26/06/2021
ইঞ্জিনিয়ারিং শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, এটি একটি প্যাশন। তবে বর্তমানে অধিকাংশই এই পেশা বেছে নেয় শুধু মাত্র অর্থ উপার্জনের জন্যই। তাই হয়ত দক্ষতার অভাব টা একটু বেশিই চোখে পরছে। প্রতিবছর শুধুমাত্র সরকারি পলিটেকনিক থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বের হচ্ছে ৮০০০ থেকে ১০০০০। প্রাইভেট থেকেও এমনই একটা সংখ্যা পাশ করে বের হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবছর সরকারি চাকরিতে কতজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ পাচ্ছে? ১০০০ থেকে ১৫০০ এর মত। দিনশেষে অন্যদের কিন্তু প্রাইভেট জবেই যাওয়া লাগবে।
এই করোনাকালীন সময় অনেক ইঞ্জিনিয়ার তাদের চাকুরি হারিয়েছে। অনেকেই বেতন পেয়েছে অর্ধেক বা তারও কম। একটু খেয়াল করলে দেখবেন একই অফিসের একজন কে ছাটাই করা হয়েছে কিন্তু অন্যজন কে করা হয়নি। আরও একটু ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন যে ব্যক্তির দক্ষতা অনেক ভাল তাকেই ছাটাই করা হয়নি। কারণ কোম্পানি জানে যে ঐ দক্ষলোক টাকে কোম্পানির প্রয়োজন হবে। তাই নিজেকে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলোন যেন কোম্পানিরই আপনাকে প্রয়োজন হয়।
প্রাইভেট জব খুজতে ও ক্যারিয়ার গড়তে কিছু করনীয়ঃ১) প্রাইভেট জবের সার্কুলারের কোন নির্দিষ্ট উৎস নেই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন পাবেন না। কিছু জব পোর্টালে মাঝেমাঝে পোস্ট দেয়া হয়, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারীর চেয়েও বেশি স্বজনপ্রীতি বেসরকারী খাতে। কোন সার্কুলায় হয় না এবং সাধারনত কর্মকর্তারা তাদের পরিচিতদের নিয়োগ দিয়ে দেয়। তাই ছাত্রজীবনে কানেক্টিভিটি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও অরাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হন। পাস করার পরে পরিচিতরাই আপনার জন্য জব খুজবে। যত বেশি পরিচিত সিনিয়র থাকবে,তত বেশি আপনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু আমরা ছাত্রজীবনে এইসব নিয়ে মাথা ঘামাই কম।২) ডিপার্টমেন্ট কোন মুখ্য বিষয় নয়। বিষয় হল- স্কিল। যে যত বেশি স্কিলসম্পন্ন, প্রাইভেটে তার ক্যারিয়ার দ্রুত উপরে উঠবে। এটা আমি পারি না. ওটা আমাকে দিয়ে সম্ভব না; এই শব্দগুলো ভুলে যান। প্রাইভেটে সব পারতে হবে।৫-১০বছর পরে সরকারি চাকুরীজীবির তুলনায় আপনার বেতন ও সুযোগসুবিধা অনেক বেশি হবে, যদিআপনি স্কিলসম্পন্ন হন।৩) কানেক্টিভিটি বাড়ানঃ সারাজীবন এক প্রতিষ্ঠানে জব করা সম্ভব না। কিন্তু জব সুইচ করতে আপনাকে হেল্প করবে আপনার কানেক্টিভিটি। আপনার স্কিল সম্পর্কে আপনার বন্ধু, ছোটভাই ও সিনিয়ররা সবচেয়ে ভাল জানে। তারাই ভাল অফার পেলে আপনার কথা রেফার করবে। তাই আবারো বলব, প্রাইভেটে ক্যারিয়ার শুরু করতে এবং ক্যারিয়ারকে উপরে তুলতে চাইলে ছাত্রজীবনে কানেক্টিভিটি বাড়ান।৪) প্রতিযোগিতাঃ প্রাইভেট মানেই প্রতিযোগিতা। আরেকজনের পিছে না লেগে, নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান শক্ত করুন। প্রতিষ্ঠানে এমনভাবে নিজেকে সেট করুন,যেন আপনি প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য্য অংশে পরিণত হন। কোম্পানি আপনাকে মূল্যায়ন করতে এবং প্রমোশান দিতে বাধ্য হবে। মামাখালু জব মেনেজ করে দিতে পারবে, কিন্তু জবের লাইফটাইম গ্যারান্টি দিতে পারবে না। কলিগদের বিরুদ্ধে লেগে না থেকে, নিজের স্কিল ও প্রতিষ্ঠানের সকল কাজ নিজের মনে করে শিখে নিন। নাহয় প্রয়োজন ফুরালে আপনাকে ছাড়তে কোম্পানি পিছপা হবে না।৫) মানসিক সেটাপঃ অনেকেই জব করেন; পাশাপাশি জব নিয়ে, কোম্পানি নিয়ে, স্যালারি নিয়ে সারাবছর মনখারাপ করে থাকেন। এইসব করে মানসিকচাপ না বাড়িয়ে, হয় জব সুইচ করুন। নাহয় সবকিছুকে মেনে নিয়ে কাজ করুন।৬) সফট স্কিলঃ একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এক যুগ আগের প্রযুক্তি এখন অকেজো। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলান। নতুন প্রযুক্তি ও মেশিন সম্পর্কে জানুন। মান্ধাতার আমলের চিন্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়ে থাকলে উপযোগিতা হারাবেন। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখুন। পারি না বলে এড়িয়ে যাবেন না।AutoCAD, Advance Excel, BIM Software (Revit, Tekla Structure etc) অফিস প্রোগ্রাম, ইমেইলিং, eGP Tender Submission, ব্রাউজিং; প্রাইভেট জবে এইসব সবার জন্য বাধ্যতামুলক কাজ।৭) ভারবাল স্কিলঃ শুধু কাজ করলেই হবে না, কাজের প্রচার ও উপস্থাপনাও সুন্দরভাবে করতে হবে। ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিলে এবং বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করলে কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ে। অফিসে এবং অফিসের বাহিরে কমিউনিকেশন করতে, স্কিল লাগে।সেই স্কিল বাড়ান।.
৮। সিভিঃ সব কোম্পানিতে আপনি এটেন্ড করতে পারবেন না। কিছু কোম্পানির অফিসের গেটও পার হতে পারবেন না। কিন্তু আপনার সিভি সকল কোম্পানির নিয়োগ কর্তাদের হাতে যেতে সক্ষম। তাই আপনার সিভি এমন স্মার্ট ও প্রেজেন্ট্যাবল হওয়া উচিত যেন প্রথম দর্শনেই নিয়োগ কর্তা বুঝতে পারে আপনি কতটা স্মার্ট। তাই সুন্দর ও প্রফেশনাল সিভির কোন বিকল্প নেই ।
৯। পোর্টফোলিওঃ আপনি আপনার শিক্ষা জীবন & চাকরী জীবনে যত প্রফেশনাল কাজ বা এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করেছেন ঐ গুলোই আপনার পোর্টফোলিও। এগুলো গুছিয়ে নিন ও কানেক্টেড সিনিয়র ও কলিগদের সাথে শেয়ার করুন।
১০। ড্রয়িং স্টাডি ও এক্সেল এ এস্টিমেট করার দক্ষতা আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। শুধুমাত্র বিল্ডিং এর প্লান ও সেকশন এর ড্রয়িং এর সাথে পরিচিত হলেই হবে না। বিল্ডিং এ কমপ্লিকেডেট অনেক অনেক মেম্বার আছে যে গুলোও জানতে হবে।