07/11/2025
মৃত্যু পরও ব্যাংকে আমাদের অনেকের কত টাকা রয়ে যায়!
অথচ আমরা জীবদ্দশায় খরচ করার মতো প্রয়োজনীয় টাকাটুকু পাই না। মিতব্যয়িতা আর সঞ্চয়ের অতি প্রবণতা অনেককে বখিল বানিয়ে ফেলেছে। সাম্প্রতিক এক ফকীরের অসুস্থতায় মারা যাবার পর পাঁচ বস্তা নষ্ট আর ভালো ভিক্ষা করা টাকা পাওয়া গেছে!
সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে এক ধনকুবের মারা গেছেন। খবরে প্রকাশ-ভদ্রলোকের বিধবা স্ত্রী প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে তাঁর মৃত স্বামীর ম্যানেজারকে বিয়ে করেছেন। কিন্ত খবরে যা আসেনি আমি ভাবছি- সদ্য বিবাহিত সেই ম্যানেজার হয়তো মনে মনে বললেন-
“এতদিন জানতাম, আমি আমার মালিকের জন্য কাজ করেছি। এখন দেখি, আমার হৃদয়বান মালিকই আমার জন্য শ্রম দিয়ে গেছেন!”
নিরেট সত্যটি হলো- অধিক ধনবান হওয়ার চেয়ে সুস্থ শরীর ও দীর্ঘজীবন লাভ করা অনেক বেশি জরুরি।
তাই অধিক ধনবান হওয়ার জন্য অবিরাম শ্রম না দিয়ে, দীর্ঘ ও সুস্থ আমলী জীবন যাপনের চেষ্টা করা উচিত এবং নিজেকে সেভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আমাদের জীবনের নানা ঘটনায় এই সত্যটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায়। যেমনঃ
▪️দামি ও নানা সুবিধাসম্পন্ন একটি মোবাইল ফোনের প্রায় ৭০% ফিচারই অব্যবহৃত থেকে যায়। সেই র্যাম, হাই গ্রাফিক্স! কিন্তু ৩০% ব্যবহৃত হয় না।
▪️একটি মূল্যবান ও দ্রুতগতি গাড়ির ৭০% গতির কোনো প্রয়োজনই হয় না। ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্পিডমিটার থাকলেও, কোনোদিনই তা ব্যবহার করা হয় না।
▪️প্রাসাদতুল্য অট্টালিকার ৭০% অংশেই কেউ বসবাস করে না। ঘুমানোর বিছানা আর তার স্থান- দুনিয়ার প্রায় সবারই প্রায় সমান।
▪️কারও কারও এক আলমারি কাপড়চোপড়ের বেশির ভাগই কোনোদিন পরা হয় না।
▪️সারা জীবনের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থের ৭০% আসলে অন্যের জন্য থেকে যায়। যাদের জন্য রেখে যাবেন, তারা হয়তো বছরে একবারও আপনার জন্য দোয়া করার সময় পাবে না!
🔘 তাহলে করণীয় কী?
✓ অসুস্থ না হলেও সুযোগ পেলে নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করুন। ক্যান্সারের ঝুঁকি এখন ভয়ংকরভাবে বেড়েছে।
✓ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না। “সব শেষ হয়ে গেল” এই হাহুতাশ মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
✓ মানুষকে ক্ষমা করে দিন।
✓ রাগ পুষে রাখবেন না। মনে রাখবেন-কেউ-ই রগচটা মানুষকে পছন্দ করে না। আড়ালে-আবডালে তাকে ‘পাগলা’ বলে ডাকে।নিজের কারনে অপরকে গীবতকারী বানাবেন না!
✓ পিপাসার্ত না হলেও পানি পান করুন। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর বিকল্প নেই।
✓ সিদ্ধান্ত সঠিক জানলেও কখনো কখনো ছাড় দিতে হয়।
✓ যতই বয়স হোক বা ব্যস্ততা থাকুক, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মাঝে মাঝে নিরিবিলি কোথাও হাঁটুন, খেতে নিয়ে যান। তাঁকে বুঝিয়ে দিন- সেই আপনার সবচেয়ে আপনজন। কারণ, সব দুঃসময়ে সেই-ই পাশে থাকে।
✓ ক্ষমতাবান হলেও বিনয়ী হোন।
✓ সুযোগ পেলেই পরিবার-পরিজনকে নিয়ে, সামর্থ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে ভ্রমণে যান।
✓ ধনী না হলেও তৃপ্ত থাকুন। মনে রাখবেন-সব ধনী মানুষ কিন্তু মানসিক শান্তিতে থাকে না।
✓ মাঝে মাঝে ভোরের সূর্যোদয়, রাতের চাঁদ ও সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করুন।
✓ বছরে একবার হলেও বৃষ্টিতে ভিজুন, আর দিনে অন্তত একবার রোদে কিছুক্ষণ থাকুন। রোদহীন শরীর অযথা ক্লান্তি আর অসুস্থতার শো রুম!
✓ মন খুলে হাসুন। মন থেকে হাসুন। শুধু হাহ হা করে চিৎকার করার নাম হাসি নয়।
🖱️ দান করতে সবসময় ছোট নোট খুঁজবেন না। “ভাংতি নাই” বলে ফিরিয়ে দেবেন না।
সুখ কেনা যায় না- এটা মিথ্যা কথা। নিজের গরজে ও খরচে কারও উপকার করে দেখুন, সুখ বিনিময়হীনভাবেই কেনা যায়!
♻️মাসে অন্তত একবার কিছু রান্নাকরে বা ফলমূল কিনে সরকারি হাসপাতালে যান। এক হালি সিদ্ধ ডিম নিয়ে চারজন রুগি দেখে আসুন!
🔘 সুযোগ পেলেই খাওয়ান।
🔘 ইবাদত-বন্দেগিতে আন্তরিক হোন। নিজের আমলের কথা গল্পচ্ছলে বলবেন না।
জীবন তো একটাই- তাই পরিপূর্ণভাবে বাঁচার চেষ্টা করুন। ফিরতে হবে যাঁর কাছে তার জন্যই -
মন খুলে, সবাইকে নিয়ে, মিলে-মিশে, সৎভাবে বাঁচুন।
‘মরেও’ সুখ পাবেন ইনশাআল্লাহ।
Collected