20/07/2025
বোকা ও চালাক বন্ধুর গল্প
এক গ্রামে থাকতো দুই বন্ধু—রবিন আর কবির।রবিন ছিল খুবই সোজা সাপ্টা ও বিশ্বাসী, অনেকেই তাকে "বোকারবিন" বলে ডাকতো। আর কবির ছিল খুব চালাক, কিন্তু সে তার চালাকিটা ব্যবহার করতো নিজের স্বার্থে।
একদিন রবিন আর কবির বাজারে যাচ্ছিলো।পথে তাদের দেখাহলো এক দরিদ্র বুড়ির সঙ্গে।বুড়ি বলল,“প্লিজ বাছারা, কেউকি একটু পানি এনে দেবে? আমি খুব তৃষ্ণার্ত।”
রবিন দৌড়ে গিয়ে একটি কলসিভর্তি পানি এনে দিলো।বুড়ি খুব খুশি হয়ে একটি ছোট পাথর দিলো রবিনকে আর বলল,“এই পাথরটি খুব মূল্যবান, তবে এর গুণ কেউ সহজে বোঝেনা।”রবিন সেটা খুশি মনে নিয়েনিলো।কিন্তু কবির হেসে বলল,
“বোকা, একটা পাথরের জন্য এত কষ্ট করলে? এর কোনো দামই নেই।”
কয়েকদিন পর কবির শহরে গেলো।সেখানে সে শুনলো, জাদু পাথর কিনে একজহুরী বিশাল মূল্যদিচ্ছে।কবির তখন রবিনকে বোঝাতে লাগলো,
“তুই সেই পাথরটা আমায় দিয়েদে, আমি শহরে গিয়ে বিক্রি করে আসব।যা দাম পাব, অর্ধেকতোর।”রবিন বিশ্বাস করে পাথর দিয়ে দিলো।কবির শহরে গিয়ে পাথরটা বিক্রি করলো বিশালদামে—১০,০০০টাকা। কিন্তু সে রবিনকে কিছুই জানালনা।
রবিন অপেক্ষা করছিলো, কিন্তু কবির আর ফিরছিলনা।তখন রবিন বুড়ির কাছে গেলো সবঘটনা বলার জন্য।বুড়ি মুচকি হেসে বলল, “বোকা নয়, তুই সরল।আমি তোর জন্য আরেকটা কাজ করবো।”সে রবিনকে একটি পুরনো কাগজ দিলো আর বলল,“এটা শহরের সেই জহুরীর কাছে নিয়েযা।”রবিন কাগজ নিয়ে শহরে গিয়ে জহুরীর কাছে পৌঁছালো।জহুরীকাগজটা দেখে বলল, “আরে! এইতো সেই আসল মালিকের দলিল! ওই পাথরতো তোদেরনা, এটাতো সেই বুড়ির সম্পত্তি!”
জহুরী পুলিশ ডেকে কবিরকে ধরিয়ে দিলো।তার টাকা বাজেয়াপ্ত করাহলো, আর রবিনকে দেওয়া হলো অর্ধেক টাকা এবং বলাহলো, “তুমি সততার পুরস্কার পেয়েছো।”
চালাকি যদি হয় অন্যকে ঠকানোর জন্য, তার শেষ ভালো হয়না।আর সরলতা যদি হয় সততার সঙ্গে, তাহলে একদিন না একদিন সে তার ফল পায়।
শিক্ষা:
চালাকির থেকেও বড় গুণ হলো সততা।কারণ সততাই একদিন জয়ী হয়।ধন্যবাদ