Sultane Karbala Emam Hossain Bijoy Nishan

Sultane Karbala Emam Hossain Bijoy Nishan সুলতানে কারবালা ইমাম হোসাইনের বিজই ন?

 #আসসালামু_আলাইকুম !আগামী ১২রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরি, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ইংরেজি শনিবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আওলা...
20/11/2017

#আসসালামু_আলাইকুম !
আগামী ১২রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরি, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ইংরেজি শনিবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আওলাদে রাসুল, মুর্শিদে বরহক, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত, হাদিয়ে দ্বীন ও মিল্লাত, হযরতুলহাজ্ব
#আল্লামা_সৈয়্যদ_
মুহাম্মদ_তাহের_শাহ _(মঃ)’র সদারতে বিশ্বের বৃহত্তম পবিত্র জশনে জুলুছ-এ ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ অনুষ্ঠিত হবে।
#কর্মসূচীঃ
সকাল ০৮ টায় আলমগীর খানকা - এ - কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া চট্টগ্রাম'র সম্মুখ থেকে বের হয়ে লাকো-কোটি আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে দুপুর ১২টার সময় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া'র মাঠে জমায়ত হবে। দুপুর ০১:৩০ মিনিটের সময় হুজুর কেবলার ইমামতিতে পবিত্র যোহরের নামায আদায় হবে এবং মিলাদ-ক্বিয়াম ও আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে জশনে জুলুছের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। বিশ্বের এই বৃহত্তম জশনে জুলুছ-এ ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ -এ অংশ গ্রহণ করে আল্লাহ ও তাঁর হাবিব ﷺ'র সন্তুষ্ঠি হাসিল করুন।
#উল্ল্যেখ্য , ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরি, ২৯ নভেম্বর'১৭ ইং বুধবার ঢাকা মুহাম্মদপুরস্থ জয়েন্ট কোয়াটার খানকা শরীফ হতে হুজুর কেবলার সদারতে জশনে জুলুছ বের হয়ে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া ময়দানে জমায়ত হয়ে হুজুর কেবলার ইমামতিতে যোহরের নামায আদায় হবে।
#ব্যবস্থাপনায়ঃ
আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ।
www.anjumantrust.org
DEC পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী ﷺ (JASHNE JULUSE EID-E MILADUNNABI ﷺ )
Sat 8 AM · জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া
Created for DARBAR-E-SIRIKUT

This Is Islamic Site (Anjuman-e Rahmania Ahmadia Sunnia Trust, Chittgong, Bangladesh

