04/07/2022
~রিয়েল ভাইভা-৩১
গতকালের কয়েক জনের প্রাইমারি ভাইভা অভিজ্ঞতা
প্রার্থী নাম : প্রকাশে অনিচ্ছুক
তারিখঃ ৩রা জুলাই, ২০২২।
১ম দিন, সিরিয়ালঃ ১৯/৭০।
উপজেলাঃ সদর, জেলাঃ শরীয়তপুর।
আলমা ম্যাটারঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিলো আমাকে। একবারের জন্য মনে হয়েছিলো ডিসি স্যার কি আমার ইউনিভার্সিটি লাইফ সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন নাকি!
অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর তিনজন স্যারের দিকেই তাকিয়ে সালাম দিলাম। বসতে বলার পর ধন্যবাদ জানিয়ে বসলাম। ডিপিইও স্যার কাগজপত্র হাতে নিয়ে দেখতে লাগলেন। এবার পিটিআই স্যার জিজ্ঞেস করলেন যে, কোথায় পড়াশোনা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছি বলার সাথে সাথেই ডিসি স্যার তাকে আর প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে নিজে প্রশ্ন করতে শুরু করে দিলেন এবং পুরোটা সময় তিনি একাই সব প্রশ্ন করেছেন।
ডিসি স্যার পুনরায় বললেন,
-কোথায় পড়াশোনা করেছেন বললেন?
-স্যার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
-সাবজেক্ট?
-বললাম
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এত ভালো সাবজেক্টে পড়াশোনা করে আজ এখানে কেন?
-(চুপ করে থেকে মৃদু একটা হাসি দিলাম। এত বিশদভাবে নিজের যুদ্ধযাত্রার গল্প বলতে ইচ্ছে করছিলো না। মনে মনে বললাম, সদরে আমাকে দিয়ে তো শুরু করলেন আরো আজকেই পাবেন, আর জাজিরা উপজেলা থেকে তো পুরো ব্যাটালিয়ন আসছে। চাকরির বাজারের কি যে অবস্থা!)
-কতদিন আগে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন?
-বললাম।
-এত বছরেও কোথাও কিছু হয়নি? এখন কি করছেন?
-স্যার, তেমন কিছু করছি না, বিসিএসের চেষ্টা অব্যাহত আছে, ৪১ তম বিসিএস লিখিত ফলাফল প্রত্যাশী। ওখানে রেজাল্টটা পেয়ে গেলে আজকে আর এখানে আসতাম না। আর করোনার কারণে এমনিতেই ২টা বছর অপচয় হয়েছে। নাহলে হয়তো এতদিনে ভালো কিছু হতো।
-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কি কি কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন?
-স্যার, অনেক সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলাম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “বাঁধন” এর সাথে সম্পৃক্ততা।
(বলেই “বাঁধন” থেকে প্রাপ্ত সনদপত্র এগিয়ে দিলাম)
-আর কি কি করেছেন?
এবার একটু উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগালাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অসংখ্য এক্টিভিটি থাকলেও সঙ্গত কারণেই শুধু পথশিশুদের নিয়ে করা কাজের কথা বললাম। এবার স্যার প্রশ্ন করলেন,
-কি কি কাজ করেছেন? কোন এরিয়াতে?
-স্যার, আমাদের ইউনিভার্সিটি এরিয়াতেই অনেক পথশিশু আছে। ওদের নিয়েই অনেক প্রজেক্ট অর্গানাইজ করেছি। আমরা ওদের বিনামূল্যে শিক্ষাদানও করতাম।
-এটা কি কোনো সংগঠন থেকে নাকি নিজেরা নিজেরাই?
-স্যার, নিজেরাই, বন্ধু-বান্ধবরা মিলে।
-কোন হলে ছিলেন?
-বললাম
-পলিটিক্সের সাথে যুক্ত ছিলেন?
-জ্বি না, স্যার। কখনোই না। (স্মিত হাসি দিলাম)
-এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিস কিছু আছে?
-জ্বি স্যার, টুকটাক আবৃত্তি পারি আর গানও কিছুটা পারি।
-আচ্ছা, এবার একটি গান গেয়ে শোনান।
-ধন্যবাদ স্যার। আমার খুব পছন্দের একটি গান আছে, সেটি গাইতে চাচ্ছি।
এতক্ষণে পিটিআই স্যার বললেন, জ্বি জ্বি গান। দেখলাম তিনি এবং ডিপিইও স্যার দুজনেই মৃদুভাবে হাসছেন।
আমরা করবো জয় গানটি ৪ লাইন গাইতেই ডিসি স্যার বললেন, ঠিক আছে।
ধন্যবাদ জানিয়ে স্যারদেরকে পুনরায় সালাম দিয়ে ৫-৬ মিনিট এর ভাইভা শেষে এ যাত্রায় প্রস্থান করিলাম।
।।
প্রাইমারি ভাইভা অভিজ্ঞতা
নামঃ মোঃ ইমাম হোসাইন জ্যোতি
০৩.০৭.২০২২
উপজেলাঃ ফুলতলা
জেলাঃ খুলনা
ভাইভা প্রার্থীঃ ৭৬ জন
সিরিয়াল নংঃ ৩১ (লাঞ্চ টাইম)
সময়ঃ ১২ মিনিটের বেশি
আমার গ্রাজুয়েশন সাবজেক্টঃ কৃষি বিজ্ঞান
আমার সময়ে রুমে ডিসি স্যার উপস্থিত ছিলেন না( স্যার না থাকায় কিছুটা হতাশ ছিলাম, কারণ স্যার খুবই ডিটেইলস প্রশ্ন করছিলো যার এন্সার আপনি কিছুটা হলেও দিতে পারবেন। তাই বাকিদের নিয়ে যেই ভয়ে ছিলাম সেটাই হয়েছিলো আমার সাথে)
ADC sir সহ ৩জন স্যার উপস্থিত ছিলেন।
ভিতরে ঢুকবার অনুমতি নিয়ে ঢুকে সালাম দিলাম। বসতে বলায় বসলাম।পেপার জমা দিলাম।
১ম জনঃ আপনার নাম বলুন।
আমি ঃ উত্তর দিলাম
১মঃ কোথায় পড়ালেখা করলেন। কোন সাব্জেক্ট। কোথায় থাকেন এখন।
আমিঃ উত্তর দিলাম।
ADC Sir ঃ
তো এই সাবজেক্ট আর এই রেজাল্ট নিয়ে কে আপনাকে প্রাইমারি চাকুরী করার পরামর্শ দিলো?
