষ্টি আপুর ফোন ...।।
- হ্যালো ... সাহরিয়া স্পিকিং ।
- ওই বেয়াদপ কী করছিস ।
- আমি এই তো এক হাতে ফোন নিয়া
দাঁড়াই দাঁড়াই হিসি করছি ।
- ছি ছি ছি তোর মুখে কী ভাল কথা আসে না ।
- হুমমমমমম আসে তো , এই তো এখন
পা দুইটা ওপরে তুলে শুয়ে আছি , তুমি
কী করো ।
- গোসল করে এখন ছাঁদে হাঁটতেছি ।
- বাহ বাহ বাহ ভালো তো , আচ্ছা কত বালতি
পানি দিয়া গোসল করছ ।
- কেন বলতো ।
- না মানে অ্যান্টি আমারে ফোন দিয়া কইল
তুমি নাকি ৭ দিন যাবৎ গোসল কর নাই , সেই
হিসেবে যদি আমরা পার দিন ৩ বালতি করে
ধরি তাহলে ৭ দিনে ৭*৩= ২১ বালতি পানি
দিয়ে তোমারে গোসল করা দরকার ,
এখন বল কত বালতি পানি দিয়া গোসল সম্পন্ন করছ ।
- তোকে কাছে পাইলে না একটা থাপ্পড় দিমু বেয়াদপ ,
আজকে বিকেলে আমাদের বাসার সামনে আসবি ।
- কীইইইইইই কেন ।
- আস্তে বলছি তাই আসবি ।
- আচ্ছা কয়টাই আসমু সেটা তো বললা ।
- আচ্ছা ৪ টায় আসবি ।
- হুমমমমম টিক আছে , যাইতামনি ।
- তারপর ফোনটা রেখে দিলাম , কী আছে কপালে
আল্লাহ্ যানে , একদিকে মিষ্টি আপু অন্য দিকে ওই
সালা রকি ।
এর পরে ৪ টা ২০ মিনিটে মিষ্টি আপুর বাসার
উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলাম , আমাদের বাসা
থেকে মিষ্টি আপুদের বাসাই যাইতে ১০ মিনিট
লাগে ।
আমার ভাই একটা সিক্রেট ব্যাপার আছে ,
সেটা হইল আমার কানে যদি কোন ঝাক্কাস
হিন্দি গান আসে , তাইলে কেমনে যানি সাহরিয়া ২
ইনস্টল হয়ে যায় । তখন আমি পুরাই চেঙ্গ হয়ে যাই ।
এইটা কেন হয় সেটা আজ ও বুঝিনা , তখন যদি
রকি কেন ওর বাপ আসলে ও কোন দাম নাই , খালি
যতক্ষণ গানটা আছে ততক্ষণ হি হি হি ।
হঠাৎ একটা বইক আমার সামনে আসলো ।
- ওই তুই সাহরিয়া ।
- জী ভাইয়া আমি সাহরিয়া বলেন ।
- তুই মিষ্টি ভাবির সাথে আর কথা বলবি না ।
- হি হি হি ভাইয়া আমি তো কথা বলতে চাই না
হেই তো খালি কথা কয় ।
- ওকে তো কই যাস ।
- ওই যে আপনাদের মিষ্টি ভাবি আমারে ডাকছে তাই
যাচ্ছি ।
- ওই তোরে না কথা বলতে মাত্র নিষেধ করলাম ।
- আরে ভাই কথা না বললে তো হেই আমারে ক্যালাবে ।
- আর কথা বললে আমরা ক্যালামু ।
- আচ্ছা এতই যখন প্রবলেম আমারে না বলে তারে
বললেই তো পারেন ।
- ওই তুই এখান থেকে যাবি নাকি ক্যালানি খাবি ।
- হায় কপাল আমার , হুমমমমমম যাচ্ছি ।
চলে আসতে লাগলাম ।
পিছন থেকে মিষ্টি আপুর ডাক ।
- ওই সাহরিয়া কই যাস ।
- এই যে ইনারাই তো চলে যাইতে কইল ।
- ওমনি পোলা দুইটা চলে গেল ।
- কী হইছে বলতো ।
- মেলা কিছু হইছে আবার কিছুই হয় নাই ।
- ওই সোজা সুজি কিছু বলতে পারিস না হুমমমম ।
- না মানে ওই যে আমাদের এলাকার রকি আছে
না হেই নাকি তোমারে ভালবাসে ।
আর আমি তোমার সাথে এমন আঠার মতো থাকি
তাই আমারে যেখানে সেখানে দৌড়ানি দেই ।
- কীইইইইইই তুই এত কিছু আমাকে আগে বলিস নাই
কেন ।
- আচ্ছা থাক বাদ দাও , এবার বল কই যাবা ।
- জানি না , যা রিক্সা নিয়ে আয় আজকে রিক্সাই ঘুরব ।
- হি হি হি আমার কাছে কিন্তু মাত্র ২০ টাকা আছে ।
- তোরে টাকার কথা বলছি আমি ।
- না তো ।
- তা হলে যা বলছি তাই কর ।
- ওকে ওকে আনতেছি ।
- একটা রিক্সা নিয়ে আসলাম ।
ওহ ম্যাডাম দাড়াই থাকবেন নাকি
উঠবেন ।
- হাত দে ।
- কেমন জানি খটকা লাগল হঠাৎ হাত কেন ,
কিছু না বলেই বাড়িয়ে দিলাম , কী সুন্দর নরম
হাত , আগে সুধু এই হাতের ক্যালানি খাইছি ।
এই প্রথম এমন ভাবে ধরলাম ।
উঠার পর ও কেমন আমার হাতটা ধরেই
আছে ।
