Actual Needs

Actual Needs Train your mind for success!

this page is dedicated to sharing positivity,uplifting and inspiring posts, quotes,books, stories, music, information.....

share inspiring messages or just get motivated !

যাদের গীবত করা ওয়াজিব"গিবত করা বা পরনিন্দা করা হারাম। এই কথাটা একজন সাধারন মুসলমানও জানে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের বা দল...
26/05/2026

যাদের গীবত করা ওয়াজিব"
গিবত করা বা পরনিন্দা করা হারাম। এই কথাটা একজন সাধারন মুসলমানও জানে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের বা দলের গিবত বলা যায়েজ, এই কথাটা অনেকেই জানে না। যার কারনে গিবতকারী গিবতকারী বলে চিল্লা চিল্লি করে।
কিছু মানুষ এমন আছে যে, সে নিজে খারাপ, কিন্তু তার কারনে অন্যলোক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এমন লোকের অনুপস্থিতিতে তার নিন্দা করা যাবে না।করলে গিবত হবে।
কিছু লোকের চরিত্র এমন যে, সে নিজেও ধ্বংশ হয়েছে এবং অন্যকেও ধ্বংশ করতেছে। এমন লোকের ধ্বংশাত্বক ছোবল থেকে অন্যকে বাচানোর উদ্দ্যেশে তার খারাপ চরিত্রের কথা মানুষকে জানিয়ে দেওয়া গিবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
যেমন আপনার এলাকাতে একজন প্রশিদ্ধ ডাকাত আছে, তাহার ভাষা খুবই মিষ্টি। সে মিষ্টি কথার দ্বারা মানষকে বশিভুত করে ফেলে এবং সুযোগমত কৌশলে মানুষের অনিষ্ট করে। এমতাবস্তায় আপনি দেখলেন যে, আপনার ঘনিষ্ট একজন আত্নীয় তার খপ্পরে পড়ে যাবার উপক্রম। এখন আপনি কি করবেন ?
এখন আপনার একান্ত কর্তব্য হল, ডাকাতের চরিত্রকে প্রকাশ করা। যদি না করেন তাহলে আপনার আত্নীয়ের সবকিছু ধ্বংশ করে দিবে।এই হল সাধারন ব্যাপার। আর যে দল বা গুষ্টি প্রতারনার ফাদ পেতে লক্ষ লক্ষ লোকের ইমান আমল নষ্ট করতেছে তাদের মন্দ দিকগুলি সাধারন জনগনের নিকট প্রকাশ করা ফরজ।
কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা ওয়াজিব?!
গিবতের ক্ষতিকর প্রভাবে ব্যক্তি থেকে সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্রেফ ইছলাহের উদ্দেশ্যে ও নেকীর আশায় জনকল্যাণার্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনা করা যায়। যেটা আসলে গীবত নয়। বরং সত্য তুলে ধরা।
যেমন,
(১) অত্যাচারীর অত্যাচার প্রকাশ করার জন্য।
(২) সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং পাপীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য।
(৩) হাদীছের সনদ যাচাইয়ের জন্য।

(৪) মুসলিমদেরকে মন্দ থেকে সতর্ক করার জন্য।
(৫) পাপাচার ও বিদ‘আত থেকে সাবধান করার জন্য।
(৬) প্রসিদ্ধ নাম বলে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য! যাতে করে লোকেরা এদের চিনতে পারে।
[নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫; মুসলিম হা/২৫৮৯ ‘গীবত হারাম হওয়া’ অনুচ্ছেদ, নববীর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য]

09/05/2026

“আজ যে কষ্টটা তোমাকে ভাঙছে,একদিন কষ্টটাই তোমার শক্তি হবে।”

06/05/2026

Celebrating my 6th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

01/03/2026
সমগ্র মুসলিম জাতি আজ এক গভীর শোকের দিনে দাঁড়িয়ে…আজ আমরা হারালাম এমন একজন নেতৃত্বের প্রতীককে,যিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে সাহস...
01/03/2026