আমিঃ (থতমত খেয়ে গেলাম। চাকুরির পরামর্শ কে দিবে এমন চিন্তাই আসেনি)। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় আর্থিক অবস্থা টাচ করে বর্তমান চাকরির বাজার নিয়ে কিছু বললাম, শুনে মনে হলো না খুশি হয়েছে।
১ম জনঃ
আপনার সাবজেক্ট থেকেই ধরি।
What is soil pollution?
আমি ঃ উত্তর দিলাম (ইংরেজিতেই)
What is Soil Erosion?
আমি ঃ উত্তর দিলাম (ইংরেজিতেই)
What is soil contamination?
আমি ঃ উত্তর দিলাম (ইংরেজিতেই)
What is soil element and how many..
আমি ঃ উত্তর দিলাম (ইংরেজিতেই)
Difference between sand, silt and clay soil
আমি ঃ উত্তর দিলাম (ইংরেজিতেই)
ADC Sir ঃ
ট্রান্সলেট করুন.. আমি গোপালগঞ্জ থেকে অনার্স শেষ করেছি
আমি ঃ I have completed B.sc graduation from Gopalgonj ❌❌
ADC Sirঃ
হয়নি আপনার ট্রান্সলেশন। আবার বলুন।
আমিঃ (ভ্যাবাচেকা খেয়ে) ঠিক করে উত্তর দিলাম।
১ম জনঃ
বলেন আপনার পঠিত বিষয় কিভাবে প্রাইমারি প্রতিষ্ঠানে কাজে আসবে।
আমিঃ খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলাম চাইলে ফুলের বাগান বাগান,সবজি চাষ করে হাতে কলমে শিক্ষক সহ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কৃষিবিদ বানিয়ে দিতে পারবো।
ADC Sir ঃ
ট্রান্সলেট করুন খুলনায় একটা ইউনিভার্সিটি আছে।
আমিঃ there is a one university❌❌
১ম জনঃ এইখানে a,one একসাথেই বসবে?
আমিঃ 😭😭 আবার ঠিক করে ট্রান্সলেশন করলাম।
১ম জনঃ গান শোনান
আমিঃ এই পদ্মা, এই মেঘনা....
১ম জনঃ আপনি তো ভুল লিরিক গাইলেন
আমিঃ দুঃখিত স্যার।
১ম জনঃ
বলেন পোকা এবং মাকড়ের মধ্যে পার্থক্য কি?
আমিঃ খুব ঘুরিয়ে পেচিয়ে উত্তর দিলাম। এতো প্যাচানো উনার পছন্দ হলো না। উনি নিজেই এক শব্দে উত্তর জানিয়ে দিলেন। উত্তর না পারায় বিরক্ত মনে হলো।
ADC Sir ঃ
ট্রান্সলেশন করুন। আমি সোমবারে যাবো।
আমিঃ I will go in Monday ❌❌
ADC Sir ঃ
On নাকি In
আমিঃ 😭😭😭😭😭 সরি স্যার বলে আবার ঠিক করে উত্তর দিলাম।
১ম জনঃ সংবিধান জানেন?
আমিঃ জ্বি স্যার জানি।
ADC Sir ঃ
নির্বাচনি অনুচ্ছেদ বলেন। কতজন সদস্য বোর্ডের।
আমিঃ উত্তর দিলাম।
১ম জনঃ ৩ জন নির্বাচন কমিশনার থাকলে কি অসুবিধা হবে?
আমিঃ প্রশ্ন বুঝিনি (অসুবিধা হবে নাকি কি কি অসুবিধা হবে)
সরি স্যার বলে নিরীহ চোখে তাকালাম।
৩য় জনঃ
পেপার চেক করলো পুরো সময়। এবার বলে-
গান শোনান একটা।
আমিঃ 😭😭😭 কান্নাকাটির ভাব নিয়ে প্রথম জনের দিকে তাকালাম।
১ম জনঃ হ্যাঁ, গান শোনান আরেকটা। ধন্য ধান্য পুষ্প গেয়ে শোনান।
আমিঃ 😭 দুই লাইন গাইলাম
১ম জনঃ
এই গান কে গেয়েছে। এই গান মূলত কি ধরনের গান। এই কবির দুইটা নাটকের নাম বলেন।
আমিঃ হাসিখুশি হয়ে উত্তর দিলাম।
৩য় জনঃ
আপনি দেখি এগুলো ভালোই পারছেন। আর কোথাও জবের জন্য টিকেছেন?
আমিঃ ৪১ লিখিত দিয়েছিলাম।
ADC Sir ঃ
কিহ! ৩য় জনের দিকে ইংগিত করে বলে, দেখেন তো এর বয়স কত আছে। ৩য় জন বললো মাত্র ২৫ চলে। এটা শুনে ADC sir আবার ১ম জনের দিকে ইংগিত করে বললো এর ভাইভা শেষ করেন। গান পারলে গান গাওয়ান একটা।
১ম জনঃ স্যার ও দুইটা গান গেয়েছে।
ADC Sir ঃ
গান গাইতে পারেন?
আমিঃ স্যার আমি গান, কবিতা সবই পারি ( আসলে কিচ্ছু পারি না 😭😭) কিন্তু গানের গলা ভালো না তাই গাই না।
ADC Sir ঃ ঠিক আছে একটা গান গেয়ে চলে যান।
আমিঃ আবার কান্নার দৃষ্টিতে ১ম জনের দিকে তাকালাম।
এবার ১ম জন বললো স্যার ও তো ২টা গান গাইলো। ছেড়ে দেই।
এরপর ১ম জন বললো ঠিক আছে তুমি যাও। কাগজপত্র, ভোটার আইডি কার্ড দেখে সব গুছিয়ে নিয়ে যাও।
আমি সালাম দিয়ে পেপারস নিয়ে বের হয়ে মাইটি প্রাইমারি ভাইভা শেষ করলাম।
(ভাইভা দিয়ে আমি নিজেও খুশি না, তারাও খুশি ছিলো না।)
প্রার্থীর নাম: সামিরা খন্দকার
জেলা :পাবনা
আমি :আসতে পারি?
ম্যাজিস্ট্রেট: আসুন
আমি: সালাম দিলাম
ম্যাজিস্ট্রেট : আপনার নাম কি
আমি:বললাম
ম্যাজিস্ট্রেট :আপনার ক্যাম্পাস কোথায়?