একটু ডানে তাকাতেই দেখি রকি দূরে থেকে আমাদের দেখছে ,
দূর যেই যা দেখে দেখুক এমন একটা পরীর
জন্য আমি মরতে ও রাজি আছি ।
- আপু একটা কথা বলি ।
- হুমমমমমম বল ।
- আজকে না তোমাকে হেব্বি লাগছে ,
এখন যদি কেও আমাকে তোমাকে বিয়ে করতে
বলে আমি চোখ ব্ন্ধ কবুল বলে দিব ।
হায় হায় মুখ ফসকে বলে ফেলছি ।
কিন্তু অবাক করা ব্যাপার মিষ্টি আপু কিছুই
বলে নাই ।
সেই দিন রাত ৮ টা অব্দি ঘুরলাম , তারপর
আপুকে বাসাই নেমে দিলাম ।
- এই যে আমার বাঁদরটা ভাল করে বাসাই যাবা
কেমন ।
- হুমমমমমম , তার কথা শুনে কেমন হা করে
ছিলাম ।
- এই যে মামা একটু দাঁড়ান , দেখি
মাথাটা এইদিকে নিয়ে আয় ।
- কেন ।
- কেমন চুল গুলা কাকের বাসার মতো হয়ে
গেছে ।
এবার ঠিক আছে বাসাই গিয়ে একটা ফোন দিবি ।
- আচ্ছা ঠিক আছে ।
- কেমন জানি খুশি খুশি লাগছে ,
একটু আসতেই ২ টা বইক রিক্সার সামনে
থামল ।
একজন রিক্সা থেকে শার্টের কলার ধরে
নামাল ,
একটা চর দিতেই অজ্ঞান হয়ে গেছি ।
তারপর আর মনে নাই ।
পরের দিন চোখ খুলতেই দেখি মিষ্টি আপু
দাঁড়াই আছে আর
চোখে পানি টলমল করছে ।
- হাত পা একটু টানা দিলাম , না সব ঠিক আছে ।
যাক অজ্ঞান হয়ে যাওয়াই হয়ত ভয়ে আর মারে নাই ।
- ওই তোর কী হইছিল কালকে ।
- হি হি হি দাঁড়াও আগে আব্বা রে থেইকা শুনে নেই
কেমনে বাসাই আসলাম ।
- হারামি আঙ্কেল বাসাই নাই ,
বাজারে গেছে তোরে কালকে রাতে কত
ফোন করলাম , ধরলি না তাই সকালে এসে
আঙ্কেল এর কাছে শুনলাম ।
তুই নাকি অজ্ঞান হয়ে রাস্তাই পরে ছিলি
২ টা পোলা বইকে করে এসে দিয়ে গেছে ।
- যাক যা ভাবছিলাম তা হয় নাই ,
তারপর আসল ঘটনা আপুরে খুলে
কইলাম ।
- আচ্ছা তুই আমারে ভালবাসিস ।
- হায় হায় হ্যাঁ বলব নাকি না বলব
ভেবে পাচ্ছি না ।
- ওই কী হল বল ।
- হ্যাঁ বাসি ।
- কীইইইইইইইইইইইইই ।
- না না না বাসি না মুখ ফসকে বের হইছে ।
- কীইইইইইই বললি ভালবাসিস না আমাকে ।
- হি হি হি তোমারেই তো ভালবাসি ।
- সারাজীবন ভালবাসবি ।
- হুমমমমমমম সারাজীবন ভালবাসব ।
- তা হলে এবার চল ।
- কই যাব ।
- রকির কাছে ।
- কীইইইইই কেন ।
- তুই আমাকে ভালবাসিস সেটা বলবি ।
- ওই তোমার মাথা খারাপ , হেব্বি ক্যালাবে আমাকে ।
- ওরে যদি তুই না বলিস তা হলে আমি রকিরে বলব আমি তোরে
না ওরে ভালবাসি , এখন তুই ঠিক কর ।
- না না না আমিই ওরে বলব ২ টা দিন সময়
দাও ।
- কোন সময় না এখনই গিয়ে বলবি ,
ওই কই যাস ।
- দাঁড়াও আগে একটু হিসি করে আসি ,
হইছে এবার চলো ।
আমি রকির সামনে রকির ভয়ে দাঁড়াই আছি
রকি মিষ্টি আপুর ভয়ে দাঁড়াই আছে ।
- ওই কী হল বল তারাতারি ।
- হুমমমমমম বলছি ।
রকি ভাইয়া মানে যা বলছিলাম , আপনি
কিছু মনে কইরেন না কেমন , আমি মানে
না মানে আমি ।
- থাক তোর বলা লাগবে না , আমি বলছি ।
এই যে আপনে শুনেন আমি এই গাধা টারে
ভালবাসি , ওমন ভাবে দেখে লাভ নাই ,
বিশ্বাস হচ্ছে না তাই না ।
ওমনি ফট করে একটা পাপ্পি দিল ,
ওই দিকে তো রকি জ্বলে পুরে ছাই হয়ে গেছে ।
- কী এবার বিশ্বাস হইছে , আর হ্যাঁ আমাদের মাঝে
আসার চেষ্টা করবেন না ।
সাহরিয়া চল বলে আমার হাত ধরে
টেনে নিয়ে গেল ,
কেমন সীনেমার স্টাইলে আমি তো খালি হা
করে আছি কী থেকে কী হয়ে গেল । হি হি হি হি কি
কপাল আমার খালি পাপ্পি পাই .........।
সব গল্পের শেষ এ যা হিসি চাপে কী
আর কমু ...আচ্ছা আপনাদের ও কী গল্প
পরতে পরতে হিসি চাপে ।।হি হি হি থাক বলা
লাগবে না ।।
>>>সমাপ্ত>The End