সমগ্র মুসলিম জাতি আজ এক গভীর শোকের দিনে দাঁড়িয়ে…
আজ আমরা হারালাম এমন একজন নেতৃত্বের প্রতীককে,
যিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে সাহস, প্রতিবাদ আর আত্মমর্যাদার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।
Ayatollah Ruhollah Khomeini শুধু একটি দেশের নেতা ছিলেন না,
তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক আদর্শ, এক প্রতিবাদের ভাষা, এক বিশ্বাসের প্রতীক।
Iran-এর মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি যে পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন,
তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো মুসলিম বিশ্বে।
Iranian Revolution শুধু রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না,
এটি ছিল আত্মপরিচয় আর আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার ঘোষণা।
আজ তার বিদায়ে শুধু একটি দেশ নয়,
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ অনুভব করছে শূন্যতা।
নেতারা চলে যান, কিন্তু তাদের দেখানো পথ, তাদের সাহস, তাদের উচ্চারণ—
সময়ের গর্ভে অমলিন থেকে যায়।
আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

যুগে যুগে অনেক মহামান্য ব্যক্তি এই পৃথিবীতে এসেছেন—
সময় ও ইতিহাসের ধারায় আবার হারিয়েও গেছেন।
Ayatollah Ruhollah Khomeini-এর মতো ব্যক্তিত্ব হোক কিংবা পৃথিবীর অন্য যে কোনো প্রভাবশালী নেতা—
সবাই একসময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছেন।
মৃত্যু চির অবধারিত।
কেউই এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নয়।
আজ যে শিখরে, কাল সে স্মৃতিতে।
আজ যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাল তিনি ইতিহাসের অধ্যায়।
তাই শুধু শোক নয়,
শুধু আবেগ নয়—
আমাদের উচিত তাদের জীবনের আদর্শ, ত্যাগ, নৈতিকতা ও দৃঢ়তা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
কারণ মানুষ চলে যায়,
কিন্তু আদর্শ থেকে যায়—
আর সেই আদর্শই একটি জাতিকে শক্ত, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।

