13/05/2020
সিক্কিম -লাচেন, গুরুদোংমার লেকঃ
বাংলাদেশিদের এই লেকে যাবার পার্মিশন নেই। যেতে পারবেন না।
উত্তর সিকিমের এই সফরটিও খুবই জনপ্রিয়, তার প্রধান কারণ হল অসম্ভব সুন্দর গুরুদোংমার লেক দর্শন। ইয়ুমথাং সফর শেষ করে ফেরত আসতে হবে আবার চুংথাং-এ। দু’দিক থেকে বয়ে আসা লাচুং-চু আর লাচেন চু নদীর মিলনে, তিস্তা নদীর জন্মও হচ্ছে চুংথাং-এই।
চুংথাং থেকে লাচেন চু নদীর ধার দিয়ে পৌঁছে যাবেন লাচেন। উচ্চতা ৯৪০০ ফুট। গ্যাংটক থেকে চুংথাং-এর দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার, চুংথাং থেকে লাচেন-এর দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার। দেখে নিতে পারেন লাচেন গুম্ফাটিও। লাচেন-এর হোটেলে রাত্রিবাস করে পর দিন কাকভোরেই বেরিয়ে পড়তে হবে গুরুদোংমার যাত্রীদের।
এইসব জায়গার খামখেয়ালি আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে, দুপুরের মধ্যেই লেক দর্শন সাঙ্গ করে লাচেন ফিরে আসা উচিত। লাচেন থেকে বেরিয়ে থাঙ্গু-তে (উচ্চতা ১৩৫০০ ফুট) ইচ্ছে করলে প্রাতরাশ সেরে নিতে পারেন। কিছু খাবার দোকান রয়েছে এখানে সাধারণ মানের। থাঙ্গু থেকে মূল রাস্তা ছেড়ে আলাদা হওয়া আর একটি রাস্তা ধরে ঘুরে আসতে পারেন অনতিদূরেই অবস্থিত চোপতা ভ্যালি।
থাঙ্গু থেকে আবার যাত্রা শুরু করে তিব্বতীয় রুক্ষ মালভূমির সৌন্দর্যমণ্ডিত রাস্তা ধরে এ বারে পৌঁছে যান গুরুদোংমার সরোবরে। থাঙ্গু থেকে দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। ১৭,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নীল জলের অনিন্দ্যসুন্দর এই সরোবর প্রথম দর্শনেই অভিভূত করে দেবে। তুষারশৃঙ্গে ঘেরা প্রেক্ষাপটে (যার ছায়া পড়ে সরোবরের জলে) অপূর্ব এই সরোবরের চারপাশ দিয়ে আছে প্রদক্ষিণের রাস্তাও।
তবে, অতিরিক্ত উচ্চতায় ও সময়ের স্বল্পতা হেতু, বেশির ভাগ সময়েই সেই প্রদক্ষিণ সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাতে কী? পাড়ে দাঁড়িয়ে এই অসাধারণ সৌন্দর্য দেখাটাই হয়ে উঠবে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। গুরু পদ্মসম্ভবের স্মৃতিবিজড়িত এই সরোবরটি হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। সরোবর দর্শন শেষ হলে এ বারে ফিরে আসুন লাচেন-এ, এবং সেখান থেকে গ্যাংটক।