03/02/2017

খোদাকি ফজলছে হামপর হ্যায় ছায়া
গাউছে আজমকা
হামে দোনো জাহামে হ্যায় সাহারা
গাউছে আজমকা
মুরিদি লাতাহুপ কেহকে তছল্লি দে
গুলামওকো
কেয়ামত তক রেহেংগে বেহুপে বান্দা
গাউছে আজমকা।
===============================
হুজুর কেবলার নি'দেশ
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ।।
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ
কী ও কেন? প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍✍
হাদীস শরীফের পবিত্র ভাষ্য অনুসারে
মুসলমানরা ৭৩ দলে বিভক্ত হয়েছে বা
হয়ে থাকবে। এর মধ্যে ৭২ দলই
জাহান্নামী। শুধুমাত্র একটি দলই
জান্নাতি। ইসলামের একমাত্র
নাজাতপ্রাপ্ত দল তথা মূলধারার নাম
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত। [সূত্র:
মোল্লা আলী ক্বারী, মিরক্বাত, শরহে
মিশকাত]
হানাফী, শাফে’ঈ, মালেকী ও হাম্বলী-
এ চার মাযহাব আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামাত’র এক একটি শাখা বিধায়
নাজাতপ্রাপ্ত মূলধারার অন্তর্ভুক্ত। ঠিক
তেমনি ক্বাদেরিয়া, চিশতিয়া,
নক্বশ্বন্দিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া ইত্যাদি
ত্বরিকাগুলোও একই শ্রেণীভুক্ত
আধ্যাত্মিক ধারা। এসব ত্বরীকার
মানুষগুলো কেউ হানাফী, কেউ মালেকী
এভাবে কোন না কোন মাযহাবের
অনুসারী সুন্নী মুসলমান। এর বাইরের
অর্থাৎ সুন্নী মতাদর্শ থেকে বিচ্যুত
মানুষগুলোই পথভ্রষ্ট বা জাহান্নামী ৭২
দলের অন্তর্ভুক্ত। হযরত বড়পীর গাউসুল
আজম আবদুল ক্বাদের জীলানী
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জন্মগ্রহণ
করেন ৪৭০ হিজরিতে। অর্থাৎ রসূলে করীম
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি
ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র জন্মের প্রায়
পাঁচশত বছর পরে। অথচ এ সময়েই ইসলামের
নামে ভ্রান্ত ৭২ দলের আবির্ভাব পূর্ণ
হয়ে যায়। গাউসুল আ’যম জীলানী
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু স্বলিখিত
গুনিয়াতুত্ তালেবীন’ নামক প্রসিদ্ধ
গ্রন্থে উক্ত হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি
দিয়ে বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামা’আতই একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল।
অন্যান্য ৭২ দল জাহান্নামী। তিনি
সুন্নী জামাত’র পরিচয়ের সাথে সাথে
পাশাপাশি ৭২ দলের পরিচয়সহ একটি
তালিকা প্রদান করেন। ওই ৭২ দলে
খারেজী, রাফেযী, শিয়া, মু’তাযিলা,
ক্বদরিয়া, জবরিয়া, মুশাব্বেহা ইত্যাদি
মূল বাতেল দল ও এদের শাখা-প্রশাখাগুল
োর নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে গাউসে
পাক রাদ্বিয়াল্লাহু তাজ্ঞআলা আনহু’র
সময়ে বাতিলের সংখ্যা ৭২ পূর্ণ হয়। ফলে
ওই সময়ে ৭২টি ভ্রান্ত দল-উপদলের সাথে
মোকাবেলা করতে গিয়ে একটি মূলধারার
এমন নাজুক এবং মুমূর্ষু অবস্থা বিরাজ
করছিলো যে, একে রক্ষা করতে এমন মহান
সংস্কারকের আগমন অপরিহার্য
হয়েছিলো। ঠিক এই সময়েই হযরত বড়পীর
জীলানীর আগমনে এবং তাঁরই পরিচর্যায়
ইসলাম পায় নতুন জীবন। যে কারণে
গাউসুল আ’যম জীলানীর অপর নাম হলো
‘মুহীউদ্দীন’ অর্থাৎ দ্বীনকে
পূনর্জীবনদানকারী। এ সংক্রান্ত
অলৌকিক ঘটনাটি হলো- গাউসে পাক
বাগদাদের রাস্তায় চলার পথে দেখলেন
এক বৃদ্ধ রোগাক্রান্ত মুমূর্ষু মানুষ তাঁকে
আহ্বান করছে সাহায্যের জন্য। গাউসে
পাক ওই মরণযাত্রীকে টেনে তুলে দাঁড়
করাবার জন্য স্পর্শ করতেই লোকটি
অলোকিকভাবে সুস্থ সবল নওজোয়ান হয়ে
যায়। গাউসে আ’যম এ ঘটনায় অবাক হয়ে
এর কারণ জিজ্ঞেস করলে লোকটি উত্তর
দিলো আরো অলোকিকভাবে যে, ‘আমি
কোনো মানুষ নই’ মূলতঃ পাঁচশ বছর পূর্বে
আপনার পূর্বপুরুষ রাসূলে করীম
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি
ওয়াসাল্লাম যে দ্বীন ইসলাম রেখে যান
আমি তারই প্রতিরূপ, যা এমন মুমূর্ষু
অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিলো, কিন্তু আজ
আপনার হাতে এ মুমূর্ষু দ্বীন লাভ করলো
পুনর্জীবন। [বাহ্ছাতুল আসরার]
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী তাঁর
‘শামায়েলে এমদাদীয়া’য় গাউসুল আ’যম
দস্তগীর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে
‘দ্বীনের ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারকারী’
বলে মন্তব্য করেন- যা ‘মুহীউদ্দিন’
উপাধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘দ্বীনের
ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারকারী’ তথা দ্বীনকে
পূনর্জীবন দানকারী ‘মুহীউদ্দীন’ গাউসুল
আ’যম আবদুল কাদের জীলানী
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর মহান
আদর্শ এই সমাজে বাস্তবায়নের জন্যই
মূলতঃ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘গাউসিয়া
কমিটি বাংলাদেশ’। অপর কথায় বলা
যায়, গাউসুল আ’যম কর্তৃক পুনর্জীবিত এবং
প্রদর্শিত পথ ও মতকে সমাজে মানুষের
কাছে তুলে ধরার জন্যই ‘গাউসিয়া
কমিটি বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কী এই পথ, মত বা আদর্শ? গাউসে পাকের
‘গাউসিয়াত’-এর এ আদর্শকে তাঁর কর্মময়
জীবন, লেখালেখি ও বক্তব্য-মন্তব্যের
আলোকে বিশ্লেষণ করলে আমরা তিনটি
মহামূল্যবান কর্মসূচী দেখতে পাই- ১.
ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামা’আত-এর আদর্শ তথা ‘সুন্নিয়াত’-
এর প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করা।
২.ইসলামের নামে আবির্ভূত বাতেল দল
এবং ভ্রান্ত মানব গড়া মতবাদ (যেমন
গ্রীক দর্শন)-এর মূলোৎপাটন, এবং ৩.
আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে খোদা তালাশের
একটি সহজ পথ ‘সিলসিলাহ আলীয়া
কাদেরিয়া’র পথ প্রদর্শন। গাউসে পাক
উক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতৃত্ব
দিয়ে এবং সংস্কার করে দ্বীনকে
পুর্নজীবন দিয়ে গেছেন- যা পরবর্তিতে
তাঁর প্রতিনিধি তথা খলীফাগণের
পরিচর্যায় দুনিয়ার দেশে দেশে অনুসৃত ও
প্রদর্শিত হয়ে দ্বীন ইসলামের সংরক্ষণ ও
পরিধিবৃদ্ধিকে নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের মানুষ বিংশ শতাব্দিতে,
গাউসে পাকের যে প্রতিনিধির
সংস্পর্শে এসে সুন্নিয়াত ও ত্বরীক্বতের
আলোকে অধিকতর আলোকিত হয়েছেন
তিনি শাহেন শাহে সিরিকোট,
পেশ্ওয়ায়ে আহলে সুন্নাত এবং ‘সৈয়্যদুল
আউলিয়া’ হিসেবে খ্যাত। তিনি হলেন
আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ আহমদ
শাহ সিরিকোটি পেশোয়ারী
রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হি।
বর্তমান পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম
সীমান্ত প্রদেশে দরবারে আলীয়া
ক্বাদেরিয়া, সিরিকোট শরীফ তাঁর
ঠিকানা।
সেখানেই ১৮৫৬-৫৭সালের দিকে তাঁর
জন্ম এবং ১৯৬১ সনে (১১ জিলক্বদ
১৩৮০হিজরি) ইন্তেক্বাল করেন। রাসুল
করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি
ওয়াসাল্লাম’র ৩৯ তম অধঃস্তন পুরুষ
সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটী তাঁর
পূর্বপুরুষ আহলে বায়তদের অনুসরণে
মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে দ্বীনের
মশাল হাতে নিয়ে প্রথমে হিজরত করেন
দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানেই স্থানীয়
কৃষ্ণাঙ্গ বিধর্মীদের মধ্যে ইসলাম
প্রচারের সাথে সাথে নবদীক্ষিত
মুসলমানদের ইবাদতের জন্য ১৯১১ সনে
সেখানকার প্রথম জামে মসজিদ নির্মাণ
করেন। শুধু তাই নয়, পারস্য থেকে একদল
শিয়া ধর্ম প্রচারক তাদের ভ্রান্ত মতবাদ
প্রচারে গিয়েছিলো সেখানে, কিন্তু
হযরত সৈয়্যদ আহমদ পেশোয়ারী’র
নেতৃত্বে সেখানে সুন্নিয়াতই শুধু স্থান
পায় এবং শিয়া সম্প্রদায় প্রভাব
বিস্তারে ব্যর্থ হয় (Dr. Ibrahim M
Mahdi, A Short History to the Muslims
in Sounth Africa) গাউসে পাক যেভাবে
ইসলামের মূলধারা সুন্নিয়াতকে শিয়া
ইত্যাদি মতবাদের কবল থেকে রক্ষা
করেছিলেন ঠিক তেমনি সিরিকোটি
রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হিও
আফ্রিকায় বাতিল সম্প্রদায়ের
মূলোৎপাটনের মাধ্যমে তাঁর দ্বীন
প্রচারের কর্মসূচি শুরু করেন জীবনের প্রথম
ভাগে। এরপরই তিনি গ্রহণ করলেন গাউসে
পাক প্রতিষ্ঠিত সিল্সিলাহ্ -এ আলিয়া
ক্বাদেরিয়া’র শিষ্যত্ব। তাঁর পীর-মুর্শিদ
গাউসে দাওরাঁ হযরত খাজা আবদুর রহমান
চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা’আলা
আলায়হি’র খিদমতে তিনি নিজের
আমিত্ব, অহংকার বিসর্জন দিয়ে
ত্বরীকতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে
খেলাফত লাভে ধন্য হন এবং পীরের
নির্দেশে সুন্নীয়ত ও ত্বরীকতের এ মিশন
হাতে নিয়ে ১৯২০ সনে তশরীফ নিয়ে যান
সুদূর রেঙ্গুনে।
দীর্ঘ দুই দশকের রেঙ্গুন জীবন (১৯২০-১৯৪১)
-এর এক পর্যায়ে তিনি তাশরীফ আনলেন
বাংলাদেশে। এখানে তিনি এই মিশনের
জন্য কাজ করেন ১৯৩৫-১৯৬১ অর্থাৎ
জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। ১৯২৫ সনে তাঁর
পীর সাহেব হযরত খাজা চৌহরভী’র
ইন্তেকালের পর থেকে স্বদেশের হরিপুরে
প্রতিষ্ঠিত ‘দারুল উলুম রহমানিয়া’ (১৯০২)
কে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি
প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। এ বছর (১৯২৫)
থেকেই তিনি আপন পীরের প্রধান
খলিফা হিসেবে শরিয়ত ও ত্বরীকতের
পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব প্রাপ্ত হন এবং এ
দায়িত্বকে যথাযথভাবে আঞ্জাম দিতে
বিশেষতঃ সুন্নীয়তের প্রচার-প্রসার,
বাতিল পন্থীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং
ক্বাদেরিয়া ত্বরীকা প্রতিষ্ঠার মহান
দায়িত্ব গাউসুল আ’যম জীলানী
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র পক্ষ
থেকে সিলসিলাহ পরম্পরায় তাঁর উপর
অর্পিত হয়। এমন কর্মসূচীর সুষ্ঠু
ব্যবস্থাপনায় তাঁর সাধারণ মুরীদ-
ভক্তদেরও অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে
তাদের দুনিয়া-আখিরাত উজ্জ্বল করতে,
বিশেষত সংশ্লিষ্ট সমাজকে আলোকিত
করতে তিনি রেঙ্গুনে প্রতিষ্ঠা করেন এ
সিলসিলাহর প্রথম সংগঠন-‘আনজুমানে
শূরা-এ রহমানিয়া’ (১৯২৫)। এই সংগঠনের
ব্যবস্থাপনায় রহমানিয়া মাদরাসা এক
বিশাল দ্বীনি মারকাযে পরিণত হয়।
বিশেষ করে তাঁর পীর খাজা আবদুর রহমান
চৌহরভী রাহমাতুল্লাহি তা’আলা
আলায়হি, জীবনে কোনো
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ
ছাড়া মাত্র ৭ বছর বয়সে স্বীয় আব্বা হুযুর
গাউসে যামান খাজা ফক্বীর মুহাম্মদ
খিদ্ব্রীর স্থলাভিষিক্ত হন, অথচ জীবন
সন্নিকটে এসে এমন এক উচ্চ মানের আরবী
ভাষার দরূদ গ্রন্থ লিখে যান, যা এই
দুনিয়ায় এক অদ্বিতীয় গ্রন্থ মজমুয়ায়ে
সালাওয়াতে রাসূল নামে পরিচিত।
আল্লাহ্র কালাম আল কুরআন আর রাসূল
সাল্লাল্লাহু তাজ্’আলা আলায়হি
ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস সংকলন
বোখারী শরীফের পর, এটিই কোনো
মানুষের রচিত ৩০ পারা সম্বলিত গ্রন্থ
যার প্রতিটি পারায় রয়েছে ৪৮ পৃষ্ঠা
করে। আর এ গ্রন্থটি হলো নবী করীম
সাল্লাল্লাহু তাজ্’আলা আলায়হি
ওয়াসাল্লাম’র সৃষ্টি, যাবতীয় অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ ও গুণাগুণ-জাত-সিফাত এবং
আক্বীদা ও আমলের বর্ণনাসহ দুরূদ-
সালামের এক অপূর্ব বর্ণনা সম্ভার। আর এ
বিরল গ্রন্থটি চার হাজার টাকা ব্যয়ে
ছাপিয়ে ছিলো আজ থেকে আশি বছর
আগে এ ‘শূরা-এ রহমানিয়া’। হুযূরের
চট্টগ্রাম আগমনের সাথে সাথে
চট্টগ্রামবাসী রেঙ্গুনের মুরীদদের
নেতৃত্বে ১৯৩৭ সনে গঠিত হয় ‘আনজুমান-এ
শূরায়ে রহমানিয়া চট্টগ্রাম শাখা’। এরই
ব্যবস্থাপনায় এখানে চলতে থাকে
ত্বরীকতের প্রচার-প্রসার এবং
রহমানিয়া মাদরাসার সহযোগীতা।
হুযূর ক্বেবলা চট্টগ্রাম এসে দেখলেন
খারেজী সম্প্রদায়ের উত্তরসূরীরা
এখানে বেশ তৎপর। এরা প্রতিনিয়ত নবী-
ই আকরামের দুরূদ-সালাম এবং সম্মান
বিরোধী বক্তব্য প্রচার করে মুসলমানদের
ঐক্য এবং ঈমান আক্বীদা বিনষ্ট করার
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু এদের এ ঈমান
বিধ্বংসী অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার মতো
যোগ্যতা সম্পন্ন সাচ্চা আলিম বলতে এক
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাযী
শেরে বাংলা ছাড়া তেমন কেউ নেই।
তাছাড়া, ভ্রান্তমতবাদীদের
প্রাতিষ্ঠানিক মোকাবেলার জন্য
বিদ্যমান মাদরাসাগুলোও যথেষ্ট নয়।
অধিকন্তু চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শেখের
খিলে তাঁর এক মাহফিলে তিনি
ইন্নাল্লা-হা ওয়ামালা-ই-কাতুহু
ইয়ূসাল্লূ-না আলান্নবীয়্যি, এয়া
আইয়্যুহাল্ লাযী-না আ-মা-নূ সাল্লূ-
’আলায়হি ওয়াসাল্লিমূ- তাসলী-মা’ এ
আয়াতে করীমা তেলাওয়াতের পর সমবেত
স্থানীয় অধিবাসীরা দুরূদ শরীফ তো
পড়ে নি; বরং বেয়াদবী করেছিলো। এ
ঘটনার পরই হুযূর ক্বেবলা দুরূদ-সালাম
বিরোধী নবীর এ দুশমনদের বিরুদ্ধে
প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে
নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রামের ষোলশহরে
১৯৫৪ সনে প্রথমে ‘মাদরাসা -এ
আহমদিয়া সুন্নিয়া’র বুনিয়াদ স্থাপন
করেন এবং পরে ১৯৫৬ সনে একে
অপ্রতিদ্বন্দ্বী সর্বোচ্চ দ্বীনি
শিক্ষাকেন্দ্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে
রূপান্তরিত করার জন্য উক্ত নামের সাথে
‘জামেয়া’ (অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়) শব্দটি
যোগ করেন।তিনি আরো ঘোষণা করলেন-
‘মুঝেহ দেখনা হ্যায় তো মাদরাসা কো
দেখো, মুঝসে মুহাব্বত হ্যায় তো
মাদরাসাকো মুহাব্বত করো।’ (আমাকে
দেখতে চাইলে মাদরাসাকে দেখো,
আমার সাথে ভালবাসা রাখতে চাইলে
মাদরাসাকে ভালবাসো।)
তিনি শুধু মাদ্রাসা বানিয়েই ক্ষান্ত হন
নি বরং প্রত্যেকের মুহাব্বতের পূর্বশর্ত
হিসেবে মাদ্রাসার মুহাব্বতকেও ঘোষণা
করে দিয়েছেন, যাতে মুরীদ-ভক্তগণ
দ্বীনি খিদমতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দ্বীন
রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী ‘সাচ্চা আলিম’
