12/12/2025
গোল্ডের প্রাইজ গত ১৯০ বছরে ২ ডলার থেকে বেড়ে ৪৩০০+ ডলার হয়েছে (প্রায় ২১৫০ গুণ বৃদ্ধি!)। কিন্তু ১৮৩৩ সালে ১০০ ডলারের গোল্ড কিনে রাখলে, আজকের মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) আর ট্যাক্স বাদ দেওয়ার পর আপনার আসল লাভ বা ক্রয়ক্ষমতা দাঁড়ায় মাত্র ১২৮ ডলারে!
শুনে অবাক লাগলেও অর্থনীতির হিসেবে এটাই সত্য। কিভাবে?
১৮৩৩ সালে ১০০ ডলার দিয়ে হয়তো এক খণ্ড জমি বা বিশাল কোনো সম্পদ কেনা যেত। কিন্তু তা না করে গোল্ড কিনলে সেটা আজকে গোল্ড বিক্রি করে আপনি হয়তো অনেক ডলার পাবেন, কিন্তু সেই ডলার দিয়ে ১৮৩৩ সালের সমপরিমাণ জমি বা সম্পদ আর কিনতে পারবেন না। টাকার অংক বেড়েছে, কিন্তু Purchasing Power কমে গেছে।
গোল্ড কোনো ফ্যাক্টরি বা ব্যবসা নয়। এটি নিজে নিজে বড় হয় না (যেমনটা শেয়ার বাজার বা ব্যবসায় খাটালে হতো)। গোল্ড মূলত আপনার টাকার মানকে ইনফ্লেশন বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করে। একে বলা হয় Store of Value। এটি আপনাকে ধনী বানানোর চেয়ে গরীব হওয়া থেকে বাঁচাতে বেশি সহযোগিতা করে।
আপনার ক্রয়কৃত মূল্য আর বিক্রয়কৃত মূল্যের বিশাল পার্থক্যের ওপর সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয়। অথচ এই লাভের বেশিরভাগটাই আসলে মুদ্রাস্ফীতি। অর্থাৎ, আপনি যা লাভ করেননি (শুধু টাকার অংক বেড়েছে), তার ওপরও ট্যাক্স দিচ্ছেন!
সারকথা হলো, টাকা নিরাপদ রাখতে বা বিপদের সময় Gold অদ্বিতীয়। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন গোল্ড কিনে ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনী হবেন, তবে ভুল করবেন। ধনী হতে হলে টাকা ব্যবসায় বা প্রোডাক্টিভ খাতে খাটাতে হয়, আর সেই সম্পদ ধরে রাখার জন্য গোল্ড কিনতে হয়।