07/01/2026

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি—দিন দিন আমরা কেন এতটা নিকৃষ্ট মানসিকতার মানুষ হয়ে যাচ্ছি?
একটা সময় ছিল, মানুষ মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখত। মতের অমিল থাকলেও সম্মান ছিল, দ্বিমত থাকলেও শালীনতা ছিল। আজ? আজ আমরা মানুষ দেখিনা—আমরা দেখি প্রতিদ্বন্দ্বী, শত্রু, হুমকি। কে কী বলল, কে কী করল, কে কী পরল—এইসব নিয়েই আমাদের মাথাব্যথা। কিন্তু নিজের ভেতরে কী পচে যাচ্ছে, সেটা দেখার সময় আমাদের নেই।
আমরা দিন দিন এমন এক মানসিকতার দিকে হাঁটছি, যেখানে অন্যকে ছোট না করলে নিজেকে বড় মনে হয় না। অন্যের ব্যর্থতায় হাসি আসে, অন্যের কষ্টে সহানুভূতির বদলে আসে উপহাস। কেউ পড়ে গেলে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বদলে আমরা মোবাইল বের করি—ভিডিও করার জন্য। যেন মানুষের অপমান এখন বিনোদন, মানুষের দুর্বলতা এখন কনটেন্ট।
প্রশ্ন হলো—আমরা এমন হলাম কীভাবে?
আমরা কি জন্ম থেকেই এমন ছিলাম?
না।
তাহলে শেখা হলো কোথা থেকে?
আমরা শিখেছি চারপাশ থেকে।
একটা সমাজ আমাদের তৈরি করেছে—যেখানে মূল্যবোধের চেয়ে ভিউ গুরুত্বপূর্ণ, সততার চেয়ে স্মার্টনেস বেশি দামি, আর চরিত্রের চেয়ে কানেকশন বেশি কাজে লাগে।
আমরা এমন এক সময়ে বেঁচে আছি, যেখানে মিথ্যা বলা বুদ্ধিমত্তা, ধোঁকা দেওয়া চালাকির পরিচয়, আর নৈতিকতা মানেই “বোকামি”। কেউ সৎ থাকলে তাকে বলা হয় “রিয়াল লাইফ বোঝে না”। কেউ নীতিতে অটল থাকলে বলা হয় “এভাবে চললে টিকবে না”। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে বদলে যায়। বাঁচার তাগিদে নয়—বরং মানিয়ে নেওয়ার নামে নিজের বিবেককে হত্যা করে।
আমরা দিন দিন সহনশীলতা হারাচ্ছি।
একটু ভিন্ন মত মানেই আক্রমণ।
একটু ভিন্ন পথ মানেই ট্রল।
একটু আলাদা চিন্তা মানেই চরিত্রে দাগ।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের যুক্ত করেনি—বরং উল্টোটা করেছে। আমরা সবাই কাছাকাছি আছি, কিন্তু কেউ কারো পাশে নেই। আমরা স্ট্যাটাসে বিপ্লবী, কিন্তু বাস্তবে নিরব। অন্যায় দেখলে শেয়ার করি, কিন্তু প্রতিরোধ করি না। প্রতিবাদ করি কিবোর্ডে, কিন্তু রাস্তায় নয়। আমরা ভালো মানুষ হতে চাই না—ভালো দেখাতে চাই।
আজকাল ভালো হওয়া মানেই লোক দেখানো।
দান মানেই ছবি।
ইবাদত মানেই পোস্ট।
সহানুভূতি মানেই স্টোরি।
ভেতরে কিছু থাক বা না থাক—দেখাতে পারলেই হলো।
আমাদের আরেকটা বড় পতন হয়েছে সম্পর্কের জায়গায়।
আজকাল সম্পর্ক মানেই ব্যবহার।
যতদিন দরকার, ততদিন ভালোবাসা।
দরকার ফুরোলেই দূরত্ব।