তৈরিতে উৎসর্গিত হয়ে যায়।
হয়েছিলোও তাই। ফলে আজ এ জামেয়া
আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া দেশের
শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এবং
সুন্নিয়াতের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত
হয়েছে।
১৯৫৬ সনে আঞ্জুমানে শূরা-এ
রহমানিয়াকে করা হলো-‘আনজুমানে
রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’ নামে।
এখন থেকে সুন্নিয়াত ও ত্বরীকতের মিশন
ব্যবস্থাপনায় মাঠে নামে এই ‘আনজুমানে
রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’ যার
আজীবন সভাপতি স্বয়ং হুযূর ক্বেবলা।
শাহেন শাহে সিরিকোটের ইন্তিকালের
পর হতে আজীবন সভাপতির দায়িত্বে
আসেন তাঁরই সাহেবজাদা, মাতৃগর্ভের
ওলী ন্যামে খ্যাত আল্লামা হাফেয
সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ। হুযূর
ক্বেবলা তৈয়্যব শাহ্কে ১৯৫৮ সনে এই
চট্টগ্রামেই জনসম্মুখে খেলাফত দেওয়া
হয় এবং আন্জুমানের নীতি নির্ধারণী
কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া
হয়। সে থেকে গাউসে পাকের এই
মিশনের লাগাম থাকে গাউসে যামান
সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ’র হাতে,
যিনি এই প্রতিষ্ঠানকে এবং এর
কর্মসূচীকে দিয়েছেন আরো বেশি
ব্যাপকতা। তাঁর হাতে ত্বরীকতভুক্ত হন
লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষ। তাঁর হাতে
প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকার মুহাম্মদপুরের
ক্বাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া,
চন্দ্রঘোনার (চট্টগ্রাম) তৈয়্যবিয়া
অদুদিয়া সুন্নিয়া এবং হালিশহরের
(চট্টগ্রাম) তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া
সুন্নিয়া’ সহ অনেকগুলো মাদরাসা,
খানক্বাহ এবং মসজিদ। ফলে, দেশব্যাপী
ছড়িয়ে থাকা তাঁর লক্ষ লক্ষ মুরীদ
ভক্তদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হলো
মাদ্রাসার খেদমত করার মাধ্যমে ‘সাচ্চা
আলেম’ তৈরির নির্দেশ পালনের। হুযূর
ক্বেবলা তৈয়্যব শাহর নির্দেশে ১৯৭৬
সনের ১৬ ডিসেম্বরে এক সভায় ‘তরজুমান’
নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালুর
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৭৫ সন থেকে তাঁরই
নির্দেশে শুরু হয়েছে চট্টগ্রামসহ সারা
বাংলাদেশে ‘জশনে জুলুছে ঈদে
মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা
আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মতো একটি
শরীয়ত সম্মত বর্ণাঢ্য মিছিলের কর্মসূচী;
যাতে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ শামিল হয়ে এ
শতাব্দির শ্রেষ্ঠ সংস্কারকে স্বীকৃতি
দিচ্ছে। বিশেষ করে গাউসে পাক’র
স্মরণে প্রতি মাসের গেয়ারভী শরীফ
এবং খতমে গাউসিয়া শরীফ সহ আ’লা
হযরত ইমাম আহমদ রেযা রাহমাতুল্লাহি
তা’আলা আলায়হি’র যুগান্তকারী
মসলকে আ’লা হযরত প্রচার-প্রসারের যে
যাত্রা হযরত সিরিকোটি হুযূরের হাতে
শুরু হয় তা তাঁর হাতে লাভ করে ব্যাপক
গ্রহণযোগ্যতা। মোট কথা ১৯৮৬ পর্যন্ত
সময়ের মধ্যেই গাউসে পাকের এই
কাফেলায় শামিল হয় দেশ-বিদেশের
লক্ষ লক্ষ মানুষ। দেশের আনাচে কানাচে
চলতে থাকে এ মিশনের কার্যক্রম। এ
বিশাল কর্মী বাহিনীকে একটি
সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে, দ্বীনের
সাহায্যের কাজে নিয়োজিত করে
তাদের সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য
গাউসে যামান তৈয়্যব শাহ
রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হি ১৯৮৬
সনে নির্দেশ দিলেন ‘গাউসিয়া কমিটি’
প্রতিষ্ঠা করতে।
এরই বাস্তবায়নে ‘গাউসিয়া কমিটি
বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হলো।
দেশব্যাপী এমন কি সুদূর মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত
এটা ব্যাপৃত হলো। বর্তমানে এর লক্ষ লক্ষ
কর্মী-সমর্থকদের হাতে এলাকায়
এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে সুন্নিয়াত
প্রচার, বাতিলের পথরোধ এবং
ক্বাদেরিয়া ত্বরীকা প্রতিষ্ঠার
শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড।
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ
একটি সমাজ সংস্কার মূলক অরাজনৈতিক
আন্দোলন। সমাজ সংস্কারের পূর্বশর্ত
হলো ব্যক্তি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ;
অর্থাৎ যারা এই সমাজ সংস্কারে
নেতৃত্ব দেবে প্রথমে তাদের আত্মশুদ্ধি
নিশ্চিতকরণ। এজন্যে গাউসিয়া কমিটির
পরিকল্পনা হলো- ১. গাউসুল আ’যম
জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা
আনহু’র সিল্সিলাহর কামিল প্রতিনিধির
হাতে বায়’আত ও সবক গ্রহণের মাধ্যমে
আত্মশুদ্ধির এ পাঠশালায় অন্তর্ভুক্তকরণ।
২. গাউসিয়া কমিটির সদস্য বানিয়ে
তাদেরকে এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে
তারা ধীরে ধীরে আমিত্ব, হিংসা
বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ও অহঙ্কারমুক্ত
পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে পরিণত হয়। ৩.
সুন্নীয়তের আক্বীদা এবং ভ্রান্ত মতবাদ
সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে
উভয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক শিক্ষা
ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নেতৃত্বের
উপযোগী কর্মি হিসেবে গড়ে তোলা। ৪.
সুন্নীয়ত ও ত্বরীকতের দায়িত্ব পালনে,
বিশেষতঃ মাদরাসা, আনজুমান এবং
মুর্শিদে বরহক্বের নির্দেশের প্রতি
আস্থাশীল এবং মুর্শিদের বাতলানো
পথে নিবেদিত হয়ে নবী প্রেমিক এবং
খোদাপ্রাপ্তির পথ সুগম করার অনুশীলনে
নিরলসভাবে এগিয়ে চলার শপথ গ্রহণ
করা।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যে গড়ে উঠা
গাউসিয়াতের কর্মী বাহিনীর হাতে এ
সমাজের পরিশুদ্ধির দায়িত্ব ছেড়ে দিতে
পারলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে সমাজ
সংস্কারের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার
দিকে এগিয়ে যাওয়া। কারণ বর্তমানে এ
সমাজ, রাষ্ট্র এবং সমগ্র বিশ্বে
অশান্তির পেছনে যে কারণটি প্রধান তা
তাহলো অযোগ্য, অশুদ্ধ, লোভী, হিংসুক,
অহংকারী এবং দাম্ভিক ব্যক্তিদের
নেতৃত্বে সমাজ রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া।
বদ-আক্বীদা এবং ক্বোরআন সুন্নাহ
বিরোধী শিক্ষা ও চেতনাসম্পন্ন
নেতারা সমাজকে ধীরে ধীরে
জাহেলিয়াতের দিকেই নিয়ে গিয়েছে।
তাই জাহেলিয়াত দূর করে আবারো
ইসলামের দিকে এ সমাজকে যারা নিয়ে
আসবে, আগে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে
আলোকিত মানুষ হিসেবে। এ আলোকিত
নেতাদের বাতি থেকে হাজার হাজার
বাতি প্রজ্জ্বলিত হয়ে সমস্ত অন্ধকার দূর
হবে। তাই, গাউসিয়া কমিটির
পরিকল্পনা হলো প্রথমে পরিশুদ্ধ নেতা
সৃষ্টি করা এবং পরে তাদের দিয়ে সমাজ
শুদ্ধি করণ নিশ্চিত করা।
সিলসিলাহ্র মাশায়েখ হযরাত প্রদত্ত
ফজর, মাগরিব এবং এশা নামাজান্তে