আমি:বললাম
আপনার সাবজেক্ট কি?
আমি :হিসাববিজ্ঞান
ম্যাজিস্ট্রেট : আপনার চাকরির আর কত বছর বাকি আছে?
আমি:৪ বছর প্লাস
ম্যাজিস্ট্রেট:আপনি বিসিএস ট্রাই করেননি?
আমি: জি করেছি?
ম্যাজিস্ট্রেট: আপনার প্রথম বিসিএস কোনটা ছিল?
আমি: ৪১ তম
ম্যাজিস্ট্রেট: রিটেন দিতে পারছেন?
আমি: হ্যাঁ
দ্বিতীয় ম্যাজিস্ট্রেট: আপনি ৪৩ দিয়েছেন ?
সেটার কি অবস্থা, লিখিত দিতে পারবেন?
আমি: হ্যাঁ
পরিদর্শক: আপনার ৪৪ আসছে?
আমি: না!
ম্যাজিস্ট্রেট: আপনার প্রথম চয়েজ কি?
আমি:admin
ডিসি মহোদয়: তাহলে ৪৩ লিখিত তো আপনার খুব সামনে!
আমি: hum
ম্যাজিস্ট্রেট: তাইলে আপনি প্রাইমারি চাকরি করবেন কি?
আমি: je
ম্যাজিস্ট্রেট: চাকরি করার যথাযথ কারণ বলুন?
আমি: বললাম (তারা শুনে বুঝতে পারলেন)
ম্যাজিস্ট্রেট: একটি কবিতা বলুন?
আমি: পাঞ্জেরী কবিতা বললাম?
ম্যাজিস্ট্রেট: কবিতার লাইন থেকে বানান ধরল?
আমি : বললাম
এরপর বলল আপনি এখন আসতে পারেন,,
বিশেষ দ্রষ্টব্য :অনেকে শিখায় দিয়েছিল বিসিএস বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলবেন সবগুলোতে ফেল, কিন্তু মিথ্যা দিয়ে কোন কিছু পাওয়ার দরকার নাই,, ইনশাল্লাহ হবে মহান আল্লাহ রিযিক এ রাখলে,,,akta Kotha Mona rakha uchit bcs prili pass manai job na.....tai primary k Ami serious niya Diyachilam...
।
গ্রুপ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি তাই নিজের ভাইভা শেয়ার করা।কারন ভাইভা আমার খুব মনের মত হয় নি।
প্রার্থীর নামঃ মোঃ অসীম আকরাম
তারিখঃ ৩/৭/২০২২
ভাইভার সময় ঃ বিকাল শিফট, সন্ধ্যা ৭ টা
বিষয়ঃ হিসাববিজ্ঞান,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
প্রার্থী ঃ দরজা খুলে উকি মেরে,স্যার আসতে পারি?
স্যারঃ আসুন
প্রার্থী সামনে গিয়ে সালাম দিলাম।
ডিসি স্যার ঃবসুন।
প্রার্থীঃ ধন্যবাদ দিয়ে বসে পড়লাম।
ডিসি স্যারঃ নাম কি,নামের বানান এমন ক্যান?
প্রার্থী ঃ স্যার নাম এই রকম আমি করি নাই,আমার স্কুলের স্যার করছে।
ডিসি স্যারঃ আচ্ছা সমস্যা নাই,বিখ্যাত মানুষের নাম কোন সমস্যা না,।নাম ওয়াসিম না অসীম
প্রার্থীঃ অসীম আকরাম
ডিসি স্যারঃ ওয়াসিম আকরাম কে চিনেন,? উনি কি ধরনের বল করতেন?
প্রার্থী ঃ চিনি,কিন্তু কি ধরনের বল করতেন সেটা বলতে পারছি না।
স্যারঃ নাম বিখ্যাত আর খেলা পারেন না
প্রার্থী ঃ স্যার নাম তো আর আমি নিজে রাখি নাই, আমার বাবা মা রাখছে তারাতো জানতো না যে আমি খেলা ধুলা পারবো না( অনেক্ষন হাসাহাসি সবাই)খুশিই মনে হলো
পিটি আই স্যারঃ পেপার পড়। পেপার পড়ে অর্থ বলো
প্রার্থীঃ পড়লাম,বললাম।।
ডিসি স্যারঃপড়াশোনা কোথায়?
প্রার্থীঃ মাস্টার্স থেকে শুরু করে এস এস সি শেষ করলাম
ডিপিও স্যারঃ এসডিজির অর্থ ধরলো
প্রার্থীঃ এত্ত সহজ একটা বিষয় এমডিজির অর্থ বললাম,পরে সরি বলে সঠিক বললাম।তবে ভাল মত বলতে পারি নাই
ডিপিও স্যারঃ. ০২*.০১*৩ কত
প্রার্থী ঃ উত্তর লিখলাম,স্যার বললেন হয় নাই,আবার একটু পরেই বললেন হ্যা হইছে।
ডিপিও স্যার ঃ এটা কি ভগ্নাংশ কি না,কি ধরনের ভগ্নাংশ, ভগ্নাংশে বানাতে পারবো কি না,ইত্যাদি
প্রার্থীঃ যখন বললাম পারবো,স্যার অন্য প্রশনে চলে গেলেন।
স্যারঃ সুক্ষ কোন কাকে বলে
আমিঃ বললাম,
স্যারঃ আমি কোন ধরছি না ত্রিভুজ ধরছি?
আমিঃ স্যার কোন ই তো ধরলেন,
স্যারঃ আচ্ছা,তাই,ঠিক আছে,তাহলে সুক্ষকোনী ত্রিভুজ কাকে বলে
আমি ঃ বললাম,স্যার বললেন,বলবেন,তিনটি কোন ই সুক্ষকোন,প্রত্যেক কোন না।।গুরু মানুষ মেনে নিলাম
এবার পিটি আই স্যারঃ গান বলবেন না কবিতা।
প্রার্থী ঃএকটা গান আর একটা কবিতা মূখস্ত করে ছিলাম,শেষে বেসুরো গলায় একটা গান গাইলাম,
পরে স্যার বললেন ঠিক আছে আসেন।।
পরে সবাইকে এক এক করে সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।।
এই ছিল ভাইভা অভিজ্ঞতা, আমার জন্য দোয়া করবেন।
ভাইভা আরেকটু ভাল হওয়ার দরকার ছিল।।
।
প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ ভাইবা অভিজ্ঞতা ঃ
নামঃ মোঃ হাসিবুল ইসলাম
বিষয়ঃ ইতিহাস
জেলাঃ চুয়াডাঙ্গা
তারিখঃ ৩/৭/২২
সময়ঃ ৬/৭ মিনিট
সিরিয়াল ৫৬, সন্ধ্যা ৬ টা
ভাইবা বোর্ডের সদস্য ডিসি স্যার, ডিপিইও স্যার, পিটিআই স্যার।
অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে সালাম দিলাম।
ডিপিইও স্যার বসতে বললেন
ধন্যবাদ দিয়ে বসলাম
ডিপিইও স্যারঃ তোমার নাম কি?
