17/06/2020
লকডাউনকারীদের প্রথম যুক্তি ছিলো-
“করোনার একমাত্র সমাধান হলো লকডাউন। কারণ সবাই যদি সবার থেকে ২ সপ্তাহ আলাদা থাকে, তবে ভাইরাসটি কোন হোস্ট খুজে না পেয়ে মারা যাবে। ফলে সবাই ভাইরাসমুক্ত হবে।”
কিন্তু এই যুক্তি ফেইল মারলো। কারণ ২ সপ্তাহ, কেন ৮ সপ্তাহ সবাই আলাদা থাকলেও ভাইরাস মরার কোন লক্ষণ দেখা গেলো না। বরং ভাইরাস ঠিকই তার নিজস্ব গতিতে কাজ চালিয়ে গেলো।
প্রথম যুক্তি ফেইল মারায় তারা দ্বিতীয় যুক্তি ছড়িয়ে দিলো-
“লকডাউন করা হচ্ছে, হাসপাতালে আগত রোগীর ফ্ল্যাটেনিং কার্ভ করার জন্য। মানে আগত রোগী সংখ্যা হ্রাস করতেই লকডাউন দেয়া হয়েছে। ”
কিন্তু এই যুক্তিও ফেইল মারলো। কারণ লকডাউন দিয়েও অনেক এলাকায় উপচে পরা ভীড় ছিলো, আবার অনেক এলাকায় রোগীর চাপ তেমন ছিলো না।
এই যুক্তি ফেইল মারার পর তারা নতুন যুক্তি দিলো-
“যারা দেরি করে লকডাউন দিয়েছে, তাদের লকডাউনে কাজ হয়নি, কিন্তু চীন তাড়াতাড়ি লকডাউন দেয়াতে কাজ হইছে। ”
কিন্তু দেখা গেলো, তাদের এই যুক্তিও ভুয়া। কারণ চীন লকডাউন দিয়েছে করোনা আসার প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর। হার্ভাডের গবেষণা চীনে করোনা আসছে অগাস্টের শুরুতে, তারা লকডাউন দিছে জানুয়ারির শেষে।
এরপর তারা বললো-
“লকডাউন দিয়ে যে করোনা দমন করা যায় তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ চীন ও নিউজিল্যান্ড। তারা ঠিকমত লকডাউন দিয়ে সফল হইছে। তাদের দেশ করোনা ভাইরাস শূণ্য হয়ে গেছে। ”
কিন্তু তাদের এ যুক্তিও বেশি দিন টিকলো না। চীনে ৩০ দিন পর (https://bit.ly/37wYTQT) এবং নিউজিল্যান্ডে ২৫ দিন পর নতুন করে করোনা রোগি পাওয়া শুরু হলো (https://bit.ly/2MZWc0N)।
এ দ্বারা প্রমাণ হয়- লকডাউন করলে করোনা শেষ হয়ে যায়, এমন দাবী সম্পূর্ণ ভুয়া। করোনা তাদের দেশের মানুষের শরীরের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু সেটা সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাভাবিকভাবে তাই প্রশ্ন তৈরী হয়, এই রাষ্ট্রগুলো সত্য মিথ্যা বলে, করোনা শূন্য হওয়ার ঘোষণা কেন দিতে চাইছে ?
সম্প্রতি আমেরিকাতেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। দেশটিতে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে লক্ষ লক্ষ মানুষ লকডাউন ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু এতে করোনা বৃদ্ধির পরিবর্তে আরো হ্রাস পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্ষেত্রে করোনার সমাধানও দিয়েছে। তার বক্তব্য হলো- “টেস্ট বন্ধ করলেই করোনা দমন হয়ে যাবে।” (https://bit.ly/2UOFaa9)
উল্লেখ্য চীনও আতশবাজি ফুটিয়ে করোনামুক্তি উৎযাপন করে সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে, তারা করোনামুক্ত হয়েছে, সবাই যেন তাদের সাথে ব্যবসা করতে আসে, তাদের মাঝে আর সমস্যা নাই।
(https://bit.ly/2UOFaa9)।
কিন্তু পরিবর্তিতে মিডিয়া খবর প্রকাশ- করোনা খবর প্রকাশ করলেই গুম ও নির্যাতনের স্বীকার হতে হচ্ছে চীনে (https://bit.ly/30FjsJq)।
আসলে মূল ঘটনা হচ্ছে-
করোনা ভাইরাস হলো ৯০ বছর আগে আবিষ্কৃত একটি ভাইরাস (https://bit.ly/2N0c0AD)। এটি প্রায় সময় নতুন স্ট্রেইন নিয়ে আসে। আমাদের বিভিন্ন সময় যে জ্বর, সর্দি, কাশী বা ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হই তার ২০% ঘটে এই করোনা ভাইরাসের কারণে (https://wb.md/2Y4pe5F)। এটা প্রকৃতির খুব স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, এখানে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই স্বাভাবিক ঘটনাকে মিডিয়ায় নতুন করে ব্যাপক হাইলাইট করে মানুষের মধ্যে গণআতঙ্ক তৈরী করে ক্রাইসিস তৈরী করে। এরপর তারা করোনার সমাধান হিসেবে লকডাউন, স্টে হোম স্টে সেফ, সোশ্যাল ডিসটেন্সিংসহ বিভিন্ন থিউরী জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়, কিন্তু বাস্তবে এগুলো করোনার কোন সমাধান নয় বরং ঐ বিশেষ গোষ্ঠী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উপলক্ষ মাত্র। মূলতঃ যারা তাদের এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরেছে, তারাই করোনার খবরকে সেন্সর করে মিডিয়া ব্ল্যাকআউট করেছে। অর্থাৎ করোনাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে চিরাচরিত স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে তারা অর্থনীতিকে বাচানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে করোনা রোগীও বাচানোর চেষ্টা করেছে। কারণ করোনাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করায় মানুষ স্বাভাবিক চিকিৎসা পাবে। কিন্তু এটাকে অস্বাভাবিক দৈত্য হিসেবে প্রকাশ করায় আতঙ্ক ও ভীতির কারণে করোনা রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছিলো না, ফলে অনেকেই মারা পরছিলো চিকিৎসাহীন হয়ে। ফলে অনেক দেশ এখন বিশেষ গোষ্ঠীর তত্ত্ব -পথ ছুড়ে ফেলে করোনাকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করার পথে হাটতে বাধ্য হয়েছে এবং হচ্ছে।
চীনে নতুন করে ৪৯ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জা