03/09/2026
একটা ভয়ংকর সত্য বলব—হজম করতে পারলে পড়ুন; অন্যথায় এড়িয়ে যান।
আপনি যদি একটু গবেষণা করেন বা গুগলে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখেন, যে..... পৃথিবীতে সবচেয়ে (ধর্মপ্রান) ধার্মিক দেশগুলো কী কী?—আমি কিন্তু ‘ধার্মিক’ বলেছি, not Only muslim. যেকোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারে—দেখবেন, সবার আগে যে দেশগুলোর নাম আসবে, সেগুলো হচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ আরও কিছু দেশ । অর্থাৎ ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত অনুগত দেশ হিসেবে এসব দেশের নামই সামনে আসবে।
আবার বিপরীতে আপনি যদি সার্চ করেন—পৃথিবীতে সবচেয়ে ধর্মহীন, বিধর্মী দেশ কোনগুলো? মানে যারা ধর্ম কর্ম পালন করেনা। সবার আগে আসবে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, চায়না, পশ্চিমা বিশ্বের আরও কিছু দেশের নাম।
এবার আপনি ধার্মিক দেশগুলো আর বিধর্মী দেশগুলোকে এক পাল্লায় এনে একটু মাপুন।
সবচেয়ে বড় টুইস্ট এখানেই পাবেন!
আপনি পুনরায় অনুসন্ধান করুন—পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি, খুন-খারাপি, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি বেশি হয় কোন দেশগুলোতে ?দেখবেন, ওই যে ফাস্টে যে ধর্মীয় দেশগুলোর নাম আসছিলো ওই গুলোই আবার আসবে সবার আগে । Can you imagine? মানে ধর্মের দেশেই অন্যায় বেশি।
অবাক করার বিষয় হলো, আপনি আবার যদি অনুসন্ধান করেন—পৃথিবীর সবচেয়ে সভ্য দেশ কোনগুলো? অর্থাৎ চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ, দুর্নীতি ইত্যাদি তুলনামূলকভাবে খুব কম হয় কোন দেশগুলোতে— দেখবেন ঐ তথাকথিত ‘বিধর্মী’ ও ‘ধর্মহীন’দেশগুলোর নামই সবার আগে আসবে।
মোট কথা ধার্মিক দেশগুলোর চেয়ে ধর্মহীন দেশগুলোর সামাজিক অবস্থান অনেক বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ। অনেক বেশি সভ্য।
এবার আপনি একটু গভীরে ভাবুনতো —এতো এতো মসজিদ, মাদ্রাসা। এতো এতো হুজুর-আলেমের দেশ, যেখানে ঘন ঘন ওয়াজ-মাহফিল বয়ান নসিহত তালিম, দাওয়াত,তাবলীগ, সুন্নি ওয়াহাবি। হাফেয আলেম মুফতী মুহাদ্দিস আর হালাল-হারাম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তো আছেই। চুন থেকে পান খসলেই ফতুওয়া, ২০ রাকাত না ৮ রাকাত? এই টুপি না সেই টুপি? এই জামা না সেই জামা ? মানে এতো এতো ধর্ম চর্চা হয়। একেকজন এতো বড় বড় পীরে কামেল দরবেশ, যেনো ইসলাম কায়েম করে জান্নাতে এক পা দিয়ে অলরেডি বসে আছে, এমন বুজুর্গদের দেশে ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, দূর্নীতি,বলৎকার যেন নিত্যদিনের খেলা!
প্রতি( ৯) নয় ঘন্টায় এক দুটি করে শিশু বা নারী ধর্ষিত হচ্ছে, প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ হাজার লোক খুন হচ্ছে। ২ বছরের শিশু থেকে নিয়ে ৮০ বছরের বৃদ্ধা,বাদ যাচ্ছেনা কেউই।
আর বিপরীতে জাপানের দিকেই একবার তাকান, একটা সামান্য চিপ্সের প্যাকেট নিয়েও তারা বেইনসাফি করেনা,অন্য বড় জিনিসের কথা না হয় বাদই দিলাম। ধরুন ভেতরে যে পরিমান চিপ্স আছে প্যাকেটটাও ঠিক ততটাই বড় থাকবে,প্যাকেট থাকবে বড় ভেতরে চিপ্স থাকবে অল্প বাকিটা হাওয়া, এই সামান্য চালাকিটাও তারা করেনা এটাও তাদের দেশে একটা বড় ক্রাইম।
আমাদের ধর্ম ইসলাম। ৯৫% মুসলিমের দেশ। অথচ আমাদের দেশেই শান্তি নেই। শান্তির দেশ হিসেবে এক নম্বরে থাকে জাপান, ফিনল্যান্ড আরও বিভিন্ন পশ্চিমা দেশগুলো ; আর আপনি আশা করেন সাড়া বিশ্বকে ইসলামের দাওয়াত দেবেন, তাদের শান্তির বাণী শোনাবেন?
কোন মুখে, ভাই? ফর এক্সাম, ধরুন আপনি জাপানকে ইসলামের দাওয়াত দিতে গেছেন অর্থাৎ শান্তির দাওয়াত, তাদের রিয়েকশনটা কী হবে তখন? আপনাকে ঝাড়ু নিয়ে দৌড়ানি দিবে আর বলবে ভাগ শালা! নিজের ঘরেই শান্তি নাই আসছস আমারে শান্তির বানী শোনাইতে? শান্তিতেইতো আছি আমরা, তাও আবার ১ নম্বরে।
আমরা আল্লাহকে ভয় করি, হালাল-হারাম মেনে চলি; আমাদের দেশে সবচেয়ে শান্তি থাকার কথা। অথচ দেখেন, শান্তি নিয়ে যায় কারা?
হিসাব অনুযায়ী তো তাদের দেশেই খুন-খারাপি, চুরি-ডাকাতি বেশি হওয়ার কথা ছিল, তাই না?কারণ তারাতো আল্লাহকে ভয় পায়না। কিন্তু আমরাতো আল্লাহকে ভয় পাই। তাহলে বলুন আমাদের এতো ধর্ম নিয়ে বাহাদুরি বা বাড়াবাড়ি- কী উপকারে আসছে? বুদ্ধিজীবীরা উত্তর দিয়ে যাবেন পারলে।
আরেকটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন—যেসব দেশে অতিরিক্ত ধর্মীয় গোঁড়ামি বেশি, সেসব দেশগুলো উন্নত বিশ্বের হিসেবে ৫০ বছর পিছিয়ে আছে এবং তারা পিছিয়েই থাকবে, যতদিন না এই গোড়ামি থেকে বের হতে পারবে।
যতদিন অন্যের মতামতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে,নিজেকে হক আর বাকি সবাইকে বাতিল মনে করবে।
আর মাদরাসা ওয়ালাদের কথা কী আর বলবো ভাই! উন্নতি কিভাবে হবে বলেন! নাই ইংলিশ নাই বিজ্ঞান, নাই সমাজ। এখনোও সেই ২০০ বছর আগের কারিকুলামে আটকে আছে, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে প্রতি ২ বছর পর পর সিলেবাস আপডেট করে।
যাই হোক এগুলো নিয়ে ভাবলে আমার মাথা ঘুরিয়ে যায় প্রচুর রাগ হয় আর আফসোস আমাকে ছাড়েনা। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন।
আমার চিন্তার সাথে আপনার চিন্তা মিলতে নাই পারে, এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিবেন,গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ কেউ আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মন্তব্য করবেন না।
Rofik islam