আমি ঃ মোঃ হাসিবুল ইসলাম
ডিসি স্যারঃ স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রুপ কি?
আমি ঃ কার স্যার
ডিসি স্যারঃ ব্যণ্জন বর্ণের সংক্ষিপ্ত রুপ কি?
আমি ঃ ফলা স্যার
ডিসি স্যারঃ স্বরবর্ণ ও ব্যণ্জনবর্ণ কি?
আমিঃ মনে করতে পারি নাই তাই সরি বলছি
ডিসি স্যার ঃ তুমি পারছো তো
পিটিআই স্যারঃ স্বরবর্ণ কতটি?
আমি ঃ ১১ টি
পিটিআই স্যারঃস্বরধ্বনি কতটি?
আমিঃ ৪১টি বলে ফেলছি
পিটিআই স্যার ঃ হাসলেন আরও ভুলে বলছ
আমি ঃজি স্যার
ডিপিইও স্যারঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কখনো গিয়েছো?
আমিঃ জি স্যার
ডিপিইও স্যারঃ কেনো?
আমিঃ আমি আগে পড়তে গেছি এবং পরে ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের সাথে।
ডিপিইও স্যারঃবঙ্গবন্ধু কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন?
আমি ঃ গিমা ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ডিপিইও স্যারঃ গিমা ডাঙ্গা কোথায়?
আমি ঃ টুঙ্গিপাড়া
ডিপিইও স্যারঃ টুঙ্গিপাড়া কোথায়?
আমিঃ গোপালগঞ্জ
ডিসি স্যারঃ উহান নাম শুনেছো?
আমিঃ জি স্যার
ডিসি স্যারঃ কোথায়?
আমিঃ চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী
ডিসি স্যারঃ এখানে কি হয়েছিল?
আমিঃ কোভিড ১৯ এখান থেকেই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডিপিইও স্যারঃ রোগ টার নাম কি?
আমিঃভাইরাস
ডিপিইও স্যারঃ ভাইরাস তো বুঝলাম, অন্য একটা নাম আছে
আমিঃ সরি স্যার
ডিপিইও স্যারঃ ফ্লু নাম শুনেছেন?
আমিঃ জি স্যার, বার্ডফ্লু
ডিপিইও স্যারঃ আমি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যাব লেখ এবং ট্রান্সলেশন করে
আমিঃ লিখলাম এবং I will go to Dhaka through Padma bridge
ডিসি স্যারঃ কি লিখলে বলে
আমিঃ বললাম
ডিসি স্যারঃ Through হয়েছে crossing ও হতো
আমিঃ জি স্যার
ডিপিইও স্যারঃ সেতুর দুই পাশের সড়কের নাম কি?
আমিঃ সরি স্যার
ডিপিইও স্যারঃ বঙ্গবন্ধু সড়ক, এতো আলোচিত বিষয়
আমিঃ সরি স্যার
ডিসি স্যারঃ বিদ্রোহী কি
আমিঃ কবিতা
ডিসি স্যারঃ কার লেখা
আমিঃ কাজী নজরুল ইসলামের
ডিসি স্যারঃ কতটা বছর পূর্ণ হল
আমিঃ ১০০ বছর
ডিসি স্যারঃ SSC, HSC এর GPA কত, কোথায় পড়েছেন, লান্স করেছেন
কিনা, কখন করেছেন?
আমিঃ বললাম।
ডিপিইও স্যারঃ বিসিএস দিচ্ছেন না কেনো, ইতিহাসে পড়ে তো মানুষ বিসিএস দেয়।
আমি ঃবললাম
ডিসি স্যারঃ আপনি খুব ভাল ভাইবা দিয়েছেন, ধন্যবাদ, আপনি আসুন
আমি ঃ ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে চলে আসলাম।
আল্লাহ ভরসা, রিজিকের মালিক আল্লাহ
।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ভাইভা অভিজ্ঞতা:
সাথী রানী রায়
জেলা: বাগেরহাট, উপজেলা: মোড়েলগঞ্জ
বিষয়: মনোবিজ্ঞান
ভাইভার তারিখ: ০৩/০৭/২০২২ খ্রি.
প্রথমে নমস্কার দিয়ে প্রবেশ করলাম। স্যার বসতে বললেন। ধন্যবাদ দিয়ে চেয়ারে বসলাম।
প্রথমে স্যার বললেন আপনি নিশ্চয়ই বিবাহিত।
হালকা হেসে না বললাম।
১ম স্যার: আপনার বাবার নাম কী?
আমি: উত্তর দিলাম।
১ম স্যার: আপনি কী ডিগ্ৰীতে পড়েছেন নাকি অনার্স?
আমি: অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছি।
১ম স্যার: কোন বিষয়ে পড়েছেন?
আমি: মনোবিজ্ঞান।
১ম স্যার: কোথা থেকে?
আমি: ইডেন মহিলা কলেজ।
২য় স্যার: এটা কী সরকারি কলেজ?
আমি: জ্বি স্যার।
২য় স্যার: নামের সাথে সরকারি নেই??
১ম স্যার: না, সরকারি নেই। শুধু ইডেন মহিলা কলেজ।
আমি: ইডেন মহিলা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাত কলেজ) অন্তর্ভুক্ত।
১ম স্যার: Translate করুন, ইডেন মহিলা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাত কলেজ) অন্তর্ভুক্ত।
আমি: উত্তর দিলাম।
১ম স্যার: মনোবিজ্ঞান এর জনক কে?
আমি: উত্তর দিলাম।
১ম স্যার: ওনার জন্ম কোথায়?