আমরা মানুষকে ভালোবাসি না—আমরা মানুষকে কাজে লাগাই। বন্ধুত্ব মানে সুবিধা, আত্মীয়তা মানে হিসাব, ভালোবাসা মানে শর্ত। কেউ উপকার করতে না পারলে সে “ভ্যালু” হারিয়ে ফেলে। এই মানসিকতা আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে মানুষ একা হয়েও একা থাকার সুযোগ পায় না—কারণ চারপাশ ভরা থাকে ভণ্ড মুখোশে।
আমরা এখন আর লজ্জা পাই না।
মিথ্যা বলেও না।
অন্যায় করেও না।
কারণ আমাদের বিবেক ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেছে।
একটা সময় ছিল, ভুল করলে মানুষ লজ্জা পেত। এখন ভুল ঢাকতে মানুষ আরো বড় ভুল করে। চরিত্র ঠিক করার বদলে চরিত্রহনন করে। নিজেকে শোধরানোর বদলে অন্যকে দোষী বানায়।
আমরা এমন এক সমাজ বানিয়েছি, যেখানে অন্যকে নিচে নামাতে পারলেই নিজেকে উপরে তোলা যায়। যেখানে গুজব ছড়ানো সাহস, আর সত্য বলা ঝুঁকি। যেখানে ভালো মানুষ মানেই দুর্বল, আর খারাপ মানুষ মানেই “স্ট্রং”।
শিক্ষা আমাদের মানুষ করেনি—শুধু চাকরির উপযোগী বানিয়েছে। আমরা ডিগ্রি শিখেছি, কিন্তু মানবিকতা শিখিনি। আমরা হিসাব শিখেছি, কিন্তু অনুভূতি বুঝিনি। আমরা নম্বর জানি, কিন্তু নৈতিকতার মূল্য জানিনা।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন?
আমরা এই অবস্থাকে “স্বাভাবিক” ধরে নিয়েছি।
আমরা বলি—“এটাই এখনকার দুনিয়া”
“এভাবেই চলতে হয়”
“ভালো হয়ে লাভ নেই”
এই কথাগুলোই আমাদের শেষ করে দিচ্ছে।
কারণ যখন অন্যায় স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন ন্যায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। যখন খারাপ হওয়া ট্রেন্ড হয়, তখন ভালো হওয়া বোকামি মনে হয়।
কিন্তু সত্যি করে বলুন তো—এই মানসিকতা নিয়ে আমরা কোথায় যাচ্ছি?
কী রেখে যাচ্ছি আমাদের সন্তানদের জন্য?
একটা সভ্য সমাজ, নাকি একদল স্বার্থপর মানুষ?
আমরা অভিযোগ করি—সমাজ খারাপ।
কিন্তু সমাজ তো আমরা।
আমাদের চিন্তা, আমাদের কাজ, আমাদের নীরবতাই সমাজ তৈরি করে।
হয়তো এখনই সময় নিজেকে প্রশ্ন করার—
আমি কি কাউকে ছোট করছি?
আমি কি কারো কষ্টে চুপ থাকছি?
আমি কি সুবিধার জন্য সত্যকে এড়িয়ে যাচ্ছি?
পরিবর্তন আকাশ থেকে নামে না।
পরিবর্তন শুরু হয় একজন মানুষ থেকে।
হয়তো আপনি, হয়তো আমি।
সবাই বদলাবে না—জানি।
কিন্তু সবাই বদলাবে না বলেই কি আমরা চেষ্টা ছেড়ে দেব?
এই সমাজকে বাঁচাতে হলে আগে মানসিকতা বাঁচাতে হবে।
মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখতে হবে।
দেখানোর ধর্ম নয়, ধারণ করার বিবেক দরকার।
নাহলে আমরা বেঁচে থাকবো ঠিকই—
কিন্তু মানুষ হিসেবে নয়।