পঠিতব্য সবক জিকির, দরূদ ও সালাতে
আওয়াবীন আদায় করা হয় নিজের আত্মার
উন্নয়নের জন্য, আর গাউসিয়া কমিটির
কর্মসূচি বাস্তবায়নের সবক ও নির্দেশ
হলো সমাজের বহুমুখী উন্নয়নে। হযরত
সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি তাঁর পীর
খাজা চৌহরভীর খিদমতে খোদা
তালাশের জন্য পাহাড়ে জঙ্গলে ইবাদতে
মশগুল হবার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু
পান নি; বরং পীর সাহেব ক্বেবলা
বলেছিলেন, একা একা খোদা তালাশের
চেয়ে সমাজের অন্যান্য মানুষকে পথ
দেখানোর কাজে নিয়োজিত থাকা
অনেক উত্তম। সাথে সাথে নির্দেশ
দেওয়া হলো রেঙ্গুনে গিয়ে মানব সেবা
ও দ্বীনি সংস্কারে নেতৃত্ব দিতে। সে
নির্দেশ তিনি ১৯২০ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত
রেঙ্গুন ও বাংলাদেশে যথাযথভাবে
পালন করেছেন। আর সেই একই মিশনের
এক একজন কর্মী হবার সৌভাগ্য অর্জিত
হয়েছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র
সদস্যদের। সুতরাং বুঝতে হবে যে, গাউসে
পাক শায়খ আবদুল ক্বাদের জীলানী
রাদ্বিয়াল্লাহু তাজ্ঞআলা আনহু
যেভাবে দ্বীনের পুনর্জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ
মুজাদ্দিদ হিসেবে এসেছিলেন ঠিক
তেমনি তাঁর এ মিশনের যুগশ্রেষ্ঠ খলীফা
শাহানশাহে সিরিকোটী এবং গাউসে
যামান তৈয়্যব শাহ হুজুরের আগমনও
হয়েছে দ্বীনি সংস্কারের মাধ্যমে এ
সমাজ শুদ্ধি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে।
গাউসিয়া কমিটির সদস্যগণ হলেন এ
আন্দোলনের এক এক পর্যায়ের এক এক জন
নিবেদিত প্রাণ সৈনিক। আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন তাঁর বন্ধু আউলিয়ায়ে কেরাম
সম্পর্কে বলেছেন,
‘আলা— ইন্না আউলিয়া-অাল্লাহু লা-
খাওফুন আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহযানূ-
ন, আল্লাযী-না আ-মানূ ওয়া কা-নূ
ইয়াত্তাক্বূন, লাহুমুল বুশরা- ফিল হায়া-
তিদ্ দুনিয়া ওয়া ফিল আ-খিরাহ্।
অর্থাৎ জেনে রাখ! নিশ্চয়ই ওলীগণের
কোন ভয় নেই এবং দুঃখও নেই। যাঁরা
ঈমান এনেছে এবং পরহেযগারী অবলম্বন
করেছে, তাদের জন্য দুনিয়া এবং
আখিরাতে রয়েছে সুসংবাদ. [আল-
ক্বোরআন]
যাদের ঈমান আক্বীদা এবং আমলী
যিন্দেগী পরিশুদ্ধ ও উত্তম তাঁরাই
আল্লাহর বন্ধু তাঁদের দুনিয়া এবং
আখিরাতে রয়েছে অভয়, সুখ আর সুসংবাদ।
গাউসিয়া কমিটি এমন একদল মানুষই সৃষ্টি
করতে চায়- যারা ঈমান আক্বীদা,
তাক্বওয়া অর্জন এবং প্রতিষ্ঠায়
অপ্রকাশ্য শত্রু নাফ্সে আম্মারার এবং
সামাজিক শত্রু বাতিল সম্প্রদায়ের
সাথে যুগপৎ জেহাদে নিয়োজিত সাহসী
সৈনিক হিসেবে কাজ করবে। তারা
একদিকে ক্বাদেরিয়া ত্বরিকাভুক্ত এবং
অন্যদিকে গাউসিয়াতের সামাজিক
আন্দোলনের কর্মী হবার কারণে স্বয়ং
গাউসুল আ’যম দস্তগীরের পক্ষ থেকেও
অভয় বাণী ও সুসংসাদ পেয়েছেন।
গাউসে পাক তাঁর এমন মুরীদদের উদ্দেশ্যে
বার বার বলেছেন-মুরীদি লা-তাখাফ’
অর্থাৎ জ্ঞহে আমার মুরীদ! ভয় করো না’।
একদিকে আল্লাহর অভয় বাণী, অন্যদিকে
এই মিশনের মহান ইমাম গাউসুল আ’যমের
অভয়বাণী’ সংগঠনের কর্মীদের
প্রাণচাঞ্চল্যে এনেছে বাঁধভাঙ্গা
জোয়ার। এ জোয়ারই একদিন সব বাতিলের
ভিত ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে। কারণ,
আল্লাহপাক ঘোষণা করেন-
ওয়াকূল জা—-আল হাক্ব্ক্বু ওয়া
যাহাক্বাল বাতিল, ইন্নাল বা-ত্বিলা
কা-না যাহূ-ক্বা [বলুন! সত্য সমাগত,
মিথ্যা অপসৃত, নিশ্চয়ই মিথ্যা অপসৃত
হবারই। [আল-ক্বোরআন]
সত্যের নিশান হাতে এ ক্বাফেলার
সফলতা অব্যাহত থাকবে-ইন্শাআল্লাহু
তাআলা। শাহানশাহে সিরিকোট ও হুযূর
ক্বেবলা তৈয়্যব শাহ্ রাহমাতুল্লাহি
তা‘আলা আলায়হিও এ ভবিষ্যদ্বাণী করে
গেছেন। তা থাকবেও না কেন? এ
কাফেলা তো ‘গাউসুল আ’যম’-এর
কাফেলা। হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু
তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর
নির্বাচিত উজির হিসেবে খোলাফা-ই
রাশেদীন, হযরত হাসানাঈন-ই
করীমাঈন, হযরত হাসান আসকারী হয়ে
হুযূর গাউসুল আ’যম জীলানী দস্তগীর হয়ে
ইমাম মাহদীর শুভাগমন পর্যন্ত বরং
ক্বিয়ামত পর্যন্ত ‘গাউসিয়াত-ই কুব্রার
ছায়া ধারাবাহিকভাবে একটি সত্যের
কাফেলার উপর থাকবেই। সিহা সিত্তার
হাদীস শরীফের ঘোষণানুসারে
ক্বিয়ামত পর্যন্ত ওই সত্যপন্থী কাফেলা
(জমা‘আত)ই সব সময় বিজয়ী থাকবে।
[ইবনে মাজাহ শরীফ]
এটা ওই গাউসে আ’যম দস্তগীর
রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর
কাফেলা, যাঁর গর্দান শরীফ আল্লাহর
সমস্ত ওলীর গর্দানের উপর, যাঁর পৃষ্ঠ
মুবারক হুযূর করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা
আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রফরফ শরীফ।
সুতরাং গাউসিয়া কমিটি যেন
ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়ে একদিন
ইমাম মাহদী আলায়হিস্ সালাম-এর
ফৌজ হিসেবে দ্বীন ও মাযহাব প্রতিষ্ঠা
করবে, নিরাপদ থাকবে দাজ্জালসহ সব
ধরনের ফিৎনা থেকে। বর্তমানে তো
‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’ নামের এ
সংগঠনটির পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন
গাউসে পাকের দু’জন সুযোগ্য নায়েব
আমাদের হুযূর কেবলা সৈয়্যদ মুহাম্মদ
তাহের শাহ্ সাহেব ও হুযূর ক্বেবলা
সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ্ সাহেব
ক্বেবলা।
সুতরাং আসুন, গাউসিয়া কমিটির সদস্য
হোন! কমিটির বরকতময় কর্মসূচীগুলো
বাস্তবায়ন করুন! এর মাধ্যমে জামেয়া,
আনজুমান, অগণিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের
সুষ্ঠু পরিচালনার দ্বীনী কর্মসূচীগুলো
বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় জাহানের
কামিয়াবী হাসিল করুন!
হুযূর কেবলা তাহের শাহ’র আধ্যাত্মিক
প্রেরণা এবং পীর সাবের শাহ্’র মতো
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন নেতৃত্বে এ
কাফেলা এগিয়ে চলছে দেশ থেকে
দেশান্তরে কাল থেকে কালানান্তরে।
তারা নির্ভয়ে এগিয়ে চলবে সকল বাধা
বিপত্তি উপেক্ষা করে, কারণ খোদ্
গাউসুল আ’যম জীলানী তাদের অভয়
দিয়েছেন, ‘হে আমার মুরীদ ভয় করো না!’
সমাজ ও দ্বীনি সংস্কার
আত্মশুদ্ধি ও আত্ম প্রতিষ্ঠ যোগ্য
কর্মিদের নিয়েই খিদমতের মাধ্যমে
সমাজের সংস্কারের মহাব্রত পালনে
এগিয়ে আসতে হবে। নিজে বাঁচ-তারপর
পরিবারকে বাঁচাও, এ কুরআনী নির্দেশ
অনুসরণ করে নিজ পরিবার, প্রতিবেশি,
আত্মীয়স্বজন সহ সমাজের অন্যান্য
মানুষের কাছে সত্য ও শান্তির বানী
পৌঁছিয়ে দেওয়াই এই মিশনের লক্ষ্য। এই
লক্ষ্যের সর্বোচ্চ অর্জন নির্ভর করে এক
ঝাঁক প্রশিক্ষিত বীর নওজোয়ান (দাওয়াত
দাতা)নিরন্তর প্রয়াস এবং যুগোপযোগি
কর্মকৌশল নির্ধারণের উপর। আল্লাহ্
জাল্লা শানুহু এ সম্পর্কে এরশাদ করেন-
উদ্উ ইলা সাবিলে রাব্বিকা বিল
হিকমতে ওয়াল মাউয়েজাতুল
হাসানাঞ্চ-অর্থাৎ তোমরা মানুষকে
আল্লাহর রাস্তায় ডাক হিকমত (কৌশল)
সহকারে এবং উত্তম উপস্থাপনার
মাধ্যমেঞ্চ (আল-কুরআন)। আর তাই
হিকমত ও উত্তম উপস্থাপনা শিক্ষা দিত