আমি: উত্তর দিলাম।
স্যার ইতিবাচক সাড়া দিলেন।
ম্যাম: মনোবিজ্ঞান কী? 'Psychology' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত শব্দের বিশ্লেষণ করুন।
আমি: উত্তর দিলাম।
ম্যাম বললেন ঠিক হয়েছে।
১ম স্যার: বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছু তথ্য বলুন।
আমি: উত্তর দিলাম।
২য় স্যার: Translate করুন, ৩ ঘন্টা যাবত বৃষ্টি পড়ছে।
আমি: উত্তর দিলাম।
২য় স্যার মাথা নাড়িয়ে সহমত প্রকাশ করলেন।
২য় স্যার: বিসিএস দিয়েছেন?
আমি: হ্যাঁ, স্যার, কিন্তু হয়নি।
স্যার: ধন্যবাদ আপনি আসেন এখন।
আমি: ধন্যবাদ আর নমস্কার দিয়ে বের হলাম।
সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।
ধন্যবাদ।।
।
আজকের ভাইভা অভিজ্ঞতাঃ
প্রার্থীর নাম: শরীফ সরকার
ভাইভা
প্রথম ধাপ,উপজেলাঃফুলবাড়িয়া,জেলাঃ ময়মনসিংহ।
সাবজেক্টঃ সমাজবিজ্ঞান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সময়ঃ সকাল ১১.৩০ (অন্ধকূপে ছিলাম ৩/৪ মিনিট)।পিটিআই ইন্সট্রাক্টর স্যার ও ডিসি স্যার ছিলেন না।শুধু এডিসি স্যার ও ডিপিইও স্যার এই ২ জনই ছিলেন।অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করে সালাম দিতেই এডিসি স্যার বসতে বললেন।সামনেই কাগজকলম ছিলো টেবিলে।
ডিপিইও স্যারঃআমি আগামীপরশু ঢাকা যাবো ট্রান্সলেট করো।
আমিঃI will go to Dhaka the day after tomorrow.
এডিসি স্যার খাতা দেখে বললেন হয়েছে।
এডিসি স্যারঃআচ্ছা এখানে will কেনো ইউজ হলো?shall হলোনা কেনো?
আমিঃস্যার এখানে shall ইউজ করলেও হতো।তবে বর্তমানে will বেশি প্রচলিত, তাই will ইউজ করছি স্যার।স্যার বললেন ঠিক আছে।
ডিপিইও স্যারঃদ্বীনে দয়া করো।দ্বীনের নিচে দাগ টেনে দিতে বললেন এবং দ্বীনে কোন কারকে কোন বিভক্তি জিগ্যেস করলেন।
আমিঃযদিও দ্বীনে বানান ভুল করছিলাম,তারপর দ এর নিচে 'ব'ফলা ইউজ করে ঠিক করে নেই।বললাম এটা সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি। স্যার বললেন ঠিক আছে।জানতে চাইলেন দ্বীন অর্থ কী?বললাম 'দরিদ্র '
ডিপিইও স্যারঃতুমি যে আমার কবিতা, এটা খাতায় লিখে তুমির নিচে দাগ টানতে বললেন।জিগ্যেস করলেন তুমি কোন পদ?
আমিঃসর্বনাম পদ।স্যার বললেন ঠিক আছে।
ডিপিইও স্যারঃতোমার সাবজেক্ট এর চেয়ারম্যান কে এখন?
আমিঃড.সাদেকা হালিম।
ডিপিইও স্যারঃতার আগে চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
আমিঃড.রাশেদা ইরশাদ ম্যাডাম।স্যার বললেন 'আচ্ছা '
ডিপিইও স্যারঃকার্ল মার্কস পড়েছো?
আমিঃজ্বী স্যার।
ডিপিইও স্যারঃতার কী কী বই পড়েছো?
আমিঃদাস ক্যাপিটাল ও কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো।
ডিপিইও স্যারঃদাস ক্যাপিটালে দুইটা শ্রেনীর কথা বলা আছে,বলো তাদের নাম কী?
আমিঃবুর্জোয়া আর প্রোলেতারিয়াত।
ডিপিইও স্যারঃতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল কারন কী?
আমিঃবুর্জোয়া ক্লাস চায় যতো বেশি পারা যায় মুনাফা করতে,আর প্রোলেতারিয়াত ক্লাস তাদের শ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক পায়না,এটাই মূল কারন।স্যার বললেন ঠিক আছে।
ডিপিইও স্যারঃএকটা গান ধরো।
আমিঃ"তুমি কি কেবলই ছবি,শুধু পটে লেখা.........
এই রবীন্দ্র সংগীতের ৩/৪ লাইন শেষ করতে না করতেই বললেন আচ্ছা, এবার আসো তাহলে।সিগন্যাচার টা করে যাও।সিগনেচার করে আমি ধন্যবাদ দিয়ে, সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।
।
প্রার্থীর নাম : লুৎফর রহমান
তারিখ ৩/৭/২২
(জেলাঃমৌলভীবাজার)
:অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বসলাম।
স্যারঃ আপনার নাম বলুন।
: নাম বললাম।
স্যারঃ'আমার বাবা আমার নাম রেখেছেন' এটি translate করুন।
: My father has named me.
স্যার: এটির passive কী হবে?
:I have been named by my father.
স্যারঃবলুনতো - যা মাটি ভেদ করে উঠে- এটির এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
:উদ্ভিদ, স্যার।
স্যার : ঠিক আছে। বলুনতো 'যা মাটি ভেদ করে উঠে' এই বাক্যে একটি শব্দ ভুল হলে শতকরা কতটি শব্দ সঠিক?
: ২০%, স্যার।
স্যার: আপনি সিউর।
:Sorry sir, ৮০% হবে( তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল হয়ে গেছে।
স্যার: ঠিক আছে। আপনি আসতে পারেন।
বি.দ্র. এটি আমার বন্ধুর ভাইবার চুম্বক অংশ। সবার জন্য শুভকামনা।
।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২০ ভাইভা (প্রথম ধাপ) অভিজ্ঞতাঃ
তারিখঃ ০৩/০৭/২০২২
জেলাঃ মৌলভীবাজার
বিষয়ঃ ব্যবস্থাপনা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বিবিএ, এমবিএ।
নামঃ মোঃ লুৎফুর রহমান।
সময়ঃ ৮/১০ মিনিট ( আমি সকালের শেষ প্রার্থী ছিলাম তাই কয়েক মিনিট বেশি ছিলাম বোর্ডে)।
সালাম দিয়ে রুমে প্রবেশ করলাম। বসতে বলায় ধন্যবাদ দিয়ে বসলাম।
বোর্ডঃ আপনার নাম কি?