আজকাল বুকের ভেতর এক ধরনের ভারী কষ্ট জমে থাকে। মনে হয়, হজ আর উমরাহ—যে ইবাদতগুলো মানুষের জীবন উল্টে দেওয়ার কথা ছিল—সেগুলো ...
06/01/2026

আজকাল বুকের ভেতর এক ধরনের ভারী কষ্ট জমে থাকে। মনে হয়, হজ আর উমরাহ—যে ইবাদতগুলো মানুষের জীবন উল্টে দেওয়ার কথা ছিল—সেগুলো ধীরে ধীরে ফ্যাশন আর ট্রেন্ডে পরিণত হচ্ছে।
আল্লাহর ঘরে যাওয়ার ডাকটা যেন আর কান্নার ডাক নয়, বরং ক্যামেরা অন করার সিগন্যাল।
আজকাল মনে হয় হজ ও উমরাহ ইবাদত কম, ফ্যাশন ও ট্রেন্ড বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ইবাদত হওয়ার কথা ছিল আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ মাধ্যম, গুনাহ মাফের সুযোগ, আল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার এক পবিত্র যাত্রা—সেটাই আজ অনেকের কাছে যেন স্ট্যাটাস সিম্বল, সামাজিক মর্যাদার প্রদর্শনী আর সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট।
কাবা শরিফ—যেখানে দাঁড়িয়ে নবী-রাসূলরা কেঁদেছেন, সাহাবিরা বুক ফাটিয়ে তাওবা করেছেন, যেখানে মানুষের অহংকার গলে যায়—সেই পবিত্র জায়গাটার সামনেই আজ অনেকের চোখ থাকে মোবাইল স্ক্রিনে।
অথচ কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে চোখ ভেজার কথা ছিল তাওয়াফে, অথচ এখন চোখ থাকে ক্যামেরার লেন্সে। ইহরাম পরা মানে ছিল দুনিয়ার সব ভেদাভেদ ভুলে আল্লাহর সামনে এক সমান বান্দা হওয়া, কিন্তু এখন ইহরাম পরাও যেন একটা প্রদর্শনী। কে কোন হোটেলে থাকছে, কে কতবার উমরাহ করেছে, কে বিজনেস ক্লাসে গেছে—এই সব আলোচনায় আসল প্রশ্নটা হারিয়ে যাচ্ছে: এই ইবাদত কি আমাদের ভেতরটা বদলাচ্ছে?
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, আল্লাহ আমাদের চেহারা দেখেন না, পোশাক দেখেন না, সম্পদ বা জনপ্রিয়তা দেখেন না। আল্লাহ দেখেন আমাদের অন্তর আর আমাদের নিয়ত। কিন্তু আজকের বাস্তবতা হলো—অনেক মানুষ হজ বা উমরাহ পালন করছে ঠিকই, কিন্তু পরবর্তী জীবনে সেই ইবাদতের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। নামাজ আগের মতোই অবহেলিত, হারাম-হালালের ব্যাপারে উদাসীনতা আগের মতোই, মানুষের হক নষ্ট করা, মিথ্যা বলা, অহংকার, হিংসা—সব আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে—হজ বা উমরাহ কি শুধু একটি সফর ছিল, নাকি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি অঙ্গীকার?
যদি ইবাদত শেষে জীবন বদলায় না, চরিত্র বদলায় না, চিন্তাভাবনায় কোনো পরিবর্তন না আসে—তাহলে আমাদের নিজের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি ইবাদতের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি?
ইসলাম কখনো বলেনি যে, যারা পাপী তারা হজ করতে পারবে না। বরং ইসলাম বলে—হজ মানুষের পাপ মোচনের সুযোগ। কিন্তু ইসলাম এটাও বলে যে, হজের পর মানুষ আগের মতো থাকতে পারে না। হজ হলো নতুন করে শুরু করার নাম। যদি সেই নতুন শুরুটাই না হয়, তাহলে সমস্যাটা ইবাদতে নয়, সমস্যাটা আমাদের নিয়তে।
আজকাল অনেকেই ধর্মীয় ইবাদতকে বিচার করে বাহ্যিকতায়। কে কত বড় আলেম, কে কত দামী পোশাক পরে, কে কত সুন্দর করে কোরআন তেলাওয়াত করে—এসব দেখে আমরা মুগ্ধ হই। কিন্তু কে কতটা সত্যবাদী, কে কতটা আমানতদার, কে কতটা ন্যায়পরায়ণ, কে মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ায়—এই গুণগুলো আর আলোচনায় আসে না। অথচ এগুলোই ইসলামের মূল শিক্ষা।
হজ ও উমরাহ যদি কেবল লোক দেখানোর জন্য হয়, তাহলে সেটা আর ইবাদত থাকে না—তা হয়ে যায় এক ধরনের পারফরম্যান্স। আর যেখানে পারফরম্যান্স শুরু হয়, সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি হারিয়ে যায়। মানুষ খুশি হয়, কিন্তু আল্লাহ খুশি হন না। আর একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো—মানুষের বাহবা পেয়ে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জন করা।
এ কথাগুলো কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কাউকে বিচার করার জন্যও নয়। এটা আসলে আমাদের সবার জন্য এক ধরনের আত্মসমালোচনা। আমি, আপনি, আমরা সবাই—আমরা কেন ইবাদত করছি? আল্লাহর জন্য, নাকি মানুষ দেখানোর জন্য? যদি আল্লাহর জন্য করি, তাহলে লোক না দেখলেও সমস্যা নেই। আর যদি মানুষ দেখানোর জন্য করি, তাহলে কাবার সামনে দাঁড়িয়েও অন্তর ফাঁকা থেকেই যাবে।
আজকের সমাজে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে—ধর্ম মানেই বাহ্যিকতা। কিন্তু ইসলাম বাহ্যিকতার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। ইসলাম হলো চরিত্র, ইসলাম হলো নৈতিকতা, ইসলাম হলো দায়িত্ববোধ, ইসলাম হলো আল্লাহভীতি। হজ বা উমরাহ সেই চরিত্র গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম—শর্ত হলো, আমরা সেটাকে ঠিকভাবে গ্রহণ করি।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—যারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে খুব কম জানে, তারাও আজ হজ বা উমরাহ করছে। এটা খারাপ নয়, বরং আল্লাহ যাকে ডাকেন, তাকেই ডাকেন। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার পরও মানুষ নিজের জীবন বদলাতে চায় না। তখন ইবাদত শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে, পরিবর্তনের মাধ্যম হয়ে ওঠে না।
শেষ পর্যন্ত সত্যিটা খুব সহজ—
হজ ও উমরাহ আমাদের প্রোফাইল ছবি বদলানোর জন্য নয়, আমাদের চরিত্র বদলানোর জন্য।
যদি চরিত্র না বদলায়, তাহলে আমাদের আবার ভাবতে হবে—আমরা কি সত্যিই আল্লাহর পথে হাঁটছি, নাকি শুধু সমাজের ট্রেন্ড অনুসরণ করছি?

