09/09/2026
জামালপুর রাজনীতি ও ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী: চার দশকের দীর্ঘ পথচলা এবং ত্যাগের উপাখ্যান
তৃণমূল থেকে উঠে আসা, আপাদমস্তক রাজনৈতিক এবং জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ ৪২ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরলস ও অবিরাম পথ হেঁটে চলা এক নেতার নাম ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে নানা মহলে যিনি আজ সুপরিচিত এক নাম—"ডন", হ্যাঁ, তিনি সত্যিই জামালপুরের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়।
১৯৯৮ সালের পর থেকেই জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এক অদৃশ্য কোন্দল ও ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির লোক দল ভাঙার খেলায় লিপ্ত হয়; তাদের মূল স্লোগান হয়ে দাঁড়ায়—"মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ ছাড়া আওয়ামী লীগ চাই!"
এই ষড়যন্ত্রে বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত যেমন সক্রিয় ছিল, তেমনি দলের ভেতরকার কিছু সুবিধাভোগী ও প্রতিপক্ষও একই সুরে সুর মেলায়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তাদের তান্ডবের পাশাপাশি নিজ দলের ভেতরকার ষড়যন্ত্রকারীদের হুমকি-ধমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
১/১১-এর সময় মির্জা আজম ও ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী'র বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সে সময় নাম-বেনামে প্রায় ৬০টিরও বেশি দুর্নীতির অভিযোগ তৎকালীন সেনা নিয়ন্ত্রণ টাস্ক ফোর্সের সেগুনবাগিচা অফিসে জমা পড়েছিল।
ঘটনাচক্রে তৎকালীন টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার কর্নেল সাজ্জাদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। জামালপুরের দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী'র ফাইল তলব করা হলে কর্নেল সাহেব ফাইল দেখে নিজেই মন্তব্য করেছিলেন—"এত অভিযোগ কেন? তাও আবার বিরোধী দল থেকে নয়, মনে হয় নিজেদের দলের ভেতরকার শত্রু, বিরোধীরাই একই রকম অভিযোগ বারবার জমা দিয়েছে।"
সে সময় বৈধ ও অবৈধ সম্পদের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন তাঁর সহধর্মিণী আঞ্জুমনোয়ারা হেনা। পরবর্তীতে ১/১১ এর পালাবদলে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী একজন প্রথম শ্রেণির সফল ঠিকাদার। তাঁর ঠিকাদারি জীবনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো কাজ কখনো ফেলে রাখেননি; বরং নির্ধারিত সময়ের আগেই নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করার দুর্লভ সুনাম ও দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন তিনি।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সময়ও জামালপুর ব্যতিক্রম ছিল না। এর মধ্যে কিছু সুশীল ও দলীয় স্বার্থান্বেষী মহল লাখ লাখ টাকা খরচ করেও মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ তথা ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীকে দমাতে পারেনি। বরং তাঁর দৃঢ় মনোবল, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা থেকে রক্ষা করা এবং মির্জা আজম এমপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সমস্ত প্রতিকূলতা তিনি সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকালে যখন বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তখন সাধারণ নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা তা মেনে নিতে পারেননি। সকলের চরম চাপে ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মুক্তিযুদ্ধ ও দলীয় আদর্শকে রক্ষা করেন।
এরপরেও থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্র। ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের কেন্দ্রীয় আলোচনার সময় ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে ৩৬৭টিরও বেশি বহিষ্কারের আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু প্রতিটি আবেদনের ভাষা ও ধরণ হুবহু এক হওয়ায় এবং জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনা ও আন্দোলন দমনে অসামান্য ভূমিকা সার্বিক পর্যালোচনার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সমস্ত ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি।
করোনা মহামারীর কঠিন লকডাউন ও সংকটের দিনে যখন মানুষ দিশেহারা, তখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন তিনি। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবান ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। শুধু নিজের ত্রাণ নয়, দলীয় অন্য নেতাদের ত্রান বিতরণেও তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকি ছিল চোখে পড়ার মতো। জামালপুরের সার্বিক প্রশাসনিক ও জনহিতকর কার্যক্রমে মির্জা আজম এমপির পরেই ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর বলিষ্ঠ ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগকে দেশের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ সাংগঠনিক জেলায় রূপান্তর করতে যার অবদান অনস্বীকার্য, তিনি আর কেউ নন—জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী।
যিনি আজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, তাকেই আজ সবাই একবাক্যে বলেন—"আসলেই তিনি জামালপুরের ডন, রাজনীতির এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা।"
"© Maruf Chowdhury | All Rights Reserved"