10/10/2016

মহররম ও আশুরার ফজিলত:
----------------------------------------
মহররম মাস হল,
আরবী হিজরী সনের প্রথম মাস।
হযরত ওমর (রা:) এর যামানায়
সাহবীদের পরমর্শক্রমে হিজরতের বছর হতে মহররম মাস দিয়ে আরবী বছর গণনা শুরু হয় এবং এ মাসকেই আরবী প্রথম মাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
* হযরত আলী(রা:) কে জৈনিক ব্যক্তি প্রশ্ন
করছিলেন, রমজানের পর আর কোন মাস
আছে যাতে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ করেন? তিনি বলেন, এমন প্রশ্ন রাসুল(দ:)এর নিকটও এক সাহাবী করেছিল।
উত্তরে রাসুল(দ:) বলেন.. রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও,
তবে মহররম মাসে রাখ! কারণ এটি আল্রাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাপাক একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তাওবা কবুল করবেন।(তিরমিজী ১/১৫৭)
বছরের সূচনা যেন ইবাদত-বন্দেগী ও সৎকর্মের দিয়ে শুরু হয়, সে বিবেচনাও
এ মাসের ইবাদত বন্দেগীর গুরত্ত অনেক বেশি।
আশুরার দিনের ফজিলত:
------------------------------------
মহররম মাসের দশ তারিখকে
আশুরার দিন বলা হয়।
*-দুনিয়া এবং দুনিয়াতে যা আছে সব কিছু
আল্লাহ তায়ালা এ দিনে সৃষ্টি করেছে এব
এ দিনে দুনিয়া কিয়ামত হবে।
*-আদম (আ:)এর জন্ম এবং জান্নাতে অবস্থান
ও দুনিয়ায় প্রেরণ, আরাফা মাঠে ক্ষমা লাভ এবং মৃত্যু এ দিনে-ই হয়।
*-এ দিনে ইব্রাহীম (আ:) অগ্নিকুন্ড হতে,
ইনুস নবী(আ:) মাছের পেট হতে,
*-মুসা(আ:) ফেরাউনের কবল হতে,
মুক্তি লাভ করেন।
*-নূহ নবী(আ:) জুদি পাহাড়ে
অবস্থান করেন।
*-আইউব নবী(আ:) রোগ হতে
মুক্তি পান।
*-ইসা(আ:) জন্ম গ্রহণ করেন এবং
আসমানে আরোহণ করেন।
*- এ দিনে সর্ব প্রথম পৃথিবীতে বৃষ্টি নাজিল হয় এবং রহমত নাজিল হয়।
/সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা হল!
এ দিনে আল্লাহর নবী(দ:) এর কলিজার টুকরা
মা ফাতিমার নয়নের মনি
ইমাম হুসাইন (রা:) আনহু
সহপরিবারে কারবালা ময়দানে
ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন।
(ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাহী রাজিউন)।
আশুরার দিনের আমল:
-------------------------------
হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণীত
তিনি বলেন
রাসুল (দ:) হিজরত করে
মদিনায় গিয়ে দেখলেন ইহুদিরা এ দিনে
রোজা রাখল,
হুজুর(দ:) তাদেরকে বল্লেন
এ দিনে তোমাদের রোজা রাখার কারণ কি?
ইহুদিরা বল্ল..
এ দিনে মুসা (আ:) ফেরাউনের কবল হতে
মুক্তি পেয়েছেন বলে তিঁনি শোকরিয়া স্বরুপ
রোজা রাখছেন, তাই আমরাও এ দিনে
রোজা রাখি! তখন রাসুল(দ:) বল্লেন
মুসা(আ:) এর অনুস্বরণের ব্যাপারে
আমি তোদের চেয়ে বেশি হকদার।
অতপর এ দিনে রাসুল(দ:) রোজা রাখেন
এবং সাহাবীদের রোজা রাখতে হুকুম দেনন।
সাহাবায়ে কেরাম (আ:) বল্লেন
ইয়া রাসুলাল্লাহ!
এ দিনে রোজা রাখলে তো
ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়,
নবী (দ:) বল্লেন আগমী বছর বেঁচে থাকলে
আমি ০৯তারিখের রোজাটিও রাখব।
শুধুমাত্র আশুরার দিনে রোজা রাখলে
যেহেতু ইহুদিদের অনুস্বরণ হয়ে যায়,
সেহেতু রাসুল (দ:) হুকুম করেন আশুরার
পূর্বে বা পরে আরো একদিন রোজা রাখ!
এর পর হতে সাহাবায়ে কেরাম
দশ তারিখের রোজার সাথে
আরো একটি রোজা রাখতেন।
(বুখারী ও মুসলিম)
/ হযরত কাতাদাহ (রা:) হতে বর্ণীত,
হুজুর (দ:) বলেন
আশুরার রোজার বরকতে আল্লাপাক
তোমাদের বিগত দিনের গুনাহ সমূহ
মাপ করে দিবেন।(তিরমিযী ১/৫৮)
/ হযরত আব্বাস বর্ণনা করেন
রাসুল(দ:) বলেছেন..আশুরা দিনের রোজা ও রাতের ইবাদতের বিনীময় আল্লাহপাক ৬০ বছরের নফল ইবাদতের সাওয়াব দান করবেন।
/ এ দিনে পরিবার-পরিজনের জন্য
প্রশস্ততার সাথে খরছ করলে
আল্লাহপাক সারা বৎসর তার
রুজিতে রবকত দান করবেন।
/ এ দিনে কোন এতিমের মাথায় স্নেহভরে
হাত বুলালে, আল্লাহপাক এতিমের মাথার
চুলের পরিমাণ নেকি তাঁকে দান করবেন।
(মুদখাল ২০৮ পৃষ্ঠা)
এ মাসের শিক্ষা :
-------------------------
এক দিকে এ মাস আমাদের আনন্দের
আবার অন্যদিকে আমাদের জন্য
বেদনা ও বিষাদের।
কারণ
মহররম মাসের এ দিনেই
রাসুল(দ:) এর কলিজার টুকরা স্নেহের দৌহিত্র
হযরত ইমাম হুসাইন (রা:)
বাতিলের বিরোদ্বে আপোষহীন সংগ্রাম করে
কারবালার প্রান্তরে সহপরিবারে নির্মম ভাবে
শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
তিঁনি তাঁর জীবনের শেষবিন্দু রক্ত দিয়ে
একটি আর্দশ লিখে গেছেন
ইতিহাসের পাতায়।
তা হল খাঁটি মুসলমান কখনো বাতিলের
কাছে মাথা নোয়াতে জানেনা।
এবং অন্যায়কে কখনো মেনে নেয় না।
তাই আমাদের কাছে এ দিবসের দাবী হল
আমরা যেন আমাদের বাস্তব জীবনে
ইমাম হুসাইন (রা:) এর আর্দশকে সমুন্নত
রাখতে পারি আমিন।
আল্লামা ইকবালের ভাষায়,
"ইসলাম জিন্দার হোতা হায়
হার করবালা কি বাদ"।