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন?
ইবাদত যখন লোক দেখানোর জন্য হয়, তখন মানুষ বাহবা দেয়—কিন্তু আল্লাহ নীরব থাকেন।
আর আল্লাহর নীরবতা মানেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
এই কথাগুলো কাউকে ছোট করার জন্য নয়। আমিও এই সমাজেরই অংশ। আমাকেও এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়।
আমি কেন ইবাদত করি?
আমি আল্লাহকে খুশি করতে চাই, নাকি মানুষকে দেখাতে চাই আমি কতটা ধার্মিক?
কারণ সত্যিটা খুব কঠিন—
মানুষের চোখে ধার্মিক হওয়া সহজ, কিন্তু আল্লাহর কাছে কবুল হওয়া খুব কঠিন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে খাঁটি নিয়ত, বিশুদ্ধ অন্তর এবং কবুলযোগ্য ইবাদতের তাওফিক দিন।
আমিন।








05/01/2026

আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা কি আদৌ শিক্ষা দিচ্ছে, নাকি এটি এখন আরেকটি লাভজনক ব্যবসায়িক খাতে পরিণত হয়েছে—এই প্রশ্নটা কি আমরা কেউ নিজেদের মনে করছি? নাকি আমরা সবাই নীরবে মেনে নিচ্ছি, কারণ এই ব্যবস্থার ভেতরেই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বন্দি?
একটা সময় ছিল, যখন শিক্ষা মানে ছিল মানুষ হওয়া। শিক্ষক মানে ছিলেন আদর্শ, অভিভাবক মানে ছিলেন দিকনির্দেশক, আর স্কুল ছিল নৈতিকতা ও জ্ঞানের মন্দির। আজ সেই শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে, যেখানে পড়াশোনা নয়—মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে মার্কেটিং, রেজাল্ট শো-অফ, আর “কার স্কুলে কত A+”।
আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই যেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কে বেশি ছাত্র ভর্তি করতে পারবে, কার কোচিং ভালো, কার প্রাইভেট টিচার বেশি “কার্যকর”, কার স্কুলের রেজাল্ট ভালো দেখাবে—এই প্রতিযোগিতার শেষ কোথায়? শিক্ষা কি এখন আর একটি সামাজিক দায়িত্ব, নাকি শুধুই একটি লাভজনক প্রজেক্ট?
সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটা আসে তখনই, যখন আমরা দেখি—স্কুলে পড়ানোটা যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই অসম্পূর্ণ রাখা হয়। ক্লাসে পুরো সিলেবাস ঠিকমতো পড়ানো হয় না, বিষয়গুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য হয়ে স্কুলেরই শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। এটা কি শিক্ষা, নাকি পরিকল্পিত শোষণ?
যদি একজন ছাত্র স্কুলে গিয়ে সম্পূর্ণ শিক্ষা না পায়, তাহলে সে স্কুলে যাচ্ছে কেন? স্কুলে যদি পড়া শেষ না হয়, তাহলে স্কুল ফি কেন দেওয়া হচ্ছে? সরকার বা অভিভাবকরা কেন নিয়মিত বেতন দিচ্ছেন শিক্ষকদের? স্কুলে যদি পড়ানোই না হয়, তাহলে স্কুলের অস্তিত্বের যৌক্তিকতা কোথায়?
একজন শিক্ষক যখন ক্লাসে কম পড়ান, আর বাইরে প্রাইভেটে বেশি গুরুত্ব দেন—তখন তিনি শিক্ষক থাকেন না, তিনি একজন ব্যবসায়ী হয়ে যান। আর তখন ছাত্র আর ছাত্র থাকে না, সে হয়ে যায় কাস্টমার। এই রূপান্তরটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