আমিঃ মোঃ লুৎফুর রহমান।
বোর্ডঃ আপনি কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন?
আমিঃ ব্যবস্থাপনা।
বোর্ডঃ কোথায় পড়ালেখা করেছেন।
আমিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বোর্ডঃ বাপরে এতদূরের আপনি? তারপর ভার্সিটি এবং শাটল ট্রেন নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ করলেন এডিসি স্যার সম্ভবত স্যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ডিপার্ট্মেন্টের ছিলেন।
আমিঃ জ্বি স্যার, জ্বি স্যার করলাম।
বোর্ডঃ ডঃ লুৎফর রহমানকে চিনেন?
আমিঃ জ্বি স্যার, তিনি একজন ডাক্তার, সাহিত্যিক ও সম্পাদক ছিলেন।
বোর্ডঃ তাঁর কয়েকটি রচনা বলতে পারবেন?
আমিঃ উন্নত জীবন, মহৎ জীবন, মানব জীবন, উচ্চ জীবন, যুব জীবন।
বোর্ডঃ উনার লেখা পড়েছেন?
আমিঃ না স্যার, এখনও পড়া হয়নি।
বোর্ডঃ তিনি কিসের ডাক্তার ছিলেন?
আমিঃ তিনি হোমিওপ্যাথির ডাক্তার ছিলেন।
বোর্ডঃ আচ্ছা ট্রান্সলেট করেন 'আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শাটল ট্রেন অনেক উপভোগ করেছি।
আমিঃ 'I have enjoyed the shuttle train a lot in my university life.'
বোর্ডঃ এখন একটা কঠিন ট্রান্সলেশন তোমাকে ধরবো বলতো দেখি 'রেললাইনের দুটি লাইন সমান্তরালভাবে যায়।' এটার ট্রান্সলেশন কি হবে?
আমিঃ Parallel শব্দটি মাথায় আসছিলো না পরে এডিসি স্যার হেল্প করলেন 'The two lines of the railway run parallel.'
বোর্ডঃ Parallel শব্দটি লিখে দেখান।
আমিঃ লিখলাম (স্যার বললেন হয়েছে)।
বোর্ডঃ রেললাইন কখন একসাথে মিলিত হয়?
আমিঃ স্যার মিলিত হয় না।
বোর্ডঃ গাণিতিকভাবে বলেন।
আমিঃ স্যার ক্রসিংয়ের সময় কৌণিকভাবে মিলিত হয়।
বোর্ডঃ এটা হবে রেললাইন অসীমে মিলিত হয় তারমানে মিলিত হয় না কখনও।
বোর্ডঃ আপনাকে অংক ধরেছিলাম?
আমিঃ না স্যার ধরেননি।
বোর্ডঃ আপনাদের ভার্সিটি থেকে শহরের দূরত্ব কত?
আমিঃ স্যার ২২ কিলোমিটার।
বোর্ডঃ বলেন তো ২২ কিলোমিটারের ৭০% কত?
আমিঃ স্যার ১৫.৪ কিলোমিটার।
বোর্ডঃ আর ৩০% কত?
আমিঃ স্যার ৬.৬ কিলোমিটার।
বোর্ডঃ দুইজন স্যার একসাথে বললেন গুড গুড ভেরি গুড। আপনার ভাইভা কঠিন হয়েছে, ভালো হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে আপনি এখন আসুন।
Allah is the best planner.
।
প্রার্থীর নাম :সুজন মুসফিক
৩/০৭/২০২২
বিষয়ঃ ইংরেজি
জেলাঃ মাগুরা
বোর্ডঃ নাম কি আপনার?
আমিঃ মোঃ মুশফিকুর রহমান
বোর্ডঃ কোথায় পড়াশোনা করেছেন।
আমিঃ ঢাকা কলেজ
বোর্ডঃ কত সালে ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠা?
আমিঃ ১৮৪১
বোর্ডঃ ঢাকা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের নাম কি?
আমিঃ এ টি ম মইনুল হোসেন (ভারপ্রাপ্ত)
বোর্ডঃ নিউজ পেপার পড়তে দিয়েছিল ডেইলি স্টার
বোর্ডঃ একটা ফুলের কয়টা অংশ থাকে।
বোর্ডঃ ট্রান্সলেশন কর আমি আসতে আসতে সে চলে গেল।
বোর্ডঃ আমরা চার ভাইবোন
ভাই বোন ট্রান্সলেশন করো।
বোর্ডঃ আপনি চাকুরী করতে চান কেন তিনটা বাক্য বলো?
বোর্ডঃ একটা বর্গক্ষেত্রের অংক দিয়েছিলো
বোর্ডঃ ধন্যবাদ আপনি আসতে পারেন।।
।
তারিখঃ ৩/৭/২২
প্রার্থীঃ আরিফুল ইসলাম
বিষয়ঃ দর্শন
জেলাঃ টাঙ্গাইল।
১. ভার্সিটির নাম।
২. প্রতিষ্ঠা সাল।
৩. কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?
৪. শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কে ছিলেন?
৫. বঙ্গবন্ধুর জীবনে তার অবদান কি? একটি বাস্তব উদাহরণ দিন।
৬. ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হবার সময় শেখ ফজিলাতুন্নেছা একটি উক্তি করেছিলেন- বলতে পারবেন?
৭. অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েছেন? ঐ বই থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে শেখ ফজিলাতুন্নেছার একটি উক্তি বলতে পারবেন?
৮. সূফি দর্শন কি?
৯. দর্শন সম্পর্কে রুশোর একটি উক্তি আছে-বলতে পারবেন?
১০. সক্রেটিসের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে- বলতে পারবেন?
১১. একটা গান শোনান।
২/৩ লাইন গাইতেই DPE স্যার বললেন- সুন্দর হইছে। রিটেন কেমন দিছেন?
ঠিক আছে আসতে পারেন।
।
ভাইভা অভিজ্ঞতা
সোলাইমান কবির, গাজীপুর।
অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে সালাম দেয়ার পর সালাম নিয়ে বসতে বললেন। ডিসি স্যার নেই। এডিসি স্যার প্রায় সব প্রশ্ন করেছেন।
এডিসিঃ কোন সাবজেক্ট?