08/10/2016

ইয়াজিদকে লানত দেয়া প্রসঙ্গে
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১০ই মহররম ইসলামের ইতিহাসে সেই রক্তরঞ্জিত দিন, ইমানদারদের অন্তর কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষত বিক্ষত থাকবেঃ

প্রসংগঃ ইয়াজিদকে লানত।
যারা ডঃ জাকির নায়েককে অন্ধভাবে মানেন তারা ইয়াজিদকে আজ থেকে (রহিমুল্লাহ) বলবেন। আর যদি না পারেন তাহলে ডঃ জাকির নায়েকের এই নিকৃষ্ট ফতোয়ার বিরোদ্ধে আওয়াজ তোলুন। কোন মুসলমান ইয়াজিদ প্রেমী হতে পারে না আমরা সেই ইমাম হোসাইনের জন্য পাগল যিনি শির দিয়েছেন কিন্তু ইয়াজিদকে হক বলেন নি, যিনি প্রানের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কলিজার টুকরা প্রিয় দৌহিত্র , যিনি সমস্ত জান্নাতী যুবকদের সরদার।
ইয়াজিদ গুষ্টি কিয়ামতের দিন কিভাবে পার পায় দেখা যাবে।

ইয়াজিদের নিকৃষ্টতম পাপগুলোঃ
A)
হাফেজ ইবনে কাসীর আরো লিখেছেন, ইয়াজিদ হযরত হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর সাথীদেরকে ওবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের মাধ্যমে হত্যা করিয়েছিল। (আল বেদায়া ওয়ান্নেহায়া ৮ম খন্ডঃ ২২২ পৃষ্ঠা)
B)
হুজ্জাতুল ইসলাম (৩ লক্ষ হাদিসের হাফিজ) ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ঐতিহাসিকগণ হাররার ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে ঘটনায় ৮০জন সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন। এ ঘটনার পর আর কোন বদরী সাহাবী জীবিত থাকেন নি।
সুত্রঃ
ফতহুল বারী:৮/৬৫১
C)
এ হাররার ঘটনাকালে ইয়াযিদ বাহিনী মানুষ হত্যা, সম্পদ লুন্ঠন এবং নারী ধর্ষণ-সব কিছুই করেছিল।
সুত্রঃ
আত তাবারীঃ ৫/৪৮৪
আল কামিলঃ ৪/১১২
আল বিদায়াহঃ৮/২১৮
D)
এ হাররার ঘটনাকালে মুসলমানের রক্তে পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল মদীনার রাস্তাগুলো। মুসলমানের রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওযা মোবারক পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মসজিদে নববী রক্তে ভরে গিয়েছিল। ১০০০০ মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল। (সেই পশু গুলোর) ধর্ষণের ফলে ১০০০ জারজ সন্তান জন্ম নিয়েছিল।
সুত্রঃ
আত তাযকিরাহ
ইমাম ইবনুল জাওযী
পেইজঃ ৬৩,১৬৩

সেই ইয়াজিদকে ডঃ জাকির নায়েক বলে (রহিমুল্লাহ) আসুন দেখি সহিহ হাদিস কি বলেঃ

E)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ, যে ব্যক্তি মদীনা বাসীর উপর অত্যাচার করে এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করে, তুমি তাকে ভয় প্রদর্শন কর। এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের লা’নত বর্ষিত হোক।
রেফারেন্সঃ
মু’জামুল আওসাত লিত তাবারানীঃ২/১২৫/

আস সিলসিলাতুস সাহীহাহ লিল আলবানীঃ১/৬২০, ১/৩৫১
আলা মাজমা’ লিল হাইসামীঃ৩/৩০৬

যদি কেউ বলে যে এই হাদিস দুর্বল বা জাল তাহলে তাদের জন্য এই আয়াতই যথেষ্ঠঃ
F.1 : হত্যার বিধান →
আয়াত: ★ “যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় কোন মু’মিনকে কতল করে সে জাহান্নামী।”
সুরা নিসা ৯৩
তারপরেও একজন মুসলমান,কুলাংঙ্গার ইয়াযিদকে কি করে মুসলমান বলবে???
সুতরাং যারা ইয়াযিদকে ভাল বলে তারা কখনো মুসলমান নয়।