আজকের অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে ক্লাস করে শুধু হাজিরা দেওয়ার জন্য। আসল পড়াশোনা হয় প্রাইভেটে। স্কুল যেন কেবল একটি সার্টিফিকেট দেওয়ার কারখানা। এই ব্যবস্থায় মেধা নয়, টাকাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। যার টাকা আছে, সে ভালো শিক্ষক পাবে। যার টাকা নেই, সে পিছিয়ে পড়বে—এই কি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য?
আমরা কি ভেবে দেখেছি, এই চাপ একজন শিশুর ওপর কী প্রভাব ফেলছে? সকাল থেকে বিকেল স্কুল, তারপর কোচিং, তারপর প্রাইভেট, তারপর হোমওয়ার্ক—শিশুর শৈশব কোথায়? খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি, মানবিকতা—এসব কি আজকের সিলেবাসে কোথাও আছে?
আজ আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করছি, যারা পরীক্ষায় ভালো করতে জানে, কিন্তু জীবনে সিদ্ধান্ত নিতে জানে না। যারা মুখস্থে পারদর্শী, কিন্তু চিন্তায় দুর্বল। যারা রেজাল্টে A+, কিন্তু নৈতিকতায় শূন্য।
আরেকটি বড় প্রশ্ন—এই ব্যবস্থার দায় কার? শুধু শিক্ষকদের? শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের? নাকি আমরা অভিভাবকরাও সমানভাবে দায়ী? আমরা নিজেরাই তো রেজাল্টের পেছনে সন্তানকে দৌড় করাই। আমরা নিজেরাই তো জিজ্ঞেস করি—“পাশ করেছ?” কিন্তু খুব কমই জিজ্ঞেস করি—“কী শিখেছ?”
একটি সমাজ তখনই ভেঙে পড়ে, যখন শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কারণ শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, শিক্ষা হলো মানুষ গড়ার প্রক্রিয়া। আজ যদি শিক্ষা ব্যবসা হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মও ব্যবসায়িক মানসিকতায় গড়ে উঠবে—মানবিকতায় নয়।
আজ স্কুলগুলোতে নৈতিক শিক্ষা নেই, জীবনের শিক্ষা নেই, বাস্তবতার শিক্ষা নেই। আছে শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি। অথচ জীবন কোনো MCQ নয়, জীবন কোনো সাজেশনভিত্তিক প্রশ্নও নয়। জীবন কঠিন, জটিল এবং নৈতিক সিদ্ধান্তে ভরা।
আমরা যদি এখনই প্রশ্ন না তুলি, যদি এখনই প্রতিবাদ না করি, তাহলে এই ব্যবস্থা আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। আজ প্রাইভেট পড়া বাধ্যতামূলক, কাল হয়তো স্কুলই শুধু নামমাত্র থাকবে।
এই লেখা কোনো শিক্ষক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। এই লেখা একটি বিকৃত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। ভালো শিক্ষক এখনও আছেন, ভালো প্রতিষ্ঠানও আছে। কিন্তু তারা দিন দিন সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছেন—এইটাই সবচেয়ে কষ্টের।
শিক্ষা কখনো ব্যবসা হতে পারে না। শিক্ষা যদি ব্যবসা হয়, তাহলে তা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের দরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে স্কুলেই পূর্ণ শিক্ষা হবে, যেখানে শিক্ষক হবেন আদর্শ, যেখানে ছাত্র হবে মানুষ—শুধু পরীক্ষার্থী নয়।
প্রশ্নটা এখন খুব সহজ— আমরা কি মানুষ তৈরি করতে চাই, নাকি শুধু সার্টিফিকেটধারী ভিড়?
এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ।