আমিঃ পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন
এডিসিঃ রষ্ট্রের উপাদান কয়টি ও কি কি?
- উত্তর দিলাম
এডিসিঃ আমিই রাষ্ট্র একথাটি কে বলেছেন?
আমিঃ উত্তর পারিনি, সরি বলেছি।
এডিসিঃ একটা বিপ্লবের কারনে একটা দুর্গের পতন হয়েছিল সেই বিপ্লব এবং দুর্গের নাম বলুন।
- আমিঃ বাস্তিল দূর্গ, ফরাসী বিপ্লব।
স্যারঃ সেখানে একটা ব্যক্তি জড়িত ছিল নাম কি উনার?
আমি সরি বলাতে স্যার বললেন রাজা চতুর্দশ লুই। উনিই বলেছিলেন আমিই রাষ্ট্র। আমি ধন্যবাদ দিলাম বলে দেয়ার জন্য।
এডিসি স্যারঃ -রাষ্ট্রের অঙ্গ কয়টি ও কি কি? উত্তর দেয়ার পর বললেন, শাসন বিভাগের আরেক নাম কি?
আমিঃ উত্তর দিলাম।
সংবিধানের ধারা কয়টি?
আমি উত্তর দিলাম ১১ টি
স্যার বলেন ১১? আমি বললাম হ্যাঁ স্যার ধারা ১১ আর অনুচ্ছেদের ১৫৩ টি। স্যার বললেন সংবিধানের অনুচ্ছেদ হয় ধারা হয় না।
ডিপিও স্যারঃ আমাদের দেশে ন্যায়পাল কি নামে প্রতিষ্ঠিত?
আমিঃ স্যার এটা ৭৭ অনুচ্ছেদে আছে তবে প্রতিষ্ঠা হয়নি।
এডিসি স্যার পিটিআই সুপারিন্টেন্ডেন্ট কে বললেন প্রশ্ন করুন।
স্যারঃ প্রধান বিচারপতির নাম কি?
আমি উত্তর দিলাম।
সর্বশেষ বাক্য লিখতে দিলেন আর প্রশ্ন করলেন হযরত সোলাইমান (আঃ) সম্পর্কে একটা বাক্য বলুন।
আমিঃ স্যার তিনি পশু পাখির ভাষা বুঝতেন।
স্যার বললেন তাই? আমি বললাম জ্বি স্যার এবং উনার বাবা দাউদ (আঃ) ও একজন নবী ছিলেন।
স্যার বললেন, ঠিক আছে আসুন। আমি সালাম দিয়ে চলে আসলাম।
।
প্রার্থীর নাম : সরণী শেখ
তারিখ:০২-০৭-২০২২
সময়:৫/৬ মিনিট
নাম:স্বরনী শেখ
বিষয়:দর্শন
জেলা:লালমনিরহাট
আমি:অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে সবাইকে সালাম দিলাম।স্যারেরা বসার অনুমতি দিলে ধন্যবাদ জানিয়ে বসে পরলাম।
উনারা কাগজ পত্র দেখছিলেন, আর আমাকে স্বাক্ষর করতে বললেন।
তারপর প্রশ্ন করা শুরু !সব প্রশ্ন ডিসি স্যার করেছিলেন।
ডিসি: আপনি কোথায় থেকে এসেছেন?
আমি:সানিয়াজান, হাতীবান্ধা।
ডিসি:আপনাদের এই সানিয়াজান নামটা আমার অনেক পছন্দের।সানিয়াজান নামটা কেনো রাখা হয়েছে?
আমি:স্যার,সানিয়াজান নদীর নামানুসারে।
ডিসি:কোন কলেজ থেকে পড়েছেন? কোন সাবজেক্ট এ ?
আমি:বললাম।
ডিসি:আধুনিক দর্শন এর জনক কে?
আমি: রেনে ডেকার্ত।
ডিসি:কয়েকজন বাঙালি দার্শনিক এর নাম বলতে পারবেন?
আমি:ড.গোবিন্দ চন্দ্র দেব,আরুজ আলী মাতুব্বর,ড.আমিনুল ইসলাম,অতীশ দীপঙ্কর।
ডিসি:অস্তিত্ববাদের জনক কে?
আমি: ডেনমার্ক এর দার্শনিক সোরেন কিয়ার্কেগার্ড।
ডিসি:কার্যকরণ তত্ত্ব কি?
আমি:আমার মতো করে উত্তর দিয়েছিলাম।
ডিসি:স্বাধীনতার ঘোষনা দেন কে?
আমি:জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ডিসি:উনার জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান কোথায় বলেন।
আমি:১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ, গোপালগঞ্জ এর টুঙ্গিপাড়ায়।
ডিসি:উনার বাবার নাম কি?
আমি:শেখ লুৎফর রহমান।
ডিসি:উনার মায়ের নাম?
আমি:সায়েরা খাতুন
ডিসি:বঙ্গবন্ধুর কয়েকটা গ্রন্থের নাম বলেন।
আমি:অসমাপ্ত আত্নজীবনী,কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন।
ডিসি:পঞ্চম শ্রেনীর( preface) টা পড়তে ও বাংলায় অনুবাদ করতে বললেন।৩/৪ লাইন অনুবাদ করার পর বললেন আর বলতে হবেনা,অনেক ভালো বলেছেন।এবার আপনি আসুন।
আমি:ধন্যবাদ দিয়ে দুই পা পিছিয়ে, সালাম জানিয়ে বের হয়ে আসলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ !ভাইভা ভালো হয়েছে।রিযিক এর মালিক আল্লাহ্।
।
প্রার্থীর নাম : রোকেয়া রোখী
আজকের অভিঙ্গতা,ভাইভা ফ্যাক্ট কক্সবাজার সদর।
নামঃঅনিচ্ছুক
ডিপার্টমেন্ট : বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি,ঢাবি।
সময়:১.৪০ এর দিকে
প্রথমে রুমে প্রবেশ করার পর একজন হাতের লেখা চেক করলেন।পাশে বোর্ড ছিলো তিনজনের।সালাম দিয়ে বোর্ডে গেলাম,শুরুতেই বললেন গান কবিতা পারি কি,না।
আমি:জ্বী স্যার, অবশ্যই। আমি স্কুলে গান শিখতাম।এগুলা নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললেন।গান শুনলেন না। বললেন যেহেতু শিখছেন আর গাইতে হবে না।
স্যার:স্কুল কলেজ কোনটা ছিলো?
আমিঃ যশোর বলাতে বললেন শ্বশুরবাড়ি কক্সবাজার তাহলে।
স্যার:চার নেতার নাম জানেন?
আমি: জ্বী স্যার,সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তাজউদ্দিন আহমেদ,এম মনসুর আলী,কামারুজ্জাম বলার আগে অন্য প্রশ্নে গেলেন।
স্যার:বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
আমি:জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্যার:উনার লেখা বই পড়েছেন?
আমি:অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা,আমার দেখা নয়া চীন।এগুলা বলার সময় স্যার বার বার বলছিলেন পড়েছেন নাকি নাম জানেন শুধু।
আমি:স্যার আমি ঢাবি সাহিত্য সংসদের সদস্য ছিলাম।
স্যার: প্রশ্ন এদিকে নিয়ে গেলেন।বললেন তাহলে বলেন কক্সবাজারের একজন কবি বর্তমানে ভাল পদে আছেন কে?
আমি:কবি নুরুল হুদা,কক্সবাজার। বাংলা একাডেমির সভাপতি।
স্যার:সভাপতি?
আমি:না স্যার সরি,মহাপরিচালক।
স্যার:আপনার উত্তর নিব না।অন্য কেউ ভুল করলে নিতাম।
আমি:😒
স্যার:আমার ডিপার্টমেন্ট এর প্রশংসা করলেন অনেক।ব্রডলি পড়ালেখা এসব।তাছাড়া অনেক প্রোগ্রাম এ্যারেন্জ করে।
আমি:জ্বী স্যার,প্রতিবছর একসপ্তাহব্যাপী ইন্টার রিলিজিয়াস হারমোনি সপ্তাহ আরও অনেক কিছু বললাম।
স্যার:ডিপার্টমেন্ট এর বর্তমান চেয়ারম্যান কে?
আমি: আগের চেয়ারম্যান এর নাম বলেছি হুট করে।
আরেকজন স্যার :IER কি?
আমি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ইনস্টিটিউট।
স্যার:ফুল মিনিং জানতে চেয়েছিলেন।
আমি:ইন্সটিটিউট অব ইডুকেশন এন্ড রিসার্চ।
স্যার:ঠিক আছে আপনি আসতে পারেন।আপনার ভাইভা ভাল হয়েছে।
আমি:সালাম দিয়ে,স্যার আমার জন্য দোয়া করবেন।
স্যার:সবার জন্যই দোয়া করছি আমরা।
বোর্ড খুবই আন্তরিক ছিলেন।এটা আমার প্রথম ভাইভা ছিলো।
।
প্রার্থীর নাম : মো: মিলন মিঞা
জেলা: রংপুর, উপজেলা: গংগাচড়া
অনার্স বিষয়: অর্থনীতি
ভাইভার তারিখ: ৩০/০৬/২০২২ খ্রি.
প্রথমে সালাম দিয়ে প্রবেশ করলাম। স্যার বসতে বললেন। ধন্যবাদ দিয়ে চেয়ারে বসলাম।
প্রথমে স্যার বাংলা ও ইংরেজীতে দুটি বাক্য লিখতে বললেন।
স্যার: স্যার সার্টিফিকেট দেখতে দেখতে বললেন অর্থনীতিতে পড়েছেন।
আমি: জ্বি স্যার
স্যার: বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ কি কি?
আমি: উত্তর দিলাম (স্যার আঙ্গুলে কোটেশন গুনছিলেন)
স্যার: নিকাশ ঘর কি? কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কেন নিকাশ ঘর বলা হয়?
আমি: উত্তর দিলাম
স্যার: জিডিপি কি?
আমি: উত্তর দিলাম
স্যার: পারমাণুবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেসমস্ত বিদেশী শ্রমিক কাজ করেন তাদের আয় কি হবে? (স্যার জিডিপি ও জিএনপি বুঝিয়েছেন)
আমি: উত্তর দিলাম
স্যার: তখন স্যার আবার প্রশ্ন করলেন তাহলে বৈদেশিক রেমিটেন্স কি হবে?
আমি: আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিলাম
স্যার: “আজ কি বার” ট্রান্সলেশন করুন?
আমি: উত্তর দিলাম।
স্যার: বাজেট কি?
আমি: উত্তর দিলাম।
স্যার: বাংলাদেশের বাজেট কেমন আকৃতির?
আমি: উত্তর দিলাম
স্যার: বাংলাদেশের ঘাটতি বাজেট কিভাবে পূরণ করা হয়?
আমি: উত্তর দিলাম।
স্যার: মূদ্রার অবমূল্যায়ন কি?
আমি: কনফিউশন থাকায় উত্তর দেইনি
স্যার: একটা গান বলেন।
আমি: গান পারিনা তাই সরি বলেছি (আমি একটা কবিতা বলার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম)
স্যার: তাহলে “সংকল্প” কবিতা বলেন?
আমি: কবিতা কয়েক লাইন মুখস্ত থাকলেও কবির নাম ঐ মূহুর্তে মনে ছিল না। তাই সেটাও পারিনি বলতে।
স্যার: প্রাইমারীতে চাকরী করলে এগুলো শিখতে হবে।
আমি: জ্বি স্যার। চেষ্টা করবো স্যার।
স্যার: ধন্যবাদ আপনি আসেন এখন।
আমি: সালাম দিয়ে বের হলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্ বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রংপুরে কর্মরত আছি।
সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ ১ম ধাপের ভাইভা।
জেলা: মৌলভীবাজার, উপজেলা: কুলাউড়া।
তারিখ: ২৯/০৬/২০২২
বিষয়: অর্থনীতি
(প্রথমেই বলে রাখি, আমি যখন ভাইভা দিচ্ছি তখন প্রায় সন্ধ্যা। ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট অফিসার ছাড়াও ডিসি অফিসের সকল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কাজকর্ম শেষে সেখানে বসে আছেন তখন।)
অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে আদাব দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, ডিসি স্যার বসার কথা বললেন।
ডিসি স্যার: আপনার নাম...........। তাইতো?
আমিঃ জ্বি, স্যার।
ডিসি স্যার: কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন? কোন প্রতিষ্ঠান?
আমি: উত্তর দিলাম।
(ডিসি স্যার অন্যদের বললেন প্রশ্ন করতে)
ডিডিএলজি স্যার: দুজন নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদের নাম বলুন।
আমি: অমর্ত্য সেন ও অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যো