07/10/2016

হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: তোমার পিতা উমর রা: আমাদের গোলাম--- -- ইমাম হোসাইন রা:
*****★*****★*******★******★*****★****
একদা জান্নাতের যুবরাজ ইমাম হোসাইন রা: এবং ইমাম হাসান রা : তাদের সাথি হজরত উমর রা: এর ছোট ছেলে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: এর সাথে খেলাধুলো করছিলেন। খেলাধুলোরর মাঝেই রাগের মাথায় ইমাম হোসাইন রা: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: কে লক্ষ করে বললেন " তোমার পিতা আমার পিতা/ নানার গোলাম"।
হজরত উমর রা: নিজেকে সর্বদা হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোলাম ও চাকর বলে পরিচয় দিতেন।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা: মনকষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে যেয়ে তার পিতা উমর রা: এর নিকট নালিশ করে বলেন হুসাইন রা: আমাকে এটা ঐটা বলেছে। অন্যদিকে উমর রা: এটা শুনে পুলকিত হয়ে যান এবং তার হাত ধরে বলেন " হে আমার সন্তান, হুসাইন রা: কি সত্যই এটা বলেছেন". সন্তানের হ্যা সুচক বাক্যে পিতা পুত্রকে নিয়ে ইমাম হোসাইন রা: এর কাছে রাওনা দেন।ইমাম হোসাইন রা: উনাদেরকে দেখে ভয় পেয়ে যান ভাবলেন তারা হয়ত তার পিতা আলি রা: এর নিকট নালিশ করবেন।
হজরত উমর রা: ইমাম হোসাইন রা: কে জিজ্ঞাসা করেন, হে হোসাইন আপনি কি আমাকে আপ্নার গোলাম বলে আখ্যায়িত করেছেন? ইমাম হোসাইন রা: স্বিকৃতি স্বরূপ উত্তর দেন এবং উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন এটা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে বলেছেন। হজরত উমর রা: সহাস্য উত্তরে বলেন আপনি হয়ত কিছুটা রাগের মাথায় বলেছেন কিন্তু এটাই আমার রক্ষাকবচ অর্থাৎ এতেই আমাদের মুক্তিনিহিত।আমি এখানে এসেছি আপনার কাছ থেকে এই গোলামির লিখিত স্বিকৃতি নিতে যাহা আমি আমার সাথে কবরে নিয়ে যাব। এটাই সুন্নিজামাতের বিশ্বাস ও আকিদা---- ড: তাহের আল কাদরি

29/09/2016

আহলে বাইতের মহব্বতের সুফল
ﻗﻞ ﻻ ﺍﺳﺌﺎﻛﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﺟﺮﺍ ﺍﻻ ﺍﻟﻤﻮﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﺑﻰ -আয়াতের তাফসীরে আল্লামা ইমাম রাযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাফসীরে কাশ্শাফ হতে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থাৎ-যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধরকে মুহব্বত করে মৃত্যু বরণ করলেন-তিনি শাহাদাতের মৃত্যু পেলেন।
অর্থাৎ-সাবধান হয়ে যাও! যে ব্যক্তি আহলে বাইতের মহব্বত করে মৃত্যু বরণ করলেন, তার সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হল।
খবরদার, যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করে করে মৃত্যু বরণ করতে পারলেন, তিনি পূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলেন।
শুন,যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মুহব্বত করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলেন তিনি তায়েব অর্থাৎ-তাঁর তাওবা কবুল হওয়া অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলেন।
শুন যে, যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করা অবস্থায় মুত্যু বরণ করলেন, তাকে মালাকুল মওত বেহেশতের শুভ সংবাদ দান করেন। তার পর মুনকার ও নকীর নামক ফেরেশতা কবরে বেহেশতের শুভ সংবাদ দান করবেন।
সতর্ক হও! যেব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তাকে এমন ইজ্জতের সাথে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে-যেভাবে কনেকে বরের ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
হে দুনিয়াবাসী শোন, যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করে করে মৃত্যু বরণ করে তার কবরে জান্নাতের দিকে দুটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।
হুশিয়ার! যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করে মৃত্যু বরণ করতে পারেন-আল্লাহ্ তার কবরকে ফেরেশতাদের জেয়ারতগাহ্ বানিয়ে দেন।
সাবধান হও! যে ব্যক্তি আহলে বাইতকে মহব্বত করা আবস্থায় মৃত্যু বরণ করলেন-তিনি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদার উপর মৃত্যু বরণ করলেন।
তথ্যসূত্রঃ
তাফসীরে কবির, আল্লামা ফখরুদ্দিন রাযী (রহঃ)
মাসিক তরজুমান, মহররম, ১৪৩৫ হিজরী

29/03/2016

আগামী ২/৪/২০১৬ইংরেজী রোজ শনিবার
মাগরিবের নামাজের পর গাউছিয়া
কমেঠি বাংলাদেশ ফতেপুর ইউনিয়ন
শাখার পক্ষ থেকে এক বিশাল কাউন্সিল
ও ফতেপুর ৫নং ওয়ার্ড শাখা গাউছিয়া
কমেঠি গঠন করা হবে। # স্থান ফকিরা
মসজিদ ও হযরত হাঁছী মস্থান শাহ (রঃ)
মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত
অনুষ্ঠানে আমাদের ফতেপুর ৫নং ওয়ার্ড
শাখার পীর ভাইদের ও সকল পীর ভাইদের
উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ ও আহবান
করছি। আয়োজন ঃ গাউছিয়া কমেঠি
বাংলাদেশ ফতেপুর ইউনিয়ন শাখা।
লেখকঃ ও প্রচারক ঃ গাউছিয়া কমেঠি
বাংলাদেশ ফতেপুর ইউনিয়ন শাখার
সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা
ফতেপুর ৫নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি ঃ
ভাই হোসাইন মোহাম্মদ ফোরকান
উদ্দিন।

16/03/2016

Mohammad Forkan Uddin
★ দর বয়া-নে হুক্মে লাউড স্পী-কার দর
মাজা-লিসে ও'য়ায ওয়া গায়রাহ্★
ওয়ায-মাহফিলে ইত্যাদিতে লাউড
স্পীকার ব্যবহার করার বিধান ★
দরমিয়া-নে ওয়া'য জা-ইয্ বে-গুমা-
ইস্তি'মা-লে লাউড স্পীকার বেদা- ★
জেনে রেখো, লাউড স্পীকারের ব্যবহার,
ওয়াযের মধ্যে নিঃসন্দেহে জায়েয। ★
আহলে হেরমাঈন বর জাওয়া-যশ 'আ-মিল্
আন্দ বর জাওয়া-যশ জুমলাহ 'ওলামা-
ক্বা-ইল আন্দ ★ সমস্ত আলিম এর
বৈধতার পক্ষে 'একমত' রয়েছেন।
হেরমাঈন শরীফাঈনবাসীরা তো সেটা
বৈধ বিধায় আমলও করছেন। ★ মুনকেরে
আ-ফা-সিক্ব ও গোমরা-হ্ বেদা- হুক্মে
ইজমা' চূ-কেহ্ গশতাহ্ আন্দর আ- ★
যেহেতু সেটার পক্ষে ইজমা' প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে, সেহেতু সেটার
অস্বীকারকারীকে ফাসিক্ব ও পথভ্রষ্ট
বলে জানবে। ★ ক্ব ওল্ ঊ- দা- হামচূ- ক্ব
ওলে জা-হিলা- মৌলভী- আলত্বা-ফ্
রা- মাশনূ- বয়া- ★ মৌলভী আলত্বাফের
কথা শুনবে না। তার কথাকে মূর্খদের কথা
বলে জানবে। ★ শুয্যা ফিন্ না-রি দর
হক্ব্ ক্বে ঊ- সা-দেক্বাস্ত ঊ- খেলা-ফ
মর্ সাওয়া-দে আ'যম আস্ত ★ সেতো
'বৃহত্তম' মুসলিম জনগোষ্ঠী'-এর বিরোধী।
'পৃথক হয়ে দোযখে যাবে' হাদীস শরীফের
এ অংশটি তার জন্য প্রযোজ্য।

Address

Hathazari

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sultane Karbala Emam Hossain Bijoy Nishan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share