আজকাল একটা প্রশ্ন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়—আমরা কি সত্যিই সামনে এগোচ্ছি, নাকি ধীরে ধীরে নিজেদেরই ধ্বংস করছি?যে দেশটি একদিন ভাষ...
03/01/2026

আজকাল একটা প্রশ্ন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়—
আমরা কি সত্যিই সামনে এগোচ্ছি, নাকি ধীরে ধীরে নিজেদেরই ধ্বংস করছি?
যে দেশটি একদিন ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে,
যে জাতি শিক্ষাকে মুক্তির হাতিয়ার ভেবেছিল,
আজ সেই দেশেই স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় যেন পড়াশোনার জায়গা কম,
আর রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ময়দান বেশি হয়ে উঠেছে।
একসময় ছাত্ররাজনীতি মানে ছিল দাবি, অধিকার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
আজ ছাত্ররাজনীতি মানে—দলবাজি, দখল, ভয় দেখানো, ক্ষমতার লড়াই।
বইয়ের পাতার চেয়ে এখন ব্যানার, পোস্টার আর স্লোগানই যেন বেশি পরিচিত।
আমরা বলি, “আমাদের প্রজন্ম আধুনিক”।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন দিক থেকে আধুনিক?
চিন্তায়, নৈতিকতায়, নাকি কেবল মুখে মুখে?
আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকলে দেখা যায়—
কে কোন দলের, কে কার লোক, কে কতটা “পাওয়ারফুল”—
এই পরিচয়টাই যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ছাত্র, ভালো মানুষ, ভালো চিন্তক—এই পরিচয়গুলো যেন দিন দিন মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর যেটা,
তা হলো—এই বিষ এখন আর বড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
৫ বছরের বাচ্চার মুখেও আজ রাজনৈতিক স্লোগান, গালি আর ঘৃণা।
ওরা জানে না দেশের ইতিহাস,
জানে না নৈতিকতা,
কিন্তু জানে কাকে গালি দিতে হবে,
জানে কাকে শত্রু ভাবতে হবে।
একবার ভেবে দেখুন—
একটা শিশু যখন প্রথম শব্দ হিসেবে শেখে ঘৃণা,
তখন সে বড় হয়ে কী শিখবে?
আমরা নিজেরাই আমাদের সন্তানদের হাতে
ঘৃণার ভাষা তুলে দিচ্ছি,
তারপর অবাক হয়ে প্রশ্ন করি—
“দেশটা কোথায় যাচ্ছে?”
দেশ তো হাওয়ায় যায় না।
দেশ যায় মানুষের চিন্তায়,
দেশ যায় মানুষের আচরণে,
দেশ যায় আমরা যেভাবে আমাদের পরের প্রজন্মকে গড়ে তুলি, ঠিক সেভাবে।
আজ শিক্ষা মানে আর চরিত্র গঠন নয়,
শিক্ষা মানে আর মানবিক হওয়া নয়।
শিক্ষা মানে হয়ে গেছে—
কে আগে ক্ষমতার কাছে পৌঁছাতে পারবে,
কে আগে অন্যকে দমিয়ে রাখতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক তরুণ আজ বই পড়ার চেয়ে
রাজনৈতিক মিটিংয়ে বেশি সময় দেয়।
ক্যারিয়ার গড়ার চেয়ে
“লাইন ঠিক করার” প্রতিযোগিতায় বেশি ব্যস্ত।
আর যারা সত্যিই পড়তে চায়,
যারা সত্যিই মানুষ হতে চায়,
তারা হয় কোণঠাসা,
না হয় চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়।
কারণ আজ সত্য কথা বলা বিপজ্জনক।
আজ নিরপেক্ষ থাকা দুর্বলতা।
আজ ভালো মানুষ হওয়া বোকামি।
আমরা “মডার্ন” হওয়ার নামে
নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছি।
আমরা “সচেতন” হওয়ার নামে
অন্যের প্রতি সহনশীলতা হারিয়েছি।
একটা সময় ছিল,
যখন শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধার জায়গায়।
আজ অনেক জায়গায় শিক্ষকও রাজনীতির শিকার।
শিক্ষার্থী শিক্ষককে নয়,
দলকে ভয় পায়।
এভাবে কি একটি জাতি দাঁড়াতে পারে?
এভাবে কি একটি দেশ ভবিষ্যৎ গড়তে পারে?
আমরা উন্নয়নের কথা বলি,
কিন্তু উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ব্রিজ আর দালান নয়।
উন্নয়ন মানে মানুষের মনন, নৈতিকতা আর বিবেকের উন্নয়ন।
যে দেশে শিক্ষাঙ্গন নিরাপদ নয়,
যে দেশে মত প্রকাশের জন্য ভয় লাগে,
যে দেশে শিশুদের মুখে ঘৃণার ভাষা—
সে দেশ কাগজে কলমে যত উন্নতই হোক,
ভেতরে ভেতরে সে দেশ ভেঙে পড়ে।
আমরা যদি আজ প্রশ্ন না করি,
তাহলে কাল প্রশ্ন করার সুযোগও থাকবে না।
আজ যদি আমরা বলি—
“এইটা ঠিক না”,
“এইটা হওয়া উচিত না”—
তাহলেই হয়তো কিছু বদলাতে পারে।
রাজনীতি থাকবে, থাকা উচিত।
কিন্তু রাজনীতি যেন শিক্ষা ধ্বংস না করে।
রাজনীতি যেন শিশুদের শৈশব কেড়ে না নেয়।
রাজনীতি যেন মানুষকে মানুষ থেকে আলাদা না করে।
আমাদের দরকার—
শিক্ষিত মানুষ,
না যে কেবল ডিগ্রি আছে,
বরং বিবেক আছে।
আমাদের দরকার—
এমন প্রজন্ম,
যারা স্লোগানের আগে যুক্তি বুঝবে,
গালির আগে সম্মান শিখবে।
দেশটা কোথায় যাচ্ছে—
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায়িত্ব
শুধু রাজনীতিবিদদের নয়,
আমাদের সবার।









Address

Feni
3900

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Actual Needs posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Actual